Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাহিত্য  ||  ১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭ •  10th  year  2nd  issue  May - Jun  2010 পুরনো সংখ্যা
শীতের পাখি Download PDF version
 

সাহিত্য

 

শীতের পাখি

 

মীজান রহমান

 

না, বইমেলাকে উপলক্ষ্য করে আমি যাইনি। দেশে যাওয়ার পর বইমেলা এসে গেল, দোষটা নিশ্চয়ই আমার নয়। আমি কখনোই বইমেলার উদ্দেশ্যে দেশে যাই না। আমার বই কেউ পয়সা দিয়ে কেনে না। আমি নিজেই বিলি করে দিই বিনি পয়সায়। বিলি করার জন্যে গাঁটের টাকা খরচ করে দেশে যেতে হবে কেন? টরন্টোর বাঙ্গালিপাড়ার মোড়ে দাঁড়ালেই তো যথেষ্ট। আমি হলাম ভাই শীতের পাখি। আমি আরাম পছন্দ করি। এদেশে যখন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা তখনই আমি দেশমুখী হই। এক বন্ধুর ভাষায়, আমি হলাম যাকে বলে বাংলাদেশের অতিথিপক্ষী। অতিথির প্রতি বাসল্যবোধটা কতদিন টেকে সেই হল কথা। ঢাকায় গিয়ে এবার মনে হল ক্যানাডার চেনাজানা মুখ সবাই চলে এসেছে। বিলেত-আমেরিকা আর অস্ট্রেলিয়া থেকেও নিশ্চয়ই একই অবস্থা। বন্ধুকে বললাম, সেদিন হয়ত বেশি দূরে নয় যখন তোমরা আমাদের অতিথি পাখি বলবে না, বলবে আপদ পাখি। বললে দোষ দেওয়া যাবে না। ক্যানাডার বড় বড় হাঁসপাখিগুলো হাড়কাঁপা শীত নামার আগেই পালাই পালাই করে উড়াল দেয় দক্ষিণের উষ্ণতর দেশগুলোর দিকে। প্রথম প্রথম স্থানীয়রা খুব আদর করে আশ্রয় দিতেন পাখিগুলোকে, খাবার দিতেন, সেবাযত্ন দিতেন প্রয়োজনে। তারপর একসময় অতিথিদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এমন আশংকাজনক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে গেল যে তাদের বাত্‌সরিক আগমনকে কেউ আর স্বাগত আগমন হিসেবে দেখতে চাইলেন না, দেখলেন অশুভ আক্রমণ হিসেবে। তখন তারা ব্যস্ত হয়ে উঠলেন কিভাবে এই উপদ্রবকে রোধ করা যায়। শিকাগোর এক মনোরম পার্কে গিয়ে আমি নিজের চোখেই দেখেছি ক্যানাডার শীতের পাখিরা কি তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে সেখানে। খাদ্য আহরণের সাথে সাথে যে খাদ্য নিষ্কাশনের ব্যাপারও আছে একটা তার প্রত্যক্ষ নিদর্শন সর্বত্র। বাংলাদেশের প্রতি শীতঋতুতে আগত আগন্তুকদের বিষয়টাও হয়ত অনেকটা অনুরূপ। ধরুন এক লাখ অতিথির আগমন প্রতি বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। তার অর্থ এক লক্ষ অতিরিক্ত গাড়ির আবির্ভাব ঢাকার জটসঙ্কুল রাজপথে। উপরন্তু নগরের পয়ঃপ্রণালির ওপর অতিরিক্ত চাপ- প্রবাসীদের কারণে কত লক্ষবার বাড়তি টয়লেট ফ্লাশ হচ্ছে রোজ ভেবে দেখেছেন?

  প্রবাসীদের একটা নতুন রোগে ধরেছে আজকাল- দেশভ্রমণের অভিজ্ঞতা বা অনুভূতি নিয়ে একটা কিছু লিখে পত্রিকায় ছাপানো বা পুস্তকাকারে প্রকাশ করা। এটিকে তাঁরা যেন একটা সামাজিক বা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন। ভাবখানা, এতে যদি দেশের একটু উপকার হয়। অন্তত একটি মানুষের চোখ খুললেও তো লাভ! যেন চোখদুটি কেবল তাঁরই খোলা, বাকিরা সবাই প্রায় অন্ধ। লজ্জাবনতশিরে স্বীকার করছি যে এই ব্যাধিটিতে আমি নিজেও আক্রান্ত। যতবার দেশে গিয়েছি ততবারই একটা করে নিবন্ধ বেরিয়েছে আমার কলমে। এসব নিবন্ধ কেউ পড়ে কিনা সন্দেহ, তবুও আমাদের লিখতে হয়। এই দেখুন, বলতে বলতে আমি আবার কলম ধরেছি। এটা রোগ নাহলে কি?

  আমরা দেশে যাই কেন? যাই প্রধানত দুটি কারণে। এক, দেশের মায়া। একটু কাব্যি করে বললে মাটির টান, মায়ের ডাক, শেকড়ের খোঁজ, ইত্যাদি। গোড়ার কথা, দেশ এমন জিনিস যা চোখের আড়াল হলেও মনের আড়াল হয়না। বরং চোখের আড়াল হলেই দেশ মনের আঙ্গিনায় প্রবেশ করে। তার অর্থ এই নয় যে প্রবাসীরা তাদের দেশকে দেশবাসীদের চেয়ে বেশি ভালবাসে। তার অর্থ শুধু এই যে দেশের উপস্থিতি তাদের চেতনাতে জেগে থাকে সবসময়। প্রিয়জন যখন কাছে থাকে না তখনই তো তার অভাব বোধ করি আমরা বেশি। প্রবাসীদের এই বোধটাই আলাদা শুধু, ভালবাসাটুকু নয়। দুবছর আগে দেশ থেকে ফিরে এসে কান মলে পণ করেছিলাম, আর নয়। এই আমার শেষ দেশে যাওয়া। পরপর দুবার দেশে গিয়ে সারাক্ষণ ডাক্তারের অফিস আর টয়লেটে ছুটোছুটি করলাম। তারপর দেশে যাবার স্পৃহা থাকে কেমন করে। কিন্তু পণ থাকল কই। বেহায়া তো আবার বেলতলায় হাজির। এর নাম দেশ। পণ প্রতিজ্ঞা মান অভিমান কোনটাই টেকে না এর সঙ্গে।

