Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা (গ্রুপ এ) Download PDF version
 

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১০

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যালোচনা

জহিরুল ইসলাম নাদিম

গ্রুপ এ

সহজ নয় স্বাগতিকদের জন্য

এটা খুবই স্বাভাবিক যে অনেকেই চাইবে স্বাগতিক দলটি বিশ্বকাপে ভাল খেলে পরবর্তী পর্যায়গুলোতে যাক। তবে কাজটি খুব একটা সহজ হবে না তাদের জন্য। মোটামুটি শক্ত একটি গ্রুপেই পড়েছে আফ্রিকার এই স্বাগতিক দলটি যেখানে রয়েছে বাঘা বাঘা সব ক্যাম্পেইনার। স্বাগতিকরা তাদের খেলা শুরু করবে মেক্সিকোর বিপক্ষে এরপর দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলে সাবেক চ্যাম্পিয়ন এবং গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্সের মুখে পড়তে যাচ্ছে বাফানারা। ফ্রান্সকেই নি:সন্দেহে গ্রুপ ফেভারিট মানতে হচেছ। তবে বাছাই পর্বে এবার ফ্রান্স ভাল করতে পারেনি। প্লে-অফ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে পেছনে ফেলে কোনরকমে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পায় তারা। একই অবস্থা ছিল উরুগুয়েরও। আর মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে থেকে গ্রুপ কনকাকাফ অঞ্চলের গ্রুপ রানার্স আপ হিসেবে স্হান করে নিয়েছে চূড়ান্ত পর্বে।

ড্রয়ের সময়ে আফ্রিকান দল গুলোর মধ্যে শক্তির বিচারে একদম তলানীতে ছিল দ: আফ্রিকা যা তাদের জন্য তেমন কোনো সুখবর নয়। তবু ঝানু কোচ আলবার্তো পেরেইরার উপস্থিতিতে এটুকু আশাবাদ হয়তো ব্যক্ত করা চলে যে স্বাগতিক দল কখোনোই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে ব্যর্থ হয়নাএই রেকর্ডকে অম্লান রাখতে হলেও বাফানা বাফানারা এবার দ্বিতীয় রাউন্ডের মুখ দেখবে।

_____________________________________________________________

টপ ফেভারিট

ফ্রান্সঃ বাছাই পর্বটা ফ্রান্সের জন্য ছিল বলতে গেলে বিব্রতকর। পুরো সময়টা জুড়ে জোয়ার-ভাটায় দুলেছে ফরাসী তরী। সার্বিয়ার কাছে এক পয়েন্টে গ্রুপের কর্তৃত্ব হারানো ফ্রান্স এওয়ে ম্যাচে ক্রমাগত খারাপ খেলেছে। অস্ট্রিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হার, রোমানিয়া আর সার্বিয়ার কাছে পয়েন্ট খোয়ানো। এমনকি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যে প্লে অফ ম্যাচে উইলিয়াম গাল্লার ইনজ্যুরি টাইমের গোলে জিতে তাদের চূড়ান্ত পর্বে ওঠা তাও বিতর্কের বাইরে নয়। এত কিছুর বাদেও যে দলে এত অভিজ্ঞ এবং উঠতি বিশ্বসেরা প্রতিভার প্রাচুর্য থাকে সে দলের ভবিষ্যত নিয়ে সব সময়ই আশান্বিত হওয়া যায়।

মেক্সিকোঃ দুহাজার দশ হবে এল ট্রিসদের পর পর পঞ্চমবারের মত চূড়ান্ত পর্বে খেলার রেকর্ড। আগের প্রত্যেকবারই দ্বিতীয়  রাউন্ডে সাড়া ফেলে দিয়েছিল মেক্সিকো। স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে খেলা দিয়ে টূর্ণামেন্ট শুরু করতে হবে তাদের-যা মোটেই সহজ কাজ নয়। তবে দলে একাধিক প্রতিভাধর ইয়ংস্টার যেমন জিওভানি দ্য সান্তোস এবং কার্লোস ভেলার মত খেলোয়াড় থাকায় ৮৬ সালের পর প্রথম তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে ন।

