Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ১০ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৭ •  10th  year  3rd  issue  Jun - Jul  2010 পুরনো সংখ্যা
মিডিয়ার মুক্তি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামি লীগ Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

দূরের জানালা, কাছের মানু

মিডিয়ার মুক্তি

ও ক্ষমতাসীন আওয়ামি লীগ

অনিরুদ্ধ আহমেদ

 

এক

ক্ষমতাসীন আওয়ামি লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমশই সমালোচনা বাড়ছে এবং অভিযোগগুলি যে সবটাই বিরোধীদের পক্ষ থেকে আসছে তা নয়, আওয়ামি লীগকে যারা আদর্শিক দিক দিয়ে  সমর্থন করেন,তাঁদের তরফ থেকেও সমালোচনা আসছে,বাড়ছে হতাশাও। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মানতে হলে এটাও মেনে নিতে হবে যে, যে কোন সরকারের সমালোচনা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার এবং গণতন্ত্রকে আরো সুসংহত করার জন্য গঠনমুলক এবং নির্দেশনামূলক সমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সব সমালোচনাই যে গঠনমুলক সে কথা বোধ হয় বলা যাবে না কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যে সমালোচনার ক্ষেত্রে কোন নীতি মানা হয় না। সে জন্যেই আমরা লক্ষ্য করি যে, এমনকী সংসদেও, সরকারী ও বিরোধী উভয় দলের ভাষা ব্যবহার, শব্দ চয়ন এবং শব্দ প্রক্ষেপণ এমন কী অঙ্গভঙ্গিও, এর কোনটাই সংসদীয় নয়। সমালোচনার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা রচনা এবং ছিদ্রান্বেষণটাই প্রাধান্য পায় বেশি, নীতিগত বা প্রয়োগিক কোন বিষয় নিয়ে সমালোচনাটা ও ক্রমশই ব্যক্তিগত সমালোচনায় রূপান্তরিত হয়। এ দিকটি সম্পর্কে সরকারী এবং বিরোধীদল সচেতন না হলে, এ ধরণের সমালোচনায় আর যাই হোক দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিকভাবে নানান বিষয়ে মতভেদ সত্বেও জাতীয় স্বার্থে দ্বিদলীয় বা বাইপার্টিজান সিদ্ধান্ত নেওয়ার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে একমাত্র জেনারেল এরশাদের পতনের সময়ে তত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে আওয়ামি লীগ ও বিএনপি একত্রে  সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। পরে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠনের বিষয়েও এই দুটি দল ঐকমত্য পোষণ করে। কিন্তু এর পর আর কোন বড় ইস্যুতেই আওয়ামি লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোন রকম সহমত পোষণ করতে দেখা যায়নি। বিষয়টি "দলের চেয়ে দেশ বড়" এ রকম একটি প্রচলিত শ্লোগানের সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে একটা বড় রকমের ট্র্যাজেডি ও বটে  যে দুটি দল অভিন্ন সব জাতীয় ইস্যুতেও ভিন্ন মত পোষণ করে আসছে।

দুই.