  ভাল কথা, দ্বিতীয় কারণটি তো বলা হল না। সেটির নাম ডলার। দেশে যাওয়াটা ব্যয়সাপেক্ষ। সেই ব্যয়ের ক্ষমতা আমাদের প্রায় সকলেরই আছে। এদেশে অত্যন্ত নগণ্য কাজ করেও বছরে দুবছরে দুতিন হাজার ডলার জমানো এমন কোনও শক্ত কাজ নয়। দেশের মুদ্রায় সেটা তিনচার লক্ষ টাকার ব্যাপার। মেলা টাকা। দেশে যার রোজগার মাসে ১৫/২০ হাজার টাকা তার পক্ষে লাখ টাকা জমানো দূরে থাক, ঋণ করে খরচ চালাতে হয় মাসের শেষে। সুতরাং আমরা যে বছর বছর দেশের পথে রওয়ানা হই তার পেছনে মদদ জোগায় আমাদের পকেটভর্তি কাঁচা ডলার।

   আরো একটা জিনিস বড় উপকারে আসে আমাদের- পাসপোর্ট। আমরা প্রবাসীরা দেশের প্রেমে যতই বিভোর থাকি না কেন, দেশের পাসপোর্টটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জমা দিয়ে বিদেশী পাসপোর্ট বাগানোর জন্যে অস্থির হয়ে উঠি। ক্যানাডা-আমেরিকা-বিলেত-অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট হল আমাদের টিকেট টু এভ্রিথিং। এসব দেশের নাগরিক হওয়া মানে জাতে ওঠা। বেকারভাতা, শিশুভাতা, প্রয়োজনে সরকারি বাড়ি, চাকরিবাকরি, ছেলেমেয়ের স্কুলকলেজ, ওষুধপথ্য, অসুখবিসুখে মাগনা চিকিত্‌সা- যার কোনটাই নিজের দেশে পাওয়া যাবে না, তার সবগুলোই এদেশে না চাইতেই পাওয়া যায়। (অবশ্য তার জন্যে কথায় কথায় এদেশের মানুষ ও সমাজের সমালোচনা করতে সাধারণত আমাদের বিবেকে বাধে না খুব) ওদিকে বিদেশী পাসপোর্ট (পশ্চিমা হলেই ভাল) নিয়ে দেশের বিমানবন্দরে নামার মত তৃপ্তি আর কিছুতে নেই। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেশী ভাইবোনেরা এক মাইল লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আল্লাবিল্লা করছেন, আর আমরা মোচে তা দিয়ে বিদেশী মার্কা ক্ষুদে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ওধারের ক্ষুদ্রতর প্রাণীদের প্রতি একপ্রকার করুণার দৃষ্টি নিক্ষেপ করছি। পশ্চিমা পাসপোর্ট নিয়ে দেশে যাওয়া মানে আধাসাহেব হয়ে যাওয়া। বেশ লাগে, কি বলেন?

      একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন? বিদেশে আমরা যতই নিয়ম কানুন আইনশৃংখলা মেনে চলি না কেন, দেশের বিমানবন্দরে নামবার সাথে সাথে সব বেমালুম ভুলে যাই, বা সেগুলো আমাদের বেলায় প্রযোজ্য বলে মনে করি না। অন্যের বেলায় প্রযোজ্য হতে পারে, নিজের বেলায় নয়। আমি নামক ব্যক্তিটি সবসময়ই ব্যতিক্রম। তিনি একক। বিমানের দরজা দিয়ে বেরুবার সাথে সাথে প্রথমেই খুঁজি হোমরা চোমড়া কেউ এল কিনা আমাকে স্বাগত জানাতে। স্বাগত জানানো বলতে বোঝায় ইমিগ্রেশন আর শুল্কের লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থাকে রেহাই দেওয়া। লাইনে দাঁড়ায় ক্ষমতাহীন সাধারণেরা। উনি কেন দাঁড়াবেন তাদের সঙ্গে, ঢাকা শহরে এত বড় বড় আত্মীয় থাকতে? সুতরাং আমরা, যাদের ক্ষমতাবান মুরুব্বি নেই, তারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি তো থাকিই, আর লাইনভঙ্গকারী ক্ষমতাবান প্রবাসী ভাইবোনেরা হেসে হেসে সগর্বে ও সোল্লাসে পার হয়ে যাচ্ছেন সকল বিধিনিষেধ। তাদের ক্ষমতার হাসি দেখে কান্না পায়।

  মনে হয় সেদিনের কথা। দেশে যাবার কথা উঠলেই মন উতলা হয়ে উঠত। বাবা বেঁচে ছিলেন তখনও। মা মারা যান ৮০ সালে- দেশে যাবার আকর্ষণটা অর্ধেক চলে যায় সেসাথে। বাবাই ছিলেন প্রধান টান তখন। স্ত্রীর অসুস্থতার জন্যে ঘন ঘন যাওয়ার উপায় ছিল না। সেসময় ছেলেরা আমেরিকায়- যে যার পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত। নিজের দেশভ্রমণের স্বার্থে দের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে চাইনি। তবুও পাঁচ ছ বছর পর পর অল্পসময়ের জন্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করে নিতাম- নিতে হত, নিজেরই তাগিদে। দেশ বলতে তখন আমি বাবা মা ভাইবোনই বুঝতাম। তারপর বাবা চলে গেলেন ৮৯তে। ছোট বোনটা ছিল পাকিস্তানে, সেও ফাঁকি দিয়ে চলে গেল তার দুবছর আগে। এখন আমার স্ত্রী নেই। এখন আর কোনও বাধাই নেই কোথাও যেতে। যখন ইচ্ছে তখনই চলে যেতে পারি যেখানে খুশি সেখানে। ইচ্ছে করলে আমি প্রতিবছরই যেতে পারি, এমনকি দেশে গিয়ে পুরো শীতটাই কাটিয়ে আসতে পারি। কিন্তু কি জানেন? আমার দেহের মত মনটাও কেমন বুড়িয়ে গেছে- অনেকদিনের সযত্নে পোষা ইচ্ছেগুলো ক্রমেই মরে যাচ্ছে। দুটি ভাই আর দুটি বোন- দেশ বলতে এখন ওটুকুই বোঝায়। তারাও বার্ধক্যে পৌঁছে গেছে- বয়সে ছোট হয়েও তারা যেন আমার আগেই বুড়ো হয়ে গেছে। দেশের জলবায়ু সমাজ আবহাওয়া সবকিছুতে মিলে মানুষের বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে। আমি অবসর নেবার আগেই তারা কর্মজীবন থেকে অব্যাহতি নিয়েছে, বা অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের সকলেই বার্ধক্যজনিত বিবিধ রোগের শিকার। ডায়েবেটিস নেই এমন কোনও মধ্যবিত্ত শহুরে নাগরিক দেশে খুব বেশি পাওয়া যাবে না আজকাল। আমাদের পরিবারে এ রোগটির ইতিহাস ছিল না আগে- এখন প্রায় সবাইকে ধরেছে। সচ্ছল আয়েসী জীবনের কিঞ্চিত জরিমানা হয়ত। ডায়েবেটিস ছাড়াও উপসর্গের অভাব নেই ওদের সংসারে। কারও কোমর ভাঙ্গা, কারও ক্যান্সার, কারও পেটের ক্রনিক সমস্যা, কারও বা তার চেয়েও গুরুতর কিছু। কারো ছেলে মানুষ হচ্ছে না, কারো মেয়ের বনিবনা হচ্ছে না তার স্বামীর সঙ্গে। সারাটি পরিবেশই কেমন থমথমে, মেঘলা, গুমোট বিষন্নতায় আচ্ছন্ন। তাই দেশে যাবার আয়োজন হলেই এখন আর মন ময়ূরের মত নেচে ওঠেনা। আগে দেশগামী বিমান কোলকাতার কাছাকাছি এলেই পেটের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠত। প্লেনের জানালা দিয়ে পদ্মার ঢেউ দেখবার চেষ্টা করতাম- ছেলেমানষি কাকে বলে। বাংলাদেশের মাঠঘাট পথপ্রান্তর পরিষ্কার দেখা যেত, মন চঞ্চল হয়ে উঠত। যেন বহুকাল পরে প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা হতে যাচ্ছে।