আউটসাইডারস

দক্ষিণ আফ্রিকাঃ বাফানাদের জন্য গত কটা বছর ছিল ছন্নছাড়া গোছের। তবে ২০০৯ এর ফিফা কনফেডারেশনস কাপে সম্মানজনক পারফরমেন্স তাদের প্রতি ফুটবলামোদীদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে নি:সন্দেহে।

উরুগুয়ে: প্লে অফ খেলে চূড়ান্ত পর্বে ওঠার হ্যাটট্রিক করল উরুগুয়ে। মোট ১১ বার এই নিয়ে ফাইনালে খেলছে দলটি। যাদের বেল্টে রয়েছে দু দুবার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার অবিস্মরণীয় গৌরব তাদের দলটি এবার কোচ অসকার তাবেরেজ এর স্নেহে গড়া একটি তরুণ তুর্কীর দল। তাদের ভরসা একটি ভাল টিম ওয়ার্ক।

যারা নজর কাড়বেন

স্টিভেন পিনার, অ্যারন মোকেনা (দ: আফ্রিকা), ব্লাঙ্কো, রাফায়ের মারকুইজ, জিওভানি দ্য সান্তোস (মেক্সিকো), থিয়েরি অঁরি, নিকোলাস এনেলকা, উইলিয়াম গাল্লাস (ফ্রান্স), দিয়েগো লুগানো, দিয়েগো ফরলান (উরুগুয়ে)

জমাট উত্তেজনার ম্যাচ

মেক্সিকো-উরুগুয়েঃ এটাই হবে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ। দল দুটি সম্ভবত ফ্রান্সের পাশাপাশি দ্বিতীয় পর্বে ওঠার চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে ২২ জুন রাস্টেবার্গের রয়েল বাফোকেং স্টেডিয়ামে। এই জুটি শেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা কাপে। মেক্সিকো উরুগুয়েকে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিল সেই টূর্ণামেন্টে।

_____________________________________________________________

 

প্রোফাইল : দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটতে চলেছে। নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলা অনুষ্ঠানের মহার্ঘ্য সুযোগই শুধু নয় সেই খেলায় অংশ নেয়াও। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে যদিও নানা ঝামেলার মধ্য দিয়ে তাদেরকে যেতে হয়েছে। তবু বাফানা বাফানারা মাঝে মধ্যে হলেও তাদের দিনে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার ইঙ্গিত ঠিকই রাখতে পেরেছে। তাদের দরকার শুধু অনুপ্রেরণা। আর বিশ্বকাপে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আর কী হতে পারে?

১৯৯৬ সালে দ: আফ্রিকা দল আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে পুন:প্রবেশের চার বছরের মাথায় পুরো আফ্রিকা মহাদেশকে তাক লাগিয়ে দিয়ে জিতে নিয়েছিল তাদের প্রথম সিএএফ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা। জোহানেসবার্গের সকার সিটি মাঠে তিউনিশিয়াকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল তাদের। মজার কথা তার ১৬ বছর পর সেই একই ভেন্যুতে আরো বড় সাফল্যের প্রত্যাশায় দলটি তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে।

তাদের আর একটি বীরোচিত নৈপূন্য হল গত জুনের ফিফা কনফেডারেশনস কাপের সেমি ফাইনালে যখন তারা শক্তিশালী ব্রাজিলের কাছে ন্যূনতম গোলের ব্যবধানে হেরে গিয়ে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়। আর জায়ান্ট স্পেনের কাছে প্লে অফে হেরে খোয়ায় তৃতীয় স্থানটি। তবে এই দুটি খেলার কথা মাথায় থাকলে প্রতিপক্ষরা বাফানা বাফানাদেরকে খাটো করে দেখবে না তা বলে দেয়া যায়।

