Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৭ •  10th  year  3rd  issue  Jun - Jul  2010 পুরনো সংখ্যা
একটি ব্যক্তিগত পর্যালোচনা Download PDF version
 

নারীর ক্ষমতায়ন

 

 

একটি ব্যক্তিগত পর্যালোচনা

 

ওয়াহিদা আফজা

 

.

নারীর ক্ষমতায়ন শব্দটি দিয়ে আসলে কি বোঝায়? আমরা যারা আম- জনতা তারা এক ঝলক ক্ষমতায়ন শব্দটা দেখেই একে ক্ষমতাশালীর সমর্থক বলে কিছু একটা মনে করি আর মনে মনে বলি বাংলাদেশে আর কতো নারীর ক্ষমতায়ন দরকার - প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী সবই তো নারী, আর কতো?

কিন্তু এই গুটিকয়েক পদভারী নারীদের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সমাজের চারপাশে তাকালে কী দেখবো? দৈনিক পত্রিকার একভাগ জুড়ে নেত্রীদের ফিতা কাটা আর অধিকাংশ অংশ জুড়ে নারী নির্যাতনের কাহিনী বাংলাদেশের নারীর করুন অবস্থাটিই তুলে ধরে। এমনিতেই আমাদের দেশে অপরাধের শেষ নেই, তার উপর নারী হলে তো কথাই নেই। ইভ টিজিং, এসিড সন্ত্রাস, ধর্ষন, বাল্য বিবাহ, পারিবারিক সন্ত্রাস, অশিক্ষা, কুসংস্কার, যৌতুকের মতো অপরাধগুলো দৈত্যের মতো তাদের পিছু পিছু ধাওয়া করতে থাকে। এখানে প্রতিপক্ষ কিন্তু একা পুরুষ নয়, প্রতিপক্ষ সামগ্রিকভাবে সমাজের মানসিকতা যা আমরা উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছি।

এই সমাজে কয়জন আছে যারা এবার হলেও এই মানসিকতার সংস্কারবোধের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে পদক্ষেপ নিয়েছে? নিঃসন্দেহে খুব একটা বেশী নেই। যে দেশে রাষ্টীয়ভাবেই সংস্কার শব্দটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয় সে দেশে আম- জনতার কী দায় ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর? তাই ঘটা করে নারী দিবস কিম্বা নারী নির্যাতন দিবস পালন করেই সেই পৌনঃপুনিক জীবনে এক কাপ চায়ের পেয়ালা হাতে পত্রিকা খুলে দেখি রহিমের প্রেম প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় রাহেলার মুখ এসিডে ঝলসালো। কারণ মাস্তান রহিমের কাছে রাহেলা ছিল সুন্দর মুখের একটা মাংসপিন্ড মাত্র - কোন মানুষ নয়। কেন? এখানে রহিমের মায়ের ব্যর্থতাও আছে যে তিনি ছেলেকে নারীদের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তুলতে পারেননি বা করেননি। না করাটা তার নিজের অশিক্ষা এবং দূরদৃষ্টির অভাব আর না পারাটা এক ধরনের অক্ষমতা বা ক্ষমতায়নহীনতা যা আমদের দেশের অধিকাংশ নারীই ভোগ করছে। অধিকাংশ সংসারেই নারীর নিজস্ব কোন কন্ঠস্বর নেই। এর পিছনের কারণ হয়তো সংসারের যে কাজ সে করছে তার স্বীকৃতি নেই কিম্বা কোন রকম টিকে থাকার সংগ্রামে যুদ্ধরত তার হাতে সন্তানের জন্য কোন সময় নেই অথবা হাতে অর্থ নেই, শিক্ষা নেই ফলস্বরুপ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

এতোসব নেই নেইকে অতিক্রম করার পোষাকী নামই হলো ক্ষমতায়ন। এ ক্ষমতায়নে আসলে লাভ কার? যে রাহেলা আজ জীবমৃত হয়ে জীবন কাটাচ্ছে তার নাকি যে রহিম আজ জেলের ভিতরে পচছে তারও? কে অস্বীকার করবে যে নারীর ক্ষমতায়ন আসলে সমাজ উন্নয়নের অন্যতম প্রাথমিক শর্ত? দেশের সর্বস্তরে নারীদের মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকারের প্রতিষ্ঠা পাওয়াকে আর ভয় পাবার কোন কারণ নেই। এখনই সময় আর দেরী না করে কাধে কাধ মিলিয়ে নারী পুরুষ সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্য কমিয়ে এনে আমাদের সন্তানদের সামনে সুন্দর ভবিষতের নিশ্চয়তা দিতে।

