Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  ক্রীড়া  ||  ৯ম বর্ষ ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৪১৬ •  9th  year  1st  issue  Apr-May  2009 পুরনো সংখ্যা
ক্রীড়াঙ্গনের কড়চা Download PDF version
 

ক্রীড়া

ক্রীড়াঙ্গনের কড়চা

জহিরুল ইসলাম নাদিম

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি- ঢাকা সহ বাংলাদেশের অনেক দৈনিকে এরকম একটা খবর বেরিয়েছে ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে। এইটুকু পড়েই আবার দ্বন্দ্বে পড়ে যাবেন না যেন। এই ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেট হচেছ না মোটেই। হওয়ার ছিঁটে ফোঁটা সম্ভাবনাও নেই। তবে ওরকম একটা ভূয়ো খবর কেনই বা বেরুলো! ভূয়ো নয় খবরটা, সত্যিই একদম। একবার লিখছেন ক্রিকেট হবেই না, আবার বলছেন ভূয়ো নয় একদম- আসলে ব্যাপারটি কী? ব্যাপার তাহলে খুলেই লিখি। বিশ্বকাপ তো হলো এই সেদিন মানে ২০০৭ সালে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাকে বলে!)। তো পরের দান বসবে সেই ২০১১ সালে। সেটা আবার অনেকটা বাংলাদেশেই হবে আরকি। আসলে হবে এই উপমহাদেশের তিনটি দেশে। তবে এতদিন খুব কানাঘুষো হচ্ছিল যে সেই টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতদিন তা উড়ো খবর হলেও ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের কৃষিমন্ত্রী শারদ পাওয়ার নিজের কার্যালয়ে ম্যারাথন মিটিং করে সংবাদ কর্মীদের কাছে এই ঘোষণাই উড়িয়ে দেন। হঠাৎ কৃষিমন্ত্রী ধান পাটের আবাদ রেখে ক্রিকেটের আয়োজন নিয়ে পড়লেন কেন ধাঁচের প্রশ্ন যাদের মাথায় খেলছে তাদেরকে নিরুৎসাহিত করতে বলে রাখি পাওয়ার সাহেব কৃষিমন্ত্রী যদিও তবে ক্রিকেটেও তিনি বেশ পাওয়ারফুল!। বোধকরি সেই জন্যই ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তিনি। অর্গানাইজিং কমিটির ঐ সভায় যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন যে দুজন তাদের একজন বিসিবির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুব আনাম। তিনি ওখান থেকে ফোনে সংবাদকর্মীদের কাছে এই খবর প্রথম চাউর করেন। জানা গেছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে ২০১১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তারিখেই এবং খোদ ঢাকা শহরে। এই জন্য মোট দুঘন্টা সময় মিলবে। যেন তেন উদ্বোধন নয় বেশ জমকালো করেই তা আয়োজন করার ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা চলছে এমনটাই জানালেন মাহাবুব আনাম। তবে যেহেতু ঐদিন একটি ম্যাচও হবে তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে দিনের আলোতে। এ ধরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়ে থাকে সাধারণত সূর্য অস্ত যাবার পর। কেননা আতশবাজি ছাড়া ওপেনিং সেরেমনি ভাবা যায় না। ব্যাপারটি মনে ছিল বাংলাদেশ কর্তাদের। তারা বিষয়টি সভায় তুলেছেন। দাবি জানিয়েছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন যেন খেলা না থাকে। শুধুই উদ্বোধনের কাজটি চান তারা সেদিন। তবে দাবিটি কতটুকু টিকবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে বেশ। কেননা এটা তো অলিম্পিক নয় যে নানা খেলার ঢাক ঢোলে উদ্বোধনকে ফুটিয়ে তুলতে হবে। বিশ্বকাপের মূল বিষয়টি কিন্তু ক্রিকেটই অন্য কিছু নয়। তাই উদ্বোধন শেষে অবধারিতভাবে ক্রিকেটেই ফিরতে হবে সবাইকে। দিন-ক্ষণ ঠিক হলেও এখনো ভেন্যু ঠিক করতে পারেনি বিসিবি। একসময় ক্রিকেট বলতেই বোঝাতো বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামকে। কেন সেখান থেকে ক্রিকেটকে নির্বাসনে যেতে হলো তা আরেক প্রসঙ্গ। তবে সরকার চাইলে হয়তো সেখানেই বিশ্বকাপের উদ্বোধন অবলোকন করবে বিশ্ববাসী। তবে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের চরিত্র বেশ বদলে দেয়া হয়েছে। মাঠকে ছোট করতে বসানো হয়েছে অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক। ফলে মাত্র দু বছর বাকি থাকার প্রেক্ষিতে সেখানে ক্রিকেট ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। হয়তো হোম অব ক্রিকেট বলে পরিচিত মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামেই হবে সেই আনন্দানুষ্ঠান। তবে যেখানেই হোক ভাল ভাবে হোক সবকিছু- এটাই প্রত্যাশা।

