Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
ফিনিক্সের ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনঃ ক্রিকেট নাইট ২০১০ Download PDF version
 

উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড

 

ফিনিক্সের ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনঃ ক্রিকেট নাইট ২০১০

 

ফিনিক্স প্রতিবেদক

 

ফিনিক্সের বাংলাদেশী কমিউনিটি এবার উপভোগ করল একটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন ক্রিকেট নাইট ২০১০। অ্যারিজোনা টাইগার্স ক্রিকেট কমিটি সংক্ষেপে এটিসিসি র আয়োজনে এবারই প্রথমবারের মতো আয়োজিত হল এই অভিনব অনুষ্ঠান।  শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলা এবং খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠের বাইরে যে এধরনের অসামান্য আয়োজন সম্ভব তা উপস্থিত সাড়ে তিন শতাধিক দর্শকের কাছে ছিল সত্যিই বিস্ময়কর।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যারিজোনা টাইগার্স তাদের পনের বছর পূর্তি উদযাপন করেছে এবং একই সাথে অ্যারিজোনা বাংলাদেশী কমিউনিটির গৌরবময় ক্রিকেট ইতিহাস দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে। এবং বিশেষ আকর্ষণ ছিল অ্যারিজোনা টাইগার্স আয়োজিত অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সদ্য সমাপ্ত মুরাদ-রানা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট ২০০৯-২০১০ এর অংশ নেয়া বিভিন্ন ক্রিকেট দলের অনবদ্য সাংস্কৃতিক এবং ক্রিকেটীয় পরিবেশনা এবং তারই ফাঁকে ফাঁকে এই টুর্নামেন্টেরই বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণী।  

ফিনিক্সে বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে ক্রিকেট খেলাটি চলে আসছে। আশির দশকের শুরুর দিকে কিছু উৎসাহী ক্রিকেট খেলোয়াড় এবং ক্রিকেটানুরাগীরা স্বল্প পরিসরে ফিনিক্সের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে খেলাটি শুরু করেন। পরবর্তীতে নব্বইএর দশকের মাঝামাঝিতে অ্যারিজোনা টাইগার্স নামে বাংলাদেশীদের একটি ক্রিকেট দল গঠন করেন এবং অ্যারিজোনার অপেশাদার ক্রিকেট লীগে অংশ নিয়ে দুটি মৌসুম সফলতার সাথে খেলেন। পরবর্তীতে অ্যারিজোনা ক্রিকেট লীগে অংশ নেওয়া না হলেও অ্যারিজোনা টাইগার্স প্রতি বছরই অল্প বিস্তর ক্রিকেট খেলার আয়োজন করে আসছে। তবে ২০০৬ সালে ফিনিক্সে অ্যারিজোনা টাইগার্স নতুন উদ্যমে শুধুমাত্র বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে একটি ক্রিকেট লীগ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। তখন সদ্য প্রয়াত কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী জনাব মুরাদুজ্জামান মুরাদের স্মৃতিকে ধরে রাখার অভিপ্রায়ে টুর্নামেন্টের নামকরণ করা হয় মুরাদ স্মৃতি টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা তিনটি দলে ভাগ হয়ে সফল একটি টুর্নামেন্ট উপহার দেন। পরের মৌসুম শুরুর আগে কমিউনিটির আরেকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ডাঃ শামসুল ইসলাম রানা, যিনি একজন ক্রিকেটারও ছিলেন, চিরবিদায় নেন। সেই থেকে টুর্নামেন্টটি মুরাদ-রানা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নামে প্রতি বছর আয়োজিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফিনিক্স (বাপ) প্রথম থেকেই এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি আসরেই অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সহযোগিতা করে আসছে। এবারও বাপ টুর্ণামেন্ট এবং ক্রিকেট নাইট আয়োজনে অ্যারিজোনা টাইগার্সকে সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে কমিউনিটি ক্রিকেটের প্রতি তাদের প্রবল সমর্থন তুলে ধরেন।

