Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৭ •  10th  year  3rd  issue  Jun - Jul  2010 পুরনো সংখ্যা
নারীর ক্ষমতায়নঃ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ Download PDF version
  নারীর 
ক্ষমতায়ন

 

নারীর ক্ষমতায়নঃ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
হাবিবা খাতুন

বাংলাদেশ এক গনতান্ত্রিক দেশএদেশে নারীপুরুষ সমযোগ্যতায়, সমচিন্তায় বেড়ে উঠবে এটা জাতীয় চিন্তাজাতি হিসেবে এদেশের মানুষ একটা ইউনিট বিশেষ সমষ্টিগতভাবে বিবেক জাগিয়ে তুলতে পারলেই সবার মাঝে পরিবার সেবা, সমাজ সেবা, ও জাতির সেবায় এক চিন্তার উদ্রেক হবেতাতেই সবার মাঝে ক্ষমতা প্রয়োগে বিভিন্নতা থাকবেনা- এক ধরণের ক্ষমতায়ন ব্যবস্থা চলমান থাকবেঅন্যান্য দেশের মত এদেশের নারীর ক্ষমতায়ন বলতে নারীর স্বীকৃতভাবে মতামত ব্যক্ত করার, পরিকল্পনা করার ও তা বাস্তবায়নকরার ক্ষমতা প্রদানকে বুঝায়

এদেশে নারীর ক্ষমতায়ন চিত্র বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত এক নয়- ভিন্ন এ জন্য যে এ দেশের সংস্কৃতি ভিন্নআমাদের স্বাধীন চিন্তা নিয়ে বেড়ে ওঠার বয়স এদেশের স্বাধীনতার বয়সের মত কম বলে এখনও আধুনিক ক্ষমতায়নরীতি বা ক্ষমতা প্রয়োগ ব্যবস্থা বিশ্বের সাথে একরকম হয়নিএকই গ্রামে বেড়ে ওঠা সব বিশ্বাসের মানুষের মাঝে যেমন আহার বিহারে একই চরিত্র থাকে, গ্রামকে সুখকর পরিবেশ দিবার জন্য সবার একই চিন্তা থাকে- সব সমপ্রদায়ের নারী পুরুষের মাঝে ও তেমনি একই ভাব জাগ্রত থাকা উচিতএই ভাব কথাটা যেমন বিমূর্ত, ক্ষমতায়ন শব্দটিও তেমনি বিমূর্ততবুও ক্ষমতা থাকা না থাকা বিষয়টি বাহ্যিক প্রকাশে ধরা পরে

ক্ষমতা দুধরনের বৈশিষ্ঠ্য নিয়ে চিহ্নিত হয়; অর্থনৈতিক শক্তি ক্ষমতা ও জ্ঞান শক্তির ক্ষমতাস্বাধীনতাপূর্ব সময়ে জমিদারশ্রেণীর হাতে আর্থিক শক্তি ছিল বলে তাদের কথায়ই সমাজ পরিচালিত হতো শিক্ষিত লোক যদি সচ্ছল পরিবার থেকে আসত তার অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা- সমৃদ্ধ জ্ঞানই শক্তি বা ক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হতোএই দুই শক্তির মাঝে সেতু বন্ধন হলে নারী বা পুরুষ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ক্ষমতা ও দায়িত্ব পাশাপাশি চলেনারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলে তার উপর অনেক দায়িত্ব অর্পিত হয়সামাজিকভাবে নারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলে গোটা সমাজচিত্রে তার ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনকেই বুঝায়সর্বোপরি, নিজের মাঝে কর্তব্য ও দায়িত্ব অনুভব করতে পারলেই ক্ষমতায়ন সম্ভব

বাংলাদেশে নারী তার নিজ ঐতিহ্য সংরক্ষনে ক্ষমতাবানসে পরিবারের ও প্রতিদিনের ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের যাবতীয় বৈশিষ্ঠ্য রক্ষা করে, কিন্তু নতুন কোন চিন্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনাকথাটা এটাই প্রমান করে যে বাংলাদেশে পারিবারিক জীবনে নারীর ক্ষমতায়ন আক্ষরিক অর্থে হয়নিতেমনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী হওয়া সত্বেও নারী অগ্রগতির আইন তারা সবক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননিরাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে তাদের পদগুলো ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্তদেশের সর্বোচ্চ পদে তারা অধিষ্ঠিতপুরুষের মত আমাদে নেত্রীরা সংসদে জাতীয় সমস্যা সমাধানে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেনএদিক থেকে বিচার করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের নারীরা ক্ষমতাপ্রাপ্তসারা পৃথিবীতে বর্তমানে যে সাতজন নারী প্রধানমন্ত্রী আছেন, দেশ শাসন করছেন- তাদের মাঝে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজনএছাড়া বাংলাদেশের স্বরাষ্টমন্ত্রী, বৈদেশিক মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রীও নারী

