Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৭ •  10th  year  3rd  issue  Jun - Jul  2010 পুরনো সংখ্যা
ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা ও স্বপ্নের মৃত্যু Download PDF version
 

নারীর ক্ষমতায়ন

 

ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা ও স্বপ্নের মৃত্যু
রীবা মাহবুব

আত্মমর্যাদা, আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার একবিংশ শতকের পৃথিবীর একজন স্বাধীন নাগরিকের একটি মানবিক অধিকার- এ অধিকার পালন করতে পারাই ক্ষমতায়ন। কাগজে কলমে পৃথিবীর বেশীর ভাগ গণতান্ত্রিক দেশে এ অধিকার পালনের কথা উল্লেখ থাকলেও- সত্যিকার অর্থে বহুনারী এ অধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রচলিত চিন্তাধারায় বলা হয়- শিক্ষা ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়- কথাটার সত্যতা নিশ্চই আছে- তবে ক্ষমতায়ন বিষয়টি এর চেয়ে আরো অনেক বেশী কমপ্লেক্স। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ক্ষমতায়নের একটি প্রধান অংশ ও শর্ত হতে পারে, তবে গোটা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী এর সাথে জড়িত। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী পারিবারিক বিশ্বাস ও রীতিনীতি থেকেই তৈরী হয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাদের মাঝে মিল না হলে মানুষের স্বপ্নের মৃতু্য হয়- আত্মমর্যাদা আর ব্যক্তিস্বাধীনতা আহত হয়। এদিক থেকে চিন্তা করলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যেমনি নারীকে উন্নয়নের নতুন স্তরে নিয়ে যায়, নতুন চাওয়া পাওয়ার স্বপ্ন দেখায়- তেমনি তাকে তার ক্ষমতায়নের পথে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এনে দাঁড় করায়। পরিবর্তিত সামাজিক পরিবেশে প্রবাসে এ চ্যালেঞ্জ একটি নতুন মাত্রা পায়।

কয়েকজন প্রবাসী নারীর জীবনের কথা বলি। এরা সবাই আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত সমাজের বাসিন্দা:

(১) ২৪ কি ২৫ বছর বয়সে বাবা-মা বললেন পড়াশোনা করার অনেক সময় পাওয়া যাবে কিন্তু সংসার করার একটা বয়স আছে। অতএব বাবার হাত থেকে স্বামীর হাতে সম্পাদকের পর্যায়টা যথোপযোগী সময়ে করে মেয়েকে সামাজিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে দিলেন বাবা-মা। মেয়ে ডাক্তার- তাই ডাক্তার ছেলে খুঁজে পেতে বিয়ে দিলেন তার। আপাত দৃষ্টিতে সোনায় সোহাগা- এমন যুগলের সুখ-সমৃদ্ধিপূর্ণ ভবিষ্যত কনফার্ম করতে পারলে কার না ভালো লাগে। সম্ভাবনাপূর্ণ ভবিষ্যতের আলো ওদের চারপাশের সবাইকেও আলোকিত করে। মেয়েকে এমন সাফল্যের দরজায় এনে দাঁড় করিয়ে দেবার সাফল্যে বাবা-মায়ের আত্মা জুড়িয়ে যায়। বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইশারা আর আশা যে জামাইটা মেয়েকে ভাল রাখবে। উপরের চিত্রটি বাঙালী সমাজের আজীবনের চিত্র। এ গল্পের দম্পতি বিয়ে করেছে সত্তরের দশকের শেষে- তারপর একসময়ে এরা আমেরিকায় এসে হাজির হয়- পুরুষটি তার পড়াশোনা নিয়ে এগিয়ে যায়- আমেরিকায় নিজেকে ডাক্তার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে- আর তার স্ত্রী সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী সংসার ধর্ম পালনে ব্যস্ত হয়- দু ছেলে মেয়ের মা এখন ঘরনী- যে কারনে বিয়ে করে স্বামীর সাথে সাগর পাড়ি দিয়েছিল তা সার্থক হয়েছে। সংসারে সার্থক এই নারীর সাথে যখন কথা হয় তখন তার বয়স পঞ্চাশের কোঠায়। ছেলে মেয়ে বড় হয়ে যাওয়ায় এখন একা বোধ করেন- কিছু করতে চান- nakshi katha by surayaতিনি কি করতে পারেন বলতে যেয়ে বুকভাঙ্গা হাসি দিয়ে বললেন- ঘর পরিস্কার করতে পারি, রান্না করতে পারি, মানুষকে আপ্যায়ন করতে পারি- "আর কি পরিচয় দেব- বলতে পারি আমি একজন ডাক্তারের বউ"। তার কাছে জীবনের গল্প শুনলাম, তার মরে যাওয়া স্বপ্নের কথা শুনলাম। ডাক্তার হবার স্বপ্ন। মেয়েকে ডাক্তার হতে হবে- এস্বপ্ন ছিল বাবার- মেয়েও বাবার সাথে একই স্বপ্ন দেখলো- তারপর সংসারের বয়স আর সামাজিক রীতিনীতির মাঝে কোন এক সময় ডাক্তার মেয়ের স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে - কার অনেক বিদেশে দু'জনে একসাথে পড়তে গেলে যেমন খরচ তেমন ঝামেলা- বাচ্চা পালবে কে- বাসা দেখবে কে- তারপর একের পিঠে আরেক কারণ জমে জমে জীবনের ভার বহন কঠিন হয়ে আসে তখন সংসার টিকিয়ে রাখার দায়তো কষ্টসহিষনু মায়ের- " কি ভাল মেয়ে" এই বাহবা পেলে কজন মা তার মৃত স্বপ্নের বিয়োগ ব্যাথা ভুলে যায় কোন জরীপ ছাড়া এ প্রশ্নের কোন সত্য জবাব পাওয়া যাবেনা- কারন সমাজ বলবে মায়েরা এমনি ত্যাগী মনোভাবের- তারা নিজে থেকেই নিজেদের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে চায়- আর মায়েরা লোক সমুখ্যে মুখ খুলবেনা- কারন এ যে তার পরিবারের জন্যে লজ্জাজনক- পরিবারের সম্মানরক্ষার দায়িত্ব যে নারীর ঘাড়েই বর্তায়- নিজস্ব স্বপ্নের মৃত্যুর এ ত্যাগের কাছে অতি তুচ্ছ, কার এতে তার স্বামী, তার সংসারের পরিচয়বহনকারী ব্যক্তিটিতো গর্বভরে সমাজে তার সাফল্য দাবী করতে পারে।

