Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা (গ্রুপ বি) Download PDF version
   
বিশ্বকাপ 
ফুটবল 
২০১০

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা

জহিরুল ইসলাম নাদিম

গ্রুপ বি

ঘাড়ে চেপেছে চুরানব্বইয়ের ভূত

দুহাজার দশ বিশ্বকাপের ফাইনাল ড্রয়ের পর বি গ্রপে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সাথে পড়েছে নাইজেরিয়া, কোরিয়া রিপাবলিক আর গ্রীসএই গ্রপটি ১৯৯৪ বিশ্বকাপের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে অনেকটাএবং কাগজে কলমে হলেও এই গ্রপটিকে নিয়ে ভবিষ্যতবাণী করা বেশ কঠিন মনে হচ্ছে

_____________________________________________________________

টপ ফেভারিট

অনেক নাটক এবং অনিশ্চয়তার দোলাচলে আর্জেন্টিনার ভাগ্য এবার দুলতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত পর্বে উঠে আসার পর এখন এই গ্রপে নিশ্চিত ভাবেই ম্যারাডোনা বাহিনীই টপ ফেভারিটএর অনেকগুলো কারণ থাকতে পারেতবে প্রথম কারণটি হলো কোচের হাতে বিশ্বমানের এত এত সব ফুটবলার আছেন যে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে দল সাজানো তার জন্য কোনো ব্যাপার নয়তবে সমস্যাও আছেখেলোয়াড় হিসেবে ম্যারাডোনা বিশ্বভ্রহ্মান্ডের সেরা হতে পারেন কিন্তু কোচ হিসেবে তিনি তো নতুনঅনভিজ্ঞতার কারণে তিনি যদি তার নিয়ন্ত্রণে থাকা তারকাদের এক সুতোয় গাঁথতে না পারেন একটি দল হিসেবে তাহলে সব কেঁচে যেতে পারে

নাইজেরিয়াঃ এবারের দলটিতে আগের বারের মতো ঘরে ঘরে পরিচিত নাম হয়তো নেই তবু কোচ শাইবু অ্যামোদু ইচ্ছে করলে অভিজ্ঞদের সাথে উঠতি ইয়ংস্টারদের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি দারুণ দল ঠিকই মাঠে নামিয়ে দিতে পারবেনবাছাই পর্বের একদম শেষ পর্বে সুপার ঈগল শিকার করার ঢঙেই তিউনিশিয়ার হাত থেকে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট ছিনিয়ে যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে তা বজায় রাখতে পারলে তাদেরকে শেষ ষোলতে দেখা যেতেই পারে

আউটসাইডার

কোরিয়া রিপাবলিকঃ কোচ হু জাং মু এর ধীর স্থির কোচিং কারণেই বোধয় বাছাই পর্বে মোটেও আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখা যায়নি দঃ কোরিয়াকেযদিও শেষ পর্যন্ত গ্রপের শীর্ষ স্থান নিয়েই আফ্রিকা গেছে তারাএর মধ্য দিয়ে এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে সর্বোচ্চ বার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠা হলো দলটিরঅবশ্য আঞ্চলিক দাপটকে বিশ্বমঞ্চে কতটা অনুবাদ করতে তারা পারবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যায়তবে অভিজ্ঞতা আর অল একশন স্টাইলের কারণে তারা দ্বিতীয় পর্বে ওঠার লড়াইয়ে নামতেই পারে

গ্রীসঃ গ্রীক পূরাণ আর উপাখ্যান অনেক পুরনো হলেও ফুটবলের বিশ্ব আসরে গ্রীকরা বলতে গেলেই নবাগতই৯৪ সালে তাদের ডেব্যুর পর এই প্রথম তারা আবার চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পেলমাঝখানে ২০০৪ সালে অনেকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই গ্রীস ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলতবে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান সুখের ছিল নাতিনটি সরাসরি পরাজয়ে গ্রপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছিল দলটিএবার তাদের আত্মবিশ্বাস আগের চেয়ে বেশিকারণ গতবারের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ইউক্রেনকে প্লে অফ ম্যাচে বাদ করে দিয়ে তারাই উঠে এসেছে চূড়ান্ত পর্বে