এই কয়েক সপ্তাহ আগে শেষ হল টুর্নামেন্টের পঞ্চম আসর। টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি আসরে তিনটি দল অংশ নেয়। এবং পরবর্তী দুটি আসরে দলের সংখ্যা বেড়ে হয় চারটি। এবং সর্বশেষ আসরে দলের সংখা দাঁড়ায় ছয়টিতে। বৃহত্তর ফিনিক্স শহরের শুধুমাত্র বাংলাদেশীদের নিয়ে গড়া ছয় ছয়টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট প্রমাণ করে যে ক্রিকেট খেলাটি অ্যারিজোনার বাংলাদেশী কমিউনিটিতে কতটা জনপ্রিয়। আর জনপ্রিয় বলেই মৌসুমের শুরুতে প্রতি বছরই মুরাদ-রানা টুর্নামেন্টের প্রাক্কালে অ্যারিজোনা টাইগার্স আয়োজন করে একটি সংক্ষিপ্ত প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি টুর্নামেন্টও।

এবারের মুরাদ-রানা টুর্ণামেন্টের ছয়টি দল হলঃ ফিনিক্স চিতা, চ্যান্ডালার বেঙ্গলস, মেসা লায়ন্স, লাভিন ব্রঙ্কজ, লাভিন বাঘা এবং অ্যারিজোনা জাগুয়ার্স। আগের আসরগুলোতে ফিনিক্স চিতা দুইবার, চ্যান্ডলার বেঙ্গলস ও মেসা লায়ন্স একবার করে মুরাদ-রানা টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে। আর এবারের পঞ্চম আসরের ফাইনাল খেলায় গত ২৭ শে মার্চ, লাভিন ব্রঙ্কজ (১৩৪/৬) চার উইকেটে মেসা লায়ন্স (১৩৩/৮) কে হারিয়ে প্রথম বারের মতো মুরাদ-রানা টু্নামেন্টের ট্রফি জিতে নেয়। টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের এই খেলায় লায়ন্স টসে জিতে প্রথম ব্যাট করে বনির ২৩ বলে ৩৫ রানের সুবাদে ১৩৩ রান করে। ব্রঙ্কজের শাফিন ১৮ রানে ৪ টি উইকেট লাভ করেন। জবাবে ব্রঙ্কজ ১১ বল হাতে রেখে অধিনায়ক মুনের ৩৭ বলে ৪৮ রানের উপর ভর করে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এর আগে এবারের প্রাক-মৌসুম টুর্নামেন্টেও লাভিন ব্রঙ্কজ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

প্রতি বছর মুরাদ-রানা টুর্নামেন্টকে ঘিরে চলে দলগুলির মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি। খেলোয়াড়দের দল বদল, নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহ, প্রতিটি খেলার আগে দলগুলির প্র্যাক্টিস, আলোচনা, স্ট্রাটেজী মিটিং, কমিঊনিটির পার্টিগুলোতে ক্রিকেট আলাপ একটি বিস্তৃত সময় ধরে পরিলক্ষিত হয়। টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রতিটি খেলার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট প্রকাশিত হয় কমিউনিটি ইমেইল গ্রুপে, সংরক্ষণ করা হয় খেলার প্রতিটি রেকর্ড এবং সেগুলো নিয়েও চলে বিস্তর আলোচনা। টুর্নামেন্ট শেষেও প্রতিটি দলের খেলোয়াড়দের গেট-টুগেদার এবং পরবর্তী মৌসুমের জন্য পূর্ব-প্রস্তুতি ইত্যাদি চলতেই থাকে। ক্রিকেট খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কমিউনিটির অন্যান্যরাও কোন না কোন দলের সমর্থক বা পৃষ্ঠপোষোক হয়ে জড়িয়ে পরেন এই আয়োজনের সাথে।

অ্যারিজোনা টাইগার্সের আয়োজনে মুরাদ-রানা স্মৃতি টুর্নামেন্ট  সত্যিকারভাবেই অ্যারিজোনার বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে গড়ে তুলেছে একটি নিবিড় বন্ধন, ক্রিকেটকে নিয়ে গিয়েছে অন্য একটি উচ্চতায়। আর ক্রিকেটকে নিয়ে এই প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমধর্মী সফল আয়োজন ক্রিকেট নাইট ২০১০ তার সাথে যুক্ত করেছে  বাড়তি একটি মাত্রা।

