Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা (গ্রুপ এইচ) Download PDF version
 
বিশ্বকাপ 
ফুটবল 
২০১০

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা

জহিরুল ইসলাম নাদিম

গ্রুপ এইচ

তিন চতুর্থাংশ ল্যাটিন

গ্রুপটিকে অনায়াসে বলা যায় ল্যাটিন গ্রুপ-একমাত্র ব্যতিক্রম সুইসরাসত্যি তাই  গ্রুপের বাকি তিন দল স্পেন, চিলি এবং হন্ডুরাসের রয়েছে হিস্পানিক ফিলগ্রুপের ফেভারিট অনায়াসেই ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ভেবে নেয়া যায়তবে এই নিয়ে যদি তার বেশি আত্মতৃপ্তিতে ভোগে তাহলে কপালে খারাপি থাকতে পারেবিশেষ করে গ্রুপে যখন চিলির মত দল থাকেদক্ষিণ আমেরিকার এই দলটির গ্রুপ সেরা হবার যাবতীয় দক্ষতা আছে এবং তাদের দিনে সেটা তারা প্রমাণ করে দিতেও প্রস্তুুততবে গত এক যুগ বলতে গেলে একটা ঘোরপাকের মধ্যে রয়েছে চিলির ফুটবলতবে কোচ মার্সেলো বিয়েলসার যোগ্য হাতে পড়ে এক দুটো অঘটন তারা ঘটিয়ে দিলেও বলার কিছু থাকবে নাহন্ডুরাস এবং সুইজারল্যান্ডের প্রোফাইল কিছুটা নিচু থাকলেও কে জানে মাঠে নেমে তারা কিছু ঘটাবে কি না!

_____________________________________________________________

টপ ফেভারিট

স্পেনঃ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন শুধু এই খেতাবই বিশ্বকাপে সাফল্যের কোনো গ্যারান্টি নয়ফিফা কনফেডারেশন কাপ ২০০৯ ই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদাহরণ যেখানে  তুলনামূলক দৃর্বল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে প্রতিযোাগিতা থেকে সোজা প্রস্থান করতে হয়েছে তাদেরতবে বাছাই পর্বে অসাধারণ খেলেছে দলটিতাই তাদের কাছে প্রত্যাশাও অনেক

চিলিঃ  আর্জেন্টিার কোচ মার্সেলো বিয়েলসার তত্ত্ববধানে দ: আমেরিকার কঠিন গ্রুপে থেকেও চিলি দারুণ করে এবং একমাত্র ব্রাজিলের পেছনে থেকে গ্রুপ শেষ করে তারাব্রাজিলের সাথে পয়েন্টের ব্যবধান ছিল মাত্র একহামবার্তো চুপেতে সুয়াজো বাছাই পর্বে সর্বোচ্চ গোল করে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার সব বড় বড় স্টারকে লজ্জায় ফেলেন এবং চূড়ান্ত পর্বে একই রকম কিছু করার জন্য অপেক্ষায় আছেন বলা যায়

আউটসাইডার

সুইজারল্যান্ডঃ  জার্মানী ২০০৬ বিশ্বকাপে সুইসরা শেষ ১৬ থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিলএবার আফ্রিকার টিকেট পেতে বেশ কসরৎ করতে হয়েছে তাদেরকেগ্রীস থেকে শুধু এক পয়েন্ট বেশি পেয়ে তবেই শীর্ষস্থান পাওয়া হয়েছেনিজেদের মাঠে ইউয়েফা ইউরো ২০০৮ এ বাজে প্রদর্শণীর পর জার্মান ট্যাকটিশিয়ান ওটমার হিৎজফিল্ডের নিপুণ প্রশিক্ষণে সুইস দল বেশ ভাল করছে বলেই মনে হচ্ছে

হন্ডুরাসঃ  এটা তাদের মাত্র দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠাবাছাই পর্বে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির পর চূড়ান্ত পর্বে উঠেছে হন্ডুরাস যা তাদের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতি ঘটিয়েছে

যারা নজর কাড়বেন

জাভি, অ্যানড্রেস ইনিয়েস্তা, ডেভিড ভিলা (স্পেন), হামবার্তো সুয়েজো, মাটিয়াস ফারনান্দেজ, অ্যালেক্স সানচেজ (চিলি), উইলসন পালাসিওস, কার্লোস প্যাভন (হন্ডুরাস), আলেকজান্ডার ফ্রেই, ব্লেইজ এনকুফো, ট্রাংকুইলো বারনেটা (সুইজারল্যান্ড)

