Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা কার্তিক ১৪১৭ •  10th  year  6th  issue  Oct - Nov  2010 পুরনো সংখ্যা
ঘুরে এলাম কাবা Download PDF version
 

আড্ডা

(আড্ডা প্রবাসী বাঙালি জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্দ্য অংগ। রাজনীতি, ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, এমন কিছু নেই যেটা আলোচনা হয়না আড্ডায়। জ্ঞানগর্ভ তথ্য ও মতামতের ছড়াছড়ি থাকে সেখানে। জীবনের এই জলছবিকে ধরার জন্য বর্তমান ধারাবাহিক গল্পের অবতারণা। এর চরিত্রগুলো কাল্পনিক। চরিত্রগুলোর মতামত সাধারণ মানুষের মতামত পণ্ডিতের গবেষণালব্ধ মতামত নয়। ফলে সময়ের সাথে সাথে ভুল ও সঠিক তথ্যপ্রবাহ কিংবা প্রপাগাণ্ডার প্রভাবে গল্পের চরিত্রগুলির মতামত বদলায়, যেমন বদলায় জীবনের রং।)

 

হজ্জ : বৃহত্তম মানব সম্মেলন

 

ঘুরে এলাম কাবা

নাজমুস সাকিব

 

মামুন শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিল। Sir Richard Burton-এর লিখা Personal Narrative of a Pilgrimage to Al-Madinah and Meccah. একজন অফগান মুসলমানের ছদ্মবেশে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন এই খ্রীষ্টান ব্রিটিশ নাগরিক স্রেফ আগ্রহবশত: কেননা মক্কায় অমুসলিমদের প্রবেশ নিষেধ এবং ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি, এমনকি মৃতুদন্ডও হতে পারে। অসীম সাহসিকতার সাথে ছদ্মবেশে Richard Burton-এর হজ্জ করে আসার রোমাঞ্চকর কাহিনী পড়ে চম‍ৎকৃত হচ্ছিল মামুন-

We arrived on the morning of Sunday, the 7th Zul Hijjah (11th September, 1853), and had one day before the beginning of the pilgrimage to repose and visit the Harim.”

Richad Burton আরো লিখেছেন– “ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে আমরা ঘু থেকে উঠে গোসল করলাম ‍ও ইহরাম বেঁধে রওয়ানা দিলাম কাবাশরীফের দিকে। শেষমেষ আমি এসে দাঁড়ালাম সেই অনেক আকাংখিত ঘরের সামনে-বহুদিনের বহু পরিকল্পনার এবং আশার সমাপ্তি টেনে। এক অসাধারণ ভাব আমাকে গ্রাস করল- আমার সম্মুখে আমি না দেখতে পেলাম মিশরের কোন অতিপ্রাচীন রাজপ্রাসাদের কাঠামো;- না দেখতে পেলাম গ্রীস কিংবা ইটালীর রাজপ্রাসাদের পরিকল্পিত সামগ্রিকতার মহৎ সৌন্দর্য কিংবা ভারতের সুবিশাল অট্টালিকার চমৎকারিত্ব। শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম এক অনন্য চৌকোনা ঘরের দিকে কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা এক বিস্ময়কর ঘর- কেউ বা কালো চাদর ধরে কেঁদে চলেছে অবিরাম, কেউ কাবাঘর প্রদক্ষিণ করছে, যেন অন্য রকম এক আবেগঘন পরিবেশ। মনে হল যেন আরবের কবিতা বাঙ্গময় হয়ে উঠেছে এবং ভোরের হাওয়া নয়, বরঞ্চ ফেরেশতাদের পাখা সঞ্চালনের বাতাসে কাবাঘরের উপর প্রতিস্থাপিত কালো চাদরটি কেঁপে কেঁপে উঠছে- It was as if the poetical legends of the Arab spoke truth, and that the waving wings of angels, not the sweet breeze of morning, were agitating and swelling the black covering of the shrine. But, to confess humbling truth, theirs was the high feeling of religious enthusiasm, mine was the ecstasy of gratified pride.”

মুগ্ধ হয়ে পড়তে পড়তে মামুন তার শরীরে শীতল হাওয়া অনুভব করল। আজ বাইরে খুব বৃষ্টি ও দমকা বাতাস বইছে। দোতালায় মাস্টার বেডরুমের ফ্রেঞ্চ উইন্ডোটা খোলা রেখেছে মামুন। জানালার বাইরে বড় বারান্দা থাকায় বৃষ্টির পানির ঝাপটা বেডরুমে এসে পৌঁছাচ্ছেনা, কিন্তু দমকা বাতাসের থেমে থেমে ঝাপটা আরাম দিচ্ছিল মামুনের শরীরে ও মনে।

মনে হচ্ছিল বইটা বন্ধ করে লাইটগুলো নিভিয়ে জানালার ধারে গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির অপরুপ লীলাখেলা দেখতে। এমন সময় খুব জোরে বিদ্যুত চমকাল এবং ভয়াবহ বজ্রনিনাদ শোনা গেল, মুহুর্ত পার না হতেই।

মামুন বইটা বুকের উপর রেখে চোখ বন্ধ করে এক বুক শীতল হাওয়া টেনে নিল ভিতরে, আর গুন গুন করে গেয়ে উঠলো-

আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার

পরাণ সখা বন্ধু হে আমার।

নিদ্রাদেবী ততক্ষণে এসে ভর করেছেন মামুনের উপর এবং সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন। মামুন দেখতে পেল সে একটি ম্যাজিক কার্পেটে করে ছুটে চলেছে মক্কার দিকে। চারদিকে তাকিয়ে কোথাও সে Sir Richard Burton  কে দেখতে পেল না। হঠাৎ করে একটা ঠান্ডা হিমেল হাতের পরশ অনুভব করলো তার বাঁ হাতের কব্জির উপর। বাঁ পাশে ঘুরে উর্ধ্বমুখে তাকাতে দেখতে পেলো তার পিতা এসে তার হাত ধরেছেন বাবা গভীর মমতা নিয়ে রাশভারী গলায় বললেন এসেছিস, বাবা, আয় তোকে মক্কা শরীফ ঘুরে দেখাইএই বলে হাত ইশারা করতেই মামুন ও তার পিতা আবার ম্যাজিক কার্পেটে উড্ডীয়মান হলেন। ম্যাজিক কার্পেট মুহুর্তমধ্যে তাদেরকে নিয়ে গেল মক্কার বাইরের দিকটার বিস্তীর্ণ উপত্যকায়। ঝকঝকে দিন। রোদ্দুর ঝাঁ ঝাঁ করছে। মামুন যেদিকে তাকাল দেখল কেবল ধূ ধূ মরুরাশি বালির স্তরের পর বালি- কোথাও কোন গাছপালার চিহ্ন মাত্র নেই। মনে হচ্ছিল যেন প্রকৃতি তার সকল অলংকার ছেড়ে অকৃত্রিম সরলতায় এসে দাঁড়িয়েছে তার সামনে-নেই কোন রং বেরং এর গাছপালার সুশোভন সাজ। প্রকৃতির এই নগ্নরুপ মামুনকে মনে করিয়ে দিল হাজীদের কথা- তারা যখন ইহরাম বেঁধে এসে দাঁড়ান কাবাঘরের সামনে তাদের সমস্ত সাজসজ্জা পরিত্যাগ করে সামাজিক অবস্থাকে ভুলে গিয়ে এযেন প্রকৃতিও একই রূপে দন্ডায়মান। মাথার উপর দোর্দন্ডপ্রতাপ সূর্যের প্রখর আলো আল্লাহ্তালারই অপার মহিমার রূপক- চারিদিকে আলোর এই ঝলকানি দেখে মামুন বললো- বাবা, তোমার মনে পড়ে কোরানের সেই অমর বাণী- আল্লাহু নূরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ- আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে আল্লাহ হলেন আলো। বাবা মাথা নাড়লেন কিছু না বলে এবং দ্রুত ম্যাজিক কার্পেটের দিক পরিবর্তন করে তাকে নিয়ে এলেন খানিকটা দূরে যেখান থেকে দেখা গেল কিছু সবুজের চিহৃ। মরুদ্যানের দিকে অংগুলি নির্দেশ করে বাবা বললেন- খোদার অসীম ক্ষমতার সাথে মিশে রয়েছে তার অফুরন্ত করুণা- মরুভূমির কঠোর পরিবেশের মধ্যে সবুজের উপস্থিতি তারই ইংগিত বহন করে। বাবার কথা শেষ হতে না হতেই মামুনরা এসে পৌঁছাল জাবাল-ই-নূরের কাছে-যেখানে হীরা গুহায় হযরত মুহম্মদ (স:) প্রথম কোরানের বাণী গ্রহণ করেন। গুহামুখের দিকে এগিয়ে গেল মামুন। দেখল প্রবেশপথের পাশে একটি প্রস্তরখন্ডে খোদিত আছে প্রথম কোরানের বাণী যা অবর্তীণ হয়েছিল হযরত মুহম্মদ (স:) এর কাছে:

