Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা (গ্রুপ ডি) Download PDF version
 
বিশ্বকাপ 
ফুটবল 
২০১০

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা

জহিরুল ইসলাম নাদিম

গ্রুপ ডি

 

গ্রুপ অব ডেথ?

গ্রপ অব ডেথ বলে একটি কথা প্রতিটি বিশ্বকাপেই শোনা যায়বহুল ব্যবহারে শব্দটি জীর্ণ যদিও তবু সম্ভবত গ্রুপ ডি কে নিয়ে তা বলা যায়ব্রাজিলের মতো সর্বোচ্চ সংখ্যক বার বিশ্বকাপে চূড়ান্ত পর্বে ওঠা জার্মানী যারা ২০০৬ এর রানার্স আপও বটে এই গ্রপে রয়েছেতবু অটোমেটিক ফেভারিট তারা নয়কারণ বাকি দল তিনটি অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া, ঘানা এবং সার্বিয়া বাছাই পর্বে এত ভাল খেলে এসেছে যে প্রতিটি দলেরই পরের পর্বের যাওয়ার যোগ্যতা রয়েছেতাই যে দুটি দল বাদ পড়বে তারা বেশ হতাশই হবে বলা যায়আর অস্ট্রেলিয়া আর ঘানা গত বিশ্বকাপে নজরকাড়া নৈপূণ্যও দেখিয়েছিলসার্বিয়ার ফুটবল সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করার লোক পৃথিবীতে খুব কমই পাওয়া যাবে

_____________________________________________________________

টপ ফেভারিট

জার্মানীঃ জোচিম লোও এর দল এমনি এমনি টপ সিড হয়নিতারা গ্রুপ ৪ চার এর জটিল রাস্তা পার হয়ে তবেই চূড়ান্ত পর্বে উঠে এসেছেসাত গোল দেয়া মিরোস্লাভ ক্লোসা  বা মাইকেল বালাক এবং তার সাথীরা গাস হিডিংয়ের রাশিয়াকে পেছনে ফেলে এবার দঃ আফ্রিকার টিকেট নিশ্চিত করেছেশেষ ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে আপাত দৃষ্টিতে কোনো রকম প্রচেষ্টা ছাড়াই উঠে গিয়েছিল জার্মানরাএবারও তেমন কিছু হলে অবাক হবেন না যেন

ঘানাঃ প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে এবার বিশ্বকাপের টিকিট কনফার্ম দলটির নাম ঘানাগত বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলের মধ্যে একমাত্র তারাই নক আউট রাউন্ডে পৌঁছেছিলতাই স্বাভাবিক ভাবেই তারা দ্বিতীয় ফেভারিটের তকমা পেতে পারেকোচ মিলোভান রাজেভাকসের কালো মানিকরা সহজেই বাছাই পর্বের বাধা পেরোয়ফাইনাল নিশ্চিত হবার পর কেবল এক গোলের একটি পরাজয় এইটুকু যা কলঙ্ক

আউট সাইডার

সার্বিয়াঃ গ্রুপ ডি এর ড্রতে রাডোমির এন্টিকসের দলকে গ্রপের শেষ হিসেবে রাখলেও তাদেরকে হালকা হিসেবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেইবাছাই পর্বে সাদা ঈগল বলে খ্যাত সার্বিয়ানরা সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় জানিয়েছেএবং রোমানিয়াকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পৌঁছেছে ফাইনালেদলে আছেন প্রতিভাবান নেমানজা ভিদিক, ডিয়ান স্টানকোভিক এবং মিলান জোভানোভিক এর অমিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ হলেও সাবেক যুগোশ্লাভিয়া বা সার্বিয়া এন্ড মন্টেনিগ্রো হিসেবে মোট দশ বার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে দলটির

অস্ট্রেলিয়াঃ সকারুরা প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছিল ১৯৭৪ সালেতারপর দ্বিতীয় বার আসতে লেগেছিল মাত্র ৩২ বছরতবে তৃতীয় বারের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে আর কাল গুণতে হয়নিডাচ কোচ পিম ভারবিক এর পরিচর্যায় ক্রমাগত একটি দক্ষ দল হিসেবে গড়ে উঠছে অসিরাওসেনিয়া গ্রুপ ছেড়ে তারা এবারই প্রথম এশিয়ান দেশ হিসেবে বাছাই পর্বে অংশ নেয়তাদেও এই এশিয়ান ডেব্যু স্মরণীয় হয়েছে কারণ জাপানের অনেক আগে থেকে তারা টূর্ণামেন্ট শেষ করেছে