তারকা খেলোয়াড়

লিওনেল মেসি, জেভিয়ের মাসচারনো, কার্লোস টেভেজ, জুয়ান ভেরন (আর্জেন্টিনা), পার্ক জি সাঙ, পার্ক চু ইয়ং (কোরিয়া), ওবাফেমি মার্টিনস, আয়েগবেনি ইয়াকুবু (নাইজেরিয়া), জর্জিয়স কারাগোউনিস, থিওফানিস গিকাস (গ্রীস)

সেরা দ্বৈরথ

আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়াঃ এবার এই বড় দলের বাছাইপর্বের পথচলাটা মোটেও মসৃণ ছিল না এবং শেষ খেলার ফলাফলের পরই কেবল চূড়ান্ত পর্বে ওঠার টিকেট পেয়েছে দলটিগ্রপ বি এর উদ্বোধনী ম্যাচটি দল দুটোর পরবর্তী ভাগ্য অনেকটা পরিষ্কার করে দেবেতবে ইতিহাস আর্জেন্টাইনদের পক্ষেএর আগে দুবারের মোকাবেলায় দুবারই ম্যারাডোনার দেশ জিতেছিল

_____________________________________________________________

 

প্রোফাইল : আর্জেন্টিনা

অনেক জল ঘোলা করে তবে বিশ্বকাপের পানি খেতে পারলেও ম্যারাডোনার দল আর্জেন্টিনা দঃ আফ্রিকা যাচ্ছে বিরাট এক স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেইসেটা হচেছ দীর্ঘ ২৪ বছর বাদে বিশ্বকাপের শিরোপা ফের ঘরে তুলে নেয়াএই স্বপ্নকে পূরণ করতে ৭৮ এবং ৮৬ এর বিশ্বকাপ জয়ী দলটির দায়িত্ব এবার দেয়া হয়েছে শেষ বার শিরোপা জয়ী দলের তুরুপের তাস এবং বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলোয়াড় দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনাকেতার কাজ আরো সহজ হয়ে গেছে কারণ তিনি দলে পেয়েছেন পৃথিবীর অনেক বড় বড় ফুটবল প্রতিভাকে, একসঙ্গে২০০৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া দলটির বেশ কজন রয়েছেন বর্তমান দলেওলিওনেল মেসির কথা কি আর পাঠকদের নতুন করে বলতে হবে? আরো অনেক ইয়ং স্টার অভিজ্ঞদের দেখানো পথে হাঁটতে পারলে এবারকার বিশ্বকাপ হয়ে উঠতে পারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ

রোড টু সাউথ আফ্রিকা

আর্জেন্টিনিয়ানদের এবার চূড়ান্ত পর্বে উঠতে অমানষিক পরিশ্রম করতে হয়েছেযেমন তাদেরকে করতে হয়েছিল ১৯৮৫ সালেসেবার ফাইনালে উঠেই বদলে গিয়েছিল পুরো দলশেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে তবে ক্ষ্যান্ত হয়েছিল ম্যারাডোনার দলএবারও কি তেমনটি হবে? এবার দলটি তাদের বাছাই পর্বের অভিযান শুরু করেছিল আলফিও ব্যাসিলের কোচিংয়েতবে চিলির কাছে পরাজয়ের পর কর্তৃপক্ষ ম্যারাডোনাকে নিয়ে আসেন ব্যাসিলের স্থলেতার পর নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে বাদ পড়তে পড়তে শেষ ম্যাচ গুলোতে পেরু আর উরুগুয়ের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের সুবাদে শেষ পর্যন্তআফ্রিকা দর্শন হচেছ ম্যারাডোনার শিষ্যদের

তারা দশ দল গ্রপ সিস্টেম চালুর পর এই প্রথম সর্বনিম্ন অর্থাৎ ২৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করেআট জয়ের পাশাপাশি তারা ৬ টি খেলায় হেরেও যায়আর অমীমাংসিত থাকে ৪ টি খেলাতার মধ্যে পর পর তিনটি পরাজয় ছিল সত্যি বেদনাদায়কচিলির কাছে প্রথম পরাজয়ের পর বলিভিয়াকে গিয়ে ৬-১ গোলে বিধ্বংস হয় তারাপরে নিজের মাঠে ইতিহাসের দ্বিতীয় পরাজয়টি মেনে নিতে হবে ব্রাজিলের কাছেসব আশা যখন অস্তমিত মনে হচ্ছে তখন হঠাৎই জেগে  ওঠে ম্যারাডোনার শিষ্যরাপেরুর সাথে শেষ মিনিটের নাটকীয় গোলের জয়ে আশা বেঁচে থাকে আর মন্টেভিডিওতে ১-০ গোলের জয় চূড়ান্ত পর্বের টিকিটি নিশ্চিত করে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের

তারকা খেলোয়াড়

বেশির ভাগ আর্জেন্টিনা ভক্তদের বিশ্বকাপ আশা টিকে আছে নিওনেল মেসির কারণেতাকে বর্তমান বিশ্বের সব চেয়ে সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়বার্সেলোনা হয়ে মেসির ধারাবাহিক চমকপ্রদ নৈপূণ্যই তার প্রতি এই অগাধ বিশ্বাসের ভিত্তিতবে মেসি দেশের নীল সাদা জার্সি  পরে এখন পর্যন্ত ঠিক সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননিআশা করা যায় যে তার যেটুকু খামতি তা এই মহা আসরে ঠিক করে নেবেন

দুর্ধর্ষ মেসিকে বল যোগান দেয়ার কাজটি করবেন মধ্যমাঠের মার্শাল এবং দলের অধিনায়ক জেভিয়ার মাসচেরানো এবং অবশ্যই অভিজ্ঞ জুয়ান সেবাস্টিয়ান ভেরন যিনি আরেক বার নিজের জাত চেনাবার দুর্লভ সুযোগ পেতে চলেছেন

কোচ

অনেকের কাছেই তিনিই পৃথিবীর সেরা ফুটবলারএখন ম্যারাডোনা সামনে সুবর্ণ সুযোগ কোচ হিসেবে সফল হয়ে নিজেকে সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ারম্যারাডোনাকে বলা হয় বর্ন ফাইটারখেলার মাঠে ফুটবলার হিসেবে যা বারে বারে দেখিয়েছেন তিনি এবার তাকে তা করতে হবে শিষ্যদের মাধ্যমে, তাদেরকে অভিজ্ঞতার জারক রসে সিক্ত করেতার নিজের ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের কোচ হবার আগে স্বল্প সময়ের জন্য ম্যারাডোনা কোচের দাযিত্ব পালন করেন ম্যানডিইয়ূ এবং রেসিং ক্লাবেরআর এখন জাতীয় দলেরই কান্ডারি

বিশ্বকাপের অতীত বিচার

এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা মোট চারটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেদুবার জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং দুবার হেরে রানার্স আপ হয় তারাএর মধ্যে ৭৮ সালে হল্যান্ডকে হারিয়ে এবং  ৮৬ তে জার্মানীকে হারিয়ে জেতে শিরোপাতার পরের বার অর্থাৎ ৯০ সালের কাপে সেই জার্মানীর কাছে হেরে বঞ্চিত হয় তৃতীয় শিরোপা থেকেএর আগে প্রথম বিশ্বকাপেও তারা রানার্স আপ হয়েছিল-সেই ১৯৩০ সালে

 

প্রোফাইল : নাইজেরিয়া

এবারকার বিশ্বকাপে নাইজেরিয়াকে নিয়ে খুব বেশি উচ্চ বাচ্য হয়নিকিছু দিন আগেও বিশ্বকাপে শেষ চারে পৌঁছুতে সক্ষম আফ্রিকান দল হিসেবে একমাত্র সুপার ঈগলদেরকেই বোঝানো হোতসাম্প্রতিক সময়ে আফ্রিকা সবচেয়ে জনবহুল দেশটির ফুটবল নৈপূণ্যে বেশ কিছুটা ভাটা পড়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেইগত পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলা থেকে তাদের সংগ্রহ ছিল কূল্যে এক পয়েন্ট এবং গতবার তার কোয়ালিফাই করতে পারেনিতবু যাকে বলে ডার্ক হর্স সেই নাইজেরিয়ার আসলে বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সময় হারানোর কিছু নেইতার প্রমাণ তারা রেখেছিল ৯৪ বিশ্বকাপেসেই আসরের শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালিস্ট বুলগেরিয়াকে প্রথম ম্যাচেই উড়িয়ে দিয়েছিল ৩ গোলের পরিষ্কার ব্যবধানেপরে ইতালীর কাছে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায়তবে তার আগেই সানডে ওলিসে, ভিক্টর ইকপেবা বা ওকাচা-ফিনিডিরা আফ্রিকার মানুষের কাছে হাউসহোল্ড নাম হয়ে উঠেছেনপরের বারও তারা দারুণ শুরু করেছিলশক্তিশালী স্পেনকে ৩-২ গোলে আপসেট করে তাবৎ ফুটবলামোদীদের চমকে দিয়েছিল সুপার ঈগল, পরের ম্যাচে আবার বুলগেরিয়াকে ধরাশায়ী করা হলতবে এবারও দ্বিতীয় রাউন্ডেই জীবন প্রদীপ নিভে গেল ঈগলদের এবার ডেনিশদের হাতেএবার অনেকটা নাটকীয় ভাবে চূড়ান্ত পর্বে ওঠা নাইজেরিয়া ভক্তদের কী দেয় সেটাই দেখার বিষয়