তবে এই ভিন্নমত পোষণ এবং সমালোচনা সম্পর্কে সরকারী দলকে বিশেষ ভাবে সহনশীল হতে হবে। সব সমালোচনাই যে যুক্তিসঙ্গত হয় তা নয়, কিন্তু সমালোচনা করার অধিকার খর্ব করা যাতে না হয়, সে দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। সরকারে থাকলে আওয়ামি লীগের মধ্যে এই সহিষ্ণুতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে অতীতেও। এবার যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামি লীগ সরকার গঠন করেছে, তার ফলে দলটির এমন মনে হতেই পারে যে তার পেছনে বিশাল জনগোষ্ঠির সমর্থন রয়েছে। কিন্তু আওয়ামি লীগ রাজনৈতিক ভাবে কুশলী হলে বুঝতে পারতো যে গত নির্বাচনে আওয়ামি লীগকে যারা ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন, তাঁরা সকলেই সব ব্যাপারে আওয়ামি লীগের গোড়া সমর্থক নন। এমন বহু লোক, বিশেষত তরুণদের মধ্যে এমন অনেকেই ভোট দিয়েছেন যাঁরা রাজনীতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে পুর্বতন বিএনপি-জামায়ত জোট সরকারের আমল থেকে গুণগত পরিবর্তন চেয়েছিলেন বিশেষত গণতন্ত্রায়নের ব্যাপারে তত্বাবধায়ক সরকারের কিছু কিছু দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও তাঁরা সহমত পোষণ করে ভেবেছিলেন আওয়ামি লীগ তার শাসনামলে গুণগত পরিবর্তন আনতে সমর্থ হবে। আওয়ামি লীগ ও প্রথাগত রাজনীতির বেড়াজাল ডিঙ্গিয়ে দেশকে এক আধুনিক পরিমন্ডলে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারুণ্য শক্তি বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের গণতন্ত্র খর্ব করার এবং নির্বিঘ্নে দূর্নীতি করার যে ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করেছে, তাতে আওয়ামি লীগ তাদের সামনে ছিল একটি উন্নততর বিকল্প। এটাও স্বীকার করা প্রয়োজন যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আওয়ামি লীগ সরকারের সাফল্য যথেষ্ট। যে বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে এই কিছুদিন আগে দেশে প্রায় তোলপাড় হয়ে গেল,সেই সমস্যার স্বল্পমেয়াদি সমাধানে আওয়ামি লীগ যে খানিকটা হলেও সফল হয়েছে সে কথা বলাই বাহুল্য। গোড়াতে এই সমস্যার জন্যে আওয়ামি লীগ সরকার পুর্বতন বিএনপি-জামায়ত জোট সরকারকে দায়ি করেছিল কিন্তু পুর্বতন সরকার এই সব সমস্যার জন্যে দায়ি হলেও এর সমাধানের দায়টা যে  এখন আওযামি লীগের ওপর বর্তায়, সেটি আওয়ামি লীগ সরকারের বোঝা উচিৎ। মনে রাখা প্রয়োজন যে অন্যান্য যে সব কারণে আওয়ামি লীগ, গত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে, তার মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ব্যর্থতাই ছিল প্রধান। সুতরাং ঐ ব্যর্থতার অভিযোগ এনে সমস্যা সমাধানে আওয়ামি লীগের বিলম্বকে যৌক্তিকতা প্রদানের প্রচেষ্টাও অযৌক্তিক। প্রায়োগিক এই সব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আওয়ামি লীগ সরকারকে বিরোধীদের সমালোচনা সম্পর্কে অনেক বেশি সহিষ্ণু হতে হবে।

তিন.

