Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  প্রযুক্তি বন্ধন  ||  ৯ম বর্ষ ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৪১৬ •  9th  year  1st  issue  Apr-May  2009 পুরনো সংখ্যা
ফটোলিথোগ্রাফীর ইতি কথা Download PDF version
 

প্রযুক্তি বন্ধন

 

ফটোলিথোগ্রাফীর ইতি কথা

 

দলিলুর রহমান

 

 

 

বেশ কয়েক বছর আগে একবার বাংলাদেশ থেকে USA ফিরছিলাম। এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশনে এসে আমার পাসপোর্ট দেখালে একজন অফিসার আমাকে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন। যেমন– তোমার আর একটা পাসপোর্ট আছে?

আমি বললাম- না

-তুমি কখনো সৌদি আরব গেছ?

- না।

- বাংলাদেশে কেন গিয়েছিলে?

- বেড়াতে।

-  তুমি কি কর?

- আমি একজন বিজ্ঞানী, একটা কোম্পানীতে কাজ করি। (নেম কার্ড দেখালাম, কোম্পানীর আইডি কার্ড দেখালাম)

- তোমরা কি তৈরী কর?

আমি বললাম, ‘ফটোরেজিস্ট’।

- সেটা আবার কি জিনিষ?

- ফটোরেজিষ্ট এক ধরনের কেমিক্যাল যা দিয়ে কম্পিউটার চিপ, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করা হয়।

অফিসার আমার দিকে ভাল রকম তাকালেন, তার চোখে অবিশ্বাস; মুখের ভাব দেখে আমার মনে হলো তিনি মনে মনে ভাবছেন – “গুল মারার আর জায়গা পাওনা” ।

বললেন- কম্পিউটার তৈরী করতে কেমিক্যাল লাগে?

- না,না, কম্পিউটার তৈরী করতে না – কম্পিউটারে যে চিপ আছে তা তৈরী করতে কেমিক্যাল লাগে। যে সমস্ত কেমিক্যাল দরকার হয় তাদের একটির নাম ফটোরেজিষ্ট – এবং যে প্রসেসে তৈরী হয় তাকে বলে ফটোলিথোগ্রাফী।

অফিসার সাহেব বেশ ধাঁধাঁয় পড়ে গেলেন। পাশে বসা তার এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলেন- Clariant Corporation-এর নাম শুনেছো? তিনি বললেন- হ্যাঁ, ঐ কোম্পানীর নাম শুনেছি। তবে ফটোরেজিষ্ট কি জিনিষ তা জানিনা। তারপর তিনি তাঁর বসের সাথে কথা বললেন, আরো দুটো কম্পিউটারে কি সব চেক করলেন। এভাবে ঘন্টা খানেক পরে আমাকে ছেড়ে দিলেন, এই হয়রানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন।

 

এ গল্প থেকে আমি যে জিনিষটা বলতে চাচ্ছি তা হলো, এ যুগের সবচেয়ে বিষ্ময়কর যে প্রযুক্তি যা সব যুগের ধ্যান ধারনাকে বদলিয়ে দিয়েছে তার মূলে কম্পিউটার এবং এটি প্রায় সবার কাছে পরিচিত হলেও এর হার্ডওয়ার তৈরী করার যে পদ্ধতি সে সম্পর্কে খুব কম লোকেরই ধারনা আছে। আজকের দিনে যে ফটোলিথোগ্রাফী পদ্ধতিতে ইন্টিগ্রেটেড সাকির্ট তৈরী করা হয় তা অত্যন্ত জটিল ব্যাপার। তবে এর একটা চমৎকার ইতিহাস আছে।

 

কম্পিউটার চিপ ও ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরী করতে যে রাসায়নিক পদার্থের অবশ্য দরকার তাকে বলা হয় ফটোরেজিষ্ট। ফটোরেজিষ্ট জৈবিক পদার্থের একটা দ্রবন বা ফর্মূলা – যা সাধারণত একটি বা তারো অধিক পলিমারের দ্রবন ও আলোর সাথে বিক্রিয়া করে এমন জৈবিক পদার্থের মিশ্রন। এসব রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রন একটি দ্রাবকে (সলভেন্ট) তরল অবস্থায় থাকে। এই মিশ্রনের সাহায্যে যে প্রসেসে বা পদ্ধতিতে চিপ ও ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরী করা হয় তাকে ফটোলিথোগ্রাফী বলে। এটা আমাদের সমসাময়িক ব্যাপার হলেও এ ধরনের পদার্থের উদ্ভব ও ব্যবহার আদিকাল থেকেই আছে। ফ্রান্সের আবিষ্কারক Joseph Nicephore Niepce photography এবং photolithography আবিষ্কার করেন। তিনি ফ্রান্সের  Chalon-sur-saone- এ ১৭৬৫ সনের ৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম একটি স্থায়ী ছবি তুলতে সক্ষম হন ১৮২৬ সনে।