বাংলাদেশে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নারীদের প্রধান বাঁধা ছিল শিক্ষার সুযোগ। সে সময়ের কঠোর ধর্মীয় আর সামাজিক অনুশাসন ভেঙ্গে অনেক পরিবার এগিয়ে এসে নারীদের শিক্ষিত করা শুরু করেছিল। কিন্তু তা মূলত অবস্থাপন্ন পরিবারগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর বাংলাদেশে জনসংখ্যা অনেকগু বেড়েছে সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রান্তিক নারীদের দূর্দশা। অনেকটা সময় চলে যাওয়ার পর বিভিন্ন সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগে কিছুটা হলেও গ্রামাঞ্চলের নারীরা শিক্ষা এবং উৎপাদনশীলতায় অংশ নেওয়ার সুয়োগ পেল। এক্ষেত্রে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের গ্রামীন ব্যাংক এবং ফজলে আবেদ খানের ব্রাকের নাম উল্লেখ করতে হয়। এই দুটো সংস্থা নিয়ে অল্পবিস্তর কিছু বির্তক থাকলেও আমাদে মানতে হবে যে অন্তত একজন হলেও বৈঠকখানার আড্ডা ছেড়ে, তাতি্বক সমালোচনার কলামে নিজেকে ব্যস্ত না রেখে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহনের মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের একটা পথ দেখিয়েছে। এর আগে তাদের সামনে এগুনোর পথ আগলে যে দূর্গম পাহাড় দাড়িয়ে ছিল তার মধ্য দিয়ে অপ্রশস্ত হলেও একটা পথ তৈরী হয়েছে। কে জানে হয়ত অদূরেই আরো বহু পথ মিলে একদিন এ পথই প্রশস্ত রাজপথে পরিনত হবে।

পাশাপাশি গত দু তিন দশক ধরে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প বিকাশের সাথে সাথে শহরাঞ্চলেও প্রান্তিক নারীরা আত্মমর্যাদা আর আত্মনির্ভরশীলতার একটা প্লাটফর্ম খুঁজে পেল। সকালে মিরপুরের দশ নম্বর গোল চক্করের সামনে দাড়ালে গার্মেন্টস কমর্ীদের ঢল কিম্বা ঢাকা শহর থেকে দূরে প্রত্যন্ত গ্রাম মধুপুরের কোনো মেঠো পথ দিয়ে সাইকেল বা হোন্ডায় চড়া গ্রাম্যতরুনী কোন বিরল দৃশ্য নয়। এসব দেখলে মনে হয় ওরা এগিয়ে যাচ্ছে। সেই তুলনায় আমাদের নাগরিক নারীরা কতদূর এগিয়েছে?

বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে আর কোন দ্বিধাদ্বন্ধ নেই। বোর্ডের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাগুলোতে মেয়েদের সাফল্য প্রশংনীয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনগুলোতে নারীরা এখন আর কোন দৃষ্টব্য উপাদান নয়। এরা খুব ভালো ফলাফলও করছে। সংখ্যায় কম হলেও অফিস আদালতে নারীদের দেখা যাচ্ছে। সংখ্যায় কম হওয়ার অন্যতম কারণ নারীদের মাতৃত্ব এবং সংসারের প্রতি দায়িত্ব। এ দুটো কাজই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে নারী হারাচ্ছে তার স্বীকৃতি, অতিক্রম করতে পারছে না লিঙ্গ বৈষম্য। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এখনও নারীদের ক্ষমতায়নের একটা প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। এর সাথে পরোক্ষভাবে সামাজিক প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও জড়িত। তবে অন্যসব কিছু পাশ কাটিয়েও একজন নারী সমাজ সেবার মাধ্যমে সামাজিক ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সদিচ্ছাই বড় মন্ত্র। নারীকেই উদ্ভাবক হতে হবে তার নিজের সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে। একজন মা তার নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মেয়ের মাঝে তা সঞ্চালিত করতে পারেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমরা একই ভুলের আবর্তে স্থবির থাকতে পারি না। শিক্ষার ক্ষেত্রটা শুধু প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না। ঘর ও বাহির দুটোর সমন্বয় করে নারীকে এগিয়ে যাবার দীক্ষা দিতে হবে।

বাংলাদেশে প্রকৌশল, চিকিৎসক, বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয় বা ব্যবসা নিয়ে লেখাপড়া করা মেয়েদের অনেকেই প্রবাসে চলে আসছে। তুলনামূলক ভাবে প্রবাসে নারীর ক্যারিয়ার তৈরী করার অনেক সুযোগ থাকলেও দেখা যাচ্ছে অনেক উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার পরও একটা বিশাল সংখ্যক নারী সেই সুযোগটা নিচ্ছে না। কারন হিসেবে এদের অনেকেই সংসার সন্তানকে প্রাধান্য দেবার কথা উল্লেখ করে। কিন্তু কথা হলো প্রায় ত্রিশ বা তর্তোধ বয়স পর্যন্ত নিবেদিত প্রান হয়ে লেখা পড়া করার পর একজন বুদ্ধিমান নারীর হঠাৎ করেই এই বোধোদয় আসবে কেন? তার পড়াশোনার উদ্দেশ্য ছিল কী শুধুই একজন সুপাত্রস্থ হওয়া? প্রকৌশল, চিকিৎসা বা বিভিন্ন পেশাজীবিভিত্তিক বিষয়ে তো দর্শন, সংসার বা সন্তান পালনের কোন শিক্ষা পাওয়া যায় না। এই অপচয় শুধু কোন ব্যক্তির একার নয়, তা দেশেরও। কারণ এদের পিছনে গরীব দেশকে অনেক অর্থ খরচ করতে হয়েছে।