যারা নজর কাড়বেন

মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানী), টিম কাহিল (অস্ট্রেলিয়া), ম্যাথিউ আমোয়াহ, মাইকেল ইসিয়েন (ঘানা), মিলান জোভানোভিক, মার্কো প্যান্টেলিক (সার্বিয়া)

জমাট উত্তেজনার ম্যাচ

ঘানা-অস্ট্রেলিয়াঃ  যেহেতু অস্ট্রেলিয়া তাদের খেলা শুরু করবে জার্মানীর বিরুদ্ধে তাই এই ম্যাচটি সকারুদের বাঁচা মরার লড়াই হয়ে দাঁড়াবে কারণ ঘানার মত অসিরাও চাইবে যে দ্বিতীয় রাউন্ডে পদাপর্ন করতে

_____________________________________________________________

 

প্রোফাইল : জার্মানী

 

তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানী সব সময় শিরোপার কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেযখন বিশ্বকাপ ট্রফির হাতবদল হয় তখন সেখানে বা কাছেই থাকে জার্মানরাএবারও তেমনি আশা ভরসা নিয়ে জোচিম লোওয়ের শিষ্যরা পাড়ি জমিয়েছেন আফ্রিকা মহাদেশেসুইজারল্যান্ডের মাটিতে ১৯৫৪ সালে দেশের পতাকা উর্দ্ধে তুলে ধরেছিল তারা তারপর ৭৪ সালে নিজের দেশে এবং ৯০ সালে ইতালীতে আরো দুবার ট্রফির জয় করেএবার চতুর্থবার ট্রফির মালিকানা পেলে খুব একটা অখুশী হবে না জার্মানরা!

জার্মানদের সাফল্যের মূলে রয়েছে তাদের ব্যাপক অভিজ্ঞতা, সূক্ষ্ম ক্রীড়াশৈলী আর পরিস্থিতির দাবী অনুসারে যে কোনো অবস্থান থেকে উঠে দাঁড়াবার অদম্য সাহসবাছাই পর্বের খেলাগুলোতে এই সব গুণপনার উদাহরণ তুলে ধরেছে দলটিমাইকেল বালাকের নেতৃত্বাধীন দলটি খুব করেই একটি শিরোপার জন্য অপেক্ষা করছেকারণ ২০০২ সালে কোরিয়া/জাপান পর্বে তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয় রানার্স আপ হয়েচার বছর বাদে নিজের মাটিতে তৃতীয় এবং ইউয়েফা ইউরো কাপ ২০০৮ সালে আরেকটি দ্বিতীয় স্থান পাওয়া জার্মানীর এখন চাই একটি পূূর্ণ শিরোপা তার চেয়ে কম কিছুতেই তাদের মন ভরবে না আসলে

এবার শিরোপা পেলে যে শুধু শিরোপা জয়ের আনন্দ পাবেন বালাক তাই নয় তার বিখ্যাত ক্যারিয়ারের মুকুটে অন্যরকম সাফল্যের পালকও যুক্ত করবে তাতাকে নিয়ে দাঁড় করাবে বিশ্বকাপ জয়ী জার্মানী সেই তিন জন কিংবদন্তীর অধিনায়ক ফ্রিৎজ ওয়াল্টার, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার আর লোথার ম্যাথিয়ুসের কাতারে

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

প্রমাণিত দক্ষতা আর অনমনীয় দৃঢ়তাই জার্মানীর শক্তির উৎস-অন্য অনেক দলের মতো হঠাৎ হঠাৎ জ্বলে ওঠা তাদের কর্ম নয়লোয়ের দল ইউরোপীয় বাছ্ইাপর্বের গ্রুপ ৪ এ শীর্ষ স্থান ধরে রেখেই আফ্রিকার টিকেট হাতে পেয়েছেশুধু ফিনল্যান্ডের সাথে হোম এবং অ্যাওয়ে ম্যাচে বেশ বিপদে পড়ে গিয়েছিল দলটি

ক্লোসার হ্যাট্রিকের সুবাদে হেলসিংকিতে ৩-৩ গোলে ম্যাচ অমীমাসিংত রাখতে পারে ম্যাচআর হামবুর্গের ম্যাচে পডোলস্কির শেষ মিনিটের সমতা সূচক গোল জার্মানদের নাক কাটা বাঁচায়অবশ্য ওই খেলার আগেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বলে হয়তো তাদের খেলায় ততটা ধার ছিল না