জমাট উত্তেজনার ম্যাচ

চিলি-হন্ডুরাস: এই ল্যাটিন আমেরিকান ডুয়েল খুব উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারেএই দুই দলই দীর্ঘ দিন বাদে বিশ্ব ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে উঠেছে-স্বভাবতই চাইবে ভাল কিছু দিয়ে দর্শকদের মন ভরে তুলতে

_____________________________________________________________

 

প্রোফাইল : স্পেন

বাছাইপর্বের জন্য যদি ১ থেকে ১০ পর্যন্ত পয়েন্টের কোনো মার্কস বরাদ্দ থাকত তাহলে  স্পেন সেখানে পেত দশে দশ! ইউরোপীয় অঞ্চলে গোল করার দক্ষতায় স্পেনের অবস্থান দ্বিতীয়তাদের করা গোলের সংখ্যা ২৮ বিপরীতে কৃপণ দলটি খেয়েছে মাত্র ৫ টি গোলঅভিজ্ঞতা, দক্ষতা, দৃঢ়তা এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার মানসিকতাই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে স্পেনকেপৃথিবীর খুব কম দেশেরই এ রকম দক্ষ ও প্রতিভাসম্পন্ন খেলোয়াড় সমৃদ্ধ দল আছেইউরো ২০০৮ এর শিরোপা ধারী স্পেন অবশ্য তাদের পূর্ব সাফল্যে উদ্যমহীন হয়ে বসে থাকার পাত্র নয়তারা ক্রমাগত দলে পরিবর্তন ঘটিয়ে আরো আকর্ষক ছোট ছোট পাসের খেলা উপহার দিতে বদ্ধপরিকর

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপ ধারী স্পেনকে রুখতে প্রতিপক্ষরা তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে এমনটাই ধারণা করা হয়েছিল এবং বাস্তবেও তাই ঘটেছেশেষ পর্যন্ত সবগুলো ম্যাচে জয় পেলেও বেশ বাঁধার সামনে পড়তে হয় স্পেনকেবসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মাত্র ১ গোলের জয় তারই প্রমাণআর্মেনিয়া এবং এস্টোনিয়ার বিপক্ষে তুলনামূলক সহজ জয় এলেও বেলজিয়াম এবং তুরস্কের বিপক্ষে বেশ ঘাম ঝরাতে হয় স্পেনীয়দেরবেলজিয়ামকে ব্রাসেলসে ২-১গোলে হারানোর পর ম্রাদিদে তুরস্কেও বিপক্ষে ন্যূনতম গোলের ব্যবধানের জয়ফিরতি ম্যচে তুরস্কেও বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ২-১ গোলে ম্যাচ জেতার নিয়ামক জাভি এবং আলবার্ট রিয়েরার দুই গোললা কুরুনায় বেলজিয়ামকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল স্পেন এবং এস্টোনিয়ার বিপক্ষে হোম ম্যচে ৩-০ গোলের সহজ জয় দুুই রাউন্ড বাকি থাকতেই স্পেনকে তুলে দিল চূড়ান্ত পর্বেতবে নিজেদেও অপরাজেয় রেকর্ড ম্লান রাখতে পরের দুই ম্যাচে আর্মেনিয়া এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে হারাতে ভুল করেনি স্পেনীয়রা

যারা নজর কাড়বেন

উচ্চমান এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরী করতে পারাই স্পেনের সাফল্যের মূল কারণঅধিনায়ক ইকার ক্যাসিলাসের মধ্যে স্পেন ইউরোপের সেরা গোল রক্ষককে খুঁজে পেয়েছেতার অতিমানবীয় সেভ গুলো স্পেনকে অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেমিডফিল্ডা জাভি হারনেনদেজের ইঞ্চি সূক্ষ্ম পাস গুলো স্পেনের অসংখ্য গোলের উৎসআর আক্রমণ ভাগে ফাইনাল টাচ দেয়ার ক্ষেত্রে বোধয় ডেভিগ ভিলা আর ফারনান্দো টরেসের চেয়ে ভাল জুড়ি আর হয় না

