Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাহিত্য  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
মেশিনের মত আন্তরিক যন্ত্রের মত নিরপেক্ষ Download PDF version
 

সাহিত্য

 

রম্যারম্য বচনাবচন

 

মেশিনের মত আন্তরিক

যন্ত্রের মত নিরপেক্ষ

 

রণজিৎ বিশ্বাস

 

বছর সাতেক আগে একবার জাপানে এসে দু'টো দাঁত নিয়ে বড় কষ্টে পড়ে  গিয়েছিলাম। যাদের আয়োজনে গিয়েছিলাম, তারা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, আইএলও, আমার এই অসুস্থতার সময় বড় উদার আচরণ করেছিল। একজন অফিসারকে তারা দায়িত্ব দিয়েছিল ডেনটিস্ট’ এর সঙ্গে আমার অ্যাপায়নমেন্ট স্থির করার জন্য ও নিজে আমার সঙ্গে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে আনার জন্য।

অফিসারটি একটি মেয়ে। জাপানে আমাদের পৌঁছার পর থেকেই সে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। খুব যত্নের সঙ্গে আমাদের দেখভাল করছিল। আলাপে আড্ডায় সঙ্গও দিচ্ছিল। চাইছিলাম আমাকে ডাক্তার দেখানোর দায়িত্বটা ও-ই যেন পায়। পেলোও। মানুষ প্রবলভাবে যদি কিছু চায়, কেমন করে কেমন করে যেন পেয়েও যায়। যিনি দেন, তিনি অনৈষ্টিক, গাড়ল, মুষল ও হোঁদলদের কথাও শোনেন। জাপানিরা ইংরেজি ভালো বলে না। তবে, এই মেয়েটি, আসাকো ছিল ব্যতিক্রম। তাকে আমি কথনবচনের জন্য যেমন মনে রেখেছি, মনে রেখেছি তার দেয়া উদার উপহার একজোড়া হতাশার জন্যও।

তাড়াতাড়ি সে বন্ধু হয়ে যেতে পারতো। এবং, তৃতীয়জনের উপস্থিতি ছাড়া ওর সান্নিধ্য থাকা বড় কষ্টকর ছিল। নি:শ্বাসে নি:শ্বাসে স্নায়ু ও সংযমের পরীক্ষা দিতে হতো ও পাশ করার দাবী পূরণ করতে হতো।

কঠিন পরীক্ষার কারণ ওর রূপময়তা ও তনুময়তা। দু'টোই ছিল অবিশ্বাস্য। খুন করার মত শুধু নয়, শেষকৃত্যও সেরে রাখার মত। খুন হতে তবু ভালো লাগতো। এতকিছুর পর তার সজ্জা নির্বাচনের জ্ঞান অমন ভয়াবহ না হলেও পারতো। যেমন কীলিং, তেমন রীভিলিং। সে বুঝিয়ে দিত- পরিচ্ছদ শুধু ঢাকার জন্য নয়, ডাকার জন্যও; গুণ্ঠনের জন্য নয় শুধু, লুণ্ঠনের জন্যও। কী লুণ্ঠন? দৃষ্টিলুণ্ঠন।

তাকে নিয়ে প্রথম হতাশা, যখন সে বললো-

: তোমাকে ডাক্তার দেখিয়ে আজ আমি- তাড়াতাড়ি ফিরে যাবো।

: কেন?! খুব তাড়ায় আছো নাকি?!

: আছি। লণ্ডন থেকে আমার বন্ধু ফোন করবে। বয়ফ্রেণ্ড। খুব বড়লোকের ছেলে। একমাত্র ছেলে। ভেরি ‘পেম্পারড’। সবাই তোলতোল করে রাখে, ফুলফুল করে রাখে। অ্যাণ্ড, য়্যু উইল কী হ্যাপি টু নো, উই আর গোয়িং টু বী ওয়েড-ল'কড ইন অ্যা মান্থ।

: ও রিয়েলি!

মুখে বললাম তেমন। মনেমনে বললাম পুরোপুরি ভিন্ন কথা। হ্যাপি হবো না, কচু হবো! আমি আজ ডাক্তারই দেখাবো না!

