Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা (গ্রুপ ই) Download PDF version
 
বিশ্বকাপ 
ফুটবল 
২০১০

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা

জহিরুল ইসলাম নাদিম

গ্রুপ ই

 

শংকায় আছে ডাচরা

বলা হচ্ছে এই গ্রুপটি টূর্ণামেন্টের অন্যতম টাইট গ্রুপকারণ দুই ইউরোপীয় জায়ান্ট হল্যান্ড আর ডেনমার্ক রয়েছে এখানেইএখানে আরো রয়েছে ২০১০ বিশ্বকাপের প্রথম টিকেট নিশ্চিত করা এশিয়ান ফুটবল শক্তি জাপান আর সেই চিরচেনা দুর্ধর্ষ কোটি মানুষের ভালবাসায় সিক্ত দল ক্যামেরুন

হল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রাটি ছিল বেশ মসৃণটোটাল ফুটবল দর্শনের ধারক ও বাহক হল্যান্ড বিশ্বকাপে সবসময়ই ফেভারিট থেকেই তার যাত্রা শুরু করে থাকেএবারও তার ব্যতিক্রম হয়নিতবে ডেনমার্ক, ক্যামেরুন আর জাপান এরা প্রত্যেকেই বিপদজনক প্রতিপক্ষ, মাঝে মধ্যেই অঘটন ঘটিয়ে ফেলার নিয়ম কানুন তাদের জানাজানির চৌহদ্দির মধ্যেই

দুর্বার সিংহ ক্যামেরুনের চেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা আর কোনো আফ্রিকান দেশের নেইকোচ পল লি গুয়েন এর হাত ধরে ষষ্ঠ বারের মত বিশ্ব ফুটবলের চূড়ান্ত আসরে খেলতে আসছে তারাস্যামুয়েল ইটো এবং তার দল বল পুনরায় খুঁজে পেয়েছেন নিজেদের এবং সেটা প্রমাণ করতে সব সময়ই শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বেছে নিতে চায় তারামরটেন অসলেনের ডেনমার্ক এর আগের তিন বার অর্থাৎ ৮৬, ৯৮ আর ২০০২ তে কমপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনে পৌঁছেছিলজাপানের পেছনে বড় অনুপ্রেরণা তাদের বাছাইপর্বের চমৎকার নৈপূণ্য

_____________________________________________________________

টপ ফেভারিট

নেদারল্যান্ডসঃ  বার্ট ভ্যান মারভিকসের রেকর্ড হল আট ম্যাচে আটটিতেই জয়ইউরোপীয় গ্রুপ ৯ তে এই দারুণ ফলটি করেছে হল্যান্ড দলএই কোচ ডাচদের হয়ে কোনো প্রতিযোগিতা মূলক খেলায় আজ অব্দি একটি পয়েন্টও খোয়াননিডাচদের রক্ষণভাগকে টলিয়ে দেয়া প্রায় অসম্ভব, সেই সাথে যোগ হয়েছে বিপজ্জনক আক্রমণ ভাগ-এই দুয়ের মিশেলে ডাচরা এবার খালি হাতে বাড়ি ফিরতে ততটা আগ্রহী নয়

ক্যামেরুনঃ আফ্রিকান সিংহ অন্য যে কোনো আফ্রিকান দলের চেয়ে বিশ্বকাপে বেশি ম্যাচ খেলেছে এবং বেশি পয়েন্ট অর্জন করেছেকোচ লি গুয়েনের হাতে মনে হ্েচ্ছ প্রয়োজনীয় সব রসদই আছে যাতে দলের গৌরবের ইতিহাসকে ফের বর্তমান করে ফেলা যায়বিপজ্জনক মার্কসম্যান ইটো রয়েছে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে সাথে অবশ্যই জিন ম্যাকোয়ান, এচিলি ইমানা এবং আলেকজান্ডার সঙফাইনাল টাচ দেয়ার দক্ষতা দেখে এ কথা মনে পড়েছে তারাই আফ্রিকান ফুটবলের পাওয়ার হাউজ

