Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা (গ্রুপ সি) Download PDF version
 
বিশ্বকাপ 
ফুটবল 
২০১০

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা

জহিরুল ইসলাম নাদিম

গ্রুপ সি

পরাশক্তির ফুটবল যুদ্ধ

ইংল্যান্ডের এটি ১৩ তম বিশ্বকাপতাদের গ্রুপে আরো আছে যুক্তরাষ্ট্র, স্লভেনিয়া ও আলজেরিয়াস্বভাবতই টপ ফেভারিট ইংল্যান্ড দলতবে আমেরিকার কাছে নাস্তানাবুদ হওয়ার অভিজ্ঞতা দলটির ভালই আছেনব্বই সালে প্রায় কজন কলেজ স্টুডেন্ট ইতালী বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছিল ব্যাপার এখন আর তেমনটি নেইঅভিজ্ঞতা আর দক্ষতায় মার্কিনীরা এখন বেশ উল্লেখযোগ্য ফুটবল শক্তিঅন্যদিকে স্লভেনিয়ার এটি দ্বিতীয় আর আলজেরিয়ার তৃতীয় বিশ্বকাপ  শীর্ষস্থানের লড়াই তার দুই পরাশক্তির মধ্যেই হবে তা বলে দেয়া যায়

_____________________________________________________________

 

টপ ফেভারিট

ইংল্যান্ড: ইংল্যান্ড দল কখোনো বিদেশের মাটিতে বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেনিতবে তারা আফ্রিকা যাচ্ছে এই আশা নিয়ে যে এবার কোয়ার্টার ফাইনালের গন্ডী পেরিয়ে যেতে পারবেফ্যাবিও ক্যপেলোর দলের আত্মবিশ্বাস এবার তুঙ্গে কারণ বাছাই পর্বে দারুণ সময় গেছে দলটিরইউরোপীয় জোনের মধ্যে ৩৪ গোল করে তারাই শীর্ষেদশ ম্যাচের ৯ টি তারা জিতে নেয় আয়েস করেস্ট্রাইকার ওয়েন রুনির পা থেকেই এসেছে ৯ টি গোলরুনি এবার জ্বলে উঠতে চাইবেনই কেননা চার বছর আগে পর্তুগালের বিপক্ষে খেলায় লাল কার্ড পেয়ে তার বিশ্বকাপ মিশন ফুরিয়ে গিয়েছিলদলে ক্যাপেলো ফ্যাক্টরও কাজ করবেএ্ই ইতালীয় কোচ দলে প্রয়োাজনীয় শৃঙ্খলা আনয়নের কাজে বেশ সফল হয়েছেনদল এখন আগের চেয়ে অনেক কেন্দ্রীভূতআশা করা যাচেছ দল তাই গ্রপ চ্যাম্পিয়নই শুধু নয় আরো বড় বড় সাফল্যকে ছুঁতে পারবে

যুক্তরাষ্ট্র: এটা মার্কিনীদের পর পর ষ্ষ্ট বারের মতো চূড়ান্ত পর্বের টিকিট অর্জন করে নেয়ার ঘটনাতারা আশা করছে যে ২০০২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছুবার অনূপ্রেরণা থেকে এবার তারা প্রথম পর্বগুলোর বাধা অতিক্রম করে যাবেদলটির আরেক অনুপ্রেরণা এই দঃ আফ্রিকার মাটিতেই ফিফা কনফেডারেশনস কাপ ২০০৯  এর চমৎকার সাফল্যের স্মৃতিতারা স্পেনকে সেমিফাইনালে হতাশ করে উঠে যায় ফাইনালে এবং ব্রাাজিলের কাছে ৩-২ গোলে হারার আগে এক সময় ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল!