কিন্তু এখন? এখন সেই উত্তেজনা নেই। বাংলাদেশের অভাগা নদীগুলোর মত আমার মনটাও কেমন শুকিয়ে গেছে। দুবাই থেকে প্লেনে চেপেই মনে হল, ভুল হয়ে গেছে, পানির বোতল সঙ্গে আনিনি। দেশের পানি খাওয়া যাবে তো? জানি ওরা সবাই ফুটোনো পানি খায় আজকাল, তবুও সেই ফুটোনো পানিতে বীজানু ঢুকতে বাধা কোথায়। জানি আজকাল দেশের সবার হাতেই পানির বোতল থাকে। কিন্তু সে বোতল যে দূষিত পানিতে ধোয়া নয় তার কি নিশ্চয়তা? দেশের ব্যবসায়ীদের কি বিবেক বলে কোন জিনিস আছে? যতসব নেতিবাচক চিন্তায় ঘিরে থাকে মন। বুড়োবয়সে মানুষ সিনিক হয় জানি, আমি নিজেও যে হব সেটা ভাবিনি। কিন্তু হয়েছি, বুঝতে পারছি।

আঠারো ঘন্টার মাঝে অনেকটা পথই অতিক্রম এলাম সেদিন। অটোয়া থেকে যাত্রা শুরু। প্রথমে টরন্টো। সেখান থেকে এমিরেটসের ফ্লাইটে সোজা দুবাই। যান্ত্রিক গোলযোগের জন্যে টরন্টোতে তিন ঘন্টা বিলম্ব। ভোগান্তির সূচনা তখন থেকেই। ভাগ্যিস আক্তার হুসেন সঙ্গে ছিল। ও যে একই ফ্লাইটে ঢাকা যাচ্ছে সেটা আগে বলেনি- আমাকে চমক লাগিয়ে দেবে বলে। চমক সে সত্যি সত্যি লাগিয়েছিল। এমনই আশ্চর্য সেকেলে ধরণের ভালোমানুষ এই লোকটি যে আমার ছোট একখানা হ্যাণ্ডব্যাগ, তাও আমাকে বইতে দেবে না। রেস্টুরেন্টে খেতে যাব, সেখানেও ট্রেটা হাতে করে আনতে দেবে না। আশা ছিল একটানা তেরো ঘন্টা আকাশে থাকার পর দুবাইতে খানিক বিশ্রাম করা যাবে, টরন্টোতে লম্বা বিলম্বের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। প্লেনে কখনোই ঘুমোতে পারিনি আমি, ভেবেছিলাম বুড়ো হয়েছি, এবার হয়ত পারব। কোথায়, সারা পথ ঠায় চেয়ে থাকলাম। কিন্তু আশ্চর্য,খুব একটা ক্লান্তি লাগেনি শরীরে। ছেলেদের কাছে বলতে পারব তোমরা অনর্থক বাবার চিন্তায় অস্থির হয়ে থাক।

      সকাল দশটায়  ঢাকার জিয়াতে নামলাম (ফেরার সময় কিন্তু জিয়াতে নয় শাহ জালালে আসতে হয়েছিল)।স্বস্তি। বোনের বাসায় গিয়ে একটু গা এলানো যাবে, মনে মনে ভাবলাম। ভাবতেই আরাম পাচ্ছিলাম। আড়ালে ভাগ্যদেবতা মুচকি হাসলেন। দাঁড়াও বাছা, অত তাড়া কিসের, দেশে এসেছো, একটু দেশী গন্ধ শুঁকে যাও এখান থেকেই। দুর্গিতিটা শুরু হল প্লেনের দরজা দিয়ে বেরুবার আগেই। প্রথমত আমার দেশি ভাইদের মাল টানাটানি নিয়ে মহা হুলস্থূল সৃষ্টি। গেটে পৌঁছুবার আগেই কে কার আগে মাল নিয়ে গেটে দাঁড়াবে সে নিয়ে তুমুল ত্রস্ততা। শিক্ষিত অশিক্ষিতে কোন তফাত্‌ আছে বলে মনে হলনা। যেন সবার আগে মাল নিয়ে প্রস্তুত না থাকলে অন্য কেউ তার মাল নিয়ে উধাও হয়ে যাবে। মুস্কিল যে সেদিন গেট খুলল না চট করে। আমরা দাঁড়িয়ে রইলাম। রইলাম তো রইলামই। আমার ভাইব্রাদাররা পেছন থেকে ঠেলছে আমাকে, যেন আমি একটু এগুলেই গেট খুলে যাবে। আমার সামনে যে আরো লোক দাঁড়িয়ে আছে সেটা তারা দেখবার চেষ্টা করছে না। দুঃখের বিষয় যে গেট খোলার অপেক্ষায় সেদিন আমরা পাকা পৌনে একঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলাম ভেতরে। গেট খুলতে মাঝে মাঝে দেরি হয় খানিক, কিন্তু এতটা দেরি জীবনে দেখিনি। অভিজ্ঞতা হল। আমার মনে হয় বিমানবন্দরের নাম বদলানোর চেয়ে জরুরি কাজ হল ওটাকে একটু আধুনিক করার চেষ্টা। ঢাকার বিমানবন্দরের শ্রীহীন চেহারা বাইরের আগন্তুকদের চোখে দেশের ভাবমূর্তি ভয়ানকভাবে উজ্জ্বল করে তোলে বলে আমার মনে হয়না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন যে দেশটিকে ডিজিটাল করে তোলা হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। ঢাকার বিমানবন্দরে ইমিগ্রেনের  লাইনে কিছুক্ষণ দাঁড়াবার পর মনে হয় আমরা ডিজিটাল দূরে থাক কম্পিউটার যুগেও প্রবেশ করতে পেরেছি কিনা সন্দেহ।