ইকরা, বি-ইসমি রাব্বিকাল লাজি খালাক; খালাকাল ইনসানা মিল আলাক

মামুন মনে মনে একটি কাব্যানুবাদ দাঁড় করাল-

পড়, তোমার প্রভুর নামে

যিনি সৃষ্টি করেছেন

সৃষ্টি করেছেন মানুষকে

শুক্রকীট থেকে

ভিতরে লক্ষ্য করে দেখল মামুন অতি ছোট্ট একটি গুহা -১২ ফুট লম্বা আর ৫ ফুট ৩ ইজ্ঞি প্রশস্ত। এখানেই নবীজী তার জীবনের অনেক সময় কাটিয়েছেন গভীর চিন্তায়- যতদিন পর্যন্ত জিবরাইল ফেরেশতা তার কাছে আল্লাহর বাণী না নিয়ে আসেন। বাবা বললেন যারা এ গুহা দেখতে চায় তাদেরকে প্রায় ছয়শতটি সিড়ি মাড়িয়ে ৮৯০ ফুট উপরে উঠে আসতে হয়।

এবারে ম্যাজিক কার্পেটের দিক পরিবর্তন করে দেয়া হলো সরাসরি কাবা শরীফের দিকে। মুহুর্তমধ্যে তারা এসে পৌঁছাল কাবা শরীফের কাছে। ম্যাজিক কার্পেট থেকে নেমে মামুন ও তার পিতা কাবা শরীফের এলাকায় প্রবেশ করলেন। মামুন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। পৃথিবীর বহু বিস্ময়কর রাজপ্রাসাদ ও অট্টালিকার সামনে সে দাড়িয়েছে- ভারতবর্ষ থেকে রোম, লন্ডন,প্যারিসে। দাঁড়িয়েছে সে বহু বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্যের সামনে - প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আটলান্টিক মহসাগরের পারে কিংবা Yellowstone National Forest বা Yosemite-র পর্বতচূড়ায় কিন্তু কখনো এরকম অদ্ভূত অনুভূতির তৈরী হয়নি তার মনের মধ্যে সামনে একটি কালো চৌকাণা ঘর, তার চারপাশে শত শত মানুষ ঘুরছে আর বলছে লাব্বায়েক, আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লা শরীকা লাকা লাব্বায়েক-হে প্রভু, আমি এসেছি তোমার কাছে, তোমার কোন সমতুল্য নেই প্রভু, আমি এসেছি তোমার কাছে। সমবেত ধ্বনি এক অপূর্ব স্বর্গীয় দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে। কারও দিকে কারও খেয়াল নেই-সবাই যেন একটা ঘোরের মধ্যে আছে আর কেবল প্রভুর কাছে নিজেকে নিবেদন করে দিচ্ছে সম্পূর্ণভাবে। অনেক দূর থেকে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে সকলে বিশ্বপ্রভুর কাছে- রবিঠাকুরের কথা মনে পড়ল মামুনের মনে হল যেন পেরিয়ে এলেম অন্তবিহীন পথ। আর এসেই যেন সবাই বলছে:

আমার মাথা নত করে দাও হে

তোমার চরণ ধূলার তলে

সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে।

মামুন তাকিয়ে দেখল Richard Burton এর সেই বর্ণনা আজ ১৫৭ বছর পরে হুবহু মিলে যাচ্ছে- অনেক দর্শনার্থী কাবাঘরের কালো পর্দা ধরে কাঁদছে,কেউবা কাবাঘরের  দরজা ধরে কাঁদছে-চোখের জলের জোয়ারে ভাসিয়ে দিচ্ছে নিজের অস্তিত্বের অহংকার-আত্ননিবেদনের এমন মূর্তিমান আকুতি মামুন আর কখনও দেখেনি। তার ভিতরেও উথলে উঠল আবেগ। সে ও তার বাবা প্রায় একই সংগে লাব্বায়েক, আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক বলতে বলতে সামনের জনসমুদ্রে মিশে গেলো। শুরু করলো মামুন কাবাঘরের চারদিকে সাতবার পরিভ্রমণ। সাত বার কাবাঘর প্রদক্ষিণ করার পর মামুনের পিতা তাকে নিয়ে থামলেন একটি কাঁচঘেরা স্তম্বের পাশে যার নাম মাকামে ইব্রাহিম। এখানে দাঁড়িয়ে মুসলমান, খ্রীষ্টান ও ইহুদিদের আদি পিতা ইব্রাহীম (আ:) তৈরী করেছিলেন কাবাঘর, যীশুখ্রীষ্টের জন্মেরও দেড় দুই হাজার বছর আগেযে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে নবী ইব্রাহিম (আ:) কাবাঘর নির্মাণের কাজ তদারকি করেছিলেন, সে পাথরে তার পদচিহ্ন রয়ে গিয়েছে আর সেই পাথরটিই কাঁচঘরের মধ্যে সংরক্ষিত আছে। এরপর মামুনের পিতা কাবাঘরের দিকে তাকিয়ে বললেন এই যে ঘরটি দেখছিস, তা দৈর্ঘ্যে ৪২ ফুট, প্রস্থে ৩৬ ফুট আর উচ্চতায় ৪৩ ফুট - বলতে গেলে একটি কিউবের মত প্রায়- তাই নাম কাবা। এর আরও অনেক নাম আছে যেমন বায়তুল্লাহ বা বায়তুল আতিক বা বায়তুল হারাম। ইবরাহিম (আ:) এর পরে এই কাবাঘর আরো কয়েকবার পুন: নির্মিত বা মেরামত হয়েছে বিভিন্নসময়ে বিভিন্নজনের হাতে। প্রথম যখন ইবরাহিম (আ:) আর তার পুত্র ইসমাইল (আ:) কাবাঘর নির্মাণ করেছিলেন তখন যে প্রার্থনা করেছিলেন তার বর্ণনা আছে কোরানের সূরা বাকারাতে ওয়া ইজা ইয়ারফাউ ইবরাহিমু আল কাওয়ায়িদা মিনাল বায়তি ওয়া ইসমাইলু (যখন ইব্রাহিম  ও ইসমাইল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছিল, তখন তারা বলেছিল)এই বলে থামলেন মামুনের পিতা। মোনাজাতের ভংগিতে হাত উপরে তুললেন। তার দেখাদেখি মামুনও হাত উপরে তুলল মোনাজাতের ভংগিতে। চার হাজার বছর আগেকার পিতাপুত্রের একই প্রার্থনা নতুন মাত্রা পেল আরেক পিতাপুত্রের কাছে। মামুনের পিতা আওড়ে চললেন সেই প্রাচীন প্রার্থনা -