সম্প্রতি সরকারের অসিহষ্ণুতার কিছু প্রকাশ ঘটেছে, মিডিয়ার উপর খড়্গহস্ত হয়েছে সরকার। একটি টেলিভিশন চ্যানেল, একটি খবরের কাগজ এবং ফেইসবুক বন্ধের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামি লীগ নের্তৃত্বাধীন এই মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে। প্রথমত এ সব কিছুর পেছনে সরকার একটা যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে কিন্তু যুক্তিটা যাই হোক না কেন, দিন বদলের রাজনীতিতে বিশ্বাসী সরকারের কাছ থেকে গণমাধ্যমের প্রতি এই আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করার পেছনে হয়ত যথেষ্ট আইন সঙ্গত কারণ ছিল, ব্যাঙ্কের  ঋণ খেলাফি সংক্রান্ত অভিযোগ শোনা গেছে চ্যানেলটির বিরুদ্ধে তবে দুষ্ট লোকেরা এ কথাও বলেন যে ঐ চ্যানেলটি বেশি বেশি করে খালেদা জিয়ার খবর প্রচার করছিল বলে সরকার অনেকটা প্রতিশোধপরায়ণ হয়েই ঐ চ্যানেলটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একই কথা উঠেছে বিরোধী বিএনপি সমর্থক আমার দেশ পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। আমার দেশ পত্রিকায়  সরকারের এবং সাম্প্রতিককালে আওয়ামি লীগের কিছু মন্ত্রীর তীব্র সমালাচনা ছাপা হয়েছিল এবং এসবকে কেন্দ্র করেই সরকারের উস্মা প্রকাশ পেয়েছে। সরকার অবশ্য বলছে যে এই পত্রিকাটির সাবেক প্রকাশক হাশমত আলী হাশু পত্রিকায় তাঁর মালিকানা বিক্রি করে দেওয়া সত্বেও, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ঐ সাবেক প্রকাশকের নামেই পত্রিকা প্রকাশ করে আসছিলেন। অতএব পত্রিকার ডিক্লারেশানের নিয়ম ভঙ্গ হওয়ায় পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই আইনি ব্যাখ্যাটি সম্ভবত ভুল নয়, নইলে আদালতে তা প্রত্যাখ্যান করা হতো কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে প্রকাশক হাশমত আলী হাশু যদি প্রায় বছর খানেক আগেই,এই পত্রিকার মালিকানা ত্যাগ করে থাকেন এবং তা সত্বেও যদি মাহমুদুর রহমান প্রায় বছর খানেক ধরে, হাশমত আলীর নাম প্রকাশক হিসেবে আমার দেশ পত্রিকায় ছাপিয়ে থাকেন, তা হলে তো ঐ পত্রিকার ডিক্লেরাশেন আগেই বাতিল হওয়া উচিৎ ছিল। এ কথা ও শোনা গেছে যে মাহমুদুর রহমানের নামে ডিক্লারেশানের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সরকার তা গ্রহণ করেননি। কী কারণে সরকার সেটি গ্রহণ করেনি  তার কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও সরকার দেয়নি। সবচেয়ে আশংকার যে সংবাদ আমরা শুনেছি সেটি হলো যে পত্রিকাটি বন্ধ হবার ঠিক আগের দিনই হাশমত আলীকে সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা অজ্ঞাত স্থলে নিয়ে যায় এবং মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে তাকে বাধ্য করা হয়। এর অনেক খবরেরই হয়ত প্রামানিক সত্যতা যাচাই করা মুশকিল কিন্তু এ কথাতো সত্যি যে হাশমত আলী, যিনি মোসাদ্দেক আলী ফালুর ভাই,তাঁর পক্ষে মাহমুদর রহমান, যিনি খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনাটা বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একটু অস্বাভাবিক ব্যাপারই বটে। কাজেই আইনী ভাষায় যাকে বলা হয় circumstantial evidence তার পরিপ্রেক্ষিতে  মনে হয় যে সরকার বেশ আটঘাঁট বেঁধেই এই পত্রিকা বন্ধের উদ্যোগ নিলো। এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনে একটা কারণ বোধ হয় এই যে মুক্তিযুদ্ধে জেনারেল জিয়ার ভুমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশকারী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পত্রিকাটি বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ এনেছিল এবং এই ঘটনা যদি তারই তড়িৎ প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে তা হলে সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে পারিবারিক ভাবে পাকিস্তানপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করার যে বেশ একটা জোর প্রয়াস চালিয়েছিল আমার দেশ পত্রিকা তার শেষ কয়েকটি সংখ্যায় তাতে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী কিংবা সরকার স্বয়ং বিচলিত বোধ করতে পারেন। তবে অভিযোগটি মিথ্যে হলে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী পত্রিকায় ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারতেন, ব্যাখ্যা না মানলে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ আনতে পারতেন অথবা পত্রিকার সংশ্লিষ্টদের পক্ষে মানহানির মামলাও আনতে পারতেন। পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় তাঁর ভাইয়ের প্রয়াস যে তাঁর ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, সে কথাও  তিনি বলতে পারতেন। কিন্তু সে সব পথে না গিয়ে পত্রিকটি বন্ধের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের প্রতি একটি নির্বাচিত সরকারের অনাকাঙ্খিত হস্তক্ষেপ। সরকার কিংবা তার মন্ত্রীদের সমালোচনার পথ যদি রুদ্ধ হয়, তা হলে তার বিকল্পটা আরও বিপজ্জনক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রয়েছে বিরাট এক উপদেষ্টামন্ডলি; এই বিজ্ঞজনেরা  কেন সরকারকে এই পরামর্শ দেন না যে যুদ্ধাপরাধের বিচারসহ অন্যান্য কিছু মৌলিক পরিবর্তনের ব্যাপারে সরকার যখন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুরণে তার সঙ্কল্প প্রকাশ করেছে, সেই সময়ে বিরোধী দলের মুখপত্র বলে পরিচিতি পত্রিকাটির কন্ঠরোধ রোধ করে, বস্তুত বিএনপি-জামায়তের মতো বিরোধীদের হাতকেই শক্তিশালি করা হচ্ছে।

 

চার.