মধ্যবিত্ত পরিবার এখন নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি। সচ্ছল ও হয়েছে। মেয়েরা কথাশোনা লক্ষ্মী শ্রেনী বলে কথা শুনছে। সারাক্ষন লেখাপড়া গিলছে। অনেক ভালো ফলাফল করছে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে মায়ের সংসারের সেই নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ছেড়ে যখন নিজের দায়িত্ব নিজেই নিচ্ছে তখন একই সাথে ঘরে বাইরে সামাল দেওয়ার বর্হিমূখী পারদর্শিতার অভাব পরবর্তিতে তাকে পিছিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টা অনেকটা ডলফিনের নাচ শেখার মতো। একটা ট্রেনিং প্রাপ্ত ডলফিন নাচ দেখাচ্ছে, স্বাধীন ডলফিন তা দেখাচ্ছে না। নাচ জানা ডলফিন স্বাধীন হয়ে যেমন নাচ দেখায় না ঠিক তেমনি অতি নিয়ন্ত্রিত মেয়েদের জীবনের গতিও থিতিয়ে আসে পরবর্তী স্বাধীন জীবনে। তারা বুঝতে পারছে না কিভাবে ছোট পৃথিবী ছেড়ে বড় পৃথিবীতে এসে কিভাবে এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। অনেকসময় ইগোও বাধা হয়ে দাড়ায়। কারণ আমরা আমাদের ছোট পৃথিবীতে অল্পতেই খুব বেশি প্রশংসিত। তাই প্রবাসে এখন এই দৃশ্য অনেক বেশি পরিচিত যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ে আসা শিক্ষত নারীরা প্রগতিশীল মায়ের ভূমিকা পালন না করে অনেকবেশি ধর্মীয় গোঁড়ামীর আশ্রয় নিচ্ছে। গোঁড়া ধর্মবাদ নারীর ক্ষমতায়ন স্বীকার করে না। নারী হারাচ্ছে তার নিজের উপর বিশ্বাস। যে নারী নিজেই স্বপ্ন দেখতে ভুলে যাচ্ছে সে তার সন্তানের মধ্যে কতটুকু স্বপ্নের বীজ বপন করতে পারবে?

আমি ঢাকার রাস্তায় একজন একজন গার্মেন্টস কর্মীর মুখে যে আত্মবিশ্বাসের দিপ্তী দেখেছিলাম, আমেরিকায় এসে অনেক নারীর মুখেই সেই দিপ্তীর ছিটেফোঁটাও খুঁজে পাই নি। যে শিক্ষিত সমাজের দায়িত্ব ছিল প্রগতির মশালটা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কেন জানি মনে হয় তাদের একটা বিরাট অংশই দ্বিধাগ্রস্ত।


.

একই সাথে ঘরে বাইরে সামাল দেওয়া এবং উভয় ক্ষেত্রেই সফল হওয়া আজকের নারীর জন্য একটা কঠিন পরীক্ষা। কারণ অনেকাংশেই পথটা অজানা। চলতে চলতে ঠেকে ঠেকে নিজেকেই তা শিখে নিতে হচ্ছে। হয়তো আজকের নারীর সংগ্রাম সহজ করে দিবে আগামী নারীদের চলার পথ। মা যেমন শিক্ষক আবার মেয়ে সন্তানদের রোল মডেলও বটে। অলিখিতভাবে ছেলেরা বাইরের পৃথিবীতে আসছেন, নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছে। তাই কোন অভিধানে পুরুষের ক্ষমতায়ন শব্দটা নেই। মেয়েদের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করতে গেলে গড়পত্তা একজন ছেলের থেকে বেশী শ্রম দিতে হয় এবং বেশি দায়িত্ব পালন করতে হয়। বহুমাত্রিক না হলে একটা মেয়ের পক্ষে ক্ষমতায়ন অনেকটাই অসম্ভব। এর মানসিক প্রস্তুতিটা অনেক আগে থেকেই নিতে হয়। পরিবার এই প্রস্তুতির প্রধান ক্ষেত্র। সে অনেকটাই মা বা পরিবারের অন্যান্য নারীদের দেখে শেখে অথবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আশ্বাস, উৎসাহে নিজের ভবিষৎ গড়ে তোলে। খুব প্রতিভাবান ছাড়া বিষয়টা অনেকটা প্রজন্মের প্রগতিশীল ধারাবাহিক ফল।