মানুষের অন্তরের জটিল স্বরলিপি অবাক করার মত। এই মেয়েটির সঙ্গে জীবনে আর কোনদিন হয়তো দেখাই হবে না আমার। ওর একটা কেন, সাড়ে চৌদ্দটা বয়ফ্রেণ্ড থাকলেও আমার কোন ক্ষতি নেই; একটার জায়গায় পৌণে পয়তাল্লিশটা বিয়ে হলেও আমার কিছু যায় আসে না। তারপরও ওর সংবাদের বিষয় ও তার পরিবেশনাটা আমার ভালো লাগলো না। আমি হতাশ হলাম। আরও মানুষ এমন হয় কিনা জানি না। তবে, আমি বেশ ঘনঘনই হই। ওর খবরে মন খারাপ করে রাখার বয়স অনেক বছর আগেই আমি হারিয়ে এসেছিলাম। তাই ওকে অনুসরণ করে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকলাম। ওর দিকে একেবারেই না তাকিয়ে। ক্রোধে আমি জ্বলছি তখন।

তার এসব কিছু বুঝতে পারার কথা নয়। আমাদের কালচারের মেয়ে হলে হঠাৎ গুম মেয়ে যাওয়া দেখে হয়তো কিছুটা আঁচ করতো, আর মনে মনে হাসতো। বারদুবার হয়তো ছাগলও ডেকে ফেলতো।

কিছু না জেনেই সে ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকার আগে আমাকে স্বাভাবিক করে আনলো। ব্যক্তিগত কিছু ব্যাপারস্যাপারসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে আমাকে ঐ আধঘন্টা অপেক্ষার সময় যা বললো, তা না বললেও পারতো। পাশে বসার সময় পরিসরের পার্থক্য সে আরও বেশি রাখলেই পারতো। চেম্বারে ঢোকার সময়, আই নীড টু কা’ম, আই নীড টু এসপ্লেইন’ বলে ডাক্তারের সঙ্গে তার অমন যুদ্ধ না করলেও হতো কিংবা ডাক্তারের পরীক্ষার সময় নি:শ্বাসের সুবাস ও কায়ার ভাপতাপ ছড়িয়ে আমার মাথার পাশে দাড়িয়ে না থাকলেও মন্দ হতো না। যার সঙ্গে জীবনে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ হয়তো হবেই না, তার সেবায়ও তারা এমন মেশিনের মত আন্তরিক ও যন্ত্রের মত নিরপেক্ষ হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসার পর পাতালরেলে চড়িয়ে সে আমাকে পৌছে দিচ্ছিল। মাটির তলা থেকে ওঠার পর বৃষ্টিতে পড়লাম। হোটেল অন্তত: পাঁচশ মিটার দূরে। আসাকো বললো- কোন সমস্যা নেই, আমার ব্যাগে ছাতা আছে।

আমি উৎসাহিত হলাম। ছাতাতো ছাতাই! ব্যাগে ভরা ছাতা আর কতইবা বড় হবে! তখনও জানি না, কী আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

ছাতা সে খুললো এবং খোলার পর খুব অ্যাপিলিং টোন-এ আমাকে তার তলায় ডাকলো। কিন্তু, যাওয়ার আগ্রহ আমি ততক্ষণে হারিয়ে ফেলেছি শুধু নয়, প্রয়োজনটাও আমার মরে গেলো। ইচ্ছে হলো, ভিজেভিজে যাই। এমন যে হতাশ করে, তার একটা শাস্তি হওয়াই ভালো। অথবা, শাস্তি নাহয় না হলো, এই নিষ্ঠুরতার একটা নীরব প্রতিবাদতো হতে পারে।

তিনচার ভাজে ছোট করা ছাতাটা যখন সে খুললো, মনে হলো এমন দুশমনি শত্রুও করে না শত্রুর সঙ্গে। সেই ছাতার নিচে এত পরিসর যে মোটাসোটা তিনটি মানুষ পাশাপাশি হাঁটলেও কেউ কারও গায়ে লাগবে না। সাতবছর পর আবার জাপান এসে এবার তাই কান্তিময়ী কোন জাপানি মেয়ের সঙ্গে এবার প্রয়োজনের বেশি কথা বলছি না, কোন কল্পভাবনা আর গল্পতাড়নাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না, কিংবা ভাবছি না যে বয়স একটি সংখ্যামাত্র।

 

মন্তব্য:
Sajid   July 3, 2010
What a story, if it is a story.
Emon   June 28, 2010
Excellent. Please continue.
ডা.রাণা হাসান   June 6, 2010
অামি বরবরই লেখেকর এক পাঁড় ভক্ত।যে কোন বিষয়ে উনি একজন পাকা "লেখোয়াড়"।অামার মত এক কলম "ঠেলোয়াঢ়" সব সময় মুগ্ধ তার লেখায়। "Live Long"!!
ডা.রাণা হাসান   June 6, 2010
অামি বরবরই লেখেকর এক পাঁড় ভক্ত।যে কোন বিষয়ে উনি একজন পাকা "লেখোয়াড়"।অামার মত এক কলম "ঠেলোয়াঢ়" সব সময় মুগ্ধ তার লেখায়। "Live Long"!!
দীপেন ভট্টাচার্য   May 26, 2010
বেশ ভাল লাগল। জীবনে কোন কিছুই ছোট নয়। আর "অনৈষ্টিক, গাড়ল, মুষল ও হোঁদল" এত বিশেষণ তো জানা ছিল না।:)
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.