তুলনায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার সাথে নিজেদের জাত চেনানোর মতই খেলেছে জার্মানরাডর্টমুন্ডে লোওয়ের ছেলেরা বেস্ট অ্যাটাকিং ফুটবল উপহার দিয়ে ২-১ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয়মস্কোর ফিরতি ম্যাচে যুদ্ধ হলো আরো টান টানঅপ্রতিরোধ্য ক্লোসার গোলে রাশিয়াকে ১-০ গোলে হারানো হলোএটাই হলো নিজের মাটিতে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের কোনো খেলায় রাশিয়ার প্রথম হার

যারা নজর কাড়বেন

চেলসির মধ্যমাঠের তারকা খেলোয়াড় মাইকেল বালাককে বলা যায় দলের অবিসংবাদিত নেতাএখন বালাকের বয়স ৩৩ বছরএখন অব্দি জাতীয় দলের হয়ে ৯৭ বার মাঠে নেমেছেন তিনিতবে শিরোপা স্বাদ নেয়া হয়নি এখনো এই কুশলী অধিনায়ক--এবং এবারই তার জন্য শেষ সুযোগ নিজেকে ইতিহাসের পাতায় উত্তোরিত করার

হয়তো সাধারন্যে ততটা পরিচিত নন তবু বেয়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার ক্লোসার স্থান বালাকের পরেই৯৩ খেলায় তার করা ৪৮ গোল তাকে জার্মানীর সর্বকালের সেরা গোলকারীদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রেখেছেতার আগে শুধু জীবন্ত কিংবদন্তী গার্ড মুলার (৬৮ গোল) এবং সাবেক পঃ জার্মান তারকা জোচিম স্টেইচ (৫৫ গোল)লাম, স্কয়েনসটেইজার আর পডলস্কির নাম নিতে হয় তার পরেই

প্রশিক্ষকের কথা

জুর্গান ক্লিন্সম্যানের সহকারী হিসেবে ২০০৬ বিশ্বকাপে কাজ করেছিলেন জোচিম লোতবে দ্রুতই তিনি সাবেক বিশ্বমানের স্ট্রাইকার ক্লিন্সম্যানের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসেছেন২০০৬ এর জুলাইতে দায়িত্ব নেয়ার পরই ঘোষনা করেছিলেন ইউরো ২০০৮ এর শিরোপা জেতা আর পূর্বসূরীরর আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারা বজায় রাখবেন তিনিঅবশ্যই দুই টার্গেটের কোনোটিই ছোঁয়া হয়নি তারতবে এস সি ফ্রেইবার্গের সর্বকালের সেরা গোলদাতা তার শান্ত, বুদ্ধিদীপ্ত এবং মানবিক অ্যাপ্রোচের জন্য দলের তারকা খেলোয়াড়, প্রেস এবং সাধারনের অকুন্ঠ সহযোগিতা পেয়েছেন

বিশ্বকাপে এর আগে

বিশ্বকাপ জেতার সংখ্যা বিচারে একমাত্র ব্রাজিল (৫) আর ইতালীর (৪) পরই জার্মানীর স্থানতারা ৫৪,৭৪ আর ৯০ সালে শিরোপা ঘরে তোলেদলটি ১৯৩০ আর ১৯৫০ এ খেলার জন্য নিবন্ধন করেনিএছাড়া প্রতিটি বিশ্বকাপেই তারা খেলেছে

 

প্রোফাইল : অস্ট্রেলিয়া

বত্রিশ বছর বিশ্বমঞ্চে অনুপস্থিতির পর ২০০৬ সালে গাস হিডিঙ্কয়ের প্রশিক্ষণাধীন অসি দল শক্ত ভাবেই ফিরে আসেতারা নক আউট পর্বে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন ইতালীর কাছে শেষ মিনিটের গোলে হেরে গিয়েছিলএবার দলটির কোচ হিসেবে আছেন হিডিঙ্কয়ের দেশীয় আরেক কোচ পিম ভারবিকজার্মানীতে খেলা দলটির অনেক সদস্যকে এবারও চোখে পড়বে-আগের চেয়ে আরো দক্ষ এবং পরিণত হিসেবে সম্ভবত