এদেশে নারী ক্ষমতায়নের প্রথম শর্ত নারী শিক্ষায় অগ্রগতি হয়েছেদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী পুরুষের সমান প্রবেশাধিকার আছেলেখাপরার ফলাফল দেখলে নারীর গৌরবোজ্জল ফলাফলই চোখে পড়েকিন্তু তা সত্বেও সামাজিকভাবে বেড়ে উঠার স্তরগুলোতে নারীকে নারী অর্থাৎ দূর্বল জেন্ডার রুপেই এগিয়ে যেতে হয়একজন মানুষের মত বেড়ে উঠার সুযোগ পায়নাপুরুষ প্রধান পরিবারগুলো নারীর অবাধ মুক্ত বিচরন মেনে নেয়না, সে বিধায় নারীকে স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে দেয়না, পারিবারিক ভাবেই সে বাধাগ্রস্ত হয়এই ভিন্নভাবে বেড়ে ওঠার বোধটা ইদানিংকালে ভিতরে স্বাধীনভাবে জেগে ওঠা নারীকে আহত করে- পারিবারিক বাধা সে ডিঙ্গাতে পারেনাসামাজিক রীতি ভাঙ্গতে না পারলে সে তখন আহত হয়- আত্মহুতি দিয়েএই চিত্র অতি বেদনাদায়কতা হলে প্রশ্ন আসে- শিক্ষিত হয়েও কি নারী পুরুষ সমানভাবে সফলতার ফল ভোগ করতে পারবেনা? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়- সফলতা এককভাবে আসেনাসম্মিলিত বা মিলিতভাবে অর্জন করতে পারলেই আসেআজকাল পরিবারে নারীর সফলতা এসেছে বলা চলেতবে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারনে সমাজের গতিতে চলার অভ্যাস রপ্ত থাকাটা নারীকে সামাজিক স্বীকৃত পাবার পক্ষে সহায়তা করবেআমাদের নারীরা ক্ষমতা অর্জন করেছে এবং করছে

দীর্ঘ অর্ধশতক ধরে বাংলাদেশে নারীর অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনারীর সাহসী ভূমিকার কথা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়কাল থেকে শোনা যাচ্ছেদেশের বিভিন্ন কাজে তারা নিজেদের নিয়োজিত করেছেভাষা আন্দোলনের আত্মসচেতনতার প্রমান দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা গ্রহনকারী ছাত্রীরাপ্রগতিশীল ছাত্র সমাজের সাথে এসময় যারা কাজ করেছিলেন তাদের মাঝে ছিলেন রওশন আরা বাচ্চু, সুফিয়া আহমেদ, শাফিয়া খাতুন, কামরুন নাহার লাইলী, নাদিরা বেগম, শমসুন নাহারএরা ভাষাকন্যা নামে পরিচিতসুফিয়া আহমেদ ও শমসুন নাহার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন, পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিক হয়েছিলেনসারা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত ও সমাজে অবদান রাখতে সক্ষম এমন অনেক নারী আছেনঅনেকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহন করেছেন অথবা দেশের ভিতরে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোদ্ধা ও সাহায্যকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেনএখানে সচেতনাই ক্ষমতাকর্তব্য সম্পাদন করতে পারাই দায়িত্ব পালন করাশিক্ষা ও জ্ঞান ক্ষমতা প্রদান করেদেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখতে সাহায্য করে৭১ এর মুক্তিযোদ্ধা নারীদের মধ্যেছিলেন- তারামন বিবি, ডাঃ সিতারা, নাসরিন আহমেদ, নায়লা, লুবনা, ফওজিয়া, নার্গিস এবং আর ও অনেকেগেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন জাহানারা ইমাম, মুশতারী শফি, ফয়জুন নেসা, মাহফুজা, হাবিবা, কবি সুফিয়া কামাল, সেলিনা এবং আরও অগনিত নারী

স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেসমান অধিকার লাভ করেছে সংবিধানের ভাষা মধ্য দিয়েকিন্তু সমাজের অবকাঠামো পরিবর্তনের শ্লথগতি এক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে দিচ্ছেনাশিক্ষার হার বাড়া সত্বেও আইন করে নারীর বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে হয়েছে, যৌতুক প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছেকিন্তু ১৮ বছর বয়সের কম বয়সী মেয়েদের ১৮ বছর বয়স দেখিয়ে বিয়ে দেওয়া বন্ধ হয়নি, যৌতুকের জন্য লাঞ্চনা ও মৃত্যুবরণ এখনো চলছেএ অন্যায় প্রতিরোধ করার জন্য পরিবার থেকে নারীর প্রতি অবলাসুলভ মনোভাব পাল্টাতে হবে, ধর্মের মিথ্যা দোহাই দিয়ে এ পরিবর্তনের চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা যাবেনা- যদি করে তা অন্যায় বলে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে

যুবতী মেয়েকে নিজের ভবিষ্যত নিশ্চিত ও অর্থোপার্জনক্ষম গড়ে তুলতে হবে- সমাজে এই পরিবর্তন আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছেঅতএব শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পেলেই ক্ষমতায়ন হবেনা- পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গীর ও নিয়মের পরিবর্তন আনতে হবেসমাজে অনেক পরিবর্তন এসেছে- একথা সত্য, যেমন, মেয়েরা গার্মেন্টস এ কাজ করছে, সাধারনত শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে, মাঠে কৃষি কাজ করছে- এসব ক্ষেত্রে পরিশ্রম করার সুযোগ থাকলেও মতামত ব্যক্ত করার স্বাধীনতা নেইপ্রত্যেক পরিবারে পুরুষদের পাশাপাশি নারীর মতামত ব্যক্ত করার ও তা বাস্তবায়িত করার সুযোগ থাকতে হবে

কৃষি নির্ভর পরিবারগুলোতে নারী ভাল বীজ সনাক্তকরনে, সময়মত বীজ বপনে, বীজ সংরক্ষণে, পারিবারিক স্বাস্থ্য রক্ষাকল্পে সুম খাদ্য শকসব্জী ফলমূল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণের কাজে অনেক বেশী ভূমিকা রাখেউত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিক হলে এসব নারীদের ক্ষমতা পরিবারের সব পরিকল্পনায় ব্যবহার হয়, পরিবার সম্মান প্রদর্শন করেএ জাতীয় ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে নারীকে পরিবারে অবদান রাখার সুযোগ দিলে সনাতন ধারার পুরুষতান্ত্রিকতার দৌরাত্ম কমতে বাধ্যএধরনের অগ্রগতির জন্য নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য

সমাজ কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরুষপ্রধান জীবন- ঘনিষ্ঠ ব্যবহার পরিবর্তন অপরিহার্যনারীর অগ্রগতি পরিবার থেকেই প্রথম ব্যাহত হয়সনাতন সমাজ পদ্ধতি নারীকে সন্তানের জননীরুপে পূজনীয় করে রাখে এ চিন্তা নারীর স্বাধীন সত্ত্বা বিকাশের সুযোগ দেয়নাবিবাহিত জীবন ছাড়া মানুষের সেবা ও ধর্মকর্ম করা যায়, এ চিন্তার বিকাশ ঘটানো আজ জরুরী"ইভ টিজিং" এক বড় সমস্যাএ সমস্যা দূর করার জন্য সনাতনী দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন করে পরিবার থেকে উঠতি বয়সী মেয়েদের শালীন চলাফেরা ও মুক্তচিন্তার বিকাশে সুযোগ পরিবারকেই করে দিতে হবেসম অধিকার চিন্তার বিকাশ এভাবেই হতে পারেসাতক্ষীরার আশাশুনিতে আজকাল ঘরের বাহিরে এসে মেয়েরা পরিবারের অনুমতি পেয়ে চিংড়ি চাষে অর্থকরী কাজ করার সুযোগ নিচ্ছেসেখানে শতকরা ৮০ ভাগ মেয়ে চিংড়ি চাষ ও চিংড়ি প্রক্রিয়াকরনে অংশ নিচ্ছে, আর্থিক স্বনির্ভরতা বেড়েছে তাদের

একই এলাকায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ কবলিত হওয়ায় স্থানীয় ভাবে পুরুষেরা কোন কাজ করতে পারছেনা বলে অন্যত্র আয়ের পথ খঁজুতে চলে যায়মহিলারা পরিবারের প্রধান হিসেবে কাজ করে, স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে সন্তানের স্বাস্থ্য, শিক্ষা পড়াশুনার দায়িত্ব নিয়ে চলেএ ক্ষেত্রে এনজিওর অর্থায়নে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপায় ও অর্থ আয়ের পরিচয় দিতে পারেঅতএব নারীকে কর্মক্ষম ও বুদ্ধিবিকাশের সুযোগ পরিবারকেই দিতে হবে

