Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ১২তম সংখ্যা চৈত্র ১৪১৬ •  9th  year  12th  issue  Mar - Apr  2010 পুরনো সংখ্যা
ইসলামিক এনজিওগুলো যা করছে Download PDF version
 

বাংলাদেশের এনজিও

 

ইসলামিক  এনজিওগুলো  যা  করছে

 

মনির  জামান

 

ইসলামিক এনজিওগুলো ইদানিং যে জঙ্গিবাদকে অর্থযোগান দিচ্ছে তা নতুন ঘটনা নয় মোটেই। ১৮ শ' সালের শেষ দিকে এবং উনিশ'শ সালের সূচনায় মুসলিম রিয়া রক্ষার জন্য যে সব আন্দোলন সংগ্রাম বাংলার মুসলমানরা করেছিল সেগুলোও ছিল আরব ধর্মগুরুদের প্রশ্রয়ে পরামর্শে এবং ফতোয়ার বিধানের ভিতর দিয়ে। মক্কা-মদিনার ধর্মগুরু এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক বাদশারা ঐ সময় থেকে ধর্মরক্ষাকারী জেহাদিদের অর্থ যোগান দিয়ে যাচ্ছে। তিতুমীরের উত্থান ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেপথ্যে ছিল এ ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ধর্মীয় ফতোয়ার প্রেরণা। তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল মদিনার ওহাবী সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু আব্দুল ওহাব স্বয়ং। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সৌদ রাজবংশীয়  বাদশারা সারা বিশ্বে মুসলিম সংস্কৃতি রক্ষা এবং ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান-আফগানসহ এশিয়া-আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিকাংশ দেশে জেহাদী গ্রুপ তৈরি করার জন্য ব্যাপক অর্থ যোগান দিয়ে যাচ্ছে। এই অর্থ আসছে মুসলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ মাদ্রাসা এবং ইসলামী শিক্ষাসংস্কৃতির বিকাশ ও উন্নয়নের নাম করে। বিভিন্ন দেশে তারা জেহাদী মনোভাবাপন্ন স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের অবলম্বন করে এই অর্থ যোগান দিচ্ছে।

ভারতবর্ষে মওলানা মওদুদী এবং তার মতবাদীরা জেহাদের জন্য সৌদি অর্থ সাহায্যের প্রধান গ্রহিতা সম্প্রদায়। তারা পূর্ববাংলাকে মুসলমানের দেশ বানানোর জন্য নানা প্রজেক্ট দাখিল করে সৌদি থেকে ব্যাপক অর্থ সাহায্য এনে মসজিদ মাদ্রাসা স্থাপন করে জেহাদী ক্যাডার তৈরি করছে। ধর্ম র্চ্চার নামে এরা অন্যান্য মতবাদী বাঙালি মুসলমানদেরকেও ধ্বংসের প্রচেষ্টায় রত। এরা সুফিবাদ বিরোধী বিধায় মাজার ধ্বংস করছে। মারেফতি লাইনের ধর্ম র্চ্চাকে এরা সম্পূর্ণ ঘৃণা করে। ফলে এরা শাহজালালের মাজারে বোমা মারে এবং দিঘীর মাছগুলোকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে। এরা নিজেরা ইংরেজী শিক্ষিত হয়ে প্রচলিত আধুনিক রাজনীতিক ব্যবস্থার মধ্যে ধার্মিক ব্যক্তিরূপে আত্মগোপন করে গোপনে গণহত্যা চালায়।

১৯৭১ সালে বাঙালীর বিজয় যখন নিশ্চিত তখন এই জেহাদী ধর্মীয় ক্যাডাররা বুদ্ধিজীবি হত্যা করেছে নির্মমভাবে। এবং ঐ ধারাবাহিকতায় এখনো হত্যা করে যাচ্ছে। এদেরকে মদদ ও অর্থ যোগান দিচ্ছে উগ্র ইসলামবাদী আরব বাদশা। এরা জানে, ধর্মীয় পশ্চাদপদতা দিয়ে আধুনিক সমাজকে রোখা যায় না। তথাপি নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য এরা আধুনিকতা ও অগ্রসরতার উপর চোরাগুপ্তা হামলা চালায়। ওদের ধারণা, এতে অন্তত ক্ষুদ্র শক্তি অস্তিত্বশীল থাকবে। এবং কোন শক্তি যদি কৌশলে বজায় থাকে তা সময়মত বৃহৎ শক্তিতে পরিণত হতে পারে। এ ধরণের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত মধ্যযুগীয় আরব সাম্রাজ্যবাদের স্থানীয় এজেন্ট এবং এদেরকে আরব বাদশারা ছোট ছোট তহবিল দিচ্ছে শতবর্ষ ধরে। গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশে ইউরোপীয় সাহায্য সংস্থার আদলে জঙ্গী গ্রুপগুলোও আরবদের প্রদত্ত তহবিলগুলোকে এনজিওর ফর্মেটে গ্রহণ ও ব্যবহার করছে। এর কারণ সরকার ও জণগনের চোখে ধুলো দিয়ে  পতিত আরব সাম্রাজ্যবাদের ধর্মীয় আধিপত্য বজায় রাখা।