আউটসাইডার

ডেনমার্কঃ উইলি ওসলেনের জাদুর পরশে ডেনমার্ক দল আবার বিশ্বমঞ্চে সমূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করেছেএর আগে সবকিছু তেমন ভাল চলছিল না তাদেরগত বিশ্বকাপে খেলা হয়নি-এমনকি  ইউয়েফা ইউরো ২০০৮ টূর্ণামেন্টে দেখা যায়নি তাদেরএবার বশ্বকাপে নিজেদের চতুর্থ অংশগ্রহণ অস্বাভাবিক রকম সহজ করে  নিশ্চিত করেছে ডেনিস দলযে গ্রপে পর্তুগাল এবং সুইডেনও ছিল সেখান থেকে বিজয়ী হয়ে  আসা সত্যি কৃতিত্বের ব্যাপার

জাপানঃ  ফ্রান্স ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর দল ছেড়ে যাওয়া তাকাশি ওকাদা ফের জাপান ডাগআউটে শামিল হয়েছেনএবার তার কাজ নতুন প্রজন্মের এক ঝাঁক তরুণ খেলোয়াড়কে নিয়ে নতুন করে ঘর গোছানোএবার চুর্তথ বারের মতো চূড়ান্ত পর্বে খেলা হচ্ছে এশিয়ার অন্যতম ফুটবল শক্তি জাপানেরএএফসি এশিয়ান কাপের গত পাঁচ আসরের মধ্যে জাপানের ঘরেই গেছে তিনটি শিরোপাআর বাছাই পর্বে তাদের ক্রীড়াশৈলী এ কথা বুঝিয়ে দিয়েছে যে তাদের নকআউটে ওঠার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে

যারা নজর কাড়বেন

আরজেন রবেন, ডিরক কিউট (হল্যান্ড), নিকলাস বেন্টনাম জন ডাল টমাসন (ডেনমার্ক), শুনসুকে নাকামুরা, কেইসুকে হোন্ডা (জাপান), স্যামুয়েল ইটো, জিন ম্যাকোয়ান, আলেকজান্ডার সং (ক্যামেরুন)

জমাট উত্তেজনার ম্যাচ

হল্যান্ড-ক্যামেরুন: ২৪ জুন অনুষ্ঠেয় এই খেলাটি হবে কেপ টাউনেষোলর পর্বে যাওয়ার জন্য এটি হবে একটি কঠিন ম্যাচ

_____________________________________________________________

 

প্রোফাইল : নেদারল্যান্ডস

দ্য ফাইনাল অর বাস্টএই স্লোগান নিয়ে আফ্রিকায় এসেছে ডাচরাকাছাকাছি বাংলা করা যায় হয় সেরা নয় ফেরা!আজ থেকে ৩২ বছর আগে বিশ্বকাপ একদম হাতের নাগালে চলে এসেছিল ডাচদেরঅতিরিক্ত সময়ে দুই গোল খেয়ে আর্জেন্টিনার কাছে সেবার শিরোপার দাবী ত্যাগ করতে হয় তাদেরতবে আরো দুঃখের কথা পরের বারই  আগের বারের ব্যর্থতা ঘুচিয়ে দেবার সুযোগ এসেছিল সামনেএবার ২-১ এ কপাল পুড়ল জার্মানীর কারণেজোয়ান ক্রয়েফরা দলকে যে উচ্চতায় তুলে দিয়েছিলেন আর কারো পক্ষে সেই  দৈর্ঘ্য অতিক্রম করা সম্ভব হয়নিযদিও ১৯৮৮ সালে একবার ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন শীপের ট্রফি হাতে তোলা হয়েছে দলটিরদলে অনেক বিশ্বসেরার সম্মিলন ঘটলেও কিসের যেন অভাব শেষ পর্যন্ত ডাচ দলকে চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী হতে দেয় নাদৃষ্টিনন্দন টোটাল ফুটবল খেললেও মানসিক ভাবে বেশ দুর্বল তারাআশা করা হচ্ছে বর্তমান কোচ বার্ট ভ্যান মারভিকের হাতে পড়ে দলটির অতীত দুর্বলতা অনেকট্ইা কাটবেএবার কিছুটা হলেও ইতিহাস তাদের পক্ষেশেষ দল হিসেবে কোনো একটি পয়েন্ট না হারিয়েই ডাচরা এবার ফাইনালেঠিক একই ঘটনা একবার ঘটেছিল জার্মানীরা-৮২ বিশ্বকাপে একই ভাবে বাছাইপর্বে এসে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় করে তবেই থেমেছিল তারাবর্তমান ডাচ দলটি অনেকটা প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েই সেই ঘটনার পুনারাবৃত্তি করতে চায়

