Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৭ •  10th  year  3rd  issue  Jun - Jul  2010 পুরনো সংখ্যা
বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন Download PDF version
 
নারীর 
ক্ষমতায়ন

 

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন

ফারহানা আফরোজ কান্তা

 

এই লেখাটি শুরু করার আগে আমি আমার আশে-পাশের বেশ কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাংলাদেশে কি নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে? অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম নারী কি পুরুষ, বৃদ্ধা কি তরুনী, পৌঢ় কি যুবক- এরা সকলেই সমস্বরে বললেন, "না"। পাল্টা প্রশ্ন - এই একবিংশ শতাব্দীতেও না? যখন নারীরা দেশের সর্বোচ্চ আসন প্রধানমন্ত্রীর পদেও অধিষ্ঠিত হয়েছেন? উত্তর - বাংলাদেশে নারীরা ক্ষমতায় গিয়েছেন; কিন্তু নারীর ক্ষমতায় হয়নি।

একটু পিছনে ফিরে যাই। পাঠক আশাপূর্ণা দেবীর উপন্যাসত্রয়ী 'প্রথম প্রতিশ্রুতি', 'সুবর্ণলতা' 'বকুল কথা' পড়েছেন? তিনি এই তিনটি উপন্যাসে তিন যুগের তিনটি নারীর কথা বলেছেন- সত্যবতী, সুবর্ণলতা ও বকুল। এরা যথাক্রমে মাতামহী, মাতা ও কন্যা।

সত্যবতীর যুগটা ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ, তখন বাঙালি নারী পুরোপুরি অন্তঃপুরবাসীনি। তিনি গোপনে লেখাপড়া শিখেছিলেন। চিঠি পত্র, গল্প-কবিতা, গান লিখতেন। অর্থাৎ তার একটি 'নিজের মন' তৈরী হয়েছিল। এই মেয়েটি তাই নয় বছরে তার নিজের গৌরীদান মেনে নিতে পারেননি। মেনে নিতে পারেননি শ্বশুরবাড়ীর বদ্ধ পরিবেশ। খুব দুঃসাহসী হয়ে বৃদ্ধ বয়সে তিনি সংসার ছেড়ে চলে যান একটি অনাথ আশ্রমে। সেখানে ছোট ছোট অনাথ শিশুদের লেখাপড়া শিখিয়ে পার করেন জীবনের শেষদিনগুলি।

সত্যবতীর কন্যা সুবর্ণলতা আরেকটু আলো দেখেছিলেন। তিনি লেখাপড়া শিখেছিলেন। যৌথ পরিবারে বিয়ে হলেও তিনি সংসারধর্ম বা সন্তান পালনে স্বকীয়তা দেখান। তিনি জীবনকে শুধু "রাঁধার পরে বাড়া এবং তার পরে আবার রাঁধা" হিসেবে দেখেননি। সুবর্ণলতা বই পড়তে ভালবাসতেন। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ডাইরী লিখতেন। সুবর্ণলতার স্বাধীন চিন্তাকে কেউ সম্মান করেনি, ধৃষ্টতা মনে করেছে।

বকুল সুবর্ণলতার কন্যা, অর্থাৎ সে তৃতীয় প্রজন্ম। এই মেয়েটি ষাটের দশকে জন্মেছে। সে লেখাপড়া করার স্বাধীনতা পেয়েছে। বকুল পেশায় একজন লেখক। অর্থাৎ তাঁর আর্থিক স্বাধীনতাও রয়েছে। তবে কি বকুলের ক্ষমতায়ন হয়েছে? বকুল তার পছন্দের ছেলেটিকে বিয়ে করতে পারেনি। কারন অভিভাবকের অমত। আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও আলাদা বাসা ভাড়া করে থাকতে পারেনি, কার অবিবাহিত মেয়েরা একা থাকতে পারবে না। তাকে থাকতে হয়েছে ভাইয়ের সংসারে। সে তুলনায় সত্যবতী বরং স্বাধীন ছিলেন। শেষ বয়সে হলেও তার ক্ষমতায়ন হয়েছিল।