এই পত্রিকা বন্ধের অল্প ক'দিন আগে বাংলাদেশে ফেইসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফেইসবুকের বিরুদ্ধে এর আগে মৌলবাদি মুসলমানরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিল পাকিস্তানেও। বলা হয় যে ফেইস বুকে হজরত মোহাম্মদের ছবি বা স্কেচ আঁকার আহ্বান জানানোর কারণে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগার ভয়ে, পাকিস্তানেও এই ফেইসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশে ফেইসবুক বন্ধের আগের দিন সেখানেও কিছু মুসল্লি মিছিল করেছিলেন। তবে বাংলাদেশে যে তাৎক্ষনিক কারণে ফেইসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয় সেটি হলো ফেইসবুকে নাকি প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী নেত্রী সহ অনেকেরই ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা হয়েছিল। এখনকার এই মিডিয়ার ব্যাপ্তির যুগে এই যুক্তিতে যোগাযোগের যে কোন মাধ্যম বন্ধ করার যে কোন চেষ্টা বেশ হাস্যকর। সমালোচনা, বিদ্রুপ, ব্যঙ্গ, ব্যঙ্গচিত্র এসব কিছুই মিডিয়ার প্রসারের কারণে সম্ভব হয়েছে। অশালীন কিছু প্রকাশ ও প্রচার করা উচিৎ নয় সে কথা মেনে নিয়েও বলছি যে এ ধরণের আন্তর্জাতিক সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করা সম্ভব নয় ডিজিটাল বিশ্বে। আর বিশেষত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন যারা দেখিয়েছেন তরুণ সমাজকে, তারা তারুণ্যের সব চেয়ে কার্যকর এই সামাজিক যোগাযোগের মিডিয়াকে রুদ্ধ করে দেবেন সেটা অবিশ্বাস্য। যারা কার্টুনবা সমালোচনার কথা শুনে অস্থির চিত্ত হয়ে পড়েন, তাঁরা কি জানেন যে সংবাদপত্রে ছাপানো লেখার উপর অন লাইনে নিজস্ব মন্তব্য দিতে গিয়ে কী ধরণের ভাষার প্রয়োগ করেন অনেক অসভ্য পাঠক। কিন্তু সেটাকেও তো রুদ্ধ করা যায় না।ব্যক্তিগতভাবে আমি ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত- এই দূর্বল যুক্তিতেও মিডিয়ার উপর খড়্গহস্ত হবার বিরোধী। সালমান রুশদি কিংবা তসলিমা নাসরিনদের লেখা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা কিংবা তাদেঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করার পক্ষে আমি নই, তাদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চলতেই পারে।

আওয়ামি লীগ সরকারকে ভেবে দেখতে হবে যে দলটির উষালগ্ন থেকে আওয়ামি লীগ গণতান্ত্রিক নিয়ম নীতিতে বিশ্বাস করেছে এবং একদলীয় শাসন কায়েমের ভুল সিদ্ধান্ত ছাড়া আওয়ামি লীগ আর কোন অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং দলটি সেনা ছাউনি দ্বারাও পরিচালিত হয়নি। গণতন্ত্রের পক্ষে দলটির এত সব সদর্থক দিক থাকা সত্বেও বিরোধীদের কন্ঠরোধের এই প্রচেষ্টা মোটেই শুভ নয়, গণতন্ত্রের পক্ষে তো নয়ই, আওয়ামি লীগের নিজের স্বার্থ ও আদর্শের ও পরিপন্থি। এ ব্যাপারে এই সরকারের দ্রুত  শুভবুদ্ধির উদ্রেক হোক সেটাই কাম্য।  

ওয়াশিংটন ডিসি

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.