গত ১৭ ই এপ্রিল ক্রিকেট নাইট ২০১০ এর শুরুতেই জনাব রফিকুল ইসলাম অ্যারিজোনার বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সেই সত্তরের দশকের শেষ থেকে কিভাবে শত প্রতিকূলতার মধ্যে ক্রিকেট খেলাটি প্রচলন শুরু হয় তার বিবরণ দেন। এর পর একটি ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে অ্যারিজোনা টাইগার্স ক্রিকেট দলের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরেন ডঃ জালাল আহমেদ এবং ডঃ মহসীউল আলম দুলাল। সেই সময়ের অ্যারিজোনা টাইগার্স দলে যারা খেলতন তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এবং পুরস্কৃত করা হয়। ফিনিক্সে বসবাসরত সর্ব-প্রথম বাংলাদেশী এবং অ্যারিজোনাতে বাংলাদেশীদের প্রথম ক্রিকেট খেলার আম্পায়ার ডঃ ওবায়দুল ইসলাম টাইগার্সদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন। টাইগার্সের এখনো যারা অ্যারিজোনাতে বসবাস করেন তারা হলেনঃ জনাব মহসীউল আলম দুলাল, জালাল আহমেদ, নূর চৌধুরী রিজভি, মেধাত ফারুক, বি এ মাসুদ, হাসান মুশতাক, মাসুদ চৌধুরী, রুমি হক, রনি চৌধুরী, শামীম, তানভীর কুদ্দুস অপু।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে অ্যারিজোনা টাইগার্সের পক্ষে জনাব আজিজ আহমেদ ২০০৬ সালের পর মুরাদ-রানা স্মৃতি ক্রিকেটের মাধ্যমে অ্যারিজোনা টাইগার্সের নব-জাগরণের ইতিহাস পাঠ করেন। এই পর্যায়ে মরহুম জনাব মুরাদ ও ডাঃ রানার রুহের মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।  জনাব মাহাবুব রহীম এবং জনাব আমানাতুল্লাহ বাশির মরহুম জনাব মুরাদ এবং ডাঃ রানার স্মৃতি চারণ করেন। জনাব মুরাদের স্ত্রী মিসেস তানিয়া মুরাদ তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই টুর্নামেন্টর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। জনাব রানার স্ত্রী মিসেস রূপা ইসলাম বক্তব্য না দিলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এরপর ছিল সবগুলি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে মুরাদ-রানা ক্রিকেট শিরোনামে একটি ছড়া পাঠ। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন মজার বিষয়গুলি নিয়ে শেখ শামস ভাস্করের লেখা ছড়াটি পুঁথির সুরে পাঠ করেন হাসান মুশতাক।  সব দলের অংশগ্রহণে এই ছড়া পাঠের বিশেষ আয়োজনে মাঠের বাইরে দলগুলির মধ্যে যে সম্প্রীতি বিদ্যমান তা-ই ফুটে উঠেছে।

 

উপস্থিত সকলের জন্য এর পর ছিল অ্যারিজোনা টাইগার্সের সৌজন্যে সুস্বাদু ডিনারের ব্যবস্থা। ডিনারের সাথে সাথে দর্শকরা উপভোগ করেন এবারের মুরাদ-রানা টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ। জনাব রুমি হক এবং মহসীউল আলমের রেকর্ডিং এবং জনাব আশরাফ রুমির সম্পাদনায় এই ভিডিও চিত্রটি তৈরী করা হয়। 

ডিনারের পর শুরু হয় একে একে প্রতিটি দলের নিজস্ব পরিবেশনা। এবং প্রতিটি পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে ছিল এবারের টুর্নামেন্টের বিভিন্ন বিষয়ের পুরস্কার বিতরণী।