রাব্বানা তাকাক্কাল মিন্না

ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম

রাব্বানা ওয়াজালনা মুসলিমায়নি লাকা

ওয়া মিন জুররিয়াতিনা উম্মাজন মুসলিমাজন লাকা

ওয়ারিনা মানাসিকানা

ওয়াতুব আলাইনা

ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহিম।

হে প্রভু, আমাদের এই কাজ গ্রহণ কর-

নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাত।

হে প্রভু, আমাদের উভয়কে তোমার অনুগত কর

আমাদের বংশধর হতে তোমার অনুগত এক উম্মত তৈরী কর

আমাদের ইবাদতের নিয়মকানুন দেখিয়ে দাও

ও আমাদের ক্ষমা কর

হে পরম দয়ালু প্রভু।

মোনাজাত শেষ করে এবার মামুনের পিতা বললেন, ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে কোরাইশ বংশের হাতে ছিল কাবাঘরের দায়দায়িত্ব। ৩৬০টি মূর্তির অধিষ্ঠান হয়েছিল এই ঘরে। ৬৩২ খ্রীষ্টাব্দে মক্কাবিজয়ের পরে হযরত মুহম্মদ (সা:) সব মূর্তি অপসারণ করেন এবং কাবাঘর মুসলমানরাই এর পর থেকে রক্ষণাবেক্ষণ করছে। কথিত আছে ৩৬০টি মূর্তির সাথে কাবাঘরের সংরক্ষিত ছিল প্রাকইসলামি যুগের সর্বশ্রষ্ঠ সাতটি গীতি কবিতা যাকে বলা হয় ঝুলন্ত গীতিসপ্তক বা অস-সবউল মুঅল্লকাত। আরবদের কাব্যপ্রীতির নিদর্শন হিসেবে সিল্কের কাপড়ে রুপালী সুতো দিয়ে লিখে কবিতাগুলো ঝুলিয়ে রাখা ছিল কাবাঘরের ভিতরে। ইমরুল কায়েস ছিলেন সেই যুগের বিখ্যাত একজন কবি। তার ঝুলন্ত গীতিকবিতাটি ছিল এইরূপ -

দাঁড়াও যুগল বন্ধু! কাঁদি প্রিয়া ও তার বাস্ত্ত স্মরি।

ছোট্ট গ্রামের বালির টিলায় ভিটে যে তার রইল পড়ি

ছোট্ট গ্রামের মধ্যে আজো চিহ্ন যে তার মুছলো না হায়

জমায় বালি দখিণ হাওয়া, সরায় পুন: উত্তুরে বায়

সেই বিচ্ছেদয় বিষাদমাখা উষায় যেদিন চললো তারা

দাঁড়িয়ে চিলাম গাছের তলায় ঝরলো আঁখি অঝোর ধারা।

মামুন চমৎকৃত হল সেই যুগের আরবী কবিতার কাব্যগুণ আস্বাদন করে। আর মুগ্ধ হলো তার পিতার স্মরণশক্তি দেখে। ছোটবেলা থেকেই সে দেখেছে তার পিতার অসাধারণ স্মরণশক্তি-কোরান হাদিস থেকে শুরু করে রুমি, হাফিজ, সক্রেটিস, প্লেটো, শেকসপিয়ার, বারট্রান্ড রাসেল, গান্ধি, নেহরু, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এদের উদ্ধৃতি দিতে ওস্তাদ ছিলেন বাবা। মামুনকে উদ্দেশ্য করে তার পিতা বললেন খলিফা এজিদের সময়ে (৬৮০-৬৮৩ খ্রীষ্টাব্দে) ইবনে যুবায়ের মক্কায় বিদ্রোহ করলে এজিদের সেনাপতি মক্কা ঘেরাও করেন। তখন ইবনে যুবায়ের কাবাঘরের ভিতরে সঙ্গীসাথী নিয়ে আশ্রয় নিলে এজিদের সেনাপতি কায়কান পর্বত থেকে কাবাঘরের উপর পাথরের গোলা নিক্ষেপ করলে কাবাঘর প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। এদিকে এজিদ হঠাৎ মারা গেলে তার সেনাপতি সিরিয়ায় ফিরে যান। তখন ইবনে যুবায়ের মক্কাবাসীদের সহযোগিতায় আবার কাবাঘর পুন:নির্মাণ করেন। তিনি কাবাঘরের উচ্চতা বাড়িয়ে দেন, কিন্তু ইবরাহিম (আ:) নির্মিত ভিত্তির উপরই পুন:নির্মাণ কাজ শেষ করেন ৬৮৪ খ্রীষ্টাব্দে। এর নয় বছর পরে আল হাজ্জাজ কাবাঘর মেরামতের কাজ করেন এবং ইবনে যুবায়ের কর্তৃক নির্মিত পশ্চিমদিকের দরজাটি বন্ধ করে দেন। এরপর অনেকদিন কেটে যায়। ১০৩৯ হিজরীর (১৬৩০ খ্রীষ্টাব্দ) ১৯শে শাবান (এপ্রিল ২) অতিবর্ষণে ডুবে যায় কাবাশরীফ। ১০ ফুট পানি জমে গেলে ২০ শে শাবান কাবাঘরের পূর্ব ও পশ্চিম দেয়াল ভেংগে পড়ে। বন্যার পানি সরে গেলে দেখা যায় কাবাঘর পুরোটাই ভেঙে পড়েছে এবং নতুন করে আবার গড়তে হবে অনেক দিন। তখনকার খলিফা সুলতান মুরাদ খানের নির্দেশে ১৬৩১ খ্রীষ্টাব্দে কাবাঘর পুন:নির্মিত হয় একই ভাবে একই ভিতের উপর। এরপরে ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের বাদশাহের আমলে আরেকবার কাবাঘরের পুন:নির্মাণ হয়। অনেক জিনিস বদলানো হয় মূল ভিত ও মাপ ঠিক রেখে ছাদের আমূল পরিবর্তন করা হয় এবং ভিতরের খুঁটিগুলো আরো মজবুত করা হয়।