প্রশিক্ষকের কথা

স্পেনের বর্তমান কোচের নাম ভিসেন্ট ডেল বস্ক- তিনি লুই অ্যারাগোনসের স্থলাভিষিক্ত হন যখন শেষোক্ত জন ইউরো ২০০৮ এ শিরোপা জয়ের পর স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেনডেল বস্ক তার পূর্বসূরী ফুটবলীয় দর্শন  এবং মূল খেলোয়াড়দের তেমন একটা বদলাননিক্লাব পর্যায়ে ভিসেন্ট ডেল বস্ক অসম্ভবরকমের সফল একজন কোচরিয়েল মাদ্রিদের হয়ে দুইবার ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ (২০০০. ২০০২), দুবার লা লীগা (২০০১,২০০৩), একবার স্প্যানিশ সুপার কাপ (২০০১), একবার ইউয়েফা ইউরোপিয়ান সুপার কাপ (২০০২) এবং একবার টয়োটা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ (২০০২) জেতার দারুন অভিজ্ঞতা রয়েছে তারআগের কোচের ওয়ান টাচ স্টাইলের ওপর ভরসা রেখেছেন ডেল বস্কএটা স্প্যানিশ ফুটবলের ঐতিহ্যগত স্টাইল যেখানে সেরা মানের মিডফিল্ডারের ওপর পুরো নির্ভর করা হয়ফলাফলও দারুন- এখন পর্যন্ত একটি বাদে তার আমলে সব কটি ম্যাচেই জিতেছে স্পেনিয়ার্ডরা

বিশ্বকাপে এর আগে

এখন অব্দি মোট ১২ বার স্পেন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠেছেজার্মানী ১৯৭৪ সালে ব্যর্থ হবার পর আর বাদ পড়েনিব্রাজিলে হওয়া বিশ্বকাপে (১৯৫০) স্পেন চতুর্থ হয়েছিল যা আজো তাদের শ্রেষ্ঠ সাফল্য-বিশ্বকাপে

 

 

প্রোফাইলঃ সুইজারল্যান্ড

এবার মাঠে নামার মধ্যদিয়ে বিশ্বকাপে মোট নয়বার খেলা হবে সুইসদেরকোচ ওটমার হিৎজফেল্ড আর সহায়ক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী ননতার ইচ্ছে সুইজারল্যন্ড একটি বড় ফুটবল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে বিশ্বকাপে

বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং বেয়ার্ন মিউনিখের এই সাবেক বস স্ইুজারল্যান্ডের দায়িত্ব পান যখন দলটি ইউয়েফা ইউরো ২০০৮ এ বাজে ফলাফল করেতিনি দলটিকে পর পর দ্বিতীয়বার চূড়ান্ত পর্বে তুলে এনেছেনগতবার তারা যদিও শেষ ষোলতে উঠেছিল তবু অনেকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই পেনাল্টিতে ইউক্রেনের কাছে হেরে যায়

বর্তমান দলটিতে যুবা আর অভিজ্ঞদের এক স্বাস্থ্যকর মিশ্রণ ঘটানো হয়েছেদলে আছেন তরুণ প্রতিভা যেমন এরেন ডেরডিওক বা ট্রাঙ্কুইলো বারনেটার মত ফুটবলার তেমনি সেখানে দেখা মেলে অভিজ্ঞ আলেকজান্ডার ফ্ই বা ব্লেইজ এন কুফোকে

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

বাছাইপর্বের শুরুটা সুইসদের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল নাশেষ মিনিটের গোলে ইসরাইলের সাথে ড্র করার পর জুরিখে মিনো লুক্সেমবার্গের কাছে লজ্জাজনক ভাবে হেরে গেলে মাথা কাটা যায় হিটজফিল্ডের

অবশ্য এই পরাজয় জেগে ওঠার কাজটি করে দেয়পরে পাঁচ পাঁচটি জয় করায়ত্ত করে নেয় তারাহারায় লাটভিয়া, গ্রীস এবং মলডোভাকেলাটভিয়ার সাথে দ্বিতীয় মোকাবেলায় ২-২ গোলে করে একবার পয়েন্ট খোয়ায় যদিও

লুক্সেমাবার্গের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতে মুধর প্রতিশোধ নেয়া হলআর ইসরাইলের সাথে গোলশূণ্য ড্র করার পর ইউরোপীয় গ্রুপ ২ এর শীর্ষস্থান নিয়েই চূড়ান্ত পর্বে পা রাখে সুইজারল্যান্ড