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

বাছাই পর্বে চমৎকার খেলেছে ডাচরাআট ম্যাচের আটটিতেই জয়ীকোচ ভ্যান মারভিকের জামানা এখন পর্যন্ত ভুল শুণ্য বলা  যায়এই কৃতী কোচ নরওয়ে আর স্কটল্যান্ডের বাধা পেরিয়ে ৯ নং গ্রপের সেরা দলে পরিণত করেন তার দলকেসতেরটি গোল দেয়ার বিপরীতে তারা গোল খায় কূল্যে ২টি তাও আইসল্যান্ড আর মেসেডোনিয়ার কাছে

প্রশিক্ষকের কথা

তার সময়ের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তা কিছুতেই বলা যাবে নাআন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা মাত্র এক বারতবে রটারডামের ক্লাব ফেয়েনুরড এর কোচ হিসেবেই পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছেন বেশিতার হাত ধরেই দলটি ২০০২ এর ইউয়েফা কাপ ট্রফির শিরোপা জেতেজার্মানীর বিখ্যাত দল বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়েও দু বছর কাজ করেছেন এই শান্ত আপাদমস্তক ভদ্রলোক কোচছাপান্ন বছর বয়সী এই কোচ মনে করেন কোচের উচিত যতটুকু সম্ভব খেলোয়াড়ের কাছে পৌঁছানোতার স্টাইল পূর্বসূরী মার্কো ভ্যান বাস্তেন এর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও কৌশলে দুজনের মধ্যে বেশ মিল রয়েছেমার্কোর ব্যবহৃত ৪-২-৩-১ কম্বিনেশন বজায় রাখার পক্ষপাতী এই কোচ

যারা নজর কাড়বেন

এডুইন ভ্যান ডার সার এবং রুড ভ্যান নিস্টারলয় তাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর ভ্যান মারভিকের দায়িত্ব হয়ে পড়ে নিজের হাতে কিছু কাচা ট্যলেন্টকে ঘষে মেজে পাকা বানিয়ে ফেলাএই প্রক্রিয়ায় এখন যে নাম গুলো আসে তারা হচ্ছেন আরজেন রবেন, জরিস ম্যাথিসেন, আন্দ্রে ওইজের, ডিরক কিউয়েট, মার্ক ভ্যান বোমেল প্রমুখের

বিশ্বকাপে এর আগে

তাদের আটবারের চূড়ান্ত পর্বের অভিযাানে শোপিস খেলা অর্থাৎ ফাইনালে এখন পর্যন্ত দুবার খেলা হয়েছে ডাচদের১৯৭৪ আর ১৯৭৮ এই দুবারই একটুর জন্য শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হয়েছে ডাচদের

 

প্রোফাইল : ডেনমার্ক

আট বছর পর ডেনিশ ডিনামাইট আবারো বিস্ফোরণের প্রতীক্ষায়এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি জার্মানী ২০০৬ এবং ইউয়েফা ইউরো ২০০৮ দুটোই মিস করেছিলতবে ফিফার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এই দেশটি এবার আগের চেয়েও যোগ্য হয়ে দঃ আফ্রিকার টিকেট সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছেডেনিশরা এবার তাদের অতীত সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চাইবেএর আগের তিন অংশগ্রহণের মধ্যে দুবার তারা সেরা ষোলতে উঠেছিল আরেকবার সেরা আটেদলটির সবচেয়ে বড় সাফল্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র সুইডেনের মাটি থেকে ইউরোপ সেরার খেতাব জেতা--সেটা ১৯৯২ সালের কথাছোট্ট কিন্তু ফুটবল পাগল জাতিটি ফ্রান্স বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল অব্দি উঠেছিল বেশ যোগ্যতার সাথেইশেষ পর্যন্ত ফাইনালিস্ট কাছে হেরে তাদের স্বপ্নযাত্রা সেবার থেমে গিয়েছিলআন্তর্জাতিক অঙ্গণে বড় একটা অনুপস্থিতির পর অধিনায়ক জন ডাল টমাসন  আর তার সতীর্থরা ভাল কিছু করার জন্য মুখিয়ে আছেন