রোড টু সাউথ আফ্রিকা

মোজাম্বিকের বিপক্ষে গোল শূণ্য ড্র করে বাছাই পর্বের ফাইনাল রাউন্ডে ব্যাক ফুটে চলে গিয়েছিল নাইজেরিয়াকার্থেজ ঈগল  আর পশ্চিম আফ্রিকার সাথে পর পর ড্র তাদের স্বপ্নকে অনেকটাই ফিকে করে তুলেছিল এবারতবে তিউনিশিয়া মোজাম্বিকের কাছে হেরে গেলে এবং কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথমে ১ গোলে পিছিয়ে থেকেও পরে ২-১ গোলে জয় পাওয়ায় সুপার ঈগলদের পক্ষে সম্ভব হয় চূড়ান্ত পর্বের টিকেট যোগাড় করা

তারকা খেলোয়াড়

দুরন্ত গতির সব কুশলী খেলোয়াড় যেমন মার্টিনস, ইয়াকুবু আয়েগবেনি, পিটার ওডেমউইঙ্গি বা ইয়ংস্টার ভিক্টর ওবিনা, ইকেচুকুউ উচে এবং চির সবুজ নুওয়ানকো কানুর কারণে অফ্রিকার মাঠে গোলের বন্যা বইয়ে দিতে পারে সুপার ঈগলরসম্ভবত বিশাল মঞ্চে কানুর এটাই শেষ উপস্থিতিতাই তার চেষ্টা থাকবে বিদায় বেলাকে স্মরণীয় করে রাখতেআর মধ্যমাঠ জন ওবি মিকেল আর রক্ষণ ভাগ অধিনায়ক জোসেফ ইয়োবোর কল্যাণে ভালই সাপোর্ট দেবে আক্রমণ ভাগকে এটা বলাই যায়

কোচ

কোচ শাইবু এমোদুর জন্য চূড়ান্ত পর্বে উঠতে পারাটা একটা মধুর প্রতিশোধই বলবকারণ বাছাই পর্বের শুরুতেই তাকে মিডিয়ার প্রবল সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছেএর আগেই এই প্রবীণ কোচ দুবার নাইজেরিয়াকে প্রশিক্ষণ দেনতারমধ্যে ২০০২ সালে তার হাতেই দল চূড়ান্ত পর্বে ওঠে যদিও সিএএফ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে খারাপ খেলায় দল থেকে বিতাড়িত হন তিনি

বিশ্বকাপের অতীত বিচার

বিশ্বকাপে চমৎকার নৈপূণ্য দেখানো ছাড়াও অন্যান্য অনেক প্রতিযোগিতায় ভাল ফলাফল করবার রেকর্ডস রয়েছে সুপার ঈগলদেরতারা ৮৫, ৯৩ এবং ২০০৭ এর ফিফা অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের শিরোপা জেতা দলএছাড়াও ১৯৯৬ সালের অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণপদক জেতে দলটি

 

প্রোফাইল : কোরিয়া রিপাবলিক

এশিয়ার সবচেয়ে ধারাবাহিক বিশ্বকাপ পারফরমারের নাম হল দক্ষিণ কোরিয়াতাদের আগের ফলাফলও বেশ ভালআঞ্চলিক পর্যায়ের তাদের যে আধিপত্য তার অনুবাদ বিশ্বপর্যায়ে করতে পারলে তা কোরিয়ান তথা সারা এশিয়ানদের জন্য হবে গৌরবের ব্যাপার