জেহাদী গ্রুপগুলো যদি মসজিদ মাদ্রাসা ইসলামী ব্যাংক বীমার বিকাশ ঘটিয়ে জনগণের মধ্যে ইসলামী ভাবধারা বিকাশ ঘটাতে পারে তাহলে এদেশের মানুষের বাঙালীত্ব এবং আধুনিকতা উভয়ই লোপ পাবে। বাঙালী হয়ে উঠবে অধিক মাত্রায় উগ্র মুসলিম। তখন এই জেহাদি গ্রুপগুলি আরব বাদশাদের সহায়তায় এদেশে ইসলামী প্রজাতন্ত্র কায়েমের মাধ্যমে বাংলাকে আরবদের মধ্যে উপনিবেশ বানাতে পারবে। এজন্য এরা প্রগতিপন্থি আহমদ শরীফ, শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিনের মত ব্যক্তিদের হত্যা করতে সচেষ্ট হয়। এই প্রচেষ্টা প্রগতির দিকে ধাবিত হওয়া জনগোষ্ঠিকে একপ্রকার ভয় দেখানোর সামিল। এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার ভিতর দিয়ে জঙ্গী সম্প্রদায় আফগানে রক্ষণশীল সরকার গঠন করে আফগান জাতিকে আরো বিপর্যয়ের ভিতর ঠেলে দিয়েছে আফগান জেহাদে ধর্মীয় গুরু  হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন আরব বাদশা ওসামা বিন লাদেন এবং এদের আফগান নেতা ছিলেন  মোল্লা ওমর।

বাংলাদেশে ইসলামী জেহাদকে বাস্তবায়ন করার জন্য রাজনৈতিক দল হিসাবে মুখোশ ধারণ করে আছে কয়েকটি গ্রুপ। এরা যেমন প্রকাশ্য রাজনীতি করে তেমনিভাবে গোপন হত্যা ও নাশকতা চালায়। '৭৫ এর বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিক্রিয়াশীল সরকারের সঙ্গে ভিড়ে গিয়ে গত ত্রিশ বছরে বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংক, বীমা, ব্যবাসা প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়ায় হিন্দু সম্প্রদায়কে এদেশ থেকে বিতাড়িত করে বাংলাকে মুসলমানের দেশ বানাতে সক্ষম হয়েছে। এখন তাদের উদ্দেশ্য ইসলামী রাষ্ট্র বানানো। তারই পাঁয়তারা হিসেবে জোট সরকারের আমলে বাংলাভাইকে দিয়ে বাগমারা অঞ্চলে ইসলামী কানুন প্রচলনের প্রচেষ্টা চালায়। এবং এসব প্রচেষ্টার অর্থ জোগান আসে ইসলামী এনজিওগুলোর ছদ্ধাবরণের ভিতর দিয়ে। এ ধরণের এনজিওর  অস্তিত্ব এবং কার্যক্রম পর্যালোচনা না করলে দেশের প্রগতিশীলতা ও উন্নয়ন বাঁধার মুখে পড়বে। দরিদ্র শ্রেণীকে ধর্মের নামে কুক্ষিগত রাখা এ ধরণের এনজিওর প্রধান উদ্দেশ্য, যেখান থেকে বেরিয়ে আসে বাঙালীর জঙ্গিরূপ, যা বাঙালীর রূপ নয়, যা বাঙালীর মুসলমানের ধর্মীয় উদ্দেশ্যও নয়।

ঢাকা থেকে

মার্চ ৫, ২০১০

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.