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে সরাসরি খেলার সুযোগ প্রাপ্ত।

যারা নজর কাড়বেন

মধ্যমাঠের কুশলী খেলোয়াড় স্টিফেন পিনার দ: আফ্রিকা দলের প্রধান ভরসা। দেশের সবচেয়ে সফল স্ট্রাইকার বেনি ম্যাককারথির অনুপস্থিতিতে পিনারকেই মূল দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে। এভারটনে যোগদানের পর থেকেই পিনার নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পেরেছেন এবং একজন সার্থক অল রাউন্ডার হিসেবে গড়ে তুলেছেন। দলের সাফল্যের জন্য প্রধান নিয়ামক যে পিনারই হবেন তা স্থানীয় যে কেউ গভীর ভাবে বিশ্বাস করে। ফিফা কনফেডারেশনস কাপে তার ঝলক দেখানো নৈপূণ্যও এই একই প্রতিজ্ঞাকে প্রমাণ করে।

এবার অন্য দুজন খেলোয়াড়ের কথা বলি। এরা যদিও তেমন প্রাদপ্রদীপের আলোয় আসতে পারেননি তবুও নিরলস শ্রম আর প্রচেষ্টার গুণে এদের যে কেউ বাজীমাত করতে পারেন। উইংব্যাক সিবনসিও গাক্সা এবং সেফো মাসিলেলা।

প্রশিক্ষকের কথা

এক সময়ের সাড়া জাগানো ব্রাজিলের প্রবল প্রতাপশালী কোচ কর্লোস আলবার্তো পেরেইরাই এখন দ:আফ্রিকা দলের কোচ। অবশ্য এই নিয়ে দ্বিতীয় বার বাফানা বাফানাদের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। যদিও তার প্রথম কিস্তির অভিজ্ঞতার কথা তিনি ভুলে যেতে চাইবেন কোনো সন্দেহ নেই। ব্রাজিল দলকে ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ খেতাব জেতানো এই হাই প্রোফাইল কোচ ২০০৮ সালে তার বর্তমান দলকে আফ্রিকা নেশনস কাপের প্রথম রাউন্ডের বৈতরণীই পার করাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ফলে এবার তার দলের দায়িত্বগ্রহণকে অনেকেই সাধুবাদ জানাতে পারেনি। অন্যদিকে ব্রাজিলের অনেক সমর্থক বিশ্বাস করেন তাদের বিশ্বকাপে সাফল্যের মূল কান্ডারি হতে পারতেন প্যারেইরা।বিশ্বের অনেক দেশকে কোচিং করানো প্যারেইরার অভিজ্ঞতা বাফানা বাফানাদের জন্য অপরিহার্য বিবেচিত হতে পারে।

বিশ্বকাপে এর আগে

এর আগে দুবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠেছিল তারা। যদিও দুবারই গ্রুপ পর্যায় থেকেই গুডবাই বলতে হয়েছে তাদের। প্রথমবার ফ্রান্সের ১৯৯৮ এর আসর। সেটা বেশ উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল কারণ তার মাত্র ৬ বছর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে পনুরায় প্রবেশের অনুমতি মিলেছে। প্রথম খেলায় ফ্রান্সের কাছে ৩ গোলের পরিষ্কার ব্যবধানে হারলেও বাকী দুটি গ্রুপ ম্যাচে ডেনমার্ক ও সৌদি আরবকে হতাশ করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় দলটি। পরবর্তী বিশ্বকাপ অর্থাত্ জাপান/কোরিয়া ২০০২ বিশ্বকাপেও তারা অংশ নেয়। ভাবা হচ্ছিল যে এবার তারা কিছু একটা করবেই। সেটা হয়নি। যদিও স্লোভেনিয়াকে ১-০ হারিয়ে তারা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা ঠিকই পেয়েছিল।

 