আউটসাইডার

আলজেরিয়া: উত্তর আফ্রিকার দলটি ২৪ বছর পর আবার ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হতে যাচেছপ্লে অফে তারা শক্তিশালী মিশরকে হারিয়ে অর্জন করে এই সম্মানআলজেরিয়া সেনেগালকে কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ঝরিয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে এলোদলে ইউরোপীয় লীগ খেলা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা রয়েছেন

স্লভেনিয়া: দলটি বেশ নাটকীয় ভাবে রাশিয়াকে প্লে অফে হারিয়ে টিকেট নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপেরডেডিকসের বাঁ পায়ে করা এওয়ে গোলের কারণে মস্কোতে হেরেও চূড়ান্ত পর্বে স্থান করে নেয়া স্লভেনিয়ার কাছে খুব যে প্রত্যাশা তা নয়স্বাধীন দেশ হিসেবে তাদের প্রথম বড় টূর্ণামেন্ট ছিল ইউয়েফা ইউরো ২০০০ এবং কোরিয়া/জাপান বিশ্বকাপ ২০০২ তবে বর্তমান দলটির মান বেশ মাঝারি ধরণের

যারা নজর কাড়বেন

ওয়েন রুনি, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড (ইংল্যান্ড), ল্যান্ডন ডনোভান, টিম হাওয়ার্ড (যুক্তরাষ্ট্র), করিম জিয়ানি (আলজেরিয়া), রবার্ট কোরেন (স্লভেনিয়া)

জমাট উত্তেজনার ম্যাচ

যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র: ইংল্যান্ড চেষ্টা করবে এই ম্যাচ জিতে গ্রপে তাদের কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করতেতবে ১২ জুন রাস্টেনবার্গের এই খেলায় হবে তাদের জন্য এক অগ্নি পরীক্ষাকারণ ঐতিহাসিক কারণেই আটলান্টিকের দুই পাড়ের এই পরাশক্তি পরষ্পরের বিরুদ্বে ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়আর প্রায় সময়ই আন্ডারডগ ইউএস এ দল পরাক্রমশালী ব্রিটিশদের হারিয়ে দেয়

_____________________________________________________________

 

প্রোফাইল : ইংল্যান্ড

অনেকেই বর্তমান ইংল্যান্ড দলকে সোনালী প্রজন্ম হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেনবিশ্ব ফুটবলের অনেক নামী দামী খেলোয়াড় রয়েছেন বর্তমান ইংল্যান্ড দলেযদিও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আজ অব্দি খেলতে পারেননি তারাআন্তর্জাতিক বড় বড় ইভেন্টগুলোতে কেবল ব্যর্থতাই উপহার দিয়েছেন দলকেসম্ভবত সেই সোনালী প্রজন্মের জন্য এবারের বিশ্বকাপই সর্বশেষ সুযোগ কিছু করে দেখানোর

অবশ্যি ইতালীয় কোচ ক্যাপেলোর দলে যোগদান ইংল্যান্ডের জন্য টনিকের কাজ করেছেতিন সিংহের দেশ বাছাইপর্বের খেলাগুলোতে চমৎকার সব নৈপূণ্য দেখিয়েছে যা তাঁর পূর্বসূরী এরিকসন বা ম্যাকক্লারেনের জামানায় হয়নিখেলাটি হবে দঃ আফ্রিকার শীতকালে যা ইংলিশ আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়াতে আশা করা যায় ইংল্যান্ড দল এবার ভাল কিছুই উপহার দিতে সক্ষম হবে

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

দুহাজার আট সালটা মোটেও ভাল কাটেনি ইংল্যান্ডেরতারা ইউয়েফা ইউরো ২০০৮ এর চূড়ান্ত পর্বেই উঠতে পারেনিতবে বর্তমান কোচের অধীনে পাশা একদম উল্টে গেছেঅত্যন্ত যোগ্যতর দল হিসেবে তারা চূড়ান্ত পর্বে উঠেছেবলতে কী গ্রপ ৬ এর দশ খেলার নয়টিতেই তারা জয় ছিনিয়ে নেয়একমাত্র পরাজয়টি ইউক্রেনের কাছে যখন চূড়ান্ত পর্বের টিকিট আগেই পাওয়া হয়ে গেছে

যারা নজর কাড়বেন

কী গোল দেবার দক্ষতায় বলুন কী ভাল খেলার কমিটমেন্টে বলুন সব ক্ষেত্রেই ম্যান ইউর তারকা ফুটবলার ওয়েন রুনি এগিয়ে আছেনতিনি স্বেচ্ছায় নিজের কাঁধে দলের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেনতাই দেখা যায় নয় ম্যাচ খেলে নয়টি গোল করে নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে ফেলেছেনমধ্যমাঠের দ্ইু কুশলী কুশীলব ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড আর স্টিভেন গেরার্ডও কম যান না কারো চেয়ে; যথাক্রমে চার আর তিন গোল করেছেন তারাভাল ফর্মে রয়েছেন পিটার ক্রাউচ আর জারমেইন ডিফো