এর মধ্যেই ঢাকায় হয়ে গেল তিন জাতি প্রমীলা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। স্বাগতিক ছাড়া বাকি দল দুটো ছিল পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। ফেভারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করে ঠিক মতো টুর্নামেন্ট শেষও করে লংকান প্রমীলা ক্রিকেট দল। ফাইনালে তারা বেশ সহজেই পাকিস্তানকে ঘায়েল করে। পুরো টুর্ণামেন্টে মোট তিন বার পাক দলের মোকাবেলা করে তিনবারই জয় পায় লংকানরা। তবে ঠিক অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন তারা হতে পারেনি। বাংলাদেশ দল ফিরতি খেলায় লংকান দলকে হারিয়ে টুর্ণামেন্টকে বেশ জমিয়ে তোলে। শেষ গ্রপ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারতে ফাইনালেও খেলতে পারত বাংলাদেশ দলটি। তবে সেটি হয়নি। তবে এই জয়টি দলের সদস্যদের জন্য টনিকের মত কাজ করবে বলে আশা করা যায়।

এবার প্রসঙ্গ পাল্টে ফুটবলে যাই। সম্প্রতি শেষ হয়েছে পেশাদার ফুটবল বি লিগের খেলা। টুর্ণামেন্ট শেষ হবার বেশ আগেই শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। অবশ্য গত বছর সেপ্টেম্বরের তের তারিখে অপয়া তেরর কবলে পড়ে যাত্রা শুরু করেছিল দলটি। প্রথম ম্যাচেই রহমতগঞ্জ এমএমএসের কাছে হেরে বসেছিল তারা। তবে ক্রমশ: নিজেদের গুছিয়ে ভাল ফুটবল খেলেই শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখে আবাহনী। যথারীতি রানার্স আপ হয়েছে আরেক জায়ান্ট ঢাকা মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব। তৃতীয় হয় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। শেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম মোহামেডানকে হারিয়ে ঢাকার ব্রাদার্স ইউনিয়ন হয় চতুর্থ। শেখ রাসেল বা রহমতগঞ্জ চমক দেখালেও চরম খারাপ খেলা প্রদর্শন করে আরেক জায়ান্ট মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র। প্রবল অর্থকষ্টে থাকা দলটি কোনমতে রেলিগেশনের খড়গ এড়িয়েছে। ফুটবল আসলে তেমন আগ্রহের সৃষ্টি করতে পারছে না আজকাল। যদিও সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে বর্তমান ফেডারেশন ফুটবলের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে নানামুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচেছ। তবু পরিস্থিতির তেমন একটা উন্নতি হয়নি। কেবল আবাহনী মোহামেডানের খেলার দিন যা কিছু দর্শক এসেছিল মাঠে। দর্শক মাঠে আসে কেন? আসে খেলোয়াড়ের ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখতে। বাংলাদেশে এখন সেরকম নিপুণ খেলার কারিগর কোথায়। ক্যারিয়ারের প্রায় শেষে এসেও তাই আলফাজকেই তুলে ধরতে হয় বাংলাদেশী ফুটবলারদের (পড়ুন স্ট্রাইকারদের) ঝান্ডা। এবার লীগে সর্বোচ্চ গোল এসেছে মোহামেডানের ফরেন রিক্রুট  বুকোলা ওলালেকান এর পা থেকে। কুড়ি ম্যাচে ১৮ গোল করেন এই কৃষ্ণকায় খেলোয়াড়। ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে একটি না করে দুটি গোল পেলেই শেখ রাসেলের আলফাজ আহমেদ হতে পারতেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। এখন তিনি আবাহনীর নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার এমেকার সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় আসনে। এছাড়া আবাহনীর এমিলি তের গোল করে থাকেন তৃতীয় স্থানে।                                                                   

ঢাকা

 

মন্তব্য:
anon   April 19, 2009
Like to see more articles on sports.
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.