দেশের মাটিতে পা দিয়ে সবচেয়ে আগে কি চোখে পড়ে আমাদের? মানুষ। মানুষ আর মানুষ। এ এক কূলকিনারাহীন সমুদ্র। বাঁধভাঙ্গা প্লাবন। যতবার যাই ততবারই মনে হয় আরো কয়েক লক্ষ লোক যোগ হয়েছে। যোগ হয়েছে আরো কয়েক সহস্র গাড়ি, রিক্সা, ট্রাক, ঠেলাগাড়ি, হুণ্ডা, সি-এন-জি। বঙ্গোপসাগরের ঝড়ো হাওয়ায় তাড়িত দুর্বার জলোচ্ছ্বাসের মত- যেন দিগ্বিদিক অন্ধকার করে গ্রাস করে ফেলবে বৃক্ষলতা প্রাণীকূল। বাংলাদেশের জনবাহুল্য এখন আর বিস্ময় সৃষ্টি করে না, সৃষ্টি করে আতঙ্ক, নিরেট নিখাদ ভীতি। এবারের জনারণ্য দেখে মনে পড়ছিল ৮৩ সালের একটি বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টিকারি ঘটনা। জন ব্রাওয়ার মিনচ নামক এক অভাগা যুবক পৃথিবীর স্থূলতম ব্যক্তি হিসেবে খ্যাতিলাভ করেছে। বারো বছর বয়েসে তার ওজন ছিল ২৯২ পাউণ্ড, শেষে তা বেড়ে বেড়ে সর্বোচ্চ সীমাতে পোঁছায়-১৪০০ পাউণ্ড। এত ভারি ছিল সে যে মাপন যন্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে ওজন নেবারও উপায় ছিল না। তাকে একবার হাসপাতালে নিতে হয়েছিল চিকিত্‌সার জন্যে। হাসপাতালে নেবার জন্যে দমকল বাহিনীর ইয়া তাগড়া তাগড়া এক ডজন জোয়ান পুরুষ, এবং বিশেষ অর্ডার দিয়ে তৈরি করা স্ট্রেচারে করে তুলতে হয়েছিল। নিছক কায়িক ওজনের ভারেই বেচারা মারা যায় ৮৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর, ৪২ বছর বয়সে। আমাদের অভাগা দেশটিও কি কিনচের মত অকালে মৃত্যুবরণ করবে জনসংখ্যার ভারে? দেশের মাটি কতকাল বইবে এই দুর্বহ ভার?

ভিড় যদি আচ্ছন্ন না করে থাকে প্রবাসীর চোখ, আকাশের ঘোলাটে রঙ না করে পারবে না। দিনের বেলার উষ্ণ আলো হয়ত রয়েছে তার আসর ছড়িয়ে, কিন্তু সূর্য কোথায়। বাংলাদেশের শীতের আকাশ সূর্যহীন। ঢাকা পড়ে গেছে দূষিত বাষ্পের আড়ালে। ঢাকার বাইরে গেলে দেখা যায় একটু আধটু, কিন্তু ঢাকার মানুষ যেন সূর্যকে হারিয়েছে চিরকালের জন্যে। দূষিত বায়ুকে যদিবা মেনে নেন আপনি, ঢাকার ধূলা আপনাকে অভিভূত না করে পারবে না। ধূলার একচ্ছত্র রাজত্ব সেখানে। যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই ধূলা, ধূলা আর ধূলা। প্রতিটি গাছের প্রতিটি পাতায়, প্রতিটি শাখায়, প্রতিটি পথচারির প্রতি নিঃশ্বাসে, প্রতি পদক্ষেপে, নাকের নালীতে, গলায়, মুখে, চুলে, কানে, জামায়। ঢাকার ধূলা দেখে আলফ্রেড হিচককের সেই অমর ছবির অসংখ্য দাঁড়কাক বাহিনীর কথা মনে পড়ে যায়। ওরকমই ভয়াবহ যেন এই আক্রমন। ঘরে ফিরে নাক ঝাড়ার পর বোঝা যায় কত ধূলার কত কাদা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গি হয়ে উঠেছে। দেশে গিয়ে আমাদের শ্বাস নিতে ভয় হয়, মুখ খুলে কথা বলতে ভয় হয়, পাছে না ধূলার দৌরাত্ন্যে ফুসফুস ফেটে চৌচির হয়ে যায়।

অথচ জানি, সেখানেও মানুষ শ্বাস নেয়, মুখ খোলে, কথা বলে নিঃশঙ্কচিত্তে। এবং তত্‌ক্ষণাত্‌ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যায় না। সেখানেও মানুষ হাসে, খেলে, তুচ্ছ কৌতুকে হেসে লুটোপুটি হয়, শিশুরা পুতুল নিয়ে খেলা করে, ছেলেরা রাস্তায় গিয়ে সেই ধূলার মাঝেই ক্রিকেট খেলে, একে অন্যকে তাড়া করে খেলার ছলে। ধূলার রাজ্যেও মানুষ শিখে নিয়েছে কেমন করে বেঁচে থাকতে হয়, কেমন করে তাকাতে হয় ভবিষ্যতের স্বপ্নভরা নীলাভ্র আকাশের দিকে, কেমন করে ভালবাসতে হয় সেই অপয়া ধূলাকেই, কেমন করে ভালবাসতে হয় পাশের মানুষটিকে, প্রেমে পড়তে হয় পাড়ার রূপসী মেয়েটির সঙ্গে। সেখানেও মানুষ স্বপ্নের জাল বুনতে শিখেছে। কেবল আমরা, প্রবাসের এই পথভ্রষ্ট শীতের পাখিরাই ভুলে গেছি কেমন করে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে আপোস করে চলতে হয়। কটা বছর বিদেশবাসের পর কি যেন হয় আমাদের, আমরা বিদেশের মাপকাঠিতেই দেশকে বিচার করতে প্রবৃত্ত হই নিজেদের অজান্তে। আহারে, দেশটা যদি এদেশের মত হতে পারত বলে আহাজারি শুরু করে দিই।