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

গ্রপে পর্তুগাল বা সুইডেনের মতো বড় বড় দল থাকলেও দশ ম্যাচে মাত্র এক পরাজয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্ত পর্বে খেলা হচ্ছে এবার ডেনিশদের

পর্তুগালের বিরুদ্ধে ফল ছিল ৩-২ একং ১-১লিসবনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে ডেনিশরা শেষ দশ মিনিটে ৩ গোলে দিয়ে পুর্তগালকে হতাশ করে দেয়চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সুইডেনকে হোম এন্ড এ্যাওয়ে ম্যাচের দুটোতেই ১-০ হারায় ডেনিশরা

একমাত্র হাঙ্গেরীর কাছে যা একটু নাস্তানাবুদ হয় তারাপ্রথম মোকাবেলায় গোলশূণ্য ড্রয়ের পর গ্রপের শেষ খেলায় তাদের কাছে একমাত্র পরাজয়টি মেনে নিতে হয় ডেনিশদের যদিও ততদিনে ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে ডেনমার্কের

যারা নজর কাড়বেন

বেশির ভাগ ডাচ খেলোয়াড়ই ইউরোপের বড় বড় দলে খেলে থাকেনদলের অধিনায়ক টমাসন বর্তমানে ফেয়েনুরড ক্লাবের আক্রমণ ভাগের নেতৃত্বে রয়েছেনতিনি ইতোমধ্যে এসি মিলান এবং ভিলারিয়েল দলের হয়েও খেলেছেনএছাড়া দলের আর যাদের আন্তর্জাতিক এক্সপোজার রয়েছে তারা হলেন রক্ষণভাগের ডেনিয়েল আগার (লিভারপুল), মধ্যমাঠের কুশলী ত্রৈয়ী ডেনিয়েল জেনসেন (ব্রেমেন), ক্রিস্টিয়ান পৌলসান (জুভেন্টাস) এবং ডেনিস রমেদাল (আয়াক্স) আর স্ট্রাইকার নিকলাস বেন্টনার (আর্সেনাল)

প্রশিক্ষকের কথা

এই গ্রীষ্মে ডেনমার্কের হেড কোচ হিসেবে মরটেন ওলসেন তার পুরো এক দশক পূর্ণ করবেন! তিনি দায়িত্ব পেয়েছিলেন ২০০০  সালে এবং দলকে ২০০২ এর ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০০৪ এর ইউয়েফা ইউরো কাপে তুলে দেন

লিবেরো হিসেবে দারুণ ছিলেন ওলসেনখেলেছেন কোলন এবং এন্ডারলেচ দলের হয়ে এবং শেষোক্ত বেলজিয়ামের দলটি ১৯৯৩ ইউয়েফা কাপ জিতেছিল সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ওলসেনচল্লিশে পৌঁছুবার আগেই বুট খুলে রেখে কোচিংয়ে নেমে পড়েন তিনিকিছুদিন কোলন আর আয়াক্স দলের কোচও ছিলেন

 

প্রোফাইল : জাপান

এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তির নাম জাপানগত পাঁচ এশিয়ান কাপের তিন বারের শিরোপা জেতা দলটি এবার ভাল করবার ব্যাপারে বেশ আশাবাদীএ নিয়ে চতুর্থ বারের মতো তারা চূড়ান্ত পর্বে খেলছে

প্রধান যে বিষয়টি জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা হলো জার্মানী ২০০৬ এ তাদের যে হতাশাজনক পারফরমেন্স ছিল তা থেকে বেরিয়ে আসাগত আসরে জাপান অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-১, ক্রোয়েশিয়ার সাথে গোলশূণ্য ড্র এবং ব্রাজিলের কাছে বিরাট ৪-১ গোলের ব্যবধানে হেরে প্রথম পর্বের হার্ডলস পেরুতে ব্যর্থ হয়আরেকটি বিষয় জাপানকে খুব ভোগাবেজাপান এই প্রথম তাদের কিংবদন্তীর মিডফিল্ডার হিদেতোসি নাকাতাকে ছাড়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে মাঠে নামবেরোমা দলের সাবেক এই তারকা ফুটবলার এর আগে ৯৮, ২০০২ এবং ২০০৬ এর বিশ্বকাপে জাপানের হয়ে প্রতিটি খেলায় মাঠে নামেনগত বিশ্বকাপের পর পরই ২৯ বছর বয়সে খেলা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন নাকাতা

