Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
বদলাতে হবে উল্টোরথের শাসন Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

দলাতে হবে উল্টোরথের শাসন

শুভ কিবরিয়া

সংবাদপত্রের খবরগুলো শিউরে ওঠার মতোই। এতদিন ক্রসফায়ার শিরোনাম ছিল। এখন তার জায়গা নিচ্ছে গুপ্তহত্যা। ক্রসফায়ারে তবুও নিহত হতভাগ্যের বিষয়ে একটা প্রেসনোট মেলে। তার লাশটি খুঁজে পাওয়া যায়। গুপ্তহত্যার শিকার ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে তাও মেলে না। গুপ্তহত্যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সংবাদপত্রে। সরকারি পক্ষে কোনো বক্তব্য ছিল না। এখন পুলিশের বড় কর্তারা নিজেদের আলাপ আলোচনায় স্বীকার করছেন গুপ্তহত্যা ঠিক হচ্ছে না। এর সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। গুপ্তহত্যা চলতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর থেকে ভরসা চলে যাবে মানুষের। আর এই নৈরাশ্য খুব বড় ধরনের নেতিবাচকতার জন্ম দেবে।

গুপ্তহত্যার পর পরই বড় দুঃসংবাদ হচ্ছে পুলিশের একের পর এক কর্মকর্তার খুন হয়ে যাওয়া। পুলিশের এসব কর্মকর্তা স্থানীয় থানায় কাজ করতেন। নানান জনের সঙ্গে তাদের ওঠাবসা। নানান অপরাধীচক্রের সঙ্গে তাদের মোকাবিলা। তাদের হঠাৎ হঠাৎ খুন হয়ে যাওয়ার সঙ্গে এসব বিষয়ের কোনো যোগসাজশ আছে কিনা কে জানে? পুরনো ঢাকায় এসআই গৌতম নামের একজন পুলিশ কর্মকর্তা খুন হবার পর র‌্যাব ও পুলিশ যেভাবে একের পর এক হত্যাকারী ধরে এনে মিডিয়ার সামনে স্বীকারোক্তি দেওয়া শুরু করল সন্দেহ তাতেও বাড়ছে। এখন জানা যাচ্ছে এগুলো সঠিক মানুষ না। তাহলে পুলিশের এসব কর্মকর্তা যারা খুন হচ্ছেন,বোঝা যাচ্ছে তাদের হত্যাকারীরাও ক্ষমতাশালী। হত্যার তদন্তকেও প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন তারা।

গুপ্তহত্যা আর পুলিশ কর্মকর্তা খুনের সঙ্গে সঙ্গে এবার নতুন সংযোজন হচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীদের হাতে পুলিশের কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে নাজেহাল হবার ঘটনা। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতার হাতে মার খেয়েও পুলিশের এক এসআইকে ক্ষমা চেয়ে বাঁচতে হয়েছে।

ছাত্রলীগের সন্ত্রাস,রাহাজানি,খুনোখুনি কেমন বর্বরতায় পৌঁছেছে তার বিবরণ না দিয়ে শুধু ৫ মে ২০১০ বুধবার বাংলাদেশের দৈনিক সংবাদগুলোর প্রথম পৃষ্ঠায় যে ছবি ছাপা হয়েছে তার দিকে খেয়াল করলেই বোঝা যাবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতির ঘটনা জনমানুষকে আশঙ্কিত করছে। আবার এর বিপরীতে বিচারালয়ের ঘটনাও মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। নবনিযুক্ত হাইকোর্টের ১৫ জন বিচারপতির শিক্ষাগত যোগ্যতার যে চেহারা সংবাদপত্র ফাঁস করে দিয়েছে তাতে দেখা যায় এই বিচারপতিদের মধ্যে ৯ জন এলএলবিতে তৃতীয় শ্রেণী পেয়েছেন।

এখন প্রশ্ন উঠছে এসব ঘটনার বিপরীতে সরকারের কর্মসূচি কি? ছাত্রলীগের অনাচারের বিষয়ে সরকার নির্বিকার নিস্পৃহ এবং উদ্যোগহীন। ছাত্রলীগের দুরাচার রোধ করতে সরকার কেন অনাগ্রহী তাও বোধগম্য নয়।

অন্যদিকে অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো,তার তদন্ত কমিটির প্রধানকেও পদত্যাগ করতে হলো। তিনি ছাত্রসংঘের সদস্য ছিলেন এই অভিযোগে। প্রশ্ন উঠতে পারে,এ রকম নিয়োগ সরকার দিল কেন? এ রকম স্পর্শকাতর পদে নিয়োগদানের সময়ে সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান সক্রিয় থাকার কথা,তারা কি কোনো দায়িত্ব পালন করেনি? যখন ধরাই পড়ল,নিয়োগটি ভুল হয়েছে, তখন বিতর্ক সৃষ্টি করে এই পদত্যাগের চেষ্টা কেন? সরকার এই বিতর্কের সুযোগ দিল কেন? এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে তো সরকারের অযোগ্যতার চেহারাটাই ফুটে উঠল। সরকার কি জেনে বুঝে এই কাজটি করল,নাকি সরকার কথিত স্যাবোটাজের অংশ এটি।

দেশ পরিচালনায় সরকারের এসব কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে,সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা বাড়ছে। অযোগ্য লোকেরা অধিক ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছে। যে কারণে অযোগ্যতা ঢাকতে সরকারকে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে হচ্ছে। স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আঘাত হানতে হচ্ছে।

ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক),স্থানীয় সরকারকে সরকার যারপরনাই দুর্বল করার সকল ব্যবস্থা নিয়েছে। মিডিয়ার স্বাধীনতাও সরকার সহ্য করতে অপারগ হয়ে উঠছে। তুলনামূলক নতুন এবং নরম ভিতের ওপর দাঁড়ানো ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সরকারের রোষে পড়েছে। সম্প্রচারের আগেই যমুনা টিভি বন্ধ হয়েছে। চালু চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করা হয়েছে। অন্য চ্যানেলগুলোও নানাবিধ চাপের মধ্যে আছে বলে প্রতিদিনই সংবাদপত্রে খবর বেরুচ্ছে।

সরকারের এই শাসন কায়দা দেখে মনে হচ্ছে,সরকারের আত্মবিশ্বাস তার বাস্তব ভিত্তিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। নিয়মতান্ত্রিক সমালোচনা আর বিরুদ্ধমতকে সরকার শত্রুজ্ঞান শুরু করেছে।

যে কোনো দেশে যে কোনো সরকারের জন্যই এই অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় হাওয়াভবনীয় শাসন,তাদের অতি আত্মবিশ্বাস,জনগণকে তোয়াক্কা না করা,বিরুদ্ধবাদীদের বিরুদ্ধে চড়াও হওয়ার অনেক উদাহরণ আছে। একুশে টেলিভিশনকে অন্যায়ভাবে বন্ধ করার পর বিএনপি শিবিরে যে উল্লাস ছিল তাও স্মরণে রাখার মতো।

দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে সিএসবি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে যে স্বস্তি আর ক্ষমতার আনন্দ সেই সরকার পেয়েছিল,তাও খুব বেশি দিন টেকে নাই।

এ জন্য গণতান্ত্রিক সরকারগুলোকে অধিকতর সহিষ্ণু,বহুমত প্রকাশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। আচরণে, কর্মে কৌশলী হতে হয়। এই সহিষ্ণুতা এবং রাজনৈতিক কৌশল গণতান্ত্রিক শাসক শ্রেণীর স্থায়িত্ব টেকসই করে।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কাঁধে অনেক বড় বড় দায়িত্ব বর্তেছে।

প্রথমত,গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নির্বিঘ্ন রাখা। যে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তির সম্ভাবনাকে রুখে দেয়া। সেক্ষেত্রে জনগণ,মিডিয়া এবং বিরোধী দলের সহযোগিতা দরকার। এদের যে কাউকে প্রতিপক্ষ ভেবে ক্রমাগত আক্রমণ শানাতে চাইলে আখেরে অগণতান্ত্রিক শক্তির আগমনের সুযোগ ত্বরান্বিত হয়।

দ্বিতীয়ত,এই সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার,বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচারের মত অত্যন্ত দুরূহ, স্পর্শকাতর,বিপদসঙ্কুল কাজটি হাতে নিয়েছে। এ বিষয়ে ব্যর্থ হবার কোনো সুযোগ নেই। ব্যর্থ হলেই প্রতিপক্ষের আঘাত সুনিশ্চিত। সুতরাং এ কাজে গণতান্ত্রিক শক্তির সহায়ক সকল মহলের সহযোগিতা সরকারের দরকার। বন্ধুকে শত্রু ভেবে দূরে ঠেললে বিপদ আসতে দেরি হবে না।

তৃতীয়ত,বিশ্বব্যাংক,আইএমএফসহ মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেট হাউসগুলোর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে সরকার ভর্তুকিনির্ভর কৃষিবান্ধব পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটিও একটি বিপ্লবী কাজ। এক্ষেত্রেও সরকারের প্রতিপক্ষ সবল। সুতরাং সপক্ষীয় পুরো গ্রুপটির সমর্থন সরকারের পক্ষে রাখতে হবে সব সময়।

চতুর্থত,প্রাইভেট সেক্টর বিকাশে,বিদ্যুৎ-গ্যাস-খনিজসম্পদ উন্নয়নের মতো অবকাঠামোগত বড় কাজ করতে চাইলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে ভুলে বিশেষ গ্রুপ বা জনগোষ্ঠীর স্বার্থ দেখতে চাইলে সেটিও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। দরপত্র ছাড়া,গোপন সমঝোতায় কুইক রেন্টালে চড়া দামে বিদ্যুৎ কিনে সরকার যে প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে তার বিষয়েও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নইলে এটিও বুমেরাং হতে পারে।

সুতরাং সরকারকে আরো সতর্ক এবং স্বচ্ছ হতে হবে। ক্ষমতার কালো চশমা পরে সুরক্ষিত নিরাপত্তা বলয়ে বসে সমন্বয়হীন শাসনের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ আন্তরিকভাবে চাইলেও বড় ভুল হতে  পারে।

এ জন্য সরকারকে অতীত শাসনামলগুলোর দিকে তাকাতে হবে। শিক্ষা নিতে হবে। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসনকে সমুন্নত রাখতে হবে। সংবাদপত্র,বিরোধী রাজনৈতিক দল,সমালোচনাকারী বন্ধুপক্ষ সকলের মতামতকেই বিবেচনায় নিতে হবে। খড়গ চালিয়ে বিরুদ্ধমত বন্ধ করার চেষ্টা হবে নিরেট বোকামি। বাংলাদেশের অতীত শাসনামলে প্রায় সকল শাসক সেই বোকামিটাই করেছে।

এই সরকার সেই পথে না এগুলেই দেশের মঙ্গল।

ঢাকা।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.