দেশে গিয়ে এবার দুয়েক জায়গায় কিছু বলার নিমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। আমি রাজি হইনি। কিছু বলা মানে নিজের অজান্তে কিছু সমালোচনা, কিছু হেদায়েত, কিছু মুরুব্বিয়ানা, এসব ন্যক্কারজনক কাজ করে আসা। যা আমি অত্যন্ত অপছন্দ করি। যারা সেখানে থাকে, সাধারণ দেশবাসীদের সঙ্গে একই সঙ্গে একই পরিবেশে থাকে খায় ঘুমায় ভোগে, হেদায়েত করা বা না করার অধিকার তাদের। আমার সে অধিকার নেই। আমার অধিকার শুধু দেশে গিয়ে লোকের বাড়ি বাড়ি নিমন্ত্রণ খেয়ে বেড়ানো, লোকের গাড়ি করে এখানে ওখানে ঘোরা, পুরোনো বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে পুরোনো দিনের জাবর কাটা। আমাদের দেশে যাবার মূল আকর্ষণ তো সেটাই, তাই না? এ আমরা সবাই করি। ব্যতিক্রম অবশ্য আছে। প্রবাসে আজকাল বেশ কিছু সহৃদয় ব্যক্তি আছেন যারা দেশের জন্যে কিছু বলার চেয়ে বরং কিছু করার জন্যেই বেশি উত্‌সুক। অনেকেই দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, হয় বাবামার নামে, নয়ত নিজেরই পছন্দকরা কোন নাম দিয়ে। তাঁরা দেশে যান প্রধানত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাজকর্ম নিজের চোখে দেখার জন্যে। তাঁরা নমস্য ব্যক্তি। দেশের পুর্ণাঙ্গীন পরিবর্তন হয়ত তাঁদের ব্যক্তিগত, এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টা দ্বারাও সম্ভব হবে না, কিন্তু তাঁদের প্রচেষ্টা কিছু কিছু মানুষের জীবনে তুমুল পরিবর্তন আনবে, কিছু কিছু অভাবী ও মেধাবি ছেলেমেয়ের মেধার বিকাশ ঘটাবার পথ উন্মুক্ত করতে সক্ষম হবে। তাও কম অর্জন নয়। কিন্তু সর্বাঙ্গীন উন্নতি- আর্থিক, সামাজিক, ও নৈতিক পরিবর্তনের জন্যে পুরো জাতিটাকেই কাজ করতে হবে একসঙ্গে, একই লক্ষকে উদ্দেশ্য করে এগিয়ে যেতে হবে দৃপ্ত পদক্ষেপে। সমস্যা সেখানেই-এগিয়ে যাওয়া। একত্রে চলা। হাত মেলানো। সেটা এখনও স্বপ্ন।

বিশ্বাস করুন, দেশের ভাল দিকটাই কেবল দেখতে চেয়েছিলাম, মন্দটার থেকে চোখ কিন্তু ফিরিয়ে। কিন্তু তাকে দেখেও না দেখার ভাণ করে থাকাটা সহজ নয়। মন্দ যেন একটা জগদ্দল পাথর, যেখানে যাই সেখানেই সে তার কুত্‌সিত্‌ মুখ একেবারে চোখের সামনে নিয়ে চলে আসে। এবার গিয়ে কি দেখলাম আমি? কি দেখছেন অন্যান্য প্রবাসীরা? অন্যদের কথা আমি বলতে পারব না, দেখার কাজটি সবাই নিজ নিজ দৃষ্টিকো থেকে করে, তাই একই জিনিসের দিকে তাকিয়ে একেক মানুষ একেক জিনিস দেখে। আমি শুধু আমার দেখাটির কথাই বলতে পারব। হ্যাঁ, যানজট আমিও দেখেছি, ভুবনগ্রাসী ধূলার পাহাড় আমারও চোখে পড়েছে, মশার উত্‌পাতে আমিও অতীষ্ট হয়েছি। কিন্তু এ সবকিছুকে ছাড়িয়ে আমি দেখেছি মানুষকে, মানুষ কিভাবে যাপন করে চলেছে তাদের দৈনন্দিন জীবন। দেখেছি কিভাবে আমার দেশের মানুষ, আমার আপনজনেরা, চেনাজানা বুদ্ধিজীবিরা, নিজেদের অজান্তে একটা অলীক সুখের স্বর্গ তৈরি করে যাচ্ছেন, কিভাবে তারা নিজেদের ভবিষ্যতকে নিজেরাই অন্ধকারের পথে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন, এবং সেটা ধরিয়ে দিলে তার জন্যে বারবার দায়ী করে চলেছেন বিদেশী শক্তিকে, বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে। স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরে আমি এতটা ভারতবিদ্বেষ দেখতে পাব বাংলাদেশের শিক্ষিত মহলে কল্পনা করিনি। আমাদের জাতীয় ইতিহাস যেন স্মৃতির কৃষ্ণবিবরে প্রবেশ করে আর ঊঠতে পারছে না।

  কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা কোনটি বলে আপনার মনে হয়। আমি বলিঃ প্রতিটি সমস্যাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। তবে যদি বলেন সবচেয়ে মূল সমস্যাটি কি তাহলে আমাকে বলতে হয়, চরিত্র। জাতির সার্বিক চরিত্র, সেখানেই আমাদের আসল সমস্যা। যাকে বলে, সব সমস্যার জননী। আমার সঙ্গে আপনি একমত হয়ত হবেন না, কিন্তু আমার দৃষ্টিকো থেকে এই চারিত্রিক ব্যাপারটিই দেশটাকে কিছুতেই এগুতে দিচ্ছে না। একমাত্র মায়নামার আর পাকিস্তান ছাড়া আশেপাশের সবগুলো দেশই কিছু-না-কিছু উন্নতি করেছে, সুনাম অর্জন করেছে বিদেশে, ব্যবসাবানিজ্যে পসার লাভ করেছে। কেবল আমাদের হতভাগা দেশটাই যেন একপা এগুলে দুপা পিছিয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা তার একটা কারণ, সেটা মানতেই হবে। অন্যান্য দেশের মত খনিজসম্পদও আমাদের নেই। বনসম্পদ, জলসম্পদ এদুটি প্রচুরই ছিল আমাদের এককালে, কিন্তু সেটা প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছি আমরা, চার পাঁচ দশকের মধ্যে, প্রধানত জনসংখ্যার চাপে, দ্বিতীয়ত সেই চারিত্রিক অস্বচ্ছতার কারণে। উচ্চশিক্ষিত লোকের খুব যে অভাব আছে আমাদের দেশে তা নয়, কিন্তু তুলনামূলকভাবে খুব বেশি নেই আমাদের শিক্ষিত জনসম্পদ, নিছক জনসংখ্যার বিচারে। যা আছে সে এক বিশাল আদি অন্তহীন প্রায় নিরক্ষর শ্রমিকবাহিনী, যারা একসময় পূর্বপুরুষের ক্ষেতখামারে চাষাবাদ করে মোটামুটি সচ্ছল অবস্থায় জীবন কাটাত। এখন তাদের সেই ক্ষেতখামার ভাগবাটোয়ারা হতে হতে প্রায় শূন্যতে নেমে গেছে বলে কৃষিকর্ম দিয়ে জীবনরক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ভাগ্যক্রমে (কেউবা বলে দুর্ভাগ্যক্রমে) মধ্যপ্রাচ্যে তেলের জলুস এসে যাওয়াতে এই কৃষক ছেলেগুলোর কায়িক পরিশ্রম দিয়ে বেশ কিছু পয়সা করার সুযোগ এসে গেল। তারা দলে দলে বেরিয়ে পড়ল মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। তারপর মালয়েশিয়াতে, যে যেখানে পারে। শেষে পশ্চিমেও। আমাদের সরকার এখন বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেন যে, এই শ্রমজীবি ছেলেরাই আমাদের দেশের সত্যিকার সম্পদ, কারণ তারাই দেশের কোষাগারে নিয়ে আসছেন সবচেয়ে বেশি বিদেশী মুদ্রা। সেটা আমি সর্বান্তকরণে স্বীকার করি। সাথে সাথে এটাও আমি না বলে পারছি না যে আমাদের এই খেটে-খাওয়া ছেলেমেয়েগুলো আরব শেখেদের কাছ থেকে যে ধরণের তুচ্ছতাচ্ছিল্যমূলক ব্যবাহার পাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে অহরহ তাতে এই কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের জন্যে আর কতদিন গৌরবজনক বলে গণ্য হবে সেটা ভাববার বিষয়। তার ওপর ঘনঘনই এই ধনী দেশগুলি থেকে হুমকি আসে সামান্য ছুতোতে বাংলাদেশী শ্রমিকদের বহিষ্কার করে দেওয়ার। এবং ঘনঘনই আমাদের সরকারকে সেই দেশগুলোর শাসকবর্গের কাছে গিয়ে করজোড়ে প্রার্থনা করতে হয় দয়া করে যেন হুজুরেরা তাঁদের এই হতভাগা সহমুসলমানদের গুস্কাকি মাফ করে দেন এবারের মত।