উপন্যাসের উদাহর দিলেও এটাই বাস্তব চালচিত্র। আমাদের দেশের মেয়েরা এখন লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডী পেরোনো মেয়ের সংখ্যাও প্রচুর। কিন্তু তাদের ক'জনের ক্ষমতায়ন হয়েছে? একটি মেয়েকে তার পরিবার হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবার সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু যে মুহুর্তে ভালো একটি বিয়ের প্রস্তাব আসছে অমনি মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ লেখাপড়া শেখার জন্য বা ক্যারিয়ার গঠনের জন্যই লেখাপড়া নয় বিয়ের জন্য লেখাপড়া। এর ব্যতিক্রম যে একেবারেই নেই তা নয়। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এরকম ঘটেছে। আমি এখন পর্যন্ত শুনিনি কোন ছেলের অনার্স পড়তে পড়তে বিয়ে হয়ে গেছে, কারন ভালো মেয়ে পাওয়া গেছে। বরং ছেলেটি পড়াশোনা শেষ করে, চাকুরী পেয়ে নিজেই 'ভাল মেয়ে খুঁজে বিয়ে করছে। এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, "বাঙালি মেয়েদের বিয়ে হয়, আর ছেলেরা বিয়ে করে।"

বিয়ের পাত্রী খুঁজতেও কিন্তু সুন্দরী, শিক্ষিতা মেয়ে খোঁজা হয়। মেয়ে এম.এ. পাস, ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার বলতে শ্বশুরকূলের যতটা গর্ব, ততটাই অনীহা ডাক্তার বউকে নাইট শিফটে কাজ করতে দিতে, ইঞ্জিনিয়ার বউকে অফিশিয়াল ট্যুরে বাড়ির বাইরে যেতে দিতে বা এম.এ. পাস মেয়েটিকে চাকুরী করতে দিতে। কি দরকার চাকুরী করবার মেয়েদের? ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট মেয়েটির প্রতিভাকে কেউ কাজে লাগাবার কথা ভাবেও না। তার দিন যায় বাচ্চাকে স্কুলে আনা-নেয়া আর টিভি সিরিয়াল দেখে।
পাঠক
, এ লেখাটি কি তসলিমা নাসরিনের মতো হয়ে যাচ্ছে? কি করবো? নিজের চোখেই তো দেখছি। পাশের বাড়ির ছেলেটিকে পড়তে আমেরিকায় পাঠানো হলো। মেয়ে বাড়ির পাশের ডিগ্রী কলেজে পড়ছে, ঐ যথেষ্ট। আর আমরা মেয়েরাও যেন ভুলে গেছি নিজের ক্ষমতায়নের কথা। নাম, যে নাম জন্মের পরে বাবা-মার দেয়া, তাও মেয়েরা ভুলে যায় সময়ের আবর্তে। একটা নাটকে দেখেছিলাম, বাড়ির কাজের বুয়াকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে; "তোমার নাম কি?"

- রহিমার মা

- আরে, রহিমার মা তো কারো নাম হতে পারেনা। বাপ-মা তো একটা নাম দিয়েছিল, তাই না?

- অত কথা জানি না, আমার নাম রহিমার মা।

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে আরেক ধরণের নামও দেখছি। মিসেস চৌধুরী, মিসেস আহমেদ, মিসেস সফিউল্লাহ; এবং এরা প্রত্যেকেই স্বামীর নামের গরবেই গরবিণী। যে মেয়েটি নিজের স্বামীকে সম্বোধন করে 'আমার সাহেব' বা ' আমার কর্তা', সে নিজের ক্ষমতায়ন সম্পর্কে কতটুকু ওয়াকিবহ?

কোন পুরুষ কিন্তু তার স্ত্রীর পরিচয়ে পরিচিত হতে ততটা উৎসুক নন। রবীন্দ্রনাথের 'দর্পহর' মনে আছে? "একদিন একটি অপরিচিত ভদ্রলোকের সহিত আমার পরিচয় হইতেই তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন,"আপনি কি শ্রীমতী নির্ঝরিণী দেবীর স্বামী?" আমি কহিলাম, "আমি তাঁহার স্বামী কিনা সে কথার জবাব দিতে চাহি না, তবে তিনিই আমার স্ত্রী বটেন।" অপরিচিত লোকের কাছে স্ত্রীর স্বামী হিসেবে পরিচয় দিতে শ্রী হরিশচন্দ্র হালদার উৎসুক ছিলেন না।