রোড টু সাউথ আফ্রিকা

পর পর সপ্তম বারের মতো কোরিয়ানরা কোয়ালিফাই করল চূড়ান্ত পর্বেতবে এবার ঘটনা খুব একটা অনুকূলে ছিল না তাদেরএক সময় বেশ খারাপ অবস্থা ছিল কোরিয়াানদেরবাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডে চিরপ্রতিদদ্বী উত্তর কোরিয়া তাদের পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়দুই মোকাবেলায় খেলা অমীমাংসিত থেকে যায়তবে শেষ মুহূর্তে নিজেদের ফিরে পেলে স্বস্তির বাতাস নিতে পারে কোরিয়ানরাতারা পর পর দুখেলায় দুটি জয় পায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদী আরবের বিপক্ষেএবং তেহরানে অনুষ্ঠিত অ্যাওয়ে ম্যাচে শক্তিশালী ইরানের সাথে ১-১ গোলের ড্র দক্ষিণ কোরিয়ার স্বপ্ন বাঁিচয়ে রাখেসবশেষে আমিরাতকে দ্বিতীয় বারের মতো হারানোর সুবাদে দক্ষিণ কোরিয়া উঠে যায় চূড়ান্ত পর্বে

তারকা খেলোয়াড়

গত দুটি বিশ্বকাপে চমকপ্রদ নৈপূণ্য দেখানো পার্ক জি সাঙ নিজেকে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার দ্য ক্যাপ্টেন হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেনম্যান ইউর এই বহুমুখী উইঙ্গার এখন নিজ দেশের এক অপরিহার্য নামআগুয়ান সতীর্থদের জন্য স্পেস এবং সুযোগ তৈরীতে তার জুড়ি মেলা ভার

গোল করার ক্ষমতায় দঃ কোরিয়ানরা বরাবরই পিছিয়ে ছিলপার্ক চু ইয়ং ২০০৬ এর বিশ্বকাপে বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ভাল খেলেননিএই মোনাকো মার্কসম্যান চার বছর বাদে নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপে নতুন ভাবে নিজেকে মেলে ধরতে চান

কোচ

দঃ কোরিয়ার কোচ হিসেবে বরাবরই ডাচ কোচদের দাপট ছিলযেমন গাস হিডিঙ্ক বা ডিক অ্যাডভোকাটতবে ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে হু জুং মু এর অভিষেক সেই ধারার ইতি ঘটিয়েছেকোরিয়া দলের সাবেক এই মিডফিল্ডার শুরুতে একটু জড়াতে দেখালেও দ্রুতই তার সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেন চূড়ান্ত পর্বে দলকে উঠিয়ে দিয়ে

৮৬র মেক্্িরকো বিশ্বকাপে তিনি ইতালীর বিপক্ষে একটি গোলও করেছিলেনআর কোচ হিসেবেও এই শীর্ষ পর্যায়ে কোনো আগুন্তুক নন মুতিনি ফিটনেস ট্রেইনার হিসেবে ১৯৯০ এবং সহকারী কোচ হিসেবে ১৯৯৪ এর বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করেনদুবার জাতীয় দলের অন্তবর্তী কোচ ছিলেন তিনি

বিশ্বকাপের অতীত বিচার

এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে কোরিয়াই প্রথম বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিল ১৯৫৪ সালেদ্বিতীয় বার সেখানে যাওয়ার টিকেট অর্জন করতে তাদেরকে অপেক্ষা করতে হয় তিন দশকেরও বেশি সময়তবে ১৯৮৬ সাল থেকে এই পর্যায়ে এখন নিয়মিতই খেলছে তারাকিন্তু তবু চূড়াত পর্বে একটি জয়ের জন্য তাদের ২০০২ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়সহ স্বাগতিক দেশ হিসেবে সেই বার তারা পোল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারানোর মাধ্যমে তাদের সফর শুরু করেগ্রপ পর্যায়ে তারা পর্তুগালকেও হারায় এবং পরের রাউন্ডে পৌঁছেএরপর আরো অঘটনের জন্ম দিয়ে দঃ কোরিয়া ইতালী এবং স্পেনকে হারিয়ে চলে যায় সেমি ফাইনালেকেবল জার্মানীর কাছে ০-১ গোলে হেরে তাদের স্বপ্নযাত্রা সাঙ্গ হয়েছিল সেবারতবে এর চার বছর বাদে জার্মানী বিশ্বকাপে ভাল খেলতে পারেনি এশিয়ার এই জায়ান্টপ্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় সেবার

 