গতবার যেমন ওসেনিয়া গ্রপে খেলে উরুগুয়ের বিপক্ষে নাটকীয় প্লে অফে জিতে আসতে হয়েছিল অসিদেরকে, এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বাছাই পর্বের পথ ধরে হাঁটতে হয়েছে তাদেরকেএবার এশিয়ার দেশ হিসেবে লড়াই করতে ঘুরতে হয়েছে বিশাল এশিয়ার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

সকারুরা এবার ১৪ ম্যাচ এশিয়ান কোয়ালিফিকেশন ক্যাম্পেইনে এ অঞ্চলের অনেক বাঘা বাঘ দলকে পেছনে ফেলে গ্রুপ ১ এর শীর্ষ স্থানটি লাভ করেতারা  বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা প্রথম দেশগুলোর  অন্যতমপ্রাক বাছাই পর্বের মতো বাছাই পর্বের শেষ পর্যায়েও অসি দল শীর্ষস্থান ধরে রাখেশেষ পর্বের আট ম্যাচেই অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ে ভারবিকের সৈনিকরাদ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের চেয়ে পরিষ্কার ৫ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে গ্রপের খেলা শেষ করে অস্ট্রেলিয়া আর গ্রপের বাকি দলগুলো যেমন বাহরাইন, কাতার এবং উজবেকিস্তান ছিল আরো অনেক পেছনে

যারা নজর কাড়বেন

কোনো সন্দেহ নেই যে টিম কাহিল অসি দলের কাছে তালিসমান হিসেবেই বিবেচিত হনএই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দলের হয়ে অনেক গোল করেছেন যা দলেরে জয়ে রেখেছে মূখ্য ভূমিকাতার অদ্ভূত পজিশনাল সেন্স আর বাতাসে বল নিয়ন্ত্রন নেয়ার ক্ষমতা তাকে করে তুলেছে সমসাময়িক সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলারগালাতসারের হ্যারি কিওয়েল বাম প্রান্তে অনুপ্রেরণার উৎস এবং ডানে প্রায় সমান দক্ষতায় শাসন করবেন ব্রেট এমারটনআক্রমণে স্বল্প পরিচিত কিন্তু কুশলী স্ট্রাইকারদ্বয় ভিন্স গ্রেলা আর জ্যাসন কুলিনা অসি দলের প্রধান অস্ত্রবর্তমানের দলের সবচেয়ে শক্তিশালী দিকটি কিন্তু তাদের রক্ষণ ভাগসেন্ট্রাল ডিফেন্ডার লুকাস নেইল এবং গোল রক্ষক মার্ক শোয়ারজার রক্ষণদুর্গের দুই প্রহরী

প্রশিক্ষকের কথা

গাস হিডিঙ্ক এর সহকারী ছিলেন কিছুদিনতবে কিছুদিনের মধ্যেই তার ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠেনঅস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব নেবার আগে দঃ কোরিয়াকে সার্ভিস দেন এবং দলটিকে ২০০৭ সালের এ এফ সি এশিয়ান কাপে নিয়ে যানভারবিক দলে প্রাগমাটিক অ্যাপ্রোচ নিয়ে আসেন এবং পাথরের মতো শক্ত রক্ষণ দুর্গ গড়ে তোলেনতবে উইং দিয়ে মাঝে মধ্যে আক্রমণে যাবার ব্যাপারে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি নেই তেমন

বিশ্বকাপে এর আগে

এর আগে বিশ্বমঞ্চে দলটির উপস্থিতি ঘটেছে মাত্র দুবারতবে এবার পর পর দ্বিতীয়বারের মতো চূড়ান্ত পর্বে খেলতে চলেছে তারাতাদের পথচলা ১৯৭৪ সালেতখন এক ঝাঁক শৌখিন খেলোয়াড় নিয়ে গড়া দলটি প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নিলেও নৈপূণ্য ছিল উল্লেখযোগ্যতবে দ্বিতীয় বার সেখানে ফিরতে তাদেরকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ৩২ টি বছরতবে ফিরেই জাপান ক্রোয়েশিয়াকে টপকে গ্রপে ব্রাজিলের পরে থেকে নক আউট পর্বে উঠে যায় তারাশুধুমাত্র ইতালীর কাছে ইনজ্যুরি টাইমের গোলে হেরে স্বপ্নকে আরো বিস্তৃত করতে পারেনি সেবার সকারুরা