প্রশিক্ষকের কথা

যাকে বলা যায় হাই প্রোফাইল কোচ তিনি তাইএসি মিলান, এএস রোমা আর জুভেন্টাসের হয়ে ইতোমধ্যে জেতা হয়েছে সিরি এ শিরোপারিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুবার লা লিগা চ্যাম্পিয়নশীপের আনন্দ উদযাপন করা হয়েছে ইতালীয় কোচ ক্যাপেলোরআর ইংল্যান্ডে যোগ দিয়েই পুরো খলনলচে বদলে দিয়েছেন ব্রিটিশদেরদলে নিয়ে এসেছেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ শৃঙ্খলাদলে বড় বড় খেলোয়াড় থাকা মানেই হল দল বড় বড় ইগোর মধ্যে থাকাএখন পর্যন্ত এই সব সমস্যা খুব ভাল ভাবেই ট্যাকল করছেন এই শৃঙ্খলাবিদ

বিশ্বকাপে এর আগে

এই নিয়ে মোট বার বার চূড়ান্ত পর্বে খেলা হচ্ছে ব্রিটিশদের১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে শিরোপা জেতাটাই এখন পর্যন্ত একমাত্র বড় সাফল্যএছাড়া বিদেশের মাটিতে সেরা সময়টা আসে ১৯৯০ সালে ইতালী বিশ্বকাপেগ্যারী লিনেকার, পল গ্যাসগোয়াইন , ক্রিস ওয়াডল এবং ডেভিড প্লাটের মত বিশ্বসেরা ফুটবলাররা সেবার ছিলেন প্রয়াত স্যার ববি রবসনের দলেসেমিফাইনালে ইংল্যান্ড পেনাল্টিতে হেরে যায় জার্মানীর কাছে যারা শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় করে নেয়

 

প্রোফাইল : যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর ও মধ্য আমেরিকা আর ক্যারিবীয় অঞ্চলের শীর্ষস্থানটি নিয়ে স্বভাব সুলভ দক্ষতায় মার্কিনীরা এবারও বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলতে এসে গেছেঅনেক বাঘা বাঘা দল যেখানে চূড়ান্ত পর্বে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছে সেখানে অনেকটা অনায়াসেই যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সাফল্য অর্জনকোচ বব ব্রাডলের দক্ষ পরিচর্যায় প্রমাণিত ভাল খেলোয়াড় আর ইয়ংস্টারদের সম্মিলনে মার্কিন দলটি বলা যায় ব্যালান্সড একটি দল

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

স্টেজ টুতে মিনো বার্বাাডোজকে প্রায় উড়িয়ে দিয়ে বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে আসে মার্কিন দলএখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেল ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো, গুয়াতেমালা আর কিউবাকেসাফল্য এখানেও বিমুখ করেনি ব্রাডলের শিষ্যদের

ছয় মোকাবেলার পাঁচটিতেই জয় মিললএকমাত্র পরাজয় পোর্ট অব স্পেনে সকার ওয়ারিরদের কাছে ততদিনে হেক্সগোনাল পর্বে ওঠা হয়ে গেছে

হেক্সাগোনালের শুরুটাও দুর্দান্ত হলচিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেক্সিকোকে ২-০ গোলে নাস্তানাবুদ করে যাত্রা শুরুতারপর এল সালভাদরে গিয়ে ২-২ গোলের ড্রত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের সহজ বিজয়ের পর কোস্টারিকার কাছে ৩-১ গোলে হারএই ফাইনাল সেশনে আমেরিকানরা কূল্যে দু'টো ম্যাচে মাত্র হারেদ্বিতীয় পরাজয়টি মেক্সিকোর কাছে ২-১ গোলেতবে নার্ভ না হারানো মার্কিনীরা হন্ডুরাসে গিয়ে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে ঠিকই চলে আসে দঃ আফ্রিকার চূড়ান্ত পর্বে

 

 