প্রোফাইল : উরুগুয়ে

বিশ্বের খুব কম দেশেরই উরুগুয়ের মতো ঋদ্ধ ফুটবল ইতিহাস রয়েছে। মাত্র তিরিশ লাখ জনসংখ্যা অধ্যূষিত দেশটির রয়েছে ঈর্ষা করবার মত বৈশ্বিক, অলিম্পিক এবং মহাদেশীয় শিরোপার সমাহার। তবে দু বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ফুটবল ঐতিহ্য ক্রম অপসৃয়মান এবং গত পাঁচ বারের মধ্যে কেবল দ্বিতীয় বারের মতো চূড়ান্ত পর্বে উঠলো তারা।

দেশের ফুটবল ঐতিহ্যকে আবার পুরনো ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার গুরু দায়িত্ব বর্তেছে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দলের কোচ হওয়া অসকার তাবেরেজের ওপর। তার হাত ধরেই ১৯৯০ তে উরুগুয়ে শেষ ষোলতে উঠেছিল। স্থানীয় ভাবে আল মায়েস্ত্রো নামে খ্যাতিমান এই কোচের হাতে অবশ্য পর্যাপ্ত রসদ রয়েছে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য।দলের অনেক সদস্যই ইউরোপের বিভিন্ন লীগে খেলে পা পাকিয়েছেন। দিয়েগো ফরলানের মত কুশলী খেলোয়াড় দলে থাকলে দল স্বাভাবিক ভাবেই অনেক ভরসা লাভ করে।

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

দশ দলের বাছাই পর্বে উরুগুয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করে। একই ব্যাপার ঘটেছিল ২০০১ এবং ২০০৫ সালেও যার মানে হল আরেকটি প্লে অফ! তবে গতবার তারা যেমন অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে চূড়ান্ত পর্ব থেকে ছিটকে পড়েছিল এবার আর তা হয়নি। তারা এবার টপকে আসে কনফাকাফ অঞ্চলের চুতর্থ স্থান ধারী কোস্টারিকা দলের বাধা। সান জোসেতে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের খেলায় অধিনায়ক দিয়েগো লুগানোর গোলে ১-০ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় পায় উরুগুয়ে। আর চার দিন পর মন্টিভিডিও তে ১-১ গোলের ড্র তাদেরকে পৌঁছে দেয় কাঙ্খিত স্থানে।

যারা নজর কাড়বেন

উরুগুয়ে দলে এক ঝাঁক নবীণ কিন্তু প্রবল মেধাবী ফুটবলারের সম্মিলন ঘটেছে। দলের নেতৃত্বে আছেন দারূণ ফুটবল সেন্সের অধিকারী দিয়েগো লুগানো। এই ব্লন্ড সেন্টার হাফ তার রক্ষণ কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলে প্রতিপক্ষের ঘরে হানা দিতে বেশ পারঙ্গম। আক্রমণে উরুগুয়ের ভরসা দিয়েগো ফরলান আর লুই সুয়ারেজেরে মারাত্মক জুটি। এটলেটিকো মাদ্রিদের কুশলী স্ট্রাইকার ফরলান কোরিয়া/জাপান বিশ্বকাপের অল্প কয়েকজন সারভাইভারদের একজন। তার পার্টনার সুয়ারেজ আয়াক্স আমস্টারডামের হয়ে খেলে খ্যতিমান হবার চেষ্টায় আছেন। মাত্র দুবছরেই ঐ জায়ান্টের অধিনায়কের পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন। পুরো বাছাই পর্বে এই জুটির পা থেকে এসেছে মোট এক ডজন গোল।

প্রশিক্ষকের কথা

বাষট্টি বছরের এই কোচ এই নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো উরুগুয়ে দলের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। এর আগে তার কোচিংয়েই উরুগুয়ে ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপে শেষ ষোলতে উঠেছিল এবং স্বাগতিকদের কাছে হেরে সেবার পথচলা ফুরিয়েছিল দলটির। তবে এবার অপেক্ষাকৃত তরুণ আর প্রাণবন্ত একটি দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি।