 (২) ২৬ কি ২৭ বছর বয়সে এক শিক্ষিত বাবা ডাক্তার মেয়ের বিয়ে দেন আমেরিকায় থাকা ডাক্তার স্বামীর সাথে। যথা সময়ে এ সোনায় সোহাগা দম্পতি একবিংশ শতকে এসে আমেরিকায় সংসার শুরু করে। এর দশ বছর পর- মেয়েটি ফুটফুটে দু'সন্তানের গর্বিত জননী- তবে মনের ভেতর কোথায় যেন একটা অসুখ। এরও যে স্বপ্নের মৃত্য ঘটেছে। সংসারের দাবী সব সময়ই নিজেকে ডাক্তার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টার মুখে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম যুগলের নারীর সাথে দ্বিতীয় যুগলের নারীর পার্থক্য এই যে দ্বিতীয় নারীর স্বামী বিয়ের সময়ই আমেরিকাতে প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার আর তার বিবাহিত জীবন শুরু হয়েছে প্রথম দম্পতির চাইতে দু'দশকেরও পরে। সময়ের ব্যবধানে পৃথিবী নিশ্চই এগিয়েছে- ক্ষমতায়নের মূল্যয়ন করতে গেলে বলতে হয়, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গীর কোন পরিবর্তন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত এ নারীর জীবনে তার সামাজিক মর্যাদা বা ক্ষমতায়নে কোন পার্থক্য আনতে পারেনি।

(৩) প্রায় ১০ বছর আগে ২০ কি ২১ বছর বয়সে- কলেজে অনার্স পড়ার সময় বাংলাদেশের কোন ছোট এক শহরের বাবা- মায়ের আদরের ফুটফুটে মেয়ে বিয়ে করে স্বামীর হাত ধরে আমেরিকায় আসে- আজ সে ৩ সন্তানের গর্বিত জননী। ইংরেজীটা এখনো ঠিকমত রপ্ত হয়নি। স্বামীর রেষ্টুরেন্টের ব্যবসা- টাকা পয়সার দিক থেকে তাদের কোন সমস্যা নেই- তবে পড়াশোনার স্বপ্নটা এখনো সফল হয়নি। সংসারের প্রয়োজনটা যেন সবসময়ই পড়াশোনার পথে এসে হাজির হয়ে পড়ে। এখন সন্তানদের পড়াশোনার দেখা শোনার প্রধান। এখানেও এক স্বপ্নের মৃতু্য।

তৃতীয় নারী বলতে গেলে একেবারেই একবিংশ শতকের নারী- বয়সেও সবচেয়ে নবীন- অথচ প্রবাসী সমাজ চিত্রে এই নারীর সাথে সত্তরের দশকে আসা প্রথম নারী বা বিংশ শতকের শেষের দিকে আমেরিকায় আসা দ্বিতীয় নারীর মাঝে আত্মপরিচয় ও স্বপ্ন সফলতার প্রচেষ্টায় তেমন কোন পার্থক্য নেই।

উপরের তিনজন নারী আমাদের প্রবাসী জীবনের একটি বিরাট অংশের চিত্র তুলে ধরে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়- আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী, জীবন বিশ্বাস, নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি উভয়ের ম্মান বোধ ছাড়া এই নারীদের ক্ষমতায়ন সহজ নয়।

 

ড: রীবা মাহবুব : চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ক অধ্যাপক ও গল্পকার।

 

হিউস্টন, টেক্সাস

জুন ১৪, ২০১০

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.