যারা নজর কাড়বেন

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ল্যান্ডন ডনোভান আর আমেরিকান ফুটবলের নাম অনেকটা সমার্থক হয়ে গেছেলস এঞ্জেলস গ্যালাক্সির এই ফরোয়ার্ড প্রায়শঃই তার সেরা খেলাটা জাতীয় দলের জন্য তুলে রাখেনতাই এই নিয়ে সামান্য সন্দেহ ই আছে ডনোভান আবারো তা করবেন না! তাকে যোগ্য সাহচর্য দেয়ার জন্য দলে আছেন ওগুচি ওনেউ, মাইকেল ব্রাডলে, জোজি আলটিডোর, টিম হাওয়ার্ড এবং ক্লিন্ট ডেম্পসের মত খেলোয়াড়এদের সবাই ইউরোপে খেলে খেলে নিজেদের পা শক্ত করেছেন

কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাকে কেয়ারটেকার ভিত্তিতে দলের দায়িত্ব দিয়েছিলতবে পর পর দশ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়লে তাকেই দলের স্থায়ী কোচের মর্যাদা দেয় মার্কিন কর্তৃপক্ষবলছিলাম কোচ বব ব্রাডলের কথাকেউ যদি তার যোগ্যতা নিয়ে সন্দিহানও থাকতেন সেটা কেটে যাওয়ার কথা দলের ২০০৯ এর ফিফা কনফেডারেশনস কাপের ঘটনাবলী দেখেসেখানে মার্কিনীরা শক্তিধর স্পেনকে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করে দিয়ে পৌঁছে যায় ফাইনালেসেখানে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ৩-২ গোলে হারলেও এই পরাজয়ে কোনো গ্লানি ছিল নাকারণ এক পর্যায়ে তারাই এগিয়ে ছিল ২-০ গোলে

বিশ্বকাপে এর আগে

কনকাকাফ অঞ্চল থেকে চূড়ান্ত পর্বে আমেরিকা এখন পর্যন্ত নয় বার খেলতে গেছে বা যাচ্ছেএকমাত্র মেক্সিকোরই রয়েছে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক বার উপস্থিতির রেকর্ডতাদের সেরা নৈপূণ্য এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরকেই বলা যায় যখন তারা সেমিফাইনাল অব্দি গিয়েছিলএবার তারা পর পর ছয় বারের মত চূড়ান্ত পর্বে খেলছে

 

প্রোফাইল : আলজেরিয়া

দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষার প্রহর পার করে আফ্রিকার এই দেশটি আবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ অর্জন করেছেছিয়াশি বিশ্বকাপের পর দলটি যদিও সি এ এফ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের শিরোপা জিতেছিল তবু কেন যেন তাদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের পথচলা কেমন স্তিমিত হয়ে পড়েছিলযা হোক এক বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই নতুন ভাবে পথ চলা শুরু করে আলজেরীয় ফুটবলবর্তমান দলের অবস্থা বেশ ভাল এবং একটি ঐতিহাসিক নজীর স্থাপনের ব্যাপারে খেলোয়াড়েরা বেশ আশাবাদী

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

বিশ্বকাপে পৌঁছুনোর পথটি এবার আলজেরিয়ার জন্য ছিল মিশ্র অনুভূতির১৮ নভেম্বর খার্তুমে মিশরের বিপক্ষে এক মাত্র প্লে অফে জেতার আগ পর্যন্ত তাদের চূড়ান্ত পর্বে খেলাটি তেমন নিশ্চিত ছিল নাদ্বিতীয় ও তৃতীয় লেগের সব কটি হোম ম্যাচ তারা জিতলেও তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচ হেরে বসে আলজেরিয়ানরাতবে একটিতে জয় এবং বাকি দুটি ম্যাচ অমীমাংসিত রাখতে সক্ষম হয় ডেজার্ট ফক্সরাপ্রথম বাছাই গ্রপে তারা গাম্বিয়া, সেনেগাল এবং লাইবেরিয়া থেকে মাত্র এক পয়েন্ট বেশী পেয়ে খেলা শেষ করেদ্বিতীয় রাউন্ড শেষে মিশরেরর সমান পয়েন্ট পেয়ে প্লে অফের মুখে পড়ে আলজেরিয়া