 

প্রোফাইল : সার্বিয়া

যুগোশ্লাভিয়া এবং পরে সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রো থেকে পৃথক হওয়ার পর স্বাধীন  ভাবে সার্বিয়া তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৬ আগস্ট ২০০৬ সালেচেক প্রজাতন্ত্রকে তারা ওই খেলায় পরাভূত করে ৩-১ গোলের ব্যবধানেযুগোশ্লাভিয়ার হয়ে নয়টি বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্বে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সার্বিয়ার ফুটবলারদেরতারা ইউয়েফা ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপে রানার্স আপ হয় দু বারআর সার্বিয়া এবং মন্টেনিগ্রো হিসেবে জার্মানী বিশ্বকাপে চূড়ান্ত পর্বে উঠলেও গ্রুপ পর্যায়ে সব কটি ম্যাচে হেরে বিদায় নিতে হয়পূর্বসুরীদের মতো সাদা জার্সি না পরে সার্বিয়া বেছে নিয়েছে লাল জার্সি

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

ইউরোপীয় জোনের বাছাইপর্বের ড্র যখন হয় তখন গ্রপের তিন দল অস্ট্রিয়া, রোমানিয়া এবং সার্বিয়া সম্ভবত এই সমঝোতায় আসে যে তাদের ফ্রান্সের পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থানটির জন্য লড়তে হবেযদিও সেন্ট ডেনিসে দ্বিতীয় মোকাবেলায় ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হার মানে সার্বিয়া তবু পরের পাঁচটি ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের একদম কাছে চলে যায় দলটিএবার ঘরের মটিতে ফ্রান্সকে রুখে দিয়ে ড্র করল সার্বিয়াযার মানে দাঁড়ালো শেষের আগের ম্যাচে রোমানিয়ার বিপক্ষে জয় হলেও তারা চলে যাবে চূড়ান্ত পর্বেশেষ পর্যন্ত তাই ঘটেছিল এবং বেলগ্রেডের ওই খেলায় রোমানিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে লাল জার্সির দেশ উঠে যায় চূড়ান্ত পর্বে

যারা নজর কাড়বেন

সাধারণত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সেন্টার ব্যাক নেমানজা ভিদিককে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ফুটবলার অন্ততঃ তার নিজের পজিশনে ভাবা হয়এই ভিদিকই সার্বিয়ার প্রাণভোমরাদুর্দান্ত ট্যাকলার বাতাসে বল দখলে সিদ্ধ মাথা২৮ বছর বয়সী এই তারকাকে ২০০৮/৯ মৌসুমের জন্য ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে পুর®কৃত করা হয়অনেক কাজের মিডফিল্ডার দিয়ান স্টানকোভিক ৯৮ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলছেন এবং এখন তিনি দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করছেনমার্কো পেন্টেলিক এবং মিলান জোভানোভিক প্রতিপক্ষকে বেশ চিন্তায় ফেলতে সক্ষম দুই ফরোয়ার্ড

প্রশিক্ষকের কথা

ফুটবলার হিসেবে বিভিন্ন দলেই খেলেছেন সার্বিয়ার কোচ রাদোমির এন্টিকযেমন পার্টিজানে আট বছর, সামান্য সময় তুরষ্ক, স্পেন এবং ইংল্যান্ডেতবে কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরই তিনি সবিশেষ খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন

তিনি জারগোজা, রিয়াল মাদ্রিদ এবং ওভিদো দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছেনসবশেষে যোগ দেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে যারা তার স্পর্শে এসেই জয় করে ফেলে লা লিগার শিরোপাসেখানে তিন বছর কাজ করার পর মোটামুটি ফুটবলের বাইরের জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনিতবে ২০০৮ সালে সার্বিয়ার কোচ হবার মধ্য দিয়ে ফুটবলের সাথে তার সম্পর্ক ফের প্রতিষ্ঠিত হয়কাজটা যে তিনি ভালই বোঝেন তার বড় প্রমাণ দলের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা দেখে

বিশ্বকাপে এর আগে

এবারই প্রথম সার্বিয়া হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক হচেছ দলটির

 