মামুন এবার এগিয়ে গেলো কালো পাথরের দিকে। সামনে ভীষণ ভিড়। মুসলমানদের বিশ্বাস এটা একটি স্বর্গীয় নিদর্শন। কেউ কেউ এও বিশ্বাস করে যে পাথরটি ছিল শ্বেত শুভ্র, কিন্তু মানুষের পাপে তা কালো হয়ে গিয়েছে। শত শত মানুষ এই কালো পাথরকে (হাজরে আসওয়াদ) চুমো দেবার চেষ্টা করছে। মামুনের পিতা বললেন এই কালো পাথর ৯৩০ খ্রীষ্টাব্দে কারমাতিয়ান গোষ্ঠীর মুসলমানরা (একটি শিয়া সম্প্রদায়) চুরি করে নিয়ে যায়। এদের নেতা তাহের সোলায়মান কালো পাথরটি তার নিজের মসজিদ বর্তমান বাহরাইনে অবস্থিত মসজিদ আল দিরারে, প্রতিস্থাপন করে যাতে মক্কাগামী হাজীরা সেখানেও যায় কালো পাথরের আকর্ষণে। ২২ বছর পরে ৯৫২ খ্রীষ্টাব্দে আব্বাসীয় খলিফাদের প্রচেষ্টায় কারমাতিয়ানরা কালো পাথরটি ফেরত দেয় বিশাল মুক্তিপণের বিনিময়ে। তখন সেটি আবার কাবাঘরে প্রতিস্থাপিত হয়। এখন সেটি সুরক্ষিত আছে কাঁচঘরের মধ্যে। মামুন আর তার পিতা এবারে এসে দাঁড়ালেন কাবাঘরের ঘেরটোপ দেয়া কালো চাদরের পাশে। হাত দিয়ে সেই কালো চাদরকে ধরে মামুনের পিতা বললেন এটার নাম কিসওয়া। এটি প্রতি বছর ৯ই জিলহজ্জ তারিখে বদলানো হয় এবং পুরনো কিসওয়াহ কেটে টুকরো করে উপহার দেয়া হয় গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিদের ও রাজপরিবারের অতিথিদেরবাদশাহ সউদ-এর আগে কিসওয়াটি আসতো মিশর থেকে। এখন এটা মক্কাতেই তৈরী হয়। পরিপূর্ণ সিল্কের এই কালো চাদরটি তৈরী করতে প্রতি বছর খরচ হয় প্রায় ১৭ মিলিয়ন সৌদী রিয়াল বা ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩৫ কোটি টাকা)। ৬৭০ কেজি সিল্ক কাপড়ের উপর ১৫ কেজি সোনার সুতো দিয়ে কোরানের বাণী লিখা হয়। মোট ৪৭ টুকরো কাপড় যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৪৭ ফুট আর প্রস্থ ৩.৬ ফুট দিয়ে তৈরী করা হয় এই আবরণ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ ছাড়াও কিসওয়াতে লিখা আছে আল্লাহর বিভিন্ন নাম ও সুরা এখলাস। কিসওয়ার উর্ধ্বাংশে রয়েছে একটি সুশোভন বেল্ট- সোনালী সুতায় লেখা বিভিন্ন কোরানের বাণীতে সমৃদ্ধ। সাড়ে সাইত্রিশ ইঞ্চি বহরের এই সোনালী বেল্ট কিসওয়াহকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে। মামুন জিজ্ঞেস করল- কিসওয়ার রং কি সবসময়ই কালো ছিল। বাবা বললেন-না, কোন কোন খলিফার সময়ে এর রং কখনও সবুজ, শাদা বা লালও দেখা গিয়েছে- আবার কেউ কেউ এটা বছরে তিনবারও বদলেছেন, তবে কালো কিসওয়া আজ প্রায় কয়েকশত বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত। মামুনরা এতক্ষণ যে দিকটাতে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল কাবাঘরের সেই কোণাটিকে বলা হয় রুকন ই আসওয়াদ বা কালো পাথরের কোণা। সেটি পূর্ব দিকে অবস্থিত। কাবাঘরের চারটি কোণার চারটি আলাদা নাম আছে, উত্তর দিকের কোণার নাম রুকনুল ইরাকি (ইরাকি কোণা); দক্ষিণ দিকের কোণার নাম রুকনুল ইয়ামেনি (ইয়েমিনি কোণা); আর পশ্চিম দিকের কোণার নাম রুকনুস শামি (তুরস্ক থেকে মিসর পর্যন্ত দেশগুলোকে একত্রে বলা হত শামি)। মামুনরা কালো পাথরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল কাবাঘরের দরজার দিকে। মনে হল যেন সোনার তৈরী দরজা। মাটি থেকে প্রায় সাড়ে সাত ফিট উপরে স্থাপিত এই দরজা। প্রস্থে সাড়ে ছয়ফুট আর উচ্চতায় দশফুটের এই দোপাল্লার দরজার পুরোটাই সোনা দিয়ে মুড়ানো (gold plated)এই গোণ্ড প্লেটিং করতে লেগেছে ২৮০ কিলোগ্রাম (চব্বিশ হাজার ভরি) সোনা। দরজা দুটো বানাতে খরচ হয়েছে সাড়ে তের মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (সাড়ে তিন মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা চব্বিশ কোটি টাকা)দরজা দুটো অপেক্ষাকৃত নতুন - একটি তৈরী করা হয় বাদশাহ সউদের নির্দেশে, আরেকটি বাদশাহ খালেদ ও বাদশাহ ফাহদ-এর নির্দেশে। মামুনের মনে পড়ল রোমের ভ্যাটিকান সিটিতে দেখা পবিত্র দরজা (Holy Door)-এর কথা। আকারে প্রায় সমান (প্রস্থে সাড়ে সাতফুট আর উচ্চতায় বারো ফুট) ঐ Holy Doorটা খোলা হয় প্রতি ২৫ বছরে একবার এবং খোলা রাখা হয় সেই বছর সারা বছর। যে সকল খ্রীষ্টান ভক্ত সেই পবিত্র দরজা দিয়ে প্রবেশ করে তাদের আজীবনের পাপ ক্ষালন হয়ে যায়। কিন্তু কাবাঘরের দরজা সাধারণের জন্য কখনও খুলে দেয়া হয় না। বছরে দুইবার কাবাঘরের ভিতর ধোওয়া হয়- তখন কেবল সৌদী রাজপরিবারের সম্মানিত অতিথিদের কাবাঘরের ভিতরে ঢুকতে দেয়া হয়। তবে এর কারণটি স্পষ্ট - কাবাঘরের ভিতরের আয়তন মাত্র ১,৫০০ বর্গফুট আর ভ্যাটিকান সিটির সেইন্ট পিটার চার্চের ভিতরের আয়তন ১,৬৩,২০০ বর্গফুট। তবে মুসলমানেরা কাবা শরীফে গিয়ে হজ্জ করলে তাদের আজীবন পাপ ক্ষালন হয়ে যায়, তাদেরকে কাবাঘরের ভিতরে ঢুকতে হয় না। ভ্যাটিকানে যেমন রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম চার্চ প্রায় ২,৭৫,০০০ বর্গফুট এলাকা নিয়ে, মক্কাতে তেমনি রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম মসজিদ প্রায় ৩,৫৬,৮০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে। প্রতি বছর হজ্জের সময় ২৫ লক্ষ থেকে ৩৫ লক্ষ মুসলমান এখানে সমবেত হন এবং আত্মিক মুক্তি খুঁজে বেড়ান। কাবাঘরের দরজায় খোদিত আছে বিভিন্ন কোরানের বাণী আর লিখা আছে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন বাদশাহের নাম যারা উদ্বোধন বা নির্মাণ করেছেন এ দরজা। বাঁ দিকের দরজার নিচের দিকে লিখা দেখল মামুন নির্মাণ শিল্পীর নাম- আহমেদ ইব্রাহিম বদর এবং ডিজাইনার মুনীর আল-আন্দি।