যারা নজর কাড়বেন

আন্তার ইয়াহিয়া, যার গোলের সুবাদে চূড়ান্ত পর্ব আবার দেখা হল আলজেরিয়ার, তাকেই বলা যায় রক্ষণ ভাগের প্রাচীরএই খেতাব তিনি শেয়ার করবেন মাদজিদ বুঘেরাহ, নাদির বেলহাজ এবং গোল রক্ষক লুনিস গাওউয়াইর সাথেমধ্যমাঠই হল আলজেরিয়ার শক্তিএর নেতৃত্বে থাকবেন দলের নেতা ইয়াজিদ মানসৌরীআর আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড় করিম জিয়ানি এবং মুরাদ মেঘনি প্রতিপক্ষের সব দুর্গ তছনছ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেনরাইট উইংএ করিম মাতমোর নিজেকে ক্রমশঃই উজ্জ্বল করে তুলছেন

প্রশিক্ষকের কথা

নিজের দেশ এবং ফ্রান্সে  সামান্য সময়ের জন্য ফুটবলার হিসেবে খেলে রাবাহ সাদানে কোচিং জগতে ঢুকে পড়েনতিনি প্রথমে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক যুব দলের দায়িত্ব সামলানআলজেরিয়া স্পেন ১৯৮২ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল-সেটার কোচিং স্টাফও ছিলেন রাবাহ সাদানেচার বছর বাদে দলের পুরো দায়িত্ব মাথায় নিলেও বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খারাপ করায় চাকরি হারানপরে অবশ্য নিজের পদ একাধিক বার ফিরে পেয়েছেন রাবাহসর্বশেষ পান ২০০৭ সালেক্লাব পর্যায়ে বেশ ভাল ফলাফল করেছেন তিনিতার দল রাজা কাসাব্লাঙ্কা ১৯৮৯ সালে সিএএফ চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জয় করে আর ২০০৭ সালে ইএস সেটিফ দলের পক্ষে জিতে নেন আরব চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা

বিশ্বকাপে এর আগে

এবার নিয়ে মোট তিনবার বিশ্ব আসরে খেলা হচ্ছে আলজেরিয়ারতাদের চাওয়া থাকবে প্রথম বারের মতো গ্রপ পর্বের হার্ডলস পেরিয়ে সেরা ষোলতে স্থান করে নেয়া১ ৯৮২ সালে দলটি মোটামুটি ইতিহাস রচনা করেছিল প্রবল শক্তিধর জার্মানীকে ২-১ এবং চিলিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তবে অস্ট্রিয়ার কাছে ২ গোলে হেরে সেবার স্বপ্নের পথচলা থেমে গিয়েছিল তাদেরতার চার বছর বাদে যখন বর্তমান কোচ ছিলেন দলের অন্যতম খেলোয়াড়, আলজেরিয়া নর্দান আয়ারল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করলেও ব্রাজিল এবং স্পেনের কাছে হেরে যায় যথাক্রমে ০-১ এবং ০-৩ গোলে

 

প্রোফাইল : স্লভেনিয়া

মাত্র বিশ লাখ মানুষের দেশ স্লভেনিয়াতারা তাবৎ বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে স্থান করে গিয়েছেএই প্রক্রিয়ায় তারা পেছনে ফেলে এসেছে বড় বড় দেশ ও ফুটবল শক্তিকেযেমন পোল্যান্ড, চেক রিপাবলিক এবং অবশ্যই ১৪২ মিলিয়ন লোকের দেশ রাশিয়াকেব্যাপারটি অনেকটাই  অলৌকিক ঘটনার মতোতবে মজার কথা ব্যাপার এবারই প্রথম নয়, এর আগেও একবার দেশটি বিশ্বকাপে উন্নীত হয়েছিলবড় বড় দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামলে নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে কেমন যেন সমানে সমান হয়ে যায় স্লভেনিয়া

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

প্রাথমিক ড্রয়ের পর সবাই মনে করেছিল গ্রপ ৩ খেবে অবশ্যই চেক রিপাবলিক এবং পোল্যান্ডই চূড়ান্ত পর্বে উঠবে কারণ গত বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ এর ইউয়েফা ইউরো কাপেও এরাই কোয়ালিফাই করেছিলবাস্তবে তার কিছুই হয়নি বরং দ্ইু আন্ডারডগ স্লভেনিয়া আর স্লোভাকিয়ার মধ্যে দারুণ লড়্ইা জমে ওঠে