লেখক প্রতিভা বসু বিবাহপূর্ব জীবনে গায়িকা রানু সোম নামে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। বিয়ের পরে রানু সোম হলেন প্রতিভা বসু, এলেন লেখালেখির জগতে। "তখন জনরব শোনা গেল বুদ্ধদেব বসু এখন বউয়ের নামে উপন্যাস লিখে দিচ্ছে" (সূত্রঃ ব্যক্তিত্ব বহুবর্ণে- প্রতিভা বসু) তিনি লিখেছেন, "গানের জগতে আমি গান গেয়ে যে সমাদর পেয়েছি তাতে কোনও স্ত্রী-পুরুষে বিভেদ ছিলো না, রাজনীতির ছোঁয়া ছিলনা। বিচারের দণ্ডটা সমান সমান ছিলো। পুরুষ বলেও যেমন এক নম্বর বেশি পাবার উপায় নেই, কোন দলের লোক বা মেয়ে বলেও এক নম্বর কম হবার সম্ভাবনা নেই। গানের সঙ্গে কানের একেবারে সরাসরি সম্পর্ক। যারটা ভালো, তারটাই ভালো, কিন্তু সেই আঠারো বছর বয়সে বিবাহিত হয়ে যে জগৎটার মধ্যে এসে ঢুকলাম সেখানে সদর-অন্দর পরিস্কার দুভাগে বিভক্ত। পুরুষরা মাথার কাজ করে, সেখানে একটা তুচ্ছ মেয়ে, যার পতিই পরম গুরু। সেখানে অনধিকারী হয়েও টক্কর দিতে আসা নেহাত দুঃসাহস ব্যতিত আর কিছু নয়। কেবল মাত্র দুঃসাহসই নয়, রীতিমতো অন্যায়। লেখাপড়ার জগতে যত যোগ্যই হও, পুরুষেরা অথবা সমাজ তাকে কখনওই একাসনে বসতে দেবে না" (সূত্রঃ দেশ, ২৬ শে জুন ১৯৯৯) প্রতিভা বসু কিন্তু পেরেছিলেন। সংগ্রাম করে হলেও তিনি লেখক 'প্রতিভা বসু' হয়েছেন। তাঁর লেখক পরিচয় বিবাহপূর্ব গায়িকা রানু সোম-এর পরিচয়কে ছাপিয়ে গিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফিরে আসি স্বাধীনতার পর থেকে কিছুটা হলেও নারীর ক্ষমতায়নের নিদর্শন দেখা যাচ্ছে। নারীরা এখন কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের পাশাপাশি সক্রিয়। শিল্প-সাহিত্য, সঙ্গীত বা মিডিয়াতেও নারীর পদচারণা সরব। সঙ্গীতের ক্ষেত্রই ধরি, রুনা লায়লা বা সাবিনা ইয়াসমীন বাংলা গানের জগতে সম্রাজ্ঞীর আসনে আসীন। অভিনয়ে সুবর্ণা মুস্তফা বা ফেরদৌসী মজুমদার অনায়সে পাল্লা দেন আসাদুজ্জামান নূর কিংবা আলী যাকেরের সাথে। সেখানে তারা কার স্ত্রী, মা, বোন বা খালা- এ পরিচয় মূখ্য নয়। তাঁরা তাঁদের কাজের জন্য স্বমহিমায় উজ্জ্বল। বাংলাদেশের মেয়েরা এগিয়ে আসছে, তারা স্কুল-কলেজ, সরকারী চাকুরী ক্ষেত্র, মিডিয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই অংশ নিচ্ছে এবং সফল হচ্ছে আশা করবো ভবিষ্যত বাংলাদেশে নারী স্বক্ষেত্রে হবেন ক্ষমতায় আসীন - তখন হবে নারীর পূর্ণ ক্ষমতায়ন

 

 

ফারহানা আফরোজ কান্তা : রসায়নবিদ ও সংস্কৃতিকর্মী।

সিলিকন ভ্যালি, ক্যালিফোর্নিয়া

জুন ১৫, ২০১০

 

মন্তব্য:
Ivy   August 11, 2010
@Laboni You are comparing a nanny and a callgirl on the same scale - I am just wondering what kind of education and values you have! If someone with PhD in professional subject can afford (her kids will not be in debt when they will go to college)to stay at home very easily then I would appreciate it as long as she is giving the quality time to her kids and the society. But the irony of fact is most of the time these kind of women show a hypocratic behavior. I know a PhD woman who used to say proudly that she liked to stay at home. The same lady joined to work (8 to 5) leaving her 4 weeks old son in a very hardly known home daycare as soon as she got a job offer. Today or tomorrow everybody will understand everything. Try to be truthful to yourself first. It is one of the prime condition for being a good mother.
আশরাফ আহমেদ   July 29, 2010
আপনার লেখাটি পড়ে খুব ভাল লাগলো, কোথাও থমকে যেতে হয়নি। আরো লিখুন।
Laboni   July 22, 2010
Not sure what you mean. If I give my love and care to my children, I am powerless. But if I work 8 to 5 in a company, give that money to a child care provider, then I am powerful? What does power got to do with how much money I can bring in home? One of my friend said, you don’t need a PhD to take care your children. So her suggestion is to hire a nanny, then go work “outside”. Hmm, sound interesting. My answer was, do I need a PhD for sleeping with my hubby? Why don’t I outsource that too. I mean, even a high school girl can do that adequately, can’t she? Should I hire a sleeper for my hubby? Then I can work outside in night as well. Make more money, got more power!
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.