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

এশিয়ান জোন বাছাইপর্বের চতুর্থ ও শেষ পর্বে জাপান অনেকটা হেসে খেলেই উঠে গিয়েছিলসেখানে গ্রুপ ১ এর খেলায় চার জয়, তিন ড্র আর এক পরাজয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে দলটিঅস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-১ গোলে হারার পর নিজের মাটিতে অসিদের সাথে ০-০ গোলের ড্র সমর্থকদের বেশ হতাশ করেতবু পাঁচ জাতির ওই গ্রপে জাপান বাহরাইন, কাতার আর উজবেকিস্তানের উপরে থেকেই খেলা শেষ করতে পেরেছিল

যারা নজর কাড়বেন

প্লেমেকার শুনসুকে নাকামুরা বর্তমান দলটির সব চেয়ে বড় তারকা যিনি এই গ্রীষ্মে এসপানিয়লের পক্ষে নাম লিখিয়েছেনআরেক জন ইউরোপ ভিত্তিক মিড ফিল্ডার হচ্ছেন কেইসুকে হোন্ডা, নাকামুরার মতই একজন গিফটেড খেলোয়াড় তিনিআর পেছনে বর্ষীয়ান রক্ষণদুর্গ এবং অধিনায়ক ইউজি নাকাজাওয়া যার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ৯০ বার দেশের হয়ে খেলার কৃতিত্ব আছে

প্রশিক্ষকের কথা

জাপানের কোচ ওকাদাকে বর্তমান সময়ের একজন অন্যতম সেরা ফুটবল পরিকল্পনাবিদ হিসেবে দেখা হয়জাপান যখন প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠেছিল তখনও দলের কোচ ছিলেন তিনিএবং ইরানের সাথে একটি ট্রিকি প্লে অফে দলকে বিজয়ী করে পৌঁছে দেন চূড়ান্ত আসরেবিশ্বকাপের দুটো স্থানীয় দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও কৃতিত্বের ছাপ রাখতে সক্ষম হন ওকাদাসাবেক আন্তর্জাতিক ডিফেন্ডার ওকাদাকে ২০০৬ সালে ফের জাতীয় দলে ফিরিয়ে নেয়া হয় যখন তার পূর্বসূরী ইভিকা ওসিম স্ট্রোকে আক্রান্ত হন

বিশ্বকাপে এর আগে

এই নিয়ে পর পর চারবার জাপান বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠলোতাদের সেরা খেলাটি ছিল নিজেদে মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে যখন তার বেলজিয়াম, রাশিয়া এবং তিউনিশিয়াকে টপকে গ্রুপ এইচের সেরা হয়েছিলসেবারই প্রথম এবং শেষবার তারা নকআউটে প্রবেশ করেপরবর্তীতে তৃতীয় স্থান অধিকারী তুরষ্কের  কাছে ০-১ গোলের হার সেবার জাপানের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ্ করেছিল

 

প্রোফাইল : ক্যামেরুন

ক্যামেরুন ১৯৯০ এর বিশ্বকাপে যেভাবে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে উঠেছিল সেই আলো দলটির এখন আর নেইতবু তাদেরকে অবজ্ঞা করা যায় নাতারাই আফ্রিকায় ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সেরা দল এখন অব্দিচূড়ান্ত পর্বে নিজ মহাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রেও ক্যামেরুন শীর্ষেএ নিয়ে মোট ৫ বার চূড়ান্ত পর্বে পা রাখা হচ্ছে ক্যামেরুনেরআর কোনো আফ্রিকান দেশ বিশ্বকাপে তাদের কৃতিত্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনিতারা ৯০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিলপরে আফ্রিকার আরেক ফুটবল শক্তি সেনেগাল ২০০২ সালে সমান নৈপূণ্য প্রদর্শনের কৃতিত্ব অর্জন করে

