Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ১২তম সংখ্যা চৈত্র ১৪১৬ •  9th  year  12th  issue  Mar - Apr  2010 পুরনো সংখ্যা
জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশে ইসলামী এনজিওসমূহ Download PDF version
 

বাংলাদেশের এনজিও

 

জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশে  ইসলামী  এনজিওসমূহ

 

আরাফাত  তারেক

 

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওর ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭৮ হাজার এনজিও রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি অর্থায়নে অনেকগুলো ইসলামিক এনজিও বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার জঙ্গী তৎপরতা ও মৌলবাদী কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যেসব এনজিও রয়েছে তা অনুসন্ধান করে প্রায় ৫২টি ইসলামিক এনজিও-কে চিহ্নিত করে তা গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছে। এসব এনজিও সারাদেশে তাদের শক্তিশালী ভিত তৈরি করেছে। ইসলামিক বড় বড় এনজিও গুলোর মধ্যে রয়েছে : রাবিতা আলি আলম আল ইসলামী, আল মোনতাদা আল ইসলামী, সোসাইটি অব সোসায়েল রিফর্ম, কাতার চ্যারিট্যাবল সোসাইটি, ইসলামিক রিলিফ এজেন্সি, আল ফোরকান ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রিলিফ অরগানাইজেশন, কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি, মুসলিম এইড বাংলাদেশ, দার-আল খায়ির, তৌহিদী নূর, হাইয়্যাতুল ইজাচ্ছা, আল মারকাজুল ইসলামী, ইশরা ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইসরাহুল মুসলিমীন, আল মাগরিব আই হসপিটাল প্রভৃতি।

বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ৪৭৩টি স্থানীয় ও ২৫টি বিদেশী এনজিওকে এনজিও ব্যুরোর তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসময় জোট সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন জামাতে ইসলামীর সেক্রিটারি কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদ। বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে চেয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও কৃষি এবং পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয় মুজাহিদ ও আরেক কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী জামাতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী। যাদের মূল টার্গেটই ছিল জনগণের সাধার পর্যায়ে গিয়ে এনজিওর মাধ্যমে অর্থ প্রদান করে ইসলামী জঙ্গী তৈরি করা এবং তাদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে দেশের চূড়ান্ত ক্ষমতা দখল করা। এসময় খালেদা জিয়ার সরকার ৯০ হাজার কোটি টাকা যা আমেরিকান ১৩ বিলিয়ন ডলার বিদেশী সাহায্য ১১ হাজার এনজিওর নামে আসে। অর্থ প্রদানকারী দেশ সমূহের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, এমনকি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব অর্থের তদারকির জন্য ইসলামিক পন্ডিত, ধর্মীয় রাজনৈতিক নেতা, মাদ্রাসার প্রধান ব্যক্তিরা থাকতেন। ধর্মীয় নেতা বলতে জামাতে   ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। মাদ্রাসার প্রধান বলতে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বাধীন কওমী মাদ্রাসার নেতারা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ থেকে অর্থ আসতো মূলত: জাকাত, ফেতরা, ধর্মীয় শিক্ষা ও অরফানেজের নামে। অনাধুনিক ও ধর্মীয় গোঁড়ামির আদলে গড়ে ওঠা কওমী মাদ্রাসার নামে টাকা এনে- কোমলমতি কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাদেরকে জেহাদীর জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৯৯১ সালে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর দূর্গতদের জন্য অন্যান্য সরকারি ও বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কিছু ইসলামিক এনজিও সাহায্য দেওয়ার নামে তাদের কার্যক্রম শুরু  করে বলে- বিশ্লেষকদের অভিমত। এরপরে আন্তর্জাতিক ইসলামী এনজিওগুলো শক্তিশালীভাবে কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রমের মধ্যে ছিল- বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ, জনসেবামূলক যেমন: বসত-বাড়ি নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, সেনিটেশন মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইত্যাদি। এরপরেই ইসলামিক এনজিওগুলো শুরু  করে তাদের মূল কার্যক্রম অর্থাৎ সন্ত্রাসী জঙ্গী তৈরির মাধ্যমে সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষমতারোহনে। এজন্য তারা প্রথমেই বেছে নেয় রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো। তারা জঙ্গী তৈরির জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের গোপন আস্তানা গড়ে তোলে। এজন্য ব্যবহার করে মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলো। এসময় রাজশাহীতে আত্মপ্রকাশ করে জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-সংক্ষেপে জেএমবি। জানা যায়, সৌদি আরব-ভিত্তিক ইসলামিক এনজিও আল হারমাইন ইসলামিক ফাউন্ডেশন সে সময় রাজশাহী অঞ্চলে বিশ কিছু মসজিদের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সাহায্য প্রদান করে। এছাড়াও রমজান মাসে মসজিদে ইফতার পার্টির নামেও অর্থ আনয়ন করে। এর নেতৃত্ব দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের শিক্ষক আসাদুল্লাহ গালিব- যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তথ্য আছে তিনি, ইফতারের জন্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকা খরচ করেন রাজশাহীর বিভিন্ন মসজিদে। পরবর্তীতে খুলনা-সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগাম অঞ্চলে ইসলামিক এনজিওগুলো তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করে।

মওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ প্রতিষ্ঠা করে ইসলামুল মুসলিমাইন। তিনি এক বছরে প্রায় ১.৫০ কোটি টাকা লেনদেন করেন। পাশাপাশি আল মারকাজুল, রাবিতা আল ইসলাম সহ কয়েকটি এনজিও বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন খাতে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সাল থেকে ইসলামী এনজিওগুলো মূল টার্গেটে পৌছে যায়। অর্থাৎ বিন লাদেনের স্টাইলে অর্থাৎ তালেবানী শাসন কায়েম করার নিমিত্তে সার্ভেন্টস অব সাফারিং হিউমিনিটি ইন্টারন্যাশনাল সংক্ষেপে এসএস এইচআই-এনজিওটি প্রতিষ্ঠা করা হয়- যার অর্থায়ন করেন লাদেন স্