নির্ভরযোগ্য, পরিশ্রমী আর কম কথার মানুষ তাবেরেজ তার কোচিং জীবন শুরু করেন স্থানীয় ক্লাব বেলা ভিস্টার কোচ হিসেবে। এ ছাড়া তিনি অনূর্ধ্ব ২০ জাতীয় দলের দায়িত্বেও ছিলেন। দীর্ঘ কোচিং কেরিয়ারে তিনি বেশ বিখ্যাত ক্লাবের কোচ হিসেবেও কাজ করেন। যেমন পেনারল, বোকা জুনিয়রস এবং এ সি মিলান।

বিশ্বকাপে এর আগে

এই নিয়ে ১১ বার চূড়ান্ত পর্বে খেলা হচ্ছে তাদের। বিশ্বকাপের প্রথম আসরের স্বাগতিক দেশ ছিল তারাই এবং সে বার শিরোপাও জিতেছিল আজেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে। আকাশী নীল জার্সির দলটি সর্বশেষ ভাল ফল করেছিল ১৯৭০ এর বিশ্বকাপে। সে বার চতুর্থ স্থান লাভ করেছিল উরুগুয়ে।

 

প্রোফাইল : ফ্রান্স

আগে কখনো পর পর চার বার চূড়ান্ত পর্বে ওঠার কৃতিত্ব ছিল না ফ্রান্স দলের। এবার চূড়ান্ত পর্বে উঠে সেই রেকর্ড গড়া হয়েছে তাদের। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের এক নিয়মিত যোদ্ধা দলের নাম হচ্ছে ফ্রান্স। নব্বইয়ের পর তারা নিজেদের এক উল্লেখযোগ্য ফুটবল শক্তিতে পরিণত করেছে। সেই প্রথম আসরেই একটি ভাল দলের তকমা পেয়ে গিয়েছিল দলটি। আর মাঝে মাঝে কিংবদন্তীর প্রতিভা উপহার দিলেও একমাত্র নব্ব্ই দশক থেকেই ফ্রান্স যে কোনো আন্তর্জাতিক আসরে শিরোপার অন্যতম দাবীদার দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

জিনেদিনে জিদান, লরেন্ট ব্লাঙ্ক, দিদিয়ের দেশচ্যাম্প বা ফেবিয়েন বার্থেজদের মাধ্যমে দলটি অতীতের বাধা পেরিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত সাফল্যে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠার পথ পায়। এঁদের পূর্বসূরী মিশেল প্লাতিনি, অ্যালেইন জিরেস, লই ফার্ণান্দেজ বা জেন তিগানারা দলকে ৮২/৮৬ তে সেমি ফাইনাল পর্যন্ত তুলে দিলেও পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়রা আরো দুই ধাপ পেরিয়ে দলকে একদম বিশ্বসেরার গৌরব এনে দেন। আটানব্বই তে শিরোপা জেতা ফ্রান্সের খেলার মান পরবর্তী আসরগুলোতে একটু পড়ে গেলেও ২০০৬ সালে তারা তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার একদম কাছে চলে এসেছিল। ফাইনালে ইতালির কাছে পেনাল্টি শুট আউটে হেরে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হয় তাদের।

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

ফ্রান্সের মতো হেভিওয়েট দলের কাছে এটা কাঙ্খিত ছিল না। তারা যেভাবে এবার চূড়ান্ত পর্বের টিকিটি পেল তা বেশ দু:খজনক। তবে ফ্রান্সের কোটি ভক্তদের জন্য শেষ পর্যন্ত এটা সুখবরই যে তাদের প্রিয় দল চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অতিরিক্ত সময়ের গোলে প্লে অফ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে ফ্রান্স। ইউরোপীয় জোন গ্রুপ ৭ এ দ্বিতীয় স্থান পেয়ে তাদেরকে প্লে অফ ম্যাচে লড়তে হয়।