কর্মজীবি নারীদের সামনে একটা জ্বলন্ত প্রশ্ন সন্তান, সংসার বা ক্যারিয়ার কোনটা আগে? অনেকেই ঝামেলা এড়াতে আর সন্তান সংসারের পথে পা বাড়ায় না। মূলত কর্মজীবি মায়েদের সাফল্য নির্ভর করে সময়ের যর্থাথ ব্যাবহারের মাধ্যমে। ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিন্তু এসব মায়েরা সন্তানকে অগ্রাধিকার দেন। তাদের উপার্জনের একটা বড় অংশই সন্তানের শিক্ষা এবং সহশিক্ষার পিছনে ব্যয় করেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরী করার মধ্যেই আসল সার্থকতা। তারপরও কর্মজীবি মায়েদের মনের ভেতর ক্রমশ টানাপড়েন চলতে থাকে। তার উপর আছে সামাজিক চাপ যার অনেকটাই উৎস ধর্মীয় গোঁড়াবাদ। কিন্তু মুসলিম ধর্মে তো দেখি যে মহানবী (সঃ) জন্মের পর পরই ধাত্রীমাতা হালিমার কাছে মানুষ হয়ে ছিলেন। তাহলে তো ধর্মের দোহাই দিয়ে ডে কেয়ার পদ্ধতির সমালোচনা করা উচিত নয়। মুসলিম মহিলারা সবচেয়ে বেশি ঘরে থাক্ অে;থচ তাকিয়ে দেখি নারীতো বটেই পুরুষদের ক্ষেত্রেও অর্থাৎ পুরো মুসলিম জাতিই ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। এ সমস্যাটাও আমাদের চোখে খুব বড় হয়ে দেখা দেয় না কারন মুসলিম সমাজ অতিমাত্রায় অদৃষ্টবাদে বিশ্বাসী। পক্ষান্তরে এই আমেরিকাতেই দেখছি ভারতীয় এবং চাইনীজ নারীদের ক্ষমতায়নের জোর। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দেখা যায় অধিকমাত্রায় এসব ক্ষমতাবান নারীদের সন্তানদের উপস্থিতি। কোম্পানীর উচ্চপদে আজ অনায়াসে তাদের অধিকার।

এরকম আরো অনেক উদাহরন দেখে আমার ধারণা হয়েছে যে আমরা মায়েরা মনে মনে সন্তানকে নিয়ে যতো বড়ই আশা করি না কেন পরিশেষে সন্তান কিন্তু মায়ের মূল্যবোধটাই ভেতরে ধারন করে এবং সে ছাঁচেই তার জীবন প্রস্ফুটিত হয়। এজন্য দেখা যায় যে পরিবারের মেয়েরা যতো আগে থেকে ক্ষমতায়নের পথে এগিয়েছে সে পরিবারের মেয়েরা তথা সে জাতি ততো বেশি অগ্রগামি।

নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নিজের অর্থনৈতিক বা সামাজিক প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাজে নিজেদের কন্ঠকে জোরদার করার মাধ্যম নিজস্ব চিন্তাভাবনাকে তুলে ধরা। নিজেদের ব্যাপারে শ্রদ্ধাবোধ না জাগাতে পারলে লিঙ্গবৈষম্য কমবে না। এর প্রাথমিক শর্তই প্রগতিশীলতার ধারাবাহিকতা। দেখা যায় যে যেখানে নারীরা যতো আগে ক্ষমতায়নে এসেছে পরিবারের অর্থনীতির বুনিয়াদ ততো শক্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে নারীরা সমাজের অন্যন্য ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহন করতে পেরেছে, নিজের কন্ঠস্বর জোরালো করতে পেরেছে। সমাজ যদি একজন নারীর কন্ঠস্বরকেও গুরুত্ব দেয়, তবে সে হাজারো নারীর পক্ষে কথা বলতে পারে। নারীরা যদি তাদের কথা নাই বললো তবে কে তাদের সমস্যার কথা বলবে? আমাদের দেশেই জন্মেছেন নবাব ফয়জুন্নেছা, বেগম রোকেয়া, শহিদ জননী জাহানারা ইমাম।

 

ওয়াহিদা আফজা : প্রকৌশলী ও লেখক।

 

ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া

জুন ১৭, ২০১০

 

মন্তব্য:
Shah Alam Mozumder   July 28, 2010
Dear Wahida Afza: Congratulations for writing such a beautiful article. All, both man & woman should read this article. I really enjoyed your writing style and subject. Please continue writing. Thanks.
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.