প্রোফাইল : ঘানা

জার্মানী বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধা ডিঙ্গানো একমাত্র আফ্রিকান দলের নাম হচ্ছে ঘানাআর এবারের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা প্রথম দলটির নামও একইনিজের মহাদেশে খেলা হ্ছে বলে ঘানা কিছুটা শংকায় আছেভাল খেলে নিজের দেশ ও মহাদেশের মান সম্মান রক্ষা করতে হবে তো! যদিও এটা তাদের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় অভিযান মাত্র তবুও ব্ল্যাক স্টার হিসেবে পরিচিত ঘানা সমস্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় ভাল করে এসেছেতারা এ যাবৎ চারবার সি এ এফ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের শিরোপা ঘরে তুলেছেতবে ১৯৮২ সালের পর আর একবারও সেই সাফল্য আসেনিফিফা অনূর্ধ্ব ১৭ প্রতিযোগিতার শিরোপা ঘানার ঘরে গেছে দুবারআর শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে তারা অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপের শিরোপাও জেতে অক্টোবর ২০০৯ তেগতবার তারা ইতালী আর ব্রাজিলের কাছে হারলেও হারায় চেক প্রজাতন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রকেশিরোপা প্রত্যাশী দলগুলোর জন্য এবারকার বিশ্বকাপের বড় হুমকি মনে করা হচ্ছে ঘানাকে

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

বাছাই পর্বের ফাইনাল রাউন্ডের প্রথম চার খেলায় চার জয় দিয়ে ঘানা দঃ আফ্রিকায় নিজেদের স্থান স্থির করে নেয়গ্রপে তারা একটি গোলও খায়নি বেনিনের কাছে অপ্রত্যাশিত ভাবে ০-১ গোলে হারার আগ পর্যন্ততবে তার আগেই কাজের কাজ অর্থাৎ চূড়ান্ত পর্বের টিকেট কাটা হয়ে গেছেপ্রধান বাধা অতিক্রম হয় মালি এবং সুদানের মাঠে দুদলকেই ২-০ গোলে হারানোর মধ্য দিয়েঅভিজ্ঞ খেলোয়াড় ম্যাথিউ আমোয়া প্রথম ম্যাচের একটি গোল এবং দ্বিতীয় ম্যাচের দুটি গোলই করেন

যারা নজর কাড়বেন

এ কথা সত্য যে অন্য অনেক আফ্রিকান দলের মতো ঘানা সেরকম তীব্র শক্তিধর আক্রমণভাগ নেইতবে ঘানা মূলত নির্ভর করে মাইকের এসিয়েনের নেতৃত্বাধীন এক বিশ্বমানের মধ্যমাঠের ওপরচেলসির এই মিডফিল্ডার সাধারণত জুটি বাঁধেন সুলে মুনতারি এবং স্টিফেন এপিয়াহ্ এর সাথে যারা এমন এক ইঞ্জিন হাউজ চালান যে কোনো আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়ার পাশাপাশি নিজেদের সব আক্রমণ গড়ে দেনআসামোয়াহ্ জিয়ান, জুনিয়র আগোগো এবং ম্যাথিউ আমোয়াহ্ সাধারণত আক্রমণ রচনা করেনআর ইংল্যান্ডে খেলা জন মেনশাহ এবং জন পেইন্টসিল রক্ষণদুর্গ সামলানোর দায়িত্ব পালন করেন

প্রশিক্ষকের কথা

দু হাজার আট সালের কাপ অব নেশনসে তৃতীয় স্থান পাওয়ার পর আগের কোচ ক্লড লি রয়কে বাদ দেয় ঘানার ফুটবল কর্তারাদায়িত্ব তুলে দেয়া হয় মিলোভান রাজেভাকের হাতেযুগোশ্লোভাকিয়াতে ফুটবল খেলা এই কোচ সার্বিয়ান নাগরিকতিনি রেড স্টার বেলগ্রেডের কোচ হিসেবেই প্রথমে মিডিয়ার নজর কাড়েনপরে সার্বিয়ার দল এফ কে বোরাককে শিখিয়ে পড়িয়ে তিনি তুলে দেন ইউরোপীয় টুর্ণামেন্টের চূড়ান্ত আসরে

বিশ্বকাপে এর আগে

এর আগে মাত্র একবারই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা হয়েছে ব্ল্যাক স্টার হিসেবে খ্যাত ঘানারসেটি ২০০৬ সালে জার্মানীতে সেখানে তারা একমাত্র আফ্রিকান দল হিসেবে প্রথম পর্বের বাধা পেরিয়ে নক আউট পর্বে উঠেছিল

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.