দেশে গিয়ে এবার ২৬ দিন ছিলাম মোটমাট। পত্রপত্রিকা আর দূরদর্শনীতে অনেক খবরই পাওয়া গেল। কুতুবুদ্দিন নামক এক উচ্চপদস্থ ব্যক্তি পেশাগত অনিয়মানুবর্তিতার (সাধারণ ভাষায় যাকে বলা হয় দুর্নীতি) অপরাধে একবছরের কারাদণ্ড সম্মানের সাথে সমাপ্ত করবার পর বাড়ি ফিরে এসেছেন এবং অনুকূল রাজনৈতিক আবহাওয়া সৃষ্টি হবার কল্যানে তাঁর আগেকার বরখাস্ত হওয়া চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছেন। খবরে পড়লাম যে সম্প্রতি তাঁর মাতার পরলোকগমনের চল্লিশা পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত ভোজানুষ্ঠানে গ্রামের ৩৫,০০০ লোক নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন। তার জন্যে ৫০ টি বড় বড় গরু জবাই করতে হয়েছিল, ভাত রান্না হয়েছিল ৫০০ মণ চালের, এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচপত্রে সব মিলিয়ে মোটমাট ব্যয় হয়েছিল ২ কোটি টাকা। এক দুর্মুখ সাংবাদিক এ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি উদার হাসি দিয়ে বললেনঃ আল্লা আমাকে হিকমত দিয়েছেন, তাই আমার মায়ের এন্তেকালে আমার প্রিয় দেশবাসীদের একটু খানাপিনার ব্যবস্থা করেছি। এটা করতে পারলাম বলে করুনাময়ের কাছে আমার হাজার শুকরিয়া। এতে আপনারা খারাপ কি দেখলেন?

তাইতো, খারাপ কি দেখার আছে এতে?

আরেক খবরে পড়লাম, সহস্র কোটি টাকার এক বিশাল প্রকল্প বিদেশের দাতা প্রতিষ্ঠানদের দপ্তর থেকে প্রাথমিক আশীর্বাদলাভের পর বাংলাদেশের সরকারি এবং ঠিকাদার মহলে ঘোরাফেরা করছে। খবরটা এই ঘোরাফেরা নিয়েই। পত্রিকায় যে বিবরণটি পড়লাম তাতে মনে হল প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে বরং মঞ্জুরিকৃত অর্থের ভাগবাটোয়ারা নিয়েই এখন তুমুল কামড়াকামড়ি শুরু হয়েছে, এমনকি মামলামকোদ্দমাও। কোন এক মন্ত্রী তাঁর এক আত্মীয়ের কোম্পানিকে প্রকল্পটির পুরো দায়িত্ব দিয়ে ফেলেছেন এই মর্মে খবর প্রকাশ হবার সাথে সাথে বিপক্ষ দল মহা ক্ষিপ্ত হয়ে আপত্তি তোলার সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হওয়া, যদিও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হওয়া দূরে থাক, নীল নকশাটিও চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেনি দাতাদের কাছ থেকে। দৃশ্যটি কি কারো কাছে খুব অপরিচিত বলে মনে হচ্ছে?

দুর্নীতিদমন নামক জাদুকরি শব্দদুটি কবে থেকে শুনে আসছি মনে করতে পারছি না। কম করে বছর পঞ্চাশেক তো হবেই। সেই আয়ুব খানের আমল থেকে, যখন জেনারেল আজম খান ঢাকায় এলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় পচন-ধরা দুর্নীতি দমন শুধু নয়, একেবারে বন্দুকের বাঁট দিয়ে পিষে ফেলার জন্যে। দেখা গেল দুর্নীতি পিষতে গিয়ে বন্দুক নিজেই পিষ্ট হয়ে গেল। তার আগে অবশ্য যুক্তফ্রন্ট সরকার হয়েছিল পঞ্চাশ দশকের গোড়াতে, তাদেরও একটা দুর্নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ছিল। অনেকের ধারণা, দুর্নীতি বস্তুটি ঠিক তখনই পাকাপোক্তভাবে আসন গ্রহন করে আমাদের দেশে। এর পর যতগুলো সরকার এসেছে সবারই আর কোন দপ্তর থাক বা না থাক দুর্নীতি বিষয়ক দপ্তর অবশ্যই ছিল। এটা আমাদের ডালভাত। আমাদের ঐতিয্যেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আসলে আয়ুব খান আর আজম খানের অনেক আগেই দুর্নীতি ছিল আমাদের দেশে। সেই ব্রিটিশ আমলেই। আমার মনে আছে ৪৩এর দুর্ভিক্ষের কথা-রাস্তা থেকে মরা লাশ তুলে যথাযথ দাফন-কাফন করিয়ে সম্মানের সঙ্গে গোরস্থ করার জন্যে এক জনাবকে কন্টাক্ট দেওয়া হয়েছিল। গুজবে প্রকাশ বেচারিদের কবর দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কাফনটাই দেওয়া হয়নি ভুলে। সেই জনাব যুদ্ধের পর কাফনচোর বলে খ্যাতি অর্জন করা সত্ত্বেও পাকিস্তান যুগে বিপুল ধনসম্পদ ও প্রভাবপ্রতিপত্তির অধিকারি হয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রায় সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। আমাদের জাতি ক্ষমাশীল জাতি তা হয়ত হলপ করে বলা যাবে না, তবে দারুণ ক্ষমতাভক্ত জাতি তা বোধ হয় জোর দিয়েই বলা যায়। সেকারণে এদেশে দুর্নীতি কোনও অপরাধই নয় যদি সে অপরাধের অপবাদটিকে গা না করে নিম্নলিখিত দুটি সত্‌কাজ সম্পন্ন করা যায়ঃ

