Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
বিশ্বকাপ তারকা সমাচার Download PDF version
 

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১০

 

বিশ্বকাপ তারকা সমাচার


ডাঃ রানা হাসান


আরিয়েন রোবেন (হল্যান্ড)

ডাচ কিংবদন্তী ইয়োহান ক্রুইফের সার্থক উত্তরসুরী রোবেনের দেশের হয়ে প্রথম আবির্ভাব ২০০৪ সালের ইউরোতে, যদিও চেক রিপাবলিকের সাথে হেরে অভিষেক সুখের হয়নি। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ালিফাইং রাউন্ডের ছয় ম্যাচে ২ গোল করা রোবেন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সার্বিয়া-মন্টোনিগ্রোর বিরুদ্ধে জয়সূচক গোল করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন। পরের ম্যাচে আইভরী কোষ্টের বিরুদ্ধেও সেই সম্মান লাভ করেন। ২০০৮-এর ইউরোতে তার এ সাফল্য অব্যাহত রাখেন। ফরওয়ার্ড বলা হলেও মূলত রোবেন খেলে থাকেন উইঙঙ্গার হিসেবেই, বায়ার্নের হয়ে ১৪ গোলও করেছেন এবার পিএসভি, চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ হয়ে বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখের রোবেন এবার বিশ্বকাপে তার সেরাটা দেয়ার জন্য উন্মুখ। ২৬ বছর বয়সী আরিয়েন রোবেন দেশের হয়ে ৪৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে করেছেন ১১ গোল। গোল করার পাশাপাশি গোল করিয়েও এবার রোবেন হয়ে উঠতে পারেন বিশ্বকাপের সেরাদের অন্যতম।

িদিয়ের দ্রগবা (আইভরী কোস্ট)

নিজের মহাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দিদিয়ের দ্রগবা হয়তো একটু বেশীই আলোচিত হবেন। শুধু আইভরীয়ান নন সব আফিকানের প্রানের স্পন্দন পায়ের কারুকাজে মূর্ত করবেন দ্রগবা- চেলসিতে খেলা আইভরী কোস্টের অধিনায়কের কাছে প্রত্যাশা সব ফুটবল প্রেমীর। প্রত্যাশাটা একটুও অমূলক নয়। আইভরী কোস্টের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের মালিক দ্রগবা চেলসির বিদেশী রিক্রুটদের মধ্যেও সর্বোচ্চ গোলদাতা (চেলসির হয়ে ৭ম সর্বোচ্চ)।

ইউরোপীয়ান লীগগুলো হলো প্রতিভা স্ফুরনের আদর্শ ক্ষেত্র। ২০০৩-এ দেশের হয়ে অভিষেক ঘটে দ্রগবার। এ বছর অলিম্পিক ডি মার্শেইতে যোগ দিয়ে ৩য় সেরা গোলদাতা হয়ে দলকে ২০০৪-এর ইউএফএকাপের ফাইনালে নিয়ে যান। তবে চেলসিতে যোগ দেয়ার পর তার আসল প্রতিভার প্রকাশ ঘটে। চেলসির হয়ে অভিষেক সিজনে ১৬ গোল করেন। পরেরবার চেলসি তার লীগ শিরোপা ধরে রাখে দ্রগবার অন্যন ভূমিকার জোরে। এবারও ১৬ গোল করেন চেলসির হয়ে। ২০০৬-০৭ সিজন দ্রগবার আসল সময়। চেলসির হয়ে ৩৩ গোল করেন। চলতি সিজনও দ্রগবার পয়মন্ত। চেলসির হয়ে ১০০ তম গোলই শুধু না আফ্রিকান ফুটবল অব দি ইয়ার নির্বাচিত হয়েছেন (১ম বার হয়েছিলেন ২০০৬-এ)। দ্রগবার আন্তর্জাতিক অভিষেক ২০০২-এ। ২০০৬-এ আফ্রিকান নেশন কাপে তার নৈপূন্যে ফাইনালে ওঠে আইভরী কোস্ট। তবে মিসরের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় 'দি এলিফেন্ট'-রা।

দ্রগবা দেশকে নিয়ে যান প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে- ২০০৬ এ। ১ম ম্যাচে আর্জেন্টিনার সাথে গোল করেও হারতে হয় দ্রগবাকে। ২০০৮ এর আফ্রিকা নেশনকাপে দলকে নিয়ে যান সেমি ফাইনালে- হেরে যান মিসরের কাছে আবার। ২০১০ এর আফ্রিকান নেশনকাপে নৈপূন্য দেখালেও দ্রগবার দল আলজেরিয়ার কাছে হেরে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে।