যারা নজর কাড়বেন

সেই ২০০৬ সালে একে একে জিদান, বার্থেজ, ম্যাকেলেলে এবং থুরাম প্রমুখ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ফেললে ফ্রান্স সিনিয়র ফুটবলার সঙ্কটে পড়ে যায়। পরে এক ঝাঁক নতুন মুখ আসে সেখানে। প্যাট্রিক ভিয়েরা ইনজ্যূরির কারণে ১৯৯৮ এর সারভাইভার থিয়েরি অঁরির হাতে এবার দেখা যাবে অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড। উইলিয়াম গাল্লাস রক্ষণের দুর্গ। তার আগে থাকবেন দুর্ধর্ষ মিডফিল্ডার জেরেমি টৌলালান এবং লাসানা দিয়ারা। আর ইয়োয়ান গোরকাফের আবির্ভাব, ফ্রাঙ্ক রিবেরির দক্ষতা আর নিকোলাস এনেলকার ফর্মে ফেরা কোচকে বিরাট স্বাধীনতা এনে দিয়েছে দল নির্বাচন করার।

প্রশিক্ষকের কথা

ফরাসী জনগণের কাছে তাদের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ রেমন্ড ডমেনেখ এর ভাবমূর্তি কিছুটা অধারাবাহিক বলে বিবেচিত হয়। তিনি যখন ২০০৪ সালে দলের দায়িত্ব বুঝে নেন তখন তাঁর আন্ত:ব্যক্তিক যোগাযোগ দক্ষতার ব্যাপারটি খুব প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু ইউয়েফা ইউরো ২০০৮ এ তাঁর হাত ধরে দলের সাফল্যহীনতা প্রচন্ড সমালোচনার মুখে ফেলে দেয় ডমেনেখকে। তাঁর আমলে ফ্রান্স এখন অব্দি কোনো শিরোপা না জিতলেও তিনি ফ্রান্সের সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে সার্ভিস দেয়া কোচ।

জাতীয় পর্যায়ে অনূর্ধ্ব ২০ দলের দায়িত্ব নেবার আগে তিনি ক্লাব পর্যায়ে মুলহাইজ এবং লিয়ন দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর রয়েছে এক গৌরবজনক ইতিহাস। রক্ষণভাগের কুশলী খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ১৯৭৯ সালে স্ট্রাসবার্গের হয়ে ফরাসী লীগ শিরোপা জেতেন আর ১৯৮৪ সালে জেতেন বরডেক্সের হয়ে।

বিশ্বকাপে এর আগে

এখন অব্দি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ফ্রান্স মোট ১২ বার অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে নিজেদের মাটিতে ১৯৯৮ সালে তারা বিশ্বকাপের শিরোপাই ঘরে তোলে। তাছাড়া ২০০৬ সালে রানার্স আপ, ১৯৫৮ আর ১৯৮৬ সালে তৃতীয় এবং ১৯৮২ সালে ৪র্থ স্থান পেয়েছিল দলটি।

 

প্রোফাইল : মেক্সিকো

মাঝের কটা বছর বেশ ঝাপসা গেছে সবুজ জার্সী ধারীদের। তিন তিন জন কোচের আসা যাওয়া আর ষাটের বেশী খেলোয়াড়কে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায় পার হয়ে এসে মোটামুটি থিতু হয়েছ মেক্সিকানরা। এটলেটিকো মাদ্রিদের প্রাক্তন কোচ জেভিয়ের আগুইরের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত তারকা খেলোয়াড় আর সম্ভাবনাময় তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্য দল দাঁড়িয়ে গেছে মেক্সিকোর।

বর্তমান কোচের নিয়োগের সাথে সাথেই রিজিওনাল পাওয়ার হাউজ মেক্সিকোর খেলায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।তারা কনকাকাফ জোনের ছয় দলের মধ্যে পঞ্চম স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে।পাঁচ জয়, এক ড্র আর মাত্র এক পরাজয়ে এই চমত্কার ফল আসে তাদের। সার্থক ভাবে কোয়ালিফাই করার পর এবার তাদের চিন্তা কী করে রাউন্ড অব সিক্সটিন এড়িয়ে আরো সামনে যাওয়া যায়।