  (১) হজ্ব, অন্তত একবার, একাধিকবার হলে আরো ভাল;

  (২) অফুরন্ত ধনসম্পদের মালিক হওয়া, যাতে করে উপরোক্ত কুতুবুদ্দিনের মত ৫০ টি গরু জবাই করে ৩৫,০০০ গ্রামবাসীকে পেট পুরে খাইয়ে দেওয়া যায়।

তৃতীয় আরেকটি গুণ থাকা বাঞ্ছনীয়- রাজনৈতিক গদিতে সমাসীন থাকা (এটা অবশ্য আবশ্যিক নয়)।

উদাহরণ স্বরূপ ধরুন আমাদের মহান নেতা জেনারেল এরশাদ। আপনারা এত যে তাঁর গলায় জুতার মালা পরাবার চেষ্টা করলেন ৯০ তে, কই, তাতে কি তাঁর এলাকার লোকেরা তাঁকে ভোটে জিতিয়ে দিতে দ্বিধা করেছে, না কখনো করবে? এমনকি নোয়াখালির গনি হাজারিও বারবার জিতে আসবেন বিপুল ভোটাধিক্যে, সেটা আপনি নিশ্চিত ধরে নিতে পারেন। এর নাম আপনি দুর্নীতির প্রতি ঘৃণা বলতে চান? কথাটা হল, দুর্নীতি আপনিও করেন আমিও করি, তাতে খারাপ কিছু নেই, খারাপ হল ধরা পড়া। অবশ্য ধরা পড়ে গেলেও ছাড়া পাওয়ার একটা উপায় আছে। ৫০ টা গরু জবাই করে দিন, আর টুপি দাড়ি বাগিয়ে বারদুয়েক হজ্ব করে আসুন, শয়তানকে একটার বদলে দশটা ঢিল মেরে আসুন, একটার বদলে সাতটা দুম্বা কোরবানি দিয়ে আসুন, দেখবেন সব গুনাহ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে।

স্বাধীনতার পর দেশের সবচেয়ে হাস্যকর ঘটনা কোনটি ছিল বলে আপনার মনে হয়? মানে যার জন্যে আপনি এখনও হাসি থামাতে পারছেন না? আমার মতে সেটা হল গত তত্বাবধায়ক সরকার। তথাকথিত ১/১১ এর পরবর্তী দুটি বছরের রাজনৈতিক নাটক যাদের মনে আছে তাঁরা হয়ত এখনও আমার মত হেসে লুটোপুটি হচ্ছেন। বি এন পি সরকারকে সদর রাস্তা দেখিয়ে তাঁরা কাছা বেঁধে নামলেন দুর্নীতি দূর করার দৃঢ়সঙ্কল্প নিয়ে, আর দেশবিদেশের নির্বোধ বাঙ্গালি বগল বাজিয়ে রাস্তায় নেমে হুলাহুলা নৃত্য শুরু করে দিলেন, মনে আছে সে-দৃশ্য? একেকজন রাঘববোয়ালকে মধ্যরাতে ঘুম থেকে তুলে হাতকড়া পড়িয়ে হাজতে ঢোকানো আর সারামুল্লুক খুশিতে আত্মহারা হয়ে ওঠা, আপনারা কি সত্যি সত্যি ভেবেছিলেন দেশটা দুর্নীতিমুক্ত হয়ে গেল? সত্যি সত্যি খালেদা-হাসিনা শ্রীঘরে বাস করা কালে পরস্পরের চুল ছেঁড়ার পরিবর্তে পরস্পরের চুলের উকুন বাছতে শুরু করবেন? না ভাই আমি ভাবিনি। আমি ঘরপোড়া গরু, সিঁদুর দেখে তো ভয় পাইই, না দেখেও পাই। ১/১১ এর ত্রাণকর্তা, জনাব ফখরুদ্দিন ও তাঁর সহচররা কোথায় এখন? স্মৃতির কৃষ্ণগহ্বরে।

ভাল কথা, এই যে তত্ত্বাবধায়ক শব্দটি, আমাদের গণতন্ত্র প্রেমিকরা যেশব্দটিকে ভীষণ পছন্দের চোখে দেখেন, সেটাকে কি আমাদের জাতীয় গৌরবের অংশ বলেই মনে হয় আপনার, না, জাতীয় লজ্জার? আমার কানে কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক বলতে অনেকটা মুরুব্বি, অভিভাবক জাতীয় শব্দ মনে হয়। তার অর্থ সাবালক না হওয়া পর্যন্ত যাদের শাসন মেনে চলতে হয় আমাদের, যারা আমাদের খবরদারি করেন। এতে কি রেস্পেক্ট প্রকাশ পায়, না, প্রকাশ পায় ডিস্ট্রাস্ট? কেউ কাওকে বিশ্বাস করতে পারেনা আমাদের দেশে, সেজন্যেই নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক দরকার। মুস্কিল এই যে তত্ত্বাবধায়কের ওপরও সবার সমান আস্থা নেই। তাঁরা যখন একপক্ষের সমর্থনযোগ্য কথাবার্তা বলেন, তখন অপরপক্ষ গোসা। অপরপক্ষ সমর্থন করলে এপক্ষ কপাল কুঁচকে থাকেন। দুঃখিত, তত্ত্বাবধায়ক শব্দটি আমাকে গর্বে বুক ফুলিয়ে রাখতে সাহায্য করেনা। বরং উল্টোটাই।