গ্রুপ অফ ডেথ 'ডি' তে দ্রগবাকে ব্রাজিল, পর্তুগাল আর উঃ কোরিয়ার বিরুদ্ধে 'দি এলিফ্যান্ট'-দের সবচেয়ে বড় ভরসা বলেই ধরছেন বোদ্ধারা। আর মাত্র কটা দিন বাদেই সেই প্রত্যাশার ফল ফলবে। চেলসির গোল মেশিন নিশ্চয়ই আশাহত করবেনা এ আশা সবার।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)

ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে দামী তারকার নাম রোনালদো। না ব্রাজিলের সেই "ফেনোমেনোন" নন,র্তুগীজ এই তারকা এখন তাবৎ ফুটবল বিশেষজ্ঞের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু। ২০০৯ সালে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে ট্রান্সফার হওয়া রোনালদো অবশ্য তার মূল্যমানের যথেষ্ট মর্যাদা দিয়ে যাচ্ছেন। চলতি স্প্যানিশলীগে তার পায়ের দিকে তাকিয়ে রিয়ালের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেকটি মানুষ। চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন প্রতিপক্ষ 'মেসি' আর রোনালদোর দ্বৈরথ জমিয়ে তুলছে ইউরোপের সেরা লীগকে। আর অধিনায়কের এমন 'লীলা' বিশ্বকাপে অব্যাহত থাকার প্রার্থনায় পুর্তগালের সবমানুষ বিশেষ করে কোচ কার্লোস কুইরোজ। ম্যানচেষ্টার ইউনাইটের কিংবদন্তী কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন রোনালদোতে মোহিত, ডাচ কিংবদন্তী ইয়োহ্যান ক্রুইফহ্যাতাকে জর্জ বেস্টের ওপর স্থান দিয়েছেন।

পুর্তগালের হয়ে কাজাখস্থানের বিরুদ্ধে রোনালদোর অভিষেক ২০০৩ সনে। ইউরো ২০০৪ এ মাত্র দুটো গোল করলেও তার অনন্য সাধারন খেলা নজর কাড়ে সবার। সাত গোল দিয়ে ইউরোপীয় জোনে ২য় সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও ২০০৬ বিশ্বকাপে রোনালদো মাত্র ১টি গোল করেন। ২০০৮ এর কোয়ালিফাইং গ্রুপে ৮ গোল করলেও ইউরোতে মাত্র ১টি গোল করে নামের প্রতি অবিচার করেন এই পর্তুগীজ উইংগার।

ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের হয়ে ইউরোপ মাতিয়ে এবার মাতাচ্ছেন বিশ্বকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। ২০০৮ সনে হয়েছেন ফিফা বর্ষসেরা, ২০০৯ সনে রানার্স আপ। ২০০৮ সনেই ব্যালন ডি অর জয়ী রোনালদো হলেন রানার্সআপ পরেরবার ২০০৯ সনে। ওয়ার্ল্ড সকার প্লেয়ার অবদি ইয়ার হয়েছেন ২০০৮ সনে।

আপাতভাবে লিওনেল মেসির সঙ্গে দ্বৈরথে একটু পিছিয়ে থাকা রোনালদো কি তার ক্যারিশমা অব্যাহত রাখতে পারবেন এবারের বিশ্বকাপে? প্রশ্নটা উঠছেই। কেননা পর্তুগাল রয়েছে এবার 'গ্রুপ অব ডেথ'-গ্রুপ ডি তে, যেখানে অন্যদলগুলো হলো ব্রাজিল, আইভরী কোস্ট আর উঃ কোরিয়া। অন্যদিকে মেসির দল আর্জেন্টিনা খেলবে গ্রুপ বিতে- নাইজেরিয়া, গ্রীস আর দঃ কোরিয়ার বিপক্ষে। স্যার ফার্গুসনের মন্তব্য 'মেসি বা কাকার চেয়েও বড় খেলোয়াড় রোনালদো-' প্রমান করা বেশ অসাধ্যই হবে তার জন্য।

