Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সম্পাদকীয়  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
বাংলাদেশ : আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ... Download PDF version
 

সম্পাদকীয়

 

বাংলাদেশ : আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ...

শিরোনাম পড়ে ভাববেন না বাংলাদেশে আবারো কোনা রক্তারক্তি কান্ড ঘটে গেছে, আর তারই নিন্দা করবার জন্যে এই সম্পাদকীয়। না, তা নয়। কিন্তু রক্ত তো ঝরছে অবিরত, অবিরাম। কখনো রাজপথের মিছিলে, কখনো বিডিআর-এর চার দেয়ালের বেস্টনীর ভেতরে। রক্ত ঝরে বারবার। তারপর সব থিতিয়ে যেই তিমিরে ছিলাম আবারও সেই তিমিরেই ফিরে যাওয়া। সামনের দিকে না এগিয়ে, দেশ হিসেবে আমাদের বাংলাদেশ যে এক বৃত্তাবদ্ধ গন্ডিতে আটকে আছে, সেটাই আমাদের আজকের প্রসঙ্গ।

২০০৮-এর ডিসেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন হলো। সেই নির্বাচনের সময় ঢাকায় থাকবার সুযোগ হয়েছিলো। তাই কিছুটা স্বচক্ষে, এবং বাকিটা পত্র-পত্রিকায় এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সেই নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবার সুযোগ হয়েছিলো। দেখেছিলাম দীর্ঘ দুই বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনে থাকবার পর কি বিপুল উৰসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে দেশের আপামর জনগণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে। শুধু অংশ নেয়াই নয়, ভোটের মাধ্যমে রায় দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় পাঠিয়েছে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য। দেশে মানুষ প্রত্যাশা করেছে তাদের রায় তারা দিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার কথা রাখবে। কিন্তু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার মতই বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেউ কথা রাখে না

নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলো সরকারে অনেক নতুন মুখ এলো, অনেক পুরনোরা বাদ পড়ে গেল। সাধারণ মানুষ আশাবাদী হলো যে তরুণতর প্রজন্মের নতুনতর নেতৃত্ব সরকার ও দেশ পরিচালনায় পরিবর্তন আনবে। সরকার গঠনের পর আজ প্রায় আঠারো মাস পেরিয়ে গেছে। অত্যন্ত দু:খের সঙ্গেই বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশের সরকার ও প্রশাসন যেই তিমিরে ছিলো, সেই তিমিরেই আছে। আলোচনার এ পর্যায়ে সরকার সমর্থকরা হয়তো ফিরিস্তি দিতে বসে যাবেন যে, এই সরকার কি কি ভালো ভালো কাজ করেছে। কিন্তু কথা সেটা নয়। প্রত্যেক সরকারই কিছু ভালো কাজ করে, এ সরকারও করেছে। কিন্তু আচার-আচরণে, প্রশাসন ও প্রক্রিয়ায় যে পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা ছিলো তা বিন্দুমাত্রও আসেনি।

সরকারে স্বজনপ্রীতি আগের মতই সযত্নে লালিত। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সারাদেশে তথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতো ন্যাক্কারজনক কাজ করে বেড়াচ্ছে সরকারের নাকের ডগায় কিংবা ছত্রছায়ায়। সাংসদীয় রাজনীতি, আচার-আচরণ ও সংস্কৃতিতে আসেনি লক্ষ্যনীয় কোন পরিবর্তন। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, দেশের অর্থনীতিকে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শরীক করার কোন ভিসনারী পরিকল্পনা নেই।

আমাদের ধারণা এবং বিশ্বাস এই বৃত্তাবদ্ধতা থেক বেরিয়ে আসবার কবার জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ভিসনারী নেতৃত্ব প্রয়োজন এমন একজন নেতা যিনি স্বপ্ন দেখেন, নিজের স্বপ্নে অটুট বিশ্বাস রাখেন এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়নের যোগ্যতা রাখেন। গত নির্বাচনের আগে ড. মুহম্মদ ইউনুস রাজনীতিতে যোগ দেবার ঘোষণা দিয়েও শেষতক পিছিয়ে গেলন। তিনি এগিয়ে আসলে কি হত সে আলোচনা এখন তাত্ত্বিক হলেও, তাকে ঘিরে একটা উদ্যোগ তো এখনও সম্ভব। ড. ইউনুসের পক্ষে ওকালতি করার জন্য এ লেখা নয়। তিনি সম্ভাবনার একটি উদাহরণ মাত্র। আমরা নিশ্চিত এমন আরো অনেক সম্ভাবনাময়, স্বাপ্নিক ব্যক্তিত্ব, দেশে এবং প্রবাসে, আমাদের ভেতর আছেন। তাদের ভেতর কেউ একজন এগিয়ে আসবেন যুগান্তকারী পরিবর্তনের বার্তা এবং পরিকল্পনা নিয়ে, এই আমাদের আশা।

আমরা নিশ্চিত যে মুখচেনা রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে আকাঙ্খিত পরিবর্তন আসবে না বাংলাদেশে। মানুষ বারবার আশায় বুক বাঁধবে, সমর্থনের জোয়ার নিয়ে পাশে দাঁড়াবে; তারপর আবারো রক্তগঙ্গা, আবার খান্ডবদাহন। তাই আশা করব এমন এক সম্ভানাময় পুরুষ কিংবা নারীর আবির্ভাব হবে শীঘ্র, যার স্বাপ্নিক নেতৃত্ব বাংলাদেশকে আর দেশের মানুষকে ভসিয়ে নিয়ে যাবে অগ্রযাত্রার আর প্রগতির জোয়ারে।অপেক্ষার এই দিনগুলো যেন আর দীর্ঘ না হয়।

- মাহমুদুল হাসান

স্যান হোজে, ক্যালিফোর্নিয়া

মে ১৬, ২০১০

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.