Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৭ •  10th  year  3rd  issue  Jun - Jul  2010 পুরনো সংখ্যা
বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন : চকিত অবলোকন Download PDF version
 

নারীর ক্ষমতায়ন

 

বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন : চকিত অবলোকন

 

তপন বাগচী

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এখনো পুরোপুরি ঘটেনি। আর তাই নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আসেনি। সংকট না কাটলেও ক্ষমতায়নের ব্যাপারে নারী যে অনেকে ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটেছে, এ কথা জোর দিয়ে বলা যায়।

নারীর প্রতি বিশেষ যত্নএবং গুরুত্ব দিতে গিয়ে বেশ কিছু পদক্ষে বিভিন্ন সময়ে গ্রহীত হয়েছে। বিভিন্ন পরিচয়পত্রে বাবার নামের সঙ্গে মায়ের নাম লেখার নিয়ম করার মধ্য দিয়ে একটি বড় আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রত্যক্ষ ভোটে স্থানীয় সরকার পরিষদে নারীপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিধানও নারীকে অনেকখানি অগ্রসর করে তুলেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে মেয়েদের প্রতি গুরুত্ব দেয়া, মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি প্রদান, প্রাথমিক বিদ্যাালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ৬০ ভাগ নারী নিয়োগের বিধান, পেনশনভোগীর মৃত্যু হলে তার বিধবা স্ত্রীর পেনশন লাভ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের জন্য মাসিক ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য নারীদের মাসিক ভাতাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নারীর উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়ন হলো নারীর স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সমাজে-পরিবারে-রাষ্ট্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার অর্জন। নারীর ক্ষমতায়নকে উপলক্ষ করে সাম্প্রতিক যে সকল ইতবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা হলো-

*  সিডও সনদ বাস্তবায়নের লক্ষে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৮ প্রণয়ন।

*  জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নারীর জন্য সরাসরি ভোটে ভাইস চেয়ারম্যানের পদটি সংরক্ষণ করা।

*  নির্বাচন কমিশনার নিয়োগবিধির খসড়াতে একজন সিইসি ও দুজন কমিশনারের একজনকে অবশ্যই নারী নিয়োগের বিধান রাখা

*  নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ রাখার বিধান জারি।

আমরা জানি, ১৯৭৫ সালকে ঘোষনা করা হয় নারীবর্ষ হিসেবে। পরবর্তী ১০ বছরকে নারী উন্নয়ন দশক হিসেবে উদযাপন করা হয়। এসময় নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে পৃথক একটি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় কাউন্সিল গঠন করা হয়। এছাড়া সংসদে নারীর আসন এবং  চাকুরির ক্ষেত্রেও নারীর কোটাও বাড়ানো হয়। নারীর জন্য সংসদে সংরক্ষিতআসন ছিল ১৫টি। ১৯৭৯ সালে তা বাড়িয়ে করা হয় ৩০টি।

১৯৭৪ সালে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রিকরণ) আইন এবং ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন প্রবর্তন করা হয়, যা নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষভাবে সহায়ক হয়। ১৯৮৩ সালে প্রবর্তিত নারী নির্যাতন (নিবর্তন শাস্তি) অধ্যাদেশ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধের  ক্ষেত্রের ভূমিকা রাখে। নারীর প্রতি সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে ১৯৮৫ সালে জারি করা হয় পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ। ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন চালু হয়।

উন্নয়নের সঙ্গে জেন্ডার-ধারণাকে যুক্ত করার বিষয়টি অবশ্য আরো গতি পায় ১৯৯৫ সালের জাতিসংঘ প্রণীত মানব উন্নয়ন রিপোর্টটি প্রকাশের পরে। এই রিপোর্টে মানবসমাজের অংশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অপরিহার্য পক্ষ হিসেবে নারীকে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানে (অনুচ্ছেদ ২৮, ২৯, ৬৬ ও ১২২) অবশ্য আগেই নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। সরকারি কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সংসদের ১৫টি আসন নারীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

২০০০ সালে ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন ল্য’ নির্ধারণ করে যে আটটি ক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয় তার তৃতীয়টি হলো প্রমোট জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে নারী-পুরুষের বৈষম্য নিরসনের আনুষ্ঠানিক ক্ষ্যে জাতীয় নারী উন্নয়ন পরিকল্পনা, পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জাতীয় নারীনীতি ১৯৯৭ প্রণয়ন করা হয়।

রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানগুলোতে নারীর অবস্থানকে দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই সকল আইন জোরালো ভূমিকা রাখছে।  এর ফলে নারী তার অধিকার নিয়ে চেতন হয়েছে আর পুরুষও নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার সংস্কৃতি চর্চা করছে। নারীর ক্ষমতায়ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও চলমান এইসকল প্রক্রিয়া সরকার এবং দেশের মানুষের সদিচ্ছার প্রমাণ বহন করছে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক চিত্র তৈরি করেছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দেশের বড়ো বড়ো রাজনৈতিক দলের ইশতেহার ও নির্বাচনী বক্তব্যে  নারী উন্নয়ন ও মতায়নের বিষয়টিকে যথাযোগ্য গুরুত্ব দিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণও বেড়েছে। ৩২ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় তিনজন পূর্ণমন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন উপমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের মতো একটা দরিদ্র ও ‘মুসলিম-প্রধান রাষ্ট্রের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক।

বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের দুই নারী দলীয় পদের শীর্ষে আছেন। দুজনই দু’বার করে প্রধানমন্ত্রীর এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ৬২টি আসনে প্রাথী হয়েছিলেন ৫৭ জন নারী। সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৩টি আসনে ১৯ জন বিজয়ী হন। এর মধ্যে ১৬ জন মহাজোটের প্রার্থী। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ১৭ জন প্রার্থী ১৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে ১৫ জনই জয়লাভ করেন। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলো আসনেই জয়লাভ করেন।

১৪ আসনে বিএনপির ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ও ৩ জন বিজয়ী হন। এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া ৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলো আসনেই জয়লাভ করেন। জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীক নিয়ে ৩টি আসনে ২ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে একজন জয়ী হন। বেগম রওশন এরশাদ দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই হেরে যান।

সাধারণ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতিক হারে নারীদের জন্য সংরতি ৪৫টি আসন দলীয়ভাবে বণ্টনের ফলে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা  ৬৪ হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নের এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কেবল এমপি ও মন্ত্রী নয়, সংসদের উপনেতাও হয়েছেন একজন নারী। এছড়া বেশ কয়েকজন নারী এখন সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। নারীর জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপনিতে এখন আর পুরুষের মুখাপেী হয়ে থাকতে হয় না। এভাবেই বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন হবে এবং জেন্ডার সমতার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভবপর হতে পারে।

 

ডঃ তপন বাগচী : কবি ও সাংবাদিক।

 

ঢাকা থেকে

জুন ১১, ২০১০

 

 

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.