টুর্নামেন্টের লীগ পর্যায়ের চৌদ্দটি খেলার ম্যান অব দ্যা ম্যাচ এর পুরস্কার বিতরণ করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ক্রিকেটানুরাগী জনাব আরিফ আহমেদ। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেনঃ হাসান মুশতাক (৩টি) ও কাজী সায়ীদ (বেঙ্গলস), স্বাধীন সিরাজ (২টি) (ব্রঙ্কজ), নাবিল রহমান (২টি) ও তোফায়েল আহমেদ তপু (চিতা), সাইফুর রব তারিন, সাইদুর রব তাজিন ও আবুল আলম সাইফুল (২টি) (লায়ন্স) এবং আনিস (বাঘা)।  সেমি ফাইনাল দুইটির ম্যান অব দ্যা ম্যাচ রাফায়েল রব আরাফাত (ব্রঙ্কজ) এবং মিল্টন (লায়ন্স) এর হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাপ এর বর্তমান সভাপতি মিসেস চাঁদ সুলতানা। ম্যান অব দ্যা ফাইনাল সারোয়ার চৌধুরী মুন (ব্রঙ্কজ) এবং ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট হাসান হাসান মুশতাক (বেঙ্গলস) এর হাতে ট্রফি এবং বিশেষ পুরস্কার তুলে দেন বাপ এর প্রাক্তন সভাপতি জনাব মোজাম্মেল হক মাওলা। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান নাবিল রহমান (চিতা), সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার কাজী ইকবাল পিকলু (চিতা), সর্বোচ্চ ক্যাচ শিকারী ফিল্ডার স্বাধীন সিরাজ (ব্রঙ্কজ), এবং টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ ধরার জন্য রানা (বাঘা)র হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাপ এর প্রাক্তন সভাপতি জনাব ওয়াহিদ আলম। 

বিভিন্ন ক্রিকেট দলের নিজস্ব পরিবেশনার মধ্যে ছিল নিজেদের দলের পরিচিতিমূলক সৃজনশীল এবং হৃদয়গ্রাহী ভিডিও চিত্র এবং পাওয়ার-পয়েন্ট চিত্র প্রদর্শনী।  আরো ছিল শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় সঙ্গীত এবং নৃত্য, যাত্রার সংলাপ, প্যারোডী সঙ্গীত, খেলোয়াড়দের নিজেদের অথবা তাদের সন্তান এবং সমর্থকদের গাওয়া একক এবং দলীয় সঙ্গীত। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উৎসর্গকৃত এবং মুরাদ-রানা টুর্নামেন্টের ক্রিকেট দলগুলিকে অনুপ্রাণিত করার জন্য বিশেষ সঙ্গীত যেমন আমরা করব জয়, কিংবা হার-জিত চিরদিন থাকবে অথবা বাংলাদেশ জেগে ওঠ, বাংলাদেশ গর্জে ওঠ 

এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফারিব খন্দকার, জনাব হেফজুর রহমান হিরা এবং বাংলাদেশের এক সময়ের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী জনাব এম, এ, শোয়েব।

এবারের মুরাদ-রানা টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্স বিবেচনা করে দর্শকদের ভোটে একটি ষোল সদস্য বিশিষ্ট অ্যারিজোনা টাইগার্স দল ঘোষণা করেন এটিটিসিসি র সভাপতি জনাব জাইন আহমেদ। যাদের নাম নির্বাচিত হয়েছে তারা হলেনঃ শফিক ও শামীম (বাঘা), হাসান, রুমি ও সায়ীদ (বেঙ্গলস), স্বাধীন, আরাফাত, মুন ও শাফিন (ব্রঙ্কজ), নাবিল, তপু (চিতা), সাইফুল, মিল্টন ও বনি (লায়ন্স)। পিকলু (চিতা) দলটির অধিনায়ক এবং মুনীর (লায়ন্স) ম্যানেজার নির্বাচিত হয়েছেন। দর্শকদের বিবেচনার এই সেরা দলটিতে সুযোগ পাওয়া একটি দারুণ স্বীকৃতি। ভবিষ্যতে হয়তো এই দলটিকে নিয়ে অ্যারিজোনার ক্রিকেট লীগে আবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে অ্যারিজোনা টাইগার্সের আরেকটি অধ্যায় শুরু হতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের অংশগ্রহণে ছিল ক্রিকেট বিষয়ক কুইজ এবং ক্রস ওয়ার্ড পাজল। বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বাপ এবং ফোবানার প্রাক্তন সভাপতি জনাব মাহাবুব রেজা রহীম।  দর্শকদের মধ্যে যারা পুরস্কৃত হয়েছেন তারা হচ্ছেনঃ নাফিজ সোহান, আরিফ ইতমাম, ফেরদৌসী লতা এবং শাহান রুনা।