কাবাঘেরর দরজায় খোদিত কয়েকটি কোরানের আয়াত নজর কাড়ল মামুনের- ওয়াকুল রাব্বি আদখিলনি মুদখালা সিদকিন ওয়া আখরিযনি মুখরাজা সিদকিন ওয়াজ আলা লিমিন লাদুনকা সুলতানান নাছিরান বল, হে প্রভু, আমার প্রবেশ যেন হয় সত্য ও সম্মানের দরজা দিয়ে এবং তোমার উপস্থিতিতে - আমাকে সহায়তা করো তুমি হে প্রভু। বাবা জিজ্ঞেস করলেন-মামুনকে তোর কি এর পরের আয়াতটা মনে আছে কোরানের। মামুন বলল- অবশ্যই এবং আওড়ে গেল- ওয়া কুল জা আল হাক্কু ওয়া যা হাকাল বাতিলু, ইন্নাল বাতিলা কানা যা হুকান। বল, সত্য এসেছে, এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হবে। সত্যের জয়গান গেয়ে এমন দৃঢ়বিশ্বাসী উচ্চারণ খুব কমই আছে। মামুনের প্রিয় একটি আয়াত সেটি এবং অনেকবারই তাকে অনুপ্ররণা যুগিয়েছে এই আয়াতটি যখন মিথ্যার ঘন কালো অন্ধকার এসে ঢেকে দিতে চেয়েছ সবকিছু। মামুনের দৃষ্টি যেয়ে পড়ল এবার দুপাল্লার দরজার তালাটির দিকে। চারদিকে নানান চমৎকার খোদাইকর্মের নিচে লিখা আছে কোরানের আরেকটি বাণী- যেন মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে ভক্ত মুসলমানদের কুল ইয়া ইবাদিল্লাযিনা আশরাফু আলা তানফুসিহিম লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহি ইন্নাল্লাহা ইয়াগফিরু জুনুবা জামিয়ান ইন্নাহু হুয়াল গাফুরির রাহিম।- বল হে আমার বান্দাগণ, তোমরা যারা নিজেদের আত্মার সাথে অবিচার করেছো- আল্লাহর দয়া হতে নিরাশ হয়ো না, আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালুচারদিকে মামুন তাকিয়ে দেখল শত শত ভক্ত মুসলমান- কেউবা কাবাঘরের দরজার নিম্নাংশ ধরে শিশুর মত কাঁদছে, কেউবা কিসওয়াহ ধরে কাঁদছে, কেউ বা চুপ করে বসে দোয়া দরুদ পড়ছে। এ এক বিস্ময়কর পরিবেশ। কত দু:খ, কত বেদনা, কত প্রার্থনা নিয়ে এরা এসেছ পৃথিবীর দূর দূরান্ত থেকে পরম প্রভুর কাছে আত্মসমর্পণ করে নবজন্ম লাভ করতে সত্য ও সুন্দরের মাঝে। মামুনের পিতা এবার ইংগিত করলেন কাবাঘরের দরজার উপরে দেয়া পর্দাটির দিকে। সিল্কের কাপড়ে নানান ডিজাইনের অংকনের সাথে রয়েছে সোনার সুতায় লিখা বিভিন্ন বাণী ও তথ্য।

মামুনের মনে পড়ল দুবাইতে Ritz Carlton Hotel এ দেখা কাবা শরীফের দরজার পর্দার একাংশ। মামুন তার পিতাকে জিজ্ঞেস করল- কাবাঘরের ভিতরে কি আছে। মামুনের পিতা উত্তর দিলেন- কাবাঘরের ভিতরটা খুবই সাদাসিধে। ভিতরের ফ্লোরটা সাদা মার্বেলের। চারদিকের দেয়ালের পাশের অংশটি রংগিন মার্বেল পাথর দিয়ে সাজানো-ফ্রেমের মতো করে। তিনটি পিলার আছে ভেতরে যা ছাদকে ধরে রেখেছে। পিলারগুলো কাঠের এবং এগুলো ১৩০০ বছর আগে ইবনে যুবায়েরের কাবাগৃহ পুন:নির্মাণের সময়কার। পিলারগুলো কালচে বাদামী রংগের এবং প্রায় দেড়ফুট মোটা। শামী কোণার দিকে রয়েছে ছাদে যাবার একটি সিঁড়ি। ছোট্ট একটি রুম দিয়ে আড়াল করে রাখা হয়েছে সিঁড়িটাকে। সিড়িঘরের দরজার নাম বাব-উল তওবা (অনুতাপের দরজা)। ঐ কাবাঘরের ভিতরে দশটি মার্বেল প্লেক (plague) রয়েছে- তার অধিকাংশই অনেক পুরনো কেবল একটি মার্বেল প্লেক অত্যন্ত সাম্প্রতিক কালের যেখানে খোদাই করা আছে এই তথ্য যে ১৯৯৬ সালে সম্পূর্ণ করা মেরামতের কাজ বাদশাহ ফাহদের তত্ত্বাবধানেপ্লেকগুলো দেয়ালের নিচের অংশে প্রায় পাঁচফুট উপরে লাগানো। সবচেয়ে পুরনো প্লেকটিতে লিখা খলিফা আবু জাফর আল মানসুর আল মুনতাসির বিল্লাহর (৭৫৪-৭৭৫ খ্রীষ্টাব্দে) কথা। প্লেকগুলোর উপরের দেয়ালের অংশ একটি সবুজ রংয়ের সিল্কের কাপড় দিয়ে ঢাকা- যার উপরে লিখা আছে নানান কোরানের আয়াত। কাবাঘরের ভিতরে কোন বৈদ্যুতিক বাতি নেই। ছাদের একটি ক্রসবিম থেকে ঝুলছে কিছু Lantern জাতীয় Lamp কাবাঘরের ভিতরে বড়জোর ৮০-১০০ জন লোকের জায়গা হবে। মামুন আর তার পিতা হাঁটতে হাঁটতে ইরাকী কোণার দিকে এগিয়ে গেলেন। কাবার ঐ পাশটাতে একটা অর্ধবৃত্তাকার এলাকা আছে কাবাঘরের বাইরে, যার ব্যাস ইরাকী কোণা থেকে শামী কোণা পর্যন্ত। এটাকে বলা হয় হাতিম, এ অংশটি ৩ ফুট উঁচু মার্বেল পাথরের দেয়াল দিয়ে ঘেরাও করা। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন এ অংশের মধ্যে হযরত ইসমাইল (আ:) ও তার মা হাজেরা বিবির কবর আছে। ধারণা করা হয় ইব্রাহিম (আ:) এর সময়ে হাতিম অংশটি কাবাঘরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই কাবাঘর পরিভ্রমনের (তওয়াফ) সময় এ অংশে ঢুকা নিষেধ অর্থাৎ এই অর্ধ্ববৃত্তাকার অংশের বাইরে দিয়ে তওয়াফ করতে হয়। এ অংশে বসে মানুষ বিশেষ দোয়া করে এবং আশা করে যে সে দোয়া কবুল হবার সম্ভাবনা বেশী। ওরকম আরেকটি জায়গা হল কালোপাথর আর কাবার দরজার মধ্যবর্তী স্থান তার নাম আল- মুলতাজাম। মামুন পেছন ফিরে দেখল কত ভক্ত তাদের প্রার্থনা সফল করার জন্য ঐ অংশের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।

মামুন ও তার পিতা এবার এগিয়ে গেলেন জমজম কূপের দিকে। নিচতালায় নেমে এসে তারা জমজমের ঠান্ডা পানি খেলেন। আজ থেকে চার হাজার বছর আগে ইসমাইল (আ:) এর পানির পিপাসা মেটাতে আল্লাহর বিশেষ মেহেরবাণীতে পাথর ফেটে বেরিয়ে আসে এই ভূ-গর্ভস্থ জলাধারের স্রোত। ভক্ত মুসলমানরা জমজমের পানি বোতলে করে নিজ নিজ দেশে নিয়ে যায় এবং রোগ ব্যারামের উপশমার্থে ব্যবহার করে থাকে। মামুন ও তার পিতা নিচ তালা থেকে এবারে উঠে সাফা ও মারওয়াহা পাহাড়ের দিকে এগুলেন। কোথাও পাহাড়ের চিহ্ন মাত্র নেই। সম্পূর্ণটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্বেল পাথর বিছানো সুমসৃণ রাস্তা দুই পাহাড়ের মাঝখানে। হাজীদের সুবিধার জন্য এই ব্যবস্থা। মামুন শুনেছে আগেকার দিনে যারা হজ্জ্ব করতে আসত তাদের পায়ে ফোস্কা পড়ে রক্ত বেরোত সাফা ও মারওয়ার মধ্যে হাজেরা বিবির মত দৌঁড়দৌঁড়ি করতে যেয়ে। সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাতবার আসা যাওয়া করতে করতে মামুন ভাবল আরাম আয়েশের জন্য আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের কষ্ট সম্পর্কে ধারণা করার সুযোগ হারিয়েছি এবং ঐতিহাসিক সত্যটার একটি ভিন্নরূপ আমরা দেখছি এখন।