অবশ্য এর পরের আর তিনটি আসরে ক্যামেরুন আর কখোনো গ্রুপ পর্যায়ের বাধা ডিঙ্গাতে  পারেনিএবং নয় ম্যাচের মাত্র একটিতে জয় পায় আফ্রিকার অদম্য সিংহ নামে খ্যাত এই দলটিতারা জার্মানী ২০০৬ এ বাছাই পর্বের বাধাই পেরুতে পারেনি-শেষ ম্যাচে মিশরের কাচে হেরে বাদ পড়ে যায়তবে এবার দলটিতে প্রবীণ নবীণের সার্থক সমন্বয় ঘটেছে  এবং নতুন প্রজন্মের রজার মিলা এবং ওমাম বিইয়েকদের এবার আবার দেখা যাবে বলে অনেকেই আশা করছেন

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

মরোক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের বিজয় ক্যামেরুনকে সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে তুলে দিলেও বাছাইপর্বে ক্যামেরুনের অভিযান ছিল চ্যালেঞ্জ আর উত্তেজনায় ঠাসাপ্রথম দ্ইু ম্যচের দ্ুিটই ড্রকেমন যেন অশনি সংকেত দিচ্ছিলোতবে পরবর্তী চারদিনের মধ্যে গ্যাবনের বিরুদ্ধে দু দুবার জিতে আবার ট্র্যাকে প্রত্যাবর্তনএরপর সহজেই টোগোকে হারানো হলোআর পর পর চার জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে গেল হাতেশক্তিশালী রক্ষণভাগ থাকার কারণে চূড়ান্ত বাছাইপর্বের ৬ খেলায় গোল খেতে হয় মাত্র ২ টি

যারা নজর কাড়বেন

নয় ম্যাচে ইটোর গোল ১১ টিতিনিই হবেন সেই  খেলোয়াড় যাকে আটকানোর চেষ্টা প্রথমেই করবে প্রতিপক্ষের সব কোচসম্ভাবনাময় আরেক খেলোয়াড়ের নাম পিয়েরে ওয়েবো যাকে নিয়েও কোচরা চিন্তা করতে পারেনআর জিন ম্যাকোউন, স্টেফান এমবিয়া এবং আলেকজান্ডার সঙ এর গড়া মধ্যমাঠ শুধু যে স্টাইলিশ তাই নয় প্রয়োজনে ভয়ংকরও

প্রশিক্ষকের কথা

ক্যামেরুনের ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে তাদের ৪৫ বছর বয়সী যোগ্য কোচ পল লি গুয়েনের হাত ধরেতিনি জার্মান প্রবীণ কোচ অটো ফিস্টারের স্থলাভিষিক্ত হনউ্েল্লখ্য অটো ফিস্টার বাংলাদেশ দলেরও কোচ ছিলেন এক সময়তার শুরুটা ছিল ঢিলেঢালা ভাবেপরে ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে তার ট্যাকটিক্সবড় ক্লাব যেমন লিয়ন, রেঞ্জার্স এবং প্যারিস সেন্ট জার্মান দলের কোচের দায়িত্বও এক সময় পালন করেছেন গুয়েনতিনি এসেই ক্যামেরুন দলে লক্ষ্যযোগ্য পরিবর্তন সাধন করেনদীর্ঘদিনের অধিনায়ক রিগবার্ট সঙের হাত থেকে অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড খুলে তিন বারের আফ্রিকান প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার স্যামুয়েল ইটোর হাতে তুলে দেয়ার তার সিদ্ধান্ত প্রথমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও এখন সবাই এর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছে

বিশ্বকাপে এর আগে

একটি খেলাও না হেরে ক্যামেরুন ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েছিলতিন ড্রয়ের পর গোলগড়ে ইতালীর পেছনে পড়ে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া হয়নি তাদেরতারা এপর্যন্ত ১৭ টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছে যা আফ্রিকার যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি১৯৯০ বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারানো বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় আপসেট বলে বিবেচিত হয়তাদের স্ট্রাইকার রজার মিলা তিনটি বিশ্বকাপ খেলা একমাত্র আফ্রিকানতিনি ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে রাশিয়ার বিপক্ষে গোল সবচেয়ে বর্ষীয়ান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার দুর্লভ রেকর্ডটি গড়েছেন

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.