পাশাপাশি সরকারী উদ্যোগ ও বিবেচ্যসরকারী ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নারী সদস্য রাখা বাধ্যতামূলককিন্তু তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে দেওয়া হয়না, মতামত নেওয়া হয়নাএক্ষেত্রে শিক্ষিত নারীর অংশগ্রহনে ও সদস্যদের চিন্তা প্রকাশ থাকার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া জরুরীস্বাস্থ্য সচেতন, দূর্যোগ ও পরিবেশ সচেতন নারী পরিবেশ বান্ধব কাজে সফল হতে পারেসামপ্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে বড় বড় বন্যা, আইলা ঝড় ও অন্যান্য বড় বড় ঝড়কে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নারীরা নিতে পারেসাতক্ষীরা, সন্দীপ এলাকায় এরুপ এক জরিপে জানা গেছে যে ঝড় পূর্ববর্তী সময়ে সমাজের নারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঝড় মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতী নিয়েছে, এবং এতে তারা সফল হয়েছেএকই ভাবে ঝড় পরবর্তী সময়ে পরিবারকে শক্ত হাতে একত্রিত করে রেখে গ্রামীন ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাগুলোর সহায়তাও পেয়েছে

গ্রামী ব্যাংক ও ব্র্যাক এর ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতবাংলাদেশে এ ব্যবস্থার সফলতার ইতিহাস আছেমূল কারন হিসাবে বলা যায় যে এর সদস্য ও পরিচালিত পর্ষদের মাঝে নারীর ভূমিকা মূখ্যনারীকে ক্ষমতা দিলে, স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে পরিবার ও সমাজকে স্বাস্থ্যবান করে তুলতে পারে ও সুখী সমৃদ্ধ জীবনের কথা ভাবতে পারেবাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নের এ পথ ধরেই বর্তমান এগিয়ে যাচ্ছে

অর্থকরী ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সহায়তার নারী ব্যবসা উদ্যোক্তার সৃষ্টি হয়েছেশিক্ষিত নারীরা বানিজ্যের পথ খুঁজে নিয়ে নিজেদের অবদান রাখতে পারছেরোকেয়া রহমান, শবনম শাহনাজ দীপা, গীতিআরা শাফিয়া, রাশিদা কে চৌধুরী ব্যবসার জগতে আজ উজ্জল নাম

গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর নারী শ্রমিকেরা অনেক পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলছেনারী ব্যাংকার, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, শিক্ষিকার অগ্রগতি বাংলাদেশকে একবিংশ শতকের উপযোগী করে তুলছেনারী পুলিশ অফিসার, আর্মি অফিসার, নিরাপত্তার কাজে এগিয়ে এসেছে আশা নামের এনজিওর মাধ্যমে সমপ্রতি অশিক্ষিত এক বিউটি বড়ুয়া রাঙ্গামাটিতে তার স্বামীকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে ও নিজে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে সুখী জীবন যাপন করছেঅশিক্ষিত নারীদের অনেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহন করে বুটিক ব্যবসা করেসে ব্যবসা দিয়ে তারা দেশের বহুনারীকে স্বাবলম্বী করে তুলেছেযশোর জেলায় এ কার্যক্রম খুবই সফল হয়েছে

পরিবারের অভাব দূর করার জন্য সমপ্রতি রেলওয়ে বিভাগের এক কর্মচারীর মেয়ে সালমা লেখাপড়া শিখে পিতার চাকুরীর স্থলে ডিজেল ইঞ্জিন চালিকার চাকুরী পেয়েছেসে নিজে পরিবারের ভরণপোষনের দায়িত্ব পেয়ে অশিক্ষিত ভাইদের শিক্ষিত করে তোলার চেষ্টা  করছেবাংলাদেশে স্বাধীনতা উত্তরকালের সফল নারীর অনেক চিত্র তুলে আনা সম্ভবসমাজ পরিবর্তনে ও ধর্মীয় চিন্তার গোড়ামী পরিবর্তনে তাদের অবদান অনেক বেশীবাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল নামছায়ানট মানুষের মাঝে সার্বজনীন চিন্তাধারার বীজ সংস্কৃতি মধ্যদিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেতাই বাংলাদেশে বর্তমানে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারী, পৌষ সংক্রান্তিও মেলা, পিঠা উৎসব নারীদের সহযোগিতায় উদযাপিত হয়

বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ হয়েও উদার ধর্মচিন্তা গ্রহন করে নারী ক্ষমতায়নকে রাষ্ট্রের আধুনিকায়নের কাজে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেএদেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও স্বাধীনতার প্রতি ভালবাসা তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার উৎসাহ জোগাচ্ছেবর্তমান শিক্ষানীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দের পরিবর্তনে অসামপ্রদায়িক চেতনা যুক্ত হওয়ায় মানুষের ধর্মীয় গোড়ামীর দৃষ্টিভঙ্গী ভাঙ্গবে বলে আশা করা যায় সবার মাঝে সহমর্মী ভাবের উদ্রেক হবে, স্ব স্ব বিশ্বাসের প্রতি সম্মান বজায় রেখে বাংলাদেশের মানুষ অগ্রসর হতে পারবেনারীর ক্ষমতায়ন সফল হবে

 

ডঃ হাবিবা খাতুন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস বিভগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক

 

ঢাকা থেকে

জুন ১০, ২০১০

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.