মামুন ও তার পিতা এবার এগিয়ে গেলেন জমজম কূপের দিকে। নিচতালায় নেমে এসে তারা জমজমের ঠান্ডা পানি খেলেন। আজ থেকে চার হাজার বছর আগে ইসমাইল (আ:) এর পানির পিপাসা মেটাতে আল্লাহর বিশেষ মেহেরবাণীতে পাথর ফেটে বেরিয়ে আসে এই ভূ-গর্ভস্থ জলাধারের স্রোত। ভক্ত মুসলমানরা জমজমের পানি বোতলে করে নিজ নিজ দেশে নিয়ে যায় এবং রোগ ব্যারামের উপশমার্থে ব্যবহার করে থাকে। মামুন ও তার পিতা নিচ তালা থেকে এবারে উঠে সাফা ও মারওয়াহা পাহাড়ের দিকে এগুলেন। কোথাও পাহাড়ের চিহ্ন মাত্র নেই। সম্পূর্ণটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্বেল পাথর বিছানো সুমসৃণ রাস্তা দুই পাহাড়ের মাঝখানে। হাজীদের সুবিধার জন্য এই ব্যবস্থা। মামুন শুনেছে আগেকার দিনে যারা হজ্জ্ব করতে আসত তাদের পায়ে ফোস্কা পড়ে রক্ত বেরোত সাফা ও মারওয়ার মধ্যে হাজেরা বিবির মত দৌঁড়দৌঁড়ি করতে যেয়ে। সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাতবার আসা যাওয়া করতে করতে মামুন ভাবল আরাম আয়েশের জন্য আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের কষ্ট সম্পর্কে ধারণা করার সুযোগ হারিয়েছি এবং ঐতিহাসিক সত্যটার একটি ভিন্নরূপ আমরা দেখছি এখন।

মামুন ও তার পিতা কাবাঘরের সামনে আবার ফিরে এলেন। রাত হয়ে এসেছে বেশ। কাবাঘর তওয়াফরত লোকজনও কমে গিয়েছে অনেক। মামুন আবার তাকাল কাবাঘরের দিকে। তারপর তার চোখ গিয়ে পড়ল কাবাঘরের উপরে খোলা আকাশের দিকে। আজ পূর্ণিমা। আকাশ আলো করে আছে চাঁদ। জোৎস্না-ধোওয়া এই রাতে চাঁদের মিষ্টি কিরণ কালো চাদরে ঢাকা কাবাঘরের উপর পড়ে তৈরী করেছে এক অলৌকিক পরিবেশ। কিসওয়াহর সোনালী লিখন ও ডিজাইনগুলো কেমন চকচক করছে। আকাশে ফুটে উঠেছে অনেক তারা। মামুনের মনে হলো হাতের কাছে যা কিছু আছে, আর চোখের সামনে যা কিছু আছে সবই যেন অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, এক অপার সরলতায় যেন তার হৃদয় ভরে উঠছে। মনে হল নিজের পরিচিত এক খোলস থেকে যেন বেরিয়ে আসছে তার এক অকপট আত্মা, বস্তুর সমস্তভার যেন হালকা হয়ে উঠছে, সরে যাচ্ছে সমস্ত দৈনন্দিন মিথ্যে, সরে যাচ্ছে সাজিয়ে কথা বলার সংসার। অদ্ভুত এক আত্মনিবেদনের আকুলতা তাকে পেয়ে বসেছে। মনে হচ্ছে যেন জীবন নামক ভ্রমণের শেষ কেন্দ্রবিন্দুতে যেন সে এসে দাঁড়িয়েছে- এখানে আসাই যেন তার ভ্রমণের পরম পাওয়া। তার বারবার বলে উঠতে ইচ্ছে করছে রবিঠাকুরের ভাষায়-

কবে আমি বাহির হলেম তোমারি গান গেয়ে

সে ত আজকে নয়, সে আজকে নয়

কতই নামে ডেকেছি যে, কতই ছবি এঁকেছি যে

কোন আনন্দে চলেছি তার ঠিকানা না পেয়ে

সে তো আজকে নয়, সে আজকে নয়।

 

মামুনের ঘোর ভাঙ্গিলেন তার পিতা। ম্যাজিক কার্পেট এসে পড়েছে, উঠবার ইঙ্গিত করলেন তিনি। মামুনের উঠতে কষ্ট হলো না একেবারেই। নিজেকে খুব হালকা মনে হল। বাবা বললেন- তুই হজ্জ্ব করতে আসবি কবে, বল? তখন তোকে নিয়ে মদীনাটাও ঘুরে আসব। মামুন উত্তর দিল- দেখা যাক, একটা সুযোগ করে একবার চলে আসব। বাবা বললেন হজ্জ্ব নিয়ে তোকে একটা গল্প বলি। গল্পটি তোর পিতামহের কাছে শোনা। একবার এক লোক হজ্জ্ব করে বাড়ী ফিরে এসেছে। কয়দিন পরে সে দেখা করতে গেল বাগদাদের প্রখ্যাত সুফী সাধক হযরত জুনায়েদ বাগদাদীর কাছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি যে মুহুর্তে বাড়ী থেকে বেরিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ক্রমশ: বাড়ী থেকে দূরে চলে যাচ্ছিলে সেই মুহুর্ত থেকে তুমি কি পাপ থেকেও দূরে যাচ্ছিলে। সে উত্তর দিল, নাতখন জুনায়েদ (র:) বললেন, তাহলে ত তুমি কোন ভ্রমণই করনি। আচ্ছা এবার বল দেখি, যখন তুমি যাত্রাপথে বিভিন্ন মনজিলে (স্টেশনে) বিরতি নিচ্ছিলে, তখন কি তুমি আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর রাস্তার একেকটি মনজিল (বা স্টেশন) অতিক্রম করেছিলে? লোকটি উত্তর দিল- নাজুনায়েদ (র:) বললেন, তাহলে ত তুমি একের পর এক মনজিল অতিক্রম করনি। আচ্ছা তুমি যখন হাজীর কাপড় (ইহরাম-শাদা সেলাইবিহীন দু-প্রস্থ কাপড়) গায়ে চাপালে এবং তোমার নিজস্ব কাপড় পরিত্যাগ করলে, তখন কি তুমি তার সাথে তোমার সকল খারাপ চিন্তা ও মনোবৃত্তিকে ঝেড়ে ফেলেছো। লোকটি ভয়ে ভয়ে বলল- নাজুনায়েদ (র:) বললেন- তাহলে ত তুমি ইহরামই বাঁধনি। আচ্ছা, বল দেখি যখন তুমি আরাফাতের ময়দানে দাঁড়ালে তখন কি তুমি আল্লাহর ধ্যানে এক মুহুর্তও কাটিয়েছো না কি কেবল নিজের সুখ দু:খে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছো? লোকটি উত্তর দিল- আল্লাহর ধ্যান করেছি কিনা জানিনা, তবে শুনেছিলাম ওখানে দাঁড়িয়ে কিছু চাইলে আল্লাহ সেটা দান করেন, তাই নিজের চাওয়া পাওয়ার তালিকাটাই আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি করে বারবার বলেছি। জুনায়েদ (র:) বললেন, তাহলে ত তুমি আরাফাতে আল্লাহর মুখোমুখি দাঁড়াওইনি- তোমার সকল সত্তাকে ভুলে গিয়ে। ঠিক আছে, এবার বল, তুমি যখন মুজদালিফায় গেলে আরাফাত থেকে, তখন কি তুমি তোমার কামনা বাসনাকে দূরে রেখেছো? লোকটি উত্তর দিল- না। জুনায়েদ (র:) বললেন- তুমি ত তাহলে মুজদালিফায় যাওইনি। আচ্ছা তুমি যখন মিনায় গেলে- তখন কি তোমার সকল আকাংখা (মুনা) বিলুপ্ত হয়েছিলো? লোকটি বলল-না। তাহলে ত তুমি মিনায় যাওনি। আর তুমি যখন কোরবানির স্থলে পৌঁছে কোরবানি দিলে, তখন কি তুমি তোমার জাগতিক চাহিদাকে কোরবানি দিয়েছিলে? লোকটি বলল- না। তাহলে ত তুমি কোন কোরবানিরই দাওনি। আচ্ছা, তুমি যখন জামারতে পাথর ছুঁড়ে মারছিলে, তুমি কি তখন তোমার সকল খারাপ চিন্তাকে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছিলে মন থেকে। লোকটি বলল- না। জুনায়েদ (র:) বললেন তাহলে ত তুমি কোন পাথর ছুঁড় নি। আচ্ছা, তুমি যখন কাবাঘর তওয়াফ করছিলে, তখন কি আল্লাহর অসাধারণ সৌন্দর্য অবলোকন করে বিমুগ্ধ হয়েছিলে? লোকটি বলল-সেরকম কিছু ত দেখিনি। জুনায়েদ(র:) বললেন বল দেখি- তুমি যখন সাফা ও মারওয়াতে ছুটে বেড়াচ্ছিলে,