স্লভেনিয়ার সাফল্যের পেছনে মূল নিয়ামক নিশ্চয়ই করে তাদের অপরাজেয় রক্ষণব্যুহযদিও পরিসংখানের বিচারে হয়তো ডাচরা একটু এগিয়ে তবু তারা স্লভেনিয়ার চেয়ে দু ম্যাচ কম খেলেছে এটা মনে রাখতে হবেমাতজাজ কেকের দল ১০ গ্রপ ম্যাচে মাত্র ৪ টি গোল  খেয়েছে

স্লভেনিয়ার চমৎকার নৈপূণ্য সত্ত্বেও মনে হচিছল গাস হিডিঙ্কয়ের রাশিয়াই চূড়ান্ত পর্বে উঠবে  স্লভেনিয়ার সাথে প্রথম মোকাবেলায় ২-০ গোলে  এগিয়ে থেকে রাশিয়া ভেবেছিল খেলা তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে আছেতবে এটা যে কত বড় ভুল ছিল তা এখন রাশানরা টের পাচেছখেলা শেষের মাত্র দুই মিনিট আগে জ্লাটকো ডেডিকের ফলাফল নির্ধারণী গোল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ইতিহাসে অন্যতম আপসেট তৈরী করে দিল

দলে সুপার স্টার বলতে তেমন কেউ নেইতবু স্লভেনিয়া যে এতদূর এলো তার কারণ তাদের যৌথ শক্তি ও স্পিরিটতবে মান সম্পন্ন খেলোয়াড় এ দলে একদম নেই তাও বলা যাবে নাযেমন কলোন দলের স্ট্রাইকার মিলিভোয়ে নোভাকোভিক যিনি পাচঁবার বলকে জাল চিনিয়েছেন বাছাই পর্বের খেলায়তার বয়স এখন ৩০ হলেও ফর্মের চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছেন নোভাকোভিকগোল রক্ষক সামির হান্ডানোভিক এবং অধিনায়ক এবং কুশলী মিডফিল্ডার রবার্ট কোরেন যে কোনো সময় জ্বলে উঠতে সক্ষম

প্রশিক্ষকের কথা

একজন খেলোয়াড় যিনি ন্যাচারাল ট্যালেন্ট তেমন না থাকা সত্ত্বেও কেবল নেতৃত্বের গুণ দিয়ে খ্যাতি কুড়িয়েছেন তিনি হলেন স্লভেনিয়ার কোচ মাতজাজ কেকতিনি তিরিশ পেরুনোর পর জীবনে প্রথম এবং একবারই জাতীয় দলের টুপি মাথায় চড়িয়েছিলেন ১৯৯২ সালেতবে ক্লাব পর্যায়ে তিনি দারুণ সফল একজন খেলোয়াড়ম্যারিবর ক্লাবের হয়ে তিনি পর পর তিনবার লীগ শিরোপা জেতেনখেলোয়াড়ী জীবন ছেড়ে আসার ৮ বছর পর প্রথম তিনি ম্যানেজারের কাজ পানসেখানে মোটামুটি কাজ করার পর ৬ বছর পর ফুটবল অ্যসোসিয়েশন স্লভেনিয়ার হয়ে কাজ শুরু করেনপ্রথমে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের কাজ করে পরে যুক্ত হন জাতীয় দলের সাথে

বিশ্বকাপে এর আগে

যুগোশ্লাভিয়া থেকে ১৯৯১ সালে আলাদা হওয়া দলটির ফুটবল ইতিহাস তাই এবারকার বিশ্বকাপে অংশ নেয়া বেশিরভাগ দল থেকেই সংক্ষিপ্ততবে তারা এই ভেবে গর্ব পেতে পারে যে ইতোমধ্যেই তারা দুবার বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের খেলা দেখানোর সুযোগ পাচেছপ্রথমবার কোরিয়া/জাপান বিশ্বকাপ ২০০০ সালেসেবার তারা সুইজারল্যান্ড এবং মজার ব্যাপার যুগোশ্লাভিয়াকে পেছনে ফেলে পৌঁছে গিয়েছিল চূড়ান্ত পর্বে যদিও সেটা খুব একটা সুখকর ঘটনা নয় তাদের জন্যতিন ম্যচেই সরাসরি হেরে সেখান থেকে বিদায় ছিল নিয়তি
 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.