যারা নজর কাড়বেন

খেলার মাঠে বা মাঠের বাইরে আলেকজান্ডার ফ্্েরই নিঃসন্দেহে অবিসংবাদিত নেতা সুইস দলেরবাসেলের এই স্ট্রাইকার দেশের  পক্ষে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড ধারীকোচের জন্য তিনি অনেকটা অটোমেটিক চয়েসবাছাইপর্বেও ফ্্েরই মোট ৫ টি গোল করেন

সমান সংখ্যক গোল করেন ব্লেইজ এন কুফোওকঙ্গোতে জন্ম নেয়া এই কুশলী ফরোয়ার্ড় ২০০০ সালে প্রথম সুইস দলে ডাক পানএবং ফ্রেই এর সাথে এক বিপজ্জনক জুটি গড়ে তুলেছেন

প্রশিক্ষকের কথা

ওটমার হিৎজফিল্ডকে ইউরোপের সবচেয়ে সম্মানিত এবং সিনিয়র সফল কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকেতিনি সেই সব বিরল কোচের একজন যারা দুইটি ভিন্ন দলকে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা এনে দিয়েছেন (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং বেয়ার্ন মিউনিখ)

তিনি ১ জুলাই ২০০৮ সালে সুইজারল্যান্ড দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেনএবং শুরুও কিছু সমস্যা বাদ দিলে তিনি তার দলকে সরাসরি বিশ্বকাপে পৌঁছে দেনওটমার জার্মান দলের অ্যামেচার ফুটবলার ছিলেন এবং ১৯৭২ সালের অলিম্পিক ফুটবলে সেই দেশের হয়ে অংশ নেনতিনি সুইজারল্যান্ডে নতুন কেউ ননকারণ তার খেলোয়াড়ী জীবনে তিনি চার বছর (১৯৭১-৭৫) সেখানকার স্থানীয় বাসেল দলে, দু বছর (১৯৭৮-৮০) লুগানো দলে এবং তিন বছর (১৯৮০-৮৩) লুসারনে দলে দাপটের সাথে খেলেন

বিশ্বকাপে এর আগে

এবার নবম বারের মতো সুইস দল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নামবেতারা তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল, ১৯৩৪, ১৯৩৮ এবং ১৯৫৪ সালেগতবার দলটি গ্রুপ পর্বের বাধা ডিঙিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিলেও আর এগুতে পারেনি

 

প্রোফাইলঃ  হন্ডুরাস

তারা দ্বিতীয় বারের ফুটবলের এই মহোৎসবে অংশ নিতে যাচ্ছেতবে হন্ডুরাসের চূড়ান্ত পর্বে স্থান করে নেয়াটা ছিল দারুণ নাটকীয়তাপূর্ণকোস্টারিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র খেলার অন্তিম মুহূর্তে সমতা সূচক গোল করলে হাজার মাইল দক্ষিণে হন্ডুরাসবাসী আনন্দে ফেটে পড়েতবে অন্যের সৌজন্যে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার সুযোগ পেলেও বিশ্বকাপে হন্ডুরাস কেবল অলঙ্কার হতে যাবে না এটা বলা যায়

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

হন্ডুরাস পোয়েত্ররিকোকে ৬-২ গোলে (অ্যাগ্রিগেট) হারিয়ে  নর্থ, সেন্ট্রাল ও ক্যারিবীয় জোনের বাছাইপর্বের পেনাল্টিমেট পর্বে ওঠেসেখানে কৌশলী খেলা খেলে তারা মেক্সিকো, জ্যামাইকা এবং কানাডার ওপরে থেকে হেক্সাগোনাল ফাইনাল পর্বে উঠে যায়

বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডের শুরুটা বাজে ভাবেই হলো বলা যায়প্রবল প্রতিপক্ষ কোস্টারিকার কাছে ০-২ গোলে হেরে প্রথমেই পথ হারিয়ে ফেলে দলটিতবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সাথে ১-১ গোলের ড্র আর নিজ মাটিতে শক্তিধর মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ৩-১ গোলের জয় তাদেরকে কিছুটা পথে আনেতবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-১ গোলে হেরে আবার ধাক্কাপরে এলসালভাদর (১-০), কোস্টারিকা (৪-০) এবং ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর (৪-১) জয় এলেও মেক্সিকোর মাটিতে ০-১ গোলে হারযুক্তরাষ্ট্রের সাথে জিতলেই বিশ্বকাপ এমন একটা সমীকরণের সামনে দাঁিড়য়ে গোল মিসের মহড়া করে শেষ পর্যন্ত হন্ডুরাস ২-৩ গোলে হেরেই বসল পরাশক্তির কাছেতার মানে হল তাদের শেষ ম্যাচে এল সালভাদর কে হারাতেই হবে সেই সাথে যুক্তরাষ্ট কোস্টারিকার ফলাফল তাদের অনুকূলে থাকতে হবেতো এল সালভাদরকে তো হারানো গেল এবং বাকি ম্যাচের ফলাফলের জন্য অপেক্ষাযুক্তরাষ্ট ওই ম্যাচে হারলে বাদ যাবে হন্ডুরাস এমন এক পরিস্থিতিতে হারতে বসেছিল তারাএকদম শেষ সেকেন্ডের গোলে খেলায় সমতা এলো আর হন্ডুরাস চলে গেল চূড়ান্ত পর্বে-নাটকীয়তা আর কাকে বলে!