 

Joseph Nicephore Niepce ১৮২৬ সনে তাঁর ৬১ বছর বয়সে সর্বপ্রথম প্রকৃতি থেকে একটি স্থায়ী চিত্র বা ছবি তৈরি করতে সক্ষম হন। এই ছবিটি লিথোগ্রাফী পদ্ধতিতে তোলা প্রথম ছবি। তিনি মশৃণ তল বিশিষ্ট একটি  pewter plate-এ  Bitumen of Judea নামক একরকম আলকাতরা জাতীয় পদার্থের দ্বারা একটি আস্তরণ তৈরী করেন। Bitumen of Judea হলো পেট্টোলিয়ামের আবর্জনা যা Dead sea থেকে সংগ্রহ করা হতো। ক্রুড তেল থেকে সব বায়বীয় পদার্থ অর্থাৎ , গ্যাসোলিন সরিয়ে নেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে সেটিই হলো Bitumen of Judea। মিশরে এই পদার্থ ব্যবহার করা হতো মমি তৈরী করার জন্য। Niepce জানতেন এই আলকাতরা জাতীয় পদার্থ লেভেন্ডার তেলে মিশিয়ে দ্রবণ তৈরী করা যায় এবং তা থেকে কোন ধাতব প্লেটে উন্নতমানের পাতলা আস্তরণ (Coating) তৈরী করা সম্ভব। তিনি এই দ্রবণ দিয়ে  pewter plate- এ পাতলা আস্তরণ তৈরী করে তার নিজের বাড়ির বাইরের একটি দৃশ্য camera obscura এর সাহায্যে তুলতে সক্ষম হন। Camera obscura একটা অন্ধকার বাক্স অথবা অন্ধকার রুম বিশেষ যার একদিকে একটা ছিদ্র থাকে যা দিয়ে আলো প্রবশ করে এবং পেছনের অন্ধকার দেয়ালে অর্থাৎ এক্ষেত্রে  pewter plate এর উপর পড়ে।

 

Mozi (৪৭০–৩৯০ খ্রীষ্টপূর্ব) নামে একজন চাইনিজ দার্শনিক obscura এর principle আবিষ্কার করেন। Aristotole (৩৮৪-৩২২খ্রীষ্টপূর্ব)ও এর principle জানতেন। প্রথম camera obscura তৈরী করেন একজন ইরাকি বিজ্ঞানী Abu Ali Al Hasan Ibn Al-Haitham (৯৬৫-১০৩৯খ্রীষ্টাব্দ)। তিনি একে বলতেন  “Al Bayt Al-Muthlim” যার ইংরেজী অর্থ বলা যেতে পারে Dark Room

 

Niepceর তোলা সেই প্রথম ফটোগ্রাফটি ১৮২৭ সালে রয়েল সোসাইটিকে উপহার দেয়া হয় এবং এটিকে বিভিন্ন মিউজিঁয়ামে ভ্রমণে পাঠানো হয়। ১৮৯৮ সালে এটি চুরি হয়ে যায়। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত এটার কোন হদিস মেলে না। ১৯৫০ সালে Helmut Alisan Germsheim এটিকে উদ্ধার করে। এটি এখন Germsheim এর কালেকশন ও বর্তমানে টেক্সাস ইউনিভার্সিটির অধীনে আছে।

ছবিটিতে Niepce জানালা থেকে বামে দেখা যায় ফ্যামিলি হাউস, ডানে দেখা যায় পিয়ার গাছ এবং সামনে বার্নের ছাদ আর তার ডানে ব্যাক হাউসের চিমনি দেখা যায়। যে পদ্ধতিতে এই ছবিটা নেয়া হয়েছে তাকে বলে Projection Printing । তাঁর ফটোরেজিষ্ট অর্থাৎ বিটুমেন অব জুডিয়া কতটা ভাল কাজ করে তা দেখার জন্য কন্টাক্ট প্রিন্টিং পরীক্ষা করতে হবে। সে রকম একটি ছবিও এখানে দেয়া হলো– এটি Cardinal d’Ambroise এর ছবি। এ ছবিটিও Germsheimএর কালেকশন এবং টেক্সাস ইউনিভার্সিটিতে রাখা আছে। এই সুন্দর প্লেটটি তৈরী করা হয় কন্টাক্ট প্রিন্টিং প্রসেসে– বিটুমেন অব জুডিয়া ব্যবহার করে। এখানে কার্ডিনালের ছবি Vellum drawing ব্যবহার করা হয় মাসক্ হিসাবে। সূক্ষ্ম রশ্মিতে লম্বা সময় ধরে এক্সপোজ করা হয় ও বিটুমেন অব জুডিয়া ধুঁয়ে ফেলার পর – টিনকে এসিড দিয়ে এচ্ করা হয়। এই ফটোগ্রাফটি যে পদ্ধতিতে তৈরী করা হয়েছে ঠিক সেই পদ্ধতিতেই আজকের সেমিকন্ডাক্টর চিপ তৈরী করা হয়ে থাকে। সুতরাং Niepce শুধু ফটোগ্রাফীর আবিষ্কারক নন তিনি ফটোলিথোগ্রাফীরও আবিষ্কারক।