বলা হয় দেশের তরুনরাই আমাদের আশা, আমাদের ভবিষ্যত্‌। তাই যদি হয় তাহলে ভাই আমি তেমন ভরসা পাচ্ছি না যে সেই ভবিষ্যত্‌টি খুব উজ্জ্বল। আমার ২৬ দিনের অভিজ্ঞতাতেই কতগুলো জিনিস লক্ষ্য না করে পারা গেল না। ২৬ দিনে অন্তত তিনটে ক্যাম্পাস সন্ত্রাসের ঘটনা পড়েছি। এবং তিনটিতেই ছাত্রলীগ আর শিবিরের ভূমিকা। ছাত্রলীগের নেতা বা কর্মী বা সাধারণ সমর্থক, হলের ভেতরেই নির্মমভাবে নিহত হয়েছে-ছাত্রলীগ বলছে শিবিরের কাজ, শিবির বলছে ছাত্রলীগের অন্তর্দ্বন্দ্ব। এই তো গেল খুনের ঘটনা। পত্রিকায় একটা ছবি দেখলাম যাতে ছাত্রলীগের পাণ্ডারা মধ্যযুগীয় দা কুড়াল চাপাতি নিয়ে প্রকাশ্য ময়দানে, ক্যাম্পাসের ভেতরেই, শত্রু খুঁজে বেড়াচ্ছে। সে এক ভয়াবহ দৃশ্য।

ছাত্রনেতারা একে অন্যের এলাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ক্যাম্পাস আর হলগুলোর ভেতর। একের এলাকাতে আরেকজনের প্রবেশ করা মানেই খুলিটাকে জমা রেখে আসা। দৌরাত্ম্যের কৃতিত্ত্ব কোন্‌ দলের বেশি প্রাপ্য সেটা নির্ভর করে কোন দল কখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এ ব্যাপারে কারো কোন একচেটিয়া দাবি নেই- দুয়েরই সমান অধিকার। দুই বলা ঠিক হল না। আমাদের পরম প্রিয় শিবিরেরও বিরাট ভূমিকা সেখানে। জনাব মতিউর রহমান নিজামী বিবৃতি দিয়েছেনঃ শিবির আমাদের দেশের নেয়ামত!

ছাত্ররাজনীতির যে জিনিসটা আমাকে, এবং আমার মত নিরাশভাবাপন্ন মানুষকে, বিশেষভাবে বিচলিত করে সেটা হল তাদের তথাকথিত ভর্তিবাণিজ্যের ব্যাপারটি। মফঃস্বলের কলেজগুলোতে, হয়তবা ঢাকা-চাটগাঁতেও, নাকি নিয়ম হয়েছে যে স্নাতকশ্রেনীর ভর্তিতে রাজনৈতিক কর্মীদের জন্যে একটা কোটা রাখতে হবে, অর্থাত্‌ যারা রাজনীতি করে তাদের মাথায় মগজ থাক বা না থাক, পঁচা গোবর থাকলেও ক্ষতি নেই, তাদের একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার জন্যে আলাদা সীট খালি রাখতে হবে-সাধারণ পাস কোর্সে নয়, একেবারে অনার্স ক্লাসে। ভাল কথা। মহত্‌ উদ্দেশ্য? মহান কাজে দামাল ছেলেরা নিজেদের জীবন উত্‌সর্গ করছে, তার কোন স্বীকৃতি থাকবে না বুঝি? অবশ্যই থাকবে। থাকতেই হবে। দেশের লোক চাক বা না চাক, রাজনৈতিক দলগুলো মনে হয় এই ধারণাই পোষণ করেন। মুস্কিল এই যে নেতারা সেই সুবিধাটুকু ঠিক ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করছেন না, মানে নিজেরা লেখাপড়া করে জ্ঞানবৃদ্ধি করছেন তা নয়, মোটা টাকার বিনিময়ে অন্যের ভর্তির ব্যবস্থা করছেন। শুনেছি একেকটি ভর্তির জন্যে কম করে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কোটার আইন দেখিয়ে তাঁর ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জোর করে আদায় করে নিচ্ছেন তাদের দাবিদাওয়া। শোনা গেছে এই লাভজনক ব্যবসাতে কিছু অধ্যাপকও জড়িত। অবাক হবার কিছু নেই। এই অধ্যাপকেদেরও কেউ কেউ হয়ত ঠিক একই উপায়ে পাসটাস করে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছেন।

      আপনি বলছেন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার হওয়া দরকার। আমিও বলছি। কিন্তু যত সংস্কারই আনুন না কেন আপনি কোনটাই কাজে দেবেনা যতক্ষণ না আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তাভাবনা আগাগোড়া বদলে যাচ্ছে। যার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা আমি দেখিনি দেশে। অন্তত অদূর ভবিষ্যতে তা যে হবে না সেটা আমি হলপ করে বলতে পারি।

আপনি বলছেন আশা? কি নিয়ে আশা করব ভাই? পচন তো শুধু ওপরতলায় নয়, সমস্ত জাতির শরীরই এখন পঁচে দুঃসহ অবস্থায় পৌঁছে গেছে। ছোট বড় গরিব ধনী কেউ আইন মানে না এখন। ভাবখানা এই যে আইন হল অন্যের জন্যে, আমার নয়। তাছাড়া অন্য কেউ আইন মানে না, আমি মানব কেন? আমরা আইন মানি শুধু মসজিদে, হুজুরের শামিয়ানার নিচে, আর কোথাও কোনও আইন মানার প্রয়োজন আমরা মানি না। স্বাধীন দেশে আল্লার আইন ছাড়া মানুষের আইন মানতে হবে কেন?

আশা? কোথায় দেখছেন আপনি আশার আলো? দুঃখিত, আমি দেখতে পাচ্ছিনা।

 

অটোয়া,

এপ্রিল ১০, ২০১০

 

মন্তব্য:
দীপেন ভট্টাচার্য   May 30, 2010
মীজান ভাই, যথারীতি আপনার কলম ক্ষুরধার। আপনার গত সংখ্যার মপার্তুই-এর ওপর লেখাটাও ছিল সাংঘাতিক। বাঙ্গালী চরিত্র সম্পর্কে আপনার মন্তব্যের সঙ্গে একমত। দুর্নীতি প্রসঙ্গে একটা চালু কৌতুক বলি। গ্রামের দুজন নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। একজন সৎ, জমি-জমা নেই, বড় বাড়ি নেই, আর একজন অসৎ, বিশাল বাড়ি, প্রচুর বাড়ি। সাংবাদিক গ্রামের লোকজনকে জিজ্ঞেস করে কে সৎ, কে অসৎ। গ্রামের লোক জানে কে কি। সাংবাদিক বলে, তাহলে তো আপনারা সৎ লোকটিকেই ভোট দেবেন? গ্রামের লোক বলে, উনি সৎ ঠিকই, কিন্তু উনি তো নিজের জন্যই কিছু করতে পারেন নি, তাহলে আমাদের জন্য করবেন কেমন করে? ভাল থাকবেন।
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.