যারা নজর কাড়বেন

দলের মূল ভরসার নাম ৩৬ বছর বয়সী চিরসবুজ ফরোয়ার্ড কার্লোস প্যাভননানা দেশের জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা এই স্ট্রাইকারের দেয়া গোলের কারণেই শেষ খেলায় এল সালভাদরকে হারাতে পেরেছিল হন্ডুরাসতাকে যোগ্য সাহচর্য দেয়ার জন্য সারাক্ষণ পাশে পাশেই থাকেন প্রতিভাবান ডেভিড সুয়াজো, উইলসন প্যালাসিওস, জুলিও লিয়ন এবং এমাদো গুয়েভারার মতো খেলোয়াড়রাপ্যাভন তার ঝলমলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চাইবেন বিশ্বমঞ্চে গোলের পর গোল করে

প্রশিক্ষকের কথা

হন্ডুরাসের জন্য বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব ছিল বরাবরই দুঃস্বপ্নে নামপ্রতি বারই বাছাইপর্বে ফেভারিট হিসেবে শুরু করে শেষে পা হড়কে যাওয়া এটাই তাদের নিয়তি ছিলসেটা এবার বদলালো কারণ দলে যোগ দিয়েছিলেন কোচ ৪২ বছর বয়সী কলম্বিয়ান স্ট্র্যাটেজিস্ট রুয়েদা

দু হাজার সাতে দলে যোগ দেয়ার পরই তিনি হন্ডুরান ফুটবলে পেশাদারিত্ব আর শক্তির সম্মিলন ঘটালেনআগে যেখানে শক্তিই ছিল  একমাত্র উপজীব্য তিনি সেই শক্তিকে শৃঙ্খলে বাঁধলেনফলও মিললবিশ্ব দেখল চোখ ধাঁধানো আক্রমণাতœক ফুটবল আর নিরেট রক্ষণব্যুহ তৈরী করে হন্ডুরাস আবার উঠল ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে

বিশ্বকাপে এর আগে

হন্ডুরাস ২৮ বছর পর আবার চূড়ান্ত পর্বের টিকেট ম্যানেজ করলস্পেন ১৯৮২ সালে তারা প্রথম এবং এখন পর্যন্ত শেষ বারের মতো কোয়ালিফাই করেছিল

সেবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে স্বাগতিক স্পেনের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিল দলটিজিতেছিল নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এবং শেষ মুহূর্তেও ০-১ গোলে যুগোশ্লাভিয়ার কাছে হার তাদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে দিয়েছিল

 

প্রোফাইল : চিলি

চিলির ফুটবলে একটি নবজাগরণ ঘটেছে তা বোঝা যায় ১২ বছর পর বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে তাদের উঠতে পারা দেখেফ্রান্স ১৯৯৮ বিশ্বকাপে মার্সেলো সালাস আর আইভান জামোরানোর দৃষ্টি নন্দন খেলা অনেকরই মনে থাকার কথাতারপর কেন যেন তাদের ফুটবল পথ হারিয়ে ফেলেছিলতবে এখন এই বিশ্বাস চিলিয়ানদেও আছে যে তাদের পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাদের গ্রুপ পর্যায়ের বাইরেও কিছু করার আছে

অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা এবার দেখা শোনা করছেন চিলিরতারা তুলনামূলক ভালভাবেই এবার বাছাই পর্বের খেলাগুলো মোকবেলা করেছেকোরিয়া/জাপান ২০০২ এবং জার্মানী ২০০৬ এর বাছাইপর্বে নয় দেশের মধ্যে তারা পেয়েছিল যথাক্রমে নবম ও সপ্তম স্থানএবার তা হয়নি