 

Niepce এর আবিষ্কারের পর বিটুমেন অব জুডিয়ার মতো, আরো অনেক, আলোতে বিক্রিয়া করে এমন পদার্থের আবিষ্কার ঘটে। ১৮৩৯ খ্রীষ্টাব্দে, Mungo Ponton কাগজ আমোনিয়াম ডাইক্রোমেট দ্রবনে ভিজিয়ে তা দিয়ে আলোতে বিক্রিয়া করে এমন একটি পদ্ধতি তৈরী করেন। তবে তিনি কোন চিত্র গ্রহণ করেননি। তারপরের বছরই Becquerel স্টার্চ ও ডাইক্রোমেট মিশিয়ে একটি ফর্মুলা তৈরী করেন এবং তা দিয়ে প্রতিচ্ছবি তৈরী করেন। তিনিই প্রথম তার ফর্মুলাকে “রেজিষ্ট” নামকরণ করেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে ব্যবহারযোগ্য “রেজিষ্ট” তৈরী করেন William Henry Fox Talbot ; তিনি অ্যামোনিয়াম ডাইক্রোমেট জেলাটিন এর সাথে মিশিয়ে Photo Active Compound বা PAC তৈরী করেন। বিটুমেন অব জুডিয়া যেমন আলোতে লম্বা সময় ধরে বিক্রিয়া করতে হয় (long exposure) সে তুলনায় ডাইক্রোমেটেড জেলাটিনে সময় লাগে উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক কম। Fox Talbot তার এই পদ্ধতির উপর ব্রিটিশ পেটেন্ট পান ১৮৫২ সনে। তিনি এই বিদ্যায় খুবই পারদর্শী ছিলেন এবং খুব উন্নতমানের প্রতিচ্ছবি তৈরী করতে পারতেন। তার কাজ ফটোলিথোগ্রাফী ইন্ডাষ্ট্রি গড়ে তোলে। ১৯০০ শতকের যত কাজ ফটোলিথোগ্রাফী পদ্ধতিতে হয় তার মূলে ছিল ডাইক্রোমেটেড জিলাটিন। “ডাইক্রোমেটেড জিলাটিন” অ্যামেনিয়াম ডাইক্রোমেট ও জিলাটিনের মিশ্রন পানিতে দ্রবন – যা যেকোন প্লেটে পাতলা আস্তরণ তৈরী করতে সক্ষম। আলোর সংস্পর্শে এই পদ্ধার্থ বিক্রিয়া করে পলিমার অনুগুলি আরো বড় আকার ধারন করে একে বলে ক্রম লিংকিং। যে অংশে এই ক্রসিলংকিং হয় তা আর পানিতে দ্রবণীয় নয় আর যে অংশ অন্ধকারে রাখা হয় তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা যায়।

 

যদিও ডাইক্রোমেটেড জিলাটিন রেজিষ্ট হিসাবে ব্যবহৃত ও ব্যবসায় কৃতকার্যতা পেয়েছে তবু এরও সীমাবদ্ধতা আছে। যেমন– অ্যামেনিয়াম ডাইক্রোমেট ও জিলাটিন মিশ্রনের পর অন্ধকারে ও  আস্তে আস্তে ক্রসলিংকিং বিক্রিয়া হতে থাকে। একে বলে “ডার্ক রিয়াকশন”। কাজেই কোন প্লেটে ডাইক্রোমেট ও জিলাটিনের আস্তরণ তৈরী করার পর এর স্থায়ীত্ব মাত্র কয়েক ঘন্টা অর্থাৎ কয়েক ঘন্টা পরেই ডার্ক রিয়াকশনে আস্তরণ অকেজো হয়ে পড়ে। আরেকটি সমস্যা হলো- জিলাটিন হলো প্রোটিন। প্রোটিন-এসিড ও বেস এচিং এর সময় ভাল প্রতিরোধ হিসাবে দাঁড়াতে পারেনা – যা ভাল প্রতিচ্ছবি তৈরী করার জন্য একান্তই প্রয়োজন। কাজেই ডাইক্রোমেটেড জিলাটিন এর চেয়েও উন্নতমানের রেজিষ্ট তৈরী করার প্রয়োজন দেখা দেয়।

 

২য় অংশ পরের সংখ্যায়

 

মন্তব্য:
   12-04-2009
আমার নাম জাহাঙ্গীর আলম দুলাল বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লি:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.