রাতের কাবা

 
তখন কি তুমি বিশুদ্ধতা (সাফা) এবং সৎগুণ (মুরুওয়াত) অর্জন করেছিলে? লোকটি বলল না। জুনায়েদ(র:) বললেন- তহলে ত তুমি সাফা ও মারওয়ায় দৌড়াওনি। এবং তুমি ত তাহলে হজ্জ্বও করনি। তোমার আবার হজ্জ্বে যেতে হবে। বাবা থামলেন গল্পটা বলে। মামুন মুগ্ধ হয়ে শুনছিলো, আর তার মনে পড়ছিলো তাদের পরিবারে ভাইবোন, পিতা, পিতামহ সহ সবাই বসে এরকম কতই জ্ঞানগর্ভ আলোচনাই না তারা করেছে দিনের পর দিন। কি চমৎকার প্রতিকী গল্প হজ্জ নিয়ে! আর ভাবে হজ্জ কেবল একটি শারীরিক ভ্রমণ ও কিছু নিয়মকানুনের একটি অনুষ্ঠান তারা কতটা ভূল এই গল্প তাই মনে করিয়ে দেয়। হজ্জ যে একটি আত্মিক (spiritual) ভ্রমণ সেটি আমরা ভুলে থাকি ... ফলে হজ্জের দ্বারা আমাদের আত্মার পরিশুদ্ধি হয় না। স্মৃতির পৃষ্ঠা উল্টাতে না উল্টাতেই টেলিফোনের ক্রিং ক্রিং শব্দে মামুনের ঘুম ভেঙে গেল। বাবাও উধাও, ম্যাজিক কার্পেটও উধাও। সামনে খোলা ফ্রেঞ্চ উইন্ডো আর হু হু করে বাতাস ঢুকছে। মামুন উঠল জানালাটা বন্ধ করার জন্য। বাইরে তাকিয়ে দেখল মধ্যরাতে পূর্ণিমার চাঁদ আলো করে রেখেছে তার ব্যাকইয়ার্ড। ঝড় থেমে গেছে এবং সুইমিং পুলের পানি চকচক করছে চাঁদের আলোয়। দূরে পাহাড়ের নিচে ফলসম শহরের ঘরবাড়ীর বাতি ঝিকমিক করছে। মামুন জানালার বাইরে এসে দাঁড়াল বারান্দার রেলিং ধরে। আলোয় ধোয়া রাত্রি আর তারার পুঞ্জ মামুনের খুব প্রিয় দূশ্য। ঠান্ডা হাওয়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে মামুন এলোমেলো অনেক ভাবনার মধ্যে হারিয়ে গেল। বাবার কথা মনে হলে তার মনে পড়ল বাবার একটি অতিপ্রিয় গানের কথা:

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে

আমি বাইবো না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে

চুকিয়ে দেব বেচা কেনা,

মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেব লেনা দেনা,

বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে

তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে

তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।

 

মামুন তারার পানে তাকাল। নির্ণিমেষ তাকিয়ে রইল অনেকক্ষণ। তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল মনখারাপের দুফোটা অশ্রুজল। আকাশের চাঁদতারা মামুনের একাকীত্বের সাক্ষী হয়ে রইল নীরবে- নিশুতি রাতে।

 

সাক্রামেন্টো, ক্যালিফোর্নিয়া

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১০

 