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে

মেক্সিকো বেশ কঠিন একটা গ্রুপে পড়েছিল জ্যামেইকা, কানাডা আর হন্ডুরাসের বিপক্ষে। তখন তাদের কোচ ছিলেন গোরান এরিকসন। তবে এরিকসনের হাতে মেক্সিকানদার অবস্থা ছিল তথৈবচ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-০ গোলে এঙ হন্ডুরাসের কাছে ৩-১ গোলে হেরে বসে। যদিও কোস্টারিকার বিপক্ষে একটি জয় এসেছিল তবু শেষ পরাজয় এরিকসনের চাকরি খেয়ে ফেলল। ঠিক তখনই দৃশ্য পটে আগুইরের আবির্ভাব। হন্ডুরাসের কাছে ২-১ গোলে হেরে নতুন পথচলা শুরু হলেও এরপর পর পর পাঁচ প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে জয় তুলে নিলন মেক্সিকো। ফলে এক খেলা বাকী থাকতেই গ্রুপএ দ্বিতীয় স্থান নিয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠে গেল তারা।

যারা নজর কাড়বেন

অভিজ্ঞ প্লে-মেকার কুয়াউটেমক ব্লাঙ্কোকে মেক্সিকোর জনগণ দলের কান্ডারি হিসেবে দেখতে চাইবে। ছত্রিশ বছরের এই আইকন দলের পুনরুজ্জীবনের বার্তাবাহী এবং দলের অপেক্ষাকৃত তরুণদেও যেমন গুইলারমো ওচোয়া, ইফ্রেইন জুয়ারেজ, আন্দ্রেজ গারডাডো এবং জিওভানি দ্য সান্তোস প্রমূখের ফর্মে ফিওে পাওয়ার ব্যাপারে নিরন্তও কাজ করতে আগ্রহী। অধিনায়ক রাফায়েল মার্কুয়েজকে নিয়ে এই পুরো টিম আফ্রিকায় ভাল কিছু করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

কোচ

জেভিয়ার আগুইওরে মেক্সিকোর সবচেয়ে সফল কোচের একজন। তিনি সাধারণ মানের দল পাচুকাকে ১৯৯৯ সালে লীগ শিরোপা স্বাদ পাইয়ে দেয়ার পর জাতীয় দলকে পুর্নগঠনের গুরু দায়িত্ব তাকেই দেয়া হয়। তিনি দলকে বাছাই পর্বে বৈতরণী ঠিকই পার করেন ২০০২ সালের কোরিয়া/জাপান বিশ্বকাপের জন্য এবং ইতালী, ক্রোয়েশিয়া ও ইকুয়েডরকে নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিয়ে পৌঁছে যান শেষ ষোলতে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে তাদের পথচলা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। টূর্ণামেন্ট শেষে তিনি স্প্যানিশ ক্লাব ওসাসুনা সাথে চুক্তিবদ্ধ হন এবং দলটিকে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে নিয়ে যান। এই সাফল্য তাকে এটলেটিকো মাদ্রিদে নিয়ে যায়- তবে দলটিকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে গেলেও তিনি মাঝপথে বরখাস্ত হন এবং জাতীয় দলের ক্রাইসিস মুহূর্তে ফের দলের হাল ধরেন।

বিশ্বকাপে এর আগে

দলটি এখন পর্যন্ত মোট চোদ্দ বার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা দেখিয়েছে। এই সাফল্য কনকাফ জোনে যে কোনো দলের চেয়ে বেশি। স্বাগতিক হিসেবে দুবার খেলে মেক্সিকো ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালে। দুবারই শেষ আটে পৌঁছেছিল দলটি যা তাদেও এখন অব্দি বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য।

 

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.