মাত্র কটা দিন। তারপরই জমবে মেলা- সঠিকভাবে বলতে গেলে বিশ্ব মিলনমেলা। কৃষ্ণ আফ্রিকায় হবে নূতন এক সূর্যোদয়। বসবে ফুটবলের সবচে বড় আসর ১৯তম বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশ্বের সেরা ৩২টি দল নিজ নিজ দেশের সেরা তারকাদের নিয়ে হাজির হবে দক্ষিন আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত এই দক্ষযজ্ঞের (নাকি দক্ষতা যজ্ঞের) অনুষ্ঠানে। শুধুমাত্র মহাকালই বলতে পারে কোন তারকা আরো দ্যূতিময় হয়ে উঠবে কিংবা কোন তারকাইবা কক্ষচ্যূত হয়ে হারিয়ে যাবে বিস্মৃতির অতলে। তবে পারিপাশ্বিক আর বিগত দিনের কুশলতা সব মিলিয়ে আমরা এই মর্ত্যধামের ক্ষুদ্রমানুষেরা বড়জোড় তাদের নিয়ে সুন্দর কিছু আশা করতে পারি, আর একটু দুঃসাহসী হয়ে তাদেরকে কথার মালায় মহিমান্বিত করে তুলতে পরি। কৃষ্ণ আফ্রিকার নূতন সূর্যোদয়ের পূর্বক্ষনে আমাদের কিছুটা প্রয়াস পাঠকদেরকে এর অংশীদারিত্ব করে তোলা্ পাঠকগন কিছুমাত্র সন্তুষ্ট হলেই আমরা আহ্লাদিত।

ফার্নান্দো তোরেস (স্পেন)

কেউ ডাকেন এল নিনো (বাবুসোনা!) কেউ বা আবার দি ঈগল- ২০০৮ ইউরোজয়ী স্পেনের অন্যতম ভরসা ফার্নান্দো তোরেসের কথাই বলা হচ্ছে। ২৬ বৎসর বয়সী এই স্পানিয়ার্ড স্ট্রাইকার আলোচনার পাদপ্রদীপে অনেকদিন ধরেই। বয়স ভিত্তিক দলগুলোর চ্যাম্পিয়নশীপে অসাধারন নৈপূন্য দেখিয়ে ফুটবল বোদ্ধাদের নজর কাড়া তোরেস অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে (২০০১-২০০৭) মাঠে ঝড় তোলেন। ২০০৭ এ যোগ দেন বর্তমান ক্লাব লিভারপুলে। প্লেয়ারস প্লেয়ার অব দি ইয়ার এ সময়ে অল্পে হাতছাড়া হয়ে যায় তার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছে। ২০০৮-০৯ এ ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচনে রোনালদো আর মেসির পেছনে থেকে ৩য় হন।


স্পেনের হয়ে ২০০৩ এ অভিষেক হয় তোরেসের। ইউরো ২০০৪ এ বদলী হেসেবে খেলে অতটা আলোড়ন তুলতে পানেনি। ২০০৬ বিশ্বকাপ কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ১১ ম্যাচে ৭ গোল করা তোরেস মূল প্রতিযোগিতায় করেন তিন গোল। স্বদেশী ডেভিড ভিয়ার সঙ্গে স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন সেবার
 তোরেস।

২০০৮এর ইউরোতে অনন্য সাধারন নৈপূন্যে ভাস্বর তোরেস ফাইনালেও তার দ্যূতি ছড়ান। গোল করে দলকে শুধু স্বপ্নের চ্যাম্পিয়নশীপই নন নিজের জন্যও সেরা খেলোয়াড়ের তকমা অর্জন করে নেন।  এরপরও শান্ত হননি 'এল নিনো'। ২০১০ বিশ্বকাপ কোয়ালিফাইংয়ে খেলে সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে ৬০ তম ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব দেখান। ২০০৯ এর কনফেডারেশন কাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ১৭ মিনিটে হ্যাট্রিক করে স্পেনের হয়ে দ্রুততম সময়ে হ্যাট্রিকের কৃতিত্ব দেখান। আরো হয়তো পারতেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের রূপকথাসম কৃতিত্ব 'চোকার' স্পেন ছিটকে পড়ে সেমি ফাইনালে, যদিও দঃ আফ্রিকাকে হারিয়ে লাভ করে ৩য় স্থান তাতে তোরেস মহিমা কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে পড়ে। তবে ইংলিশলীগ এখন পর্যন্ত ১৮ গোল করে তার নামের প্রতি সুবিচার করে যাচ্ছেন। দেখা যাক 'এলনিনো' কেমন ঝড় তোলেন দঃ আফ্রিকায়।

-   ঢাকা থেকে

 

 


 

 

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.