মন্তব্য:
cpp   October 23, 2016

Autumn in north face October, mcm backpack autumn. barbour jackets outlet On nike.se the nike shoes outlet way michael kors outlet online back jimmy choo shoes home, hollister is bcbg max azria a fossil uhren fall houston rockets jerseys scenery: michael kors canada the air max 2015 green timberland femme trees oakley sungalsses outlet have ralph lauren outlet online been infected denver nuggets jerseys with a thomas sabo yellow; michael kors outlet online roadside rolex watches for sale fields hollister kids of glasses frames crops, michael kors handbags into juicy couture outlet a marc by marc jacobs green toms shoes barrier; summer mcm backpack outlet in tory burch shoes the ray ban hot rolex sun puma outlet like new york knicks a longchamp outlet fire ralph lauren has barbour factory become jerseys from china a ralph lauren outlet gentle nike schoenen autumn sacramento kings jersey Sun, yellow egg north face yolk nike air max scattered dsquared2 in juicy couture handbags the air max vast north face outlet land adidas canada of air jordan the adidas online earth, indiana pacers jersey the los angeles clippers jersey rivers, cleveland cavaliers reservoirs, air max shoes mountains, fields burberry outlet online and rayban villages michael kors outlet online sale plated instyler ionic styler with pandora charms a thomas sabo uk layer versace outlet online of tory burch golden; canada gooses blue nba jerseys sky ravens jerseys high, is toronto raptors jersey a michael kors taschen beautiful tommy hilfiger Autumn coach outlet store online Autumn michael kors village; giuseppe shoes quiet true religion outlet night, nike tn Yuanyue texans jerseys high ralph lauren outlet online round salomon schuhe hanging ray bans in the chargers jerseys sky, adidas superstar alone, colts jerseys I polo ralph seem softball bats to feel michael kors the michael kors usa goods ugg australia fall louboutin shoes of the slightest timberland outlet autumn. jerseys from china Wandering nike free 5.0 in longchamp taschen the autumn, levis jeans the new balance outlet breeze, michael kors bags warm air max light oakley Rao, my michael kors outlet heart north face backpacks gave new balance canada birth to ray ban wayfarer the oakley vault slightest chi flat iron coolness, christian louboutin slightly wedding dresses autumn, gently new balance moved milwaukee bucks jersey by abercrombie my toms.com thoughts; oakley outlet autumn coach outlet store rain, the nike air max rhythm orlando magic jersey of air huarache the reebok rain, michael kors moisten nike outlet my huarache heart, charlotte hornets jerseys rain, lions jerseys gently memphis grizzlies jersey rain chiefs jerseys Beat hermes belt the canada gooses outlet heartstrings; that nike shoes high hollister clothing leaves steelers jerseys of nike.dk the tommy hilfiger outlet stores poplar, baseball jerseys the toms shoes issue of katespade clatter ringing detroit pistons bell-like dallas mavericks jerseys laughter, burberry outlet stepping seahawks jerseys on beats by dr dre the cheerful utah jazz jersey and prada sunglasses clear montre homme rhythm, nike free run like atlanta hawks jerseys a patriots jerseys butterfly, toms shoes outlet like oakley yellow, uggs outlet lightly ralph lauren outlet dancing, cheap coach purses open ray ban sonnenbrillen beautiful Wings, cheap michael kors affectionately michael kors purses toward nfl jerseys the ralph lauren earth. falcons jerseys Autumn leaves huarache evoked the north face my purses and handbags nostalgia, marc by marc jacobs my katespade thoughts celine outlet disturbed, ray ban outlet with reloj the boston celtics jersey autumn michael kors outlet wind, polo ralph lauren autumn, hermes bags autumn supra footwear poplar uggaustralia.com wandering. burberry outlet I mcm handbags am oakley canada in redskins jerseys the jimmy choo outlet fall michael kors handbags to coach outlet online watch christian louboutin shoes my ralph lauren autumn, ray bans looking for the ray ban zonnebril past hollisterco years, boots on sale looking beats headphones for nike shop passing replica watches feelings, coach outlet online fashion hogan and nike air max began brooklyn nets jerseys to surging asics gel up nike mercurial vapor ... pandora schmuck ... nike air max This uggaustralia.com is adidas online the ralph lauren outlet fall of ray ban sunglasses outlet the North, a raiders jerseys glamorous coach outlet autumn ralph lauren factory store park oakley sunglasses in nike huarache front golden state warriors jersey of barbour jackets the chanel sunglasses world: rolex watch blue air max sky, dre beats cool giants jerseys The river, purses and handbags colorful new balance autumn cheap oakley sunglasses leaves. soccer shoes Ambilight replica watches everywhere, oakley sunglasses leaves nike store like kate spade outlet online fire, nike free 5.0 leaves lunette ray ban such baseball jerseys as coach bags gold, Lin coco chanel Tao vans shoes late prada outlet to nike air force sing. The prom dresses autumn leaves of michael kors v?skor the ralph lauren mountains coach outlet store online were portland trail blazers jersey originally oakley sunglasses cheap green, abercrombie fitch but cheap nfl jerseys autumn ferragamo into adidas superstar them, timberland boots they ugg boots turn coach outlet online yellow, and long champ some burberry outlet online also heat jerseys turned michael kors outlet red. buccaneers jerseys Swinging christian louboutin shoes in nike roshe the baseball bats autumn mont blanc wind, burberry sale they nike air max can coach factory outlet not converse chucks fight, like barbour outlet falling, ugg like mcm backpack outlet have bottega veneta withered. moncler outlet online Fall of ed hardy clothing the tommy hilfiger online autumn leaves, adidas.se storied bears jerseys make the north face dye, Shashi good-looking. philipp plein outlet Whenever jordans this swarovski online time, veneta I indoor soccer shoes will jaguars jerseys go kate spade handbags hand ray bans outlet in hand nike roshe with the mcm bags small ray ban outlet partners adidas superstar up wedding dress the mountain, pandora canada watch nike air max thea the autumn ugg boots leaves, northface like pandora to toms shoes outlet watch michael jordan a saints jerseys piece of louboutin art panthers jerseys as pleasing chanel handbags to zapatillas nike the coach outlet eye, polo ralph dizzying; jerseys from china picking autumn converse sneakers leaves, baseball jerseys do michael kors uk bookmarks, san antonio spurs jerseys do specimens, do coach purses outlet online patterns, burberry online shop to ray ban outlet receive puma online the gift toms outlet of michael kors nature the north face Our jets jerseys gifts, moncler mens jackets pieces michael kors of true religion jeans autumn browns jerseys leaves nike air max has michael kors outlet become philadelphia 76ers jerseys a ralph lauren polos piece lakers jerseys of broncos jerseys crafts; 49ers jerseys pick michael kors outlet online sale up cheap oakley the air max leaves, wholesale clothing as toms shoes firewood. I swarovski jewelry often burberry handbags also valentino outlet pondered louboutin shoes the ugg boots beautiful longchamp handbags autumn, swarovski australia the gafas oakley tall ray-ban sunglasses and giuseppe zanotti sneakers thin oklahoma city thunder jersey among the celine bags poplars coach outlet canada falling oakley sunglasses under oakley sunglasses outlet a handbags outlet thick fivefingers layer michael kors outlet online sale of oakley sunglasses outlet leaves, burberry sale feet abercrombie kids on jordan retro top mac makeup of abercrombie the free running soft, swarovski jewelry very converse shoes comfortable, tory burch and chanel bags sometimes simply hilfiger online shop let the burberry outlet little hermes body m a c cosmetics to nike air max 90 sleep in cheap basketball shoes the sun, burberry outlet online the swarovski crystal thick wedding dresses heat oakley frogskins of northface the washington wizards jersey leaves , burberry sale My burberry outlet face new balance against hollister clothing store the michael kors bags leaves, chi hair slippery, uggs warm, polo outlet store light ugg boots clearance fragrance nostrils, true religion jeans outlet comfortable vans schuhe to knockoff handbags take rolex watches a hogan outlet nap, bcbg max like oakley outlet lying salvatore ferragamo on asics a converse outlet thick ralph lauren outlet online bedding, ralph lauren polo like toms outlet online a jerseys from china very michael kors outlet online sale comfortable. Really: coach outlet When ralph lauren outlet the packers jerseys day vikings jerseys when, when cowboys jerseys the mizuno wave kang, abercrombie and fitch kids comfortable roshe run lying nike shoes on roshe run the azcardinals jerseys autumn longchamp leaves, longchamp outlet the pandora bracelet child tory burch outlet can rayban sleep barbour outlet incense. bengals jerseys Autumn mcm backpack fields, prada shoes numerous chicago bulls jersey fruits ugg in watches canada the uggs passers-by air yeezy shoes smile, eagles jerseys Fuji oakley vault apple minnesota timberwolves jersey from coach outlet online green coach factory outlet to coach factory golden, michael kors outlet to cheap true religion show supra footwear people that air jordan retro she cheap ray ban is dolphins jerseys about ferragamo shoes to nike shoes mature jordan release dates 2015 the rams jerseys grace; rich nike shoes outlet corn straight burberry up longchamp outlet proud lunette ray ban of omega watches the iphone case chest, straightener to air jordan shoes show nfl jerseys her coach factory fullness red bottom shoes ; ray ban sunglasses Dense michael kors canada bean glasses online muster polo ralph lauren outlet online rounded air max schoenen bulging body, burberry outlet store to oakley show adidas her calvin klein underwear abundance tommy hilfiger outlet ... babyliss pro ... ray ban wayfarer in polo ralph lauren outlet this roshe run season, ralph lauren outlet to stephen curry shoes read mbt shoes outlet the omega watches fall, nike free 5.0 experience phoenix suns jersey the timberland shoes mood insanity workout calendar of p90x autumn, cheap oakley the uggs on sale taste pandora of michael kors outlet online autumn beats headphones flavor vans outlet goods, nike shoes the bills jerseys fruit tommy hilfiger of coach outlet online the abercrombie.com rich ugg boots autumn fruit, michaelkors.com watch titans jerseys the ugg fall lacoste shoes Of long champ the hollister online poetic, lululemon canada it will ray ban occhiali be prada outlet more swarovski of north face jackets a new orleans pelicans jersey life to the north face outlet read, beats by dre more nike roshe than nike schuhe a prada treasure,

www.tommyhilfiger.nl
Helal   November 1, 2010
Excellent article from all senses. I wish to get more articles like this. Thanks a lot.
আনোয়ার ইকবাল   November 1, 2010
সাকিব; লেখাটা পড়ে খুব মজা পেলাম। একটা হিসেবে শুধু একটু গরমিল লাগলো। যে ঘরে ৮০ থেকে ১০০ জন লোক জায়গা হয়, সেখানে ৩৬০ টা মুরতি কি করে জায়গা হত? আমার জানা মতে মুরতি গুলো বিশাল আকৃতির ছিল। অনেক ধন্যবাদ। ভাল থেকো। কচি ভাই
Liaquat   October 30, 2010
Thank you for sending this article to me.I really enjoyed to read. Best wishes.
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.