অ্যারিজোনা টাইগার্সের আহবায়ক জনাব মহসীউল আলম এবারের টুর্নামেন্টে নতুন দুইটি দল লাভিন বাঘা এবং অ্যারিজোনা জাগুয়ার্সকে সফল্ভাবে সংগঠিত করার জন্য ম্যানেজার যথাক্রমে জনাব কেলী এবং জনাব হারুনকে পুরস্কৃত করেন।

অ্যারিজোনা টাইগার্স ক্রিকেট কমিটির সভাপতি জনাব জাইন আহমেদ উপস্থিত সকলকে মুরাদ-রানা টুর্নামেন্ট এবং এই ক্রিকেট নাইটকে সাফল করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এরপর অ্যারিজোনা টাইগার্সের পক্ষে জনাব হাসান মুশতাক অ্যারিজোনার বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ক্রিকেটে প্রসারে অসামান্য অবদান রাখার জন্য জনাব মহসীউল আলম দুলালের উদ্দেশ্যে সম্মাননা পাঠ করে শোনান এবং সকল দলের প্রতিনিধিরা এবং এটিসিসির সভাপতি একসাথে তাকে একটি স্মারক উপহার দেন।

অনুষ্ঠানের শেষে এবারের মুরাদ-রানা টুর্নামেন্টের রানার্স-আপ এবং চ্যাম্পিয়ন দল যথাক্রমে মেসা লায়ন্স এবং লাভিন ব্রঙ্কজকে টুর্নামেন্টের রানিং ট্রফি তুলে দেন মিসেস তানিয়া মুরাদ। রানার্স-আপ দল মেসা লায়ন্সের পক্ষে ট্রফি গ্রহণ করেন মেসা লায়ন্সের অধিনায়ক সাইদুর রব তাজিন, কো-অর্ডিনেটর সাইফুল আলম হারুন এবং ম্যানেজার মুহম্মদ মুনীর। এবং চ্যাম্পিয়ন দল লাভিন ব্রঙ্কজের পক্ষে ট্রফি সংগ্রহ করেন দলের অধিনায়ক সারোয়ার চৌধুরী মুন, কো-অর্ডিনেটর রুমি হক এবং ম্যানেজার জাকি হুদা।

মঞ্চে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন হাসান মুশতাক এবং আজিজ আহমেদ এবং সমন্বয়ে ছিলেন শেখ শামস ভাস্কর। উপস্থিত দর্শকদের সুস্বাদু এবং গরম খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন জনাব সৈয়দ আরিফ এবং রশীদুল হক এবং তাদের তত্বাবধায়নে আরও অনেক স্বেচ্ছাসেবী। ক্রিকেট নাইট ২০১০ এর সার্বিক আয়োজন এবং তত্ত্বাবধানে ছিলেন জনাব মহসীউল আলম দুলাল। আর যাদের অসামান্য পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি সম্ভব হয়েছে তারা হলেন অনুষ্ঠানের আয়োজক অ্যারিজোনা টাইগার্স ক্রিকেট কমিটির সদস্য অর্থাৎ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং সমর্থকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর অকুন্ঠ সমর্থনে ।

সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি কিছুটা দীর্ঘ হলেও মঞ্চে বিভিন্ন রকমারী এবং চমকপ্রদ পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে পুরস্কার বিতরণ ক্রিকেট অনুরাগী দর্শকদের কখনোই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনে আয়োজক অ্যারিজোনা টাইগার্স ক্রিকেট কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপস্থিত দর্শকরা। এবং সেই সাথে প্রতি বছর মুরাদ-রানা টুর্নামেন্টের পর এরকম একটি সমাপনী ক্রিকেট নাইট নিয়মিতভাবে আয়োজন করার দাবী জানিয়েছেন অনেকেই। ক্রিকেট নাইট যদি সত্যিই নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে এবারের অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আয়োজকরা পরবর্তী নাইটগুলি আয়োজনে আরও সফল হবেন এবং মুরাদ-রানা ক্রিকেটকে নিয়ে যাবেন এক ভিন্ন উচ্চতায়। এই কামনাই রইল।   

 

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.