প্রোফাইল : গ্রীস

উড়ে এসে জুড়ে বসার মতই সবাইকে চমকে দিয়ে  ইউএফএ ইউরো ২০০৪ কাপের শিরোপা জিতে নিয়েছিল গ্রীসতারপর থেকে প্রায় নিয়মিতই বড় বড় দলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে এই দলতবে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তারা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলতে যাচ্ছেপর্তুগীজের মাঠে ঐতিহাসিক জয়ের পর জার্মান কোচ অটো রেহেজেল রাজকীয় সম্মান ভোগ করলেও ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই না করতে পারা এবং ২০০৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপে গ্রপ পর্যায় থেকে বাদ পড়ার পর তার সমালোচকরা মুখর হয়ে উঠতে থাকেতবে গ্রীস ফুটবল এসোসিয়েশন এই পরীক্ষিত যোদ্ধার ওপর ভরসা রেখেছিলতার ফলও তারা পেলেন  দল দ্বিতীয় বারের মত খেলছে চূড়ান্ত আসরে

রোড টু সাউথ আফ্রিকা

এবার গ্রীসের শুরুটি ছিল দারুণতারা লুক্সেমবার্গ, লাটভিয়া আর মলডোভাকে হারায় বেশ কৃতিত্বের সাথেপ্রতিপক্ষের জালে মোট ৮ টি গোল ঢুকালেও একটি গোলও হজম করতে হয়নি তাদেরএর পর তারা তাদের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পায় যখন সুইসদের কাছে ১-২ গোলে হেরে যায়ইসরাইলের বিপক্ষে দুই খেলায় চার পয়েন্ট নিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেও হেলভেশিয়ানদের কাছে আবার পরিষ্কার দুই গোলের ব্যবধানে হেরে বসে গ্রীকরারেহাজেলের ছেলেরা সুইসদের রাস্তা আরও প্রশস্থ করে দেয় মলডোভার সাথে ১-১ গোলের ড্রর মাধ্যমে, যার ফলে লাটভিয়ার সামনেও কোয়ালিফাই করার সুযোগ হাতছানি দিতে থাকেতবে লাটভিয়াকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে এবং লুক্সেমবার্গকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত গ্রীস ঠিকই স্থান করে নেয় চূড়ান্ত পর্বে

তারকা খেলোয়াড়

গ্রীক দলে অভিজ্ঞতার কোনো অভাব নেইতাদের মধ্যে সর্বাগ্রে আসে ডিফেন্ডার সোটিরিওস কিরগিওকসের নামতিনি তার দলের অন্য যে কোনো সদস্যের চেয়ে বেশি মিনিট বাছাইপর্বের খেলায় অংশ নিয়েছেনদলে আরো আছেন সাবেক ইন্টারমিলান এবং বেনফিকার মিডফিল্ডার কারাগোইউনিসতারা আক্রমণে উঠেও ভাল করে থাকেননাম করতে হয় আক্রমণভাগের কুশলী খেলোয়াড় থিওফানিস জিকাসের যিনি ইউরোপীয় বাছাই জোনের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা

কোচ

এই বিশ্বকাপ হবে কোচ রেহাজেল এর প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল যেখানে সম্ভবত তিনিই হবেন সবচেয়ে বর্ষীয়ান কোচনিজের দেশ জার্মানীতে দারুণ ক্যারিয়ার শেষে রেহাজেল পাড়ি জমান গ্রীসে এবং তারপর থেকে গ্রীসের সাফল্য চোখে পড়ার মতইতার দায়িত্ব নেবার আগে গ্রীস একবার বিশ্বকাপ এবং ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিলরেহাজেল গ্রীসকে কতটা বদলে দেন তা বোঝা যায় তার কাজে যোগদানের তিন বছরের মাথায় গ্রীসের মাথায় ইউরোপ সেরার মুকুট দেখে

বিশ্বকাপের অতীত বিচার

এর আগে একবারই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা হয়েছিল দলটির- সেটা যুক্তরাষ্ট বিশ্বকাপ ১৯৯৪ সালেতবে সেই অভিজ্ঞতা ভুলে যেতে চাইবে রেহাজেলের শিষ্যরাগ্রপ পর্বে তিনটি বড় পরাজয় এবং বিশ্বকাপ থেকে বিদায়আর্জেন্টিনা কাছে ০-৪, বুলগেরিয়ার কাছে একই ব্যবধানে আর সুপার ঈগল নাইজেরিয়ার কাছে ০-২ গোলে হেরে সেবার লজ্জা পেয়েছিল গ্রীসএবার ভাল কিছু করে সেই বদনাম ঘোচানোর সময়

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.