অবশেষে জা-সা (জামারানো আর সালাস) এর যোগ্য প্রতিস্থাপন পাওয়া গেছে তাদের জন্যআশা করা  হচ্ছে তারা আফ্রিকায় গিয়ে দারুণ নৈপূণ্য প্রদর্শণ করতে পারবেন

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

বিয়েলসার দল গড় বয়সে যে কোনো দক্ষিণ আমেরিকান দলের চেয়ে ছোটতাদের কন্টিনেন্টাল বাছাই পর্বে তারা দ্বিতীয় হয়ে খেলা শেষ করেশুধু ব্রাজিলের চেয়ে এক কম পয়েন্ট ছিল তাদেরএই নৈপূণ্য ছিল গ্রুপ পর্যায়ে তাদের সেরা পারফরমেন্স এবং কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে চমৎকার ৪-২ গোলের জয় বিশ্বকাপে তাদের স্থান নিশ্চিত করে দেয়

চিলির মোট অর্জিত ৩৩ পয়েন্টের মধ্যে ১৬ পয়েন্টই আসে অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে যা তাদের দলের প্রকৃত শক্তিমত্তার পরিচায়কতাদের নিয়ে আশাবাদ বাড়ার আরেকটি কারণ হলো তাদের স্কোর করার ক্ষমতাদ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল (৩২) আসে চিলির আক্রমণ ভাগ থেকেই যার দশটি একাই করেন সেরা মার্কসম্যান হামবার্টো সুয়াজোচিলি মোট ১০ টি জয় দিয়ে বাছাই পর্বের ডালি সাজিয়েছে যা তাদের গ্রুপের যেকোনো প্রতিপক্ষের চাইতে বেশি

যারা নজর কাড়বেন

একটি জমাটবদ্ধ দলের কাছে সবার প্রত্যাশা থাকে যে তারা প্রাপ্ত সব সুযোগ কাজে লগিয়ে গোল করতে পারবেতাহলে চিলির ফরোয়ার্ডরা হয়তো এক্ষেত্রে বেশ ভাল নম্বরই পাবেনদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কুশলী ফরোয়ার্ড ম্যাটিয়াস ফারনান্দেজ, অ্যালেক্সিস সানচেজ এবং হামবার্টো সুয়াজোএই ট্রায়ো ঘরোয়া লীগে কলো কলো দলে খেলেন এবং ভালই খেলেন

তরুণ ফারনান্দেজ এবং বিস্ফোরক সানচেজ বিদেশের মাটিতে ফেটে পড়ার অপেক্ষায়  অন্যদিকে বর্ষীয়ান সুয়াজো একজন লেথাল ফিনিশার যার একটি প্রিয় অভ্যেস হলো ঠিক সময়ে ঠিক স্থানটিতে পৌঁছে যাওয়া

প্রশিক্ষকের কথা

মার্সেলো বিয়েলসা কোরিয়া/জাপান বিশ্বকাপ ২০০২ এ দুর্ভাগা আর্জেন্টিনা দলের কোচ ছিলেনসেখানে দলের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়ে তার মনে যে ক্ষত তৈরী হয়েছিল চিলি দলের পুনর্জাগরণে সেই কষ্ট কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে

বিয়েলসাকে সাধারণত এল লোকো বা পাগল নামে ডাকা হয়এটা করা হয় ফুটবলের  প্রতি তার একনিষ্ট আত্মনিবেদনের কারণেচুয়ান্ন বছরের এই কোচের খেলোয়াড়ি জীবন খুব বেশি দিনের নয় তবে কোচ হিসেবে তিনি খেলোয়াড়দের ভালবাসা আর সম্মান পেয়েছেন বলার মতইনিজের দেশ আর্জেন্টিনাতে বিয়েলসা প্রবল ভাবে জনপ্রিয়সম্ভবত এখন একই জনপ্রিয়তা তিনি উপভোগ করেন চিলিতেও

বিশ্বকাপে এর আগে

অষ্টম বারের মতো চিলি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে লড়তে যাচ্ছেএকবার তারা আয়োজন করেছিল প্রতিযোগিতাটির সেই ১৯৬২ সালে--এখন পর্যন্ত সেরা সাফল্য এসেছিল সেবারইতৃতীয় স্থানটি পেয়েছিল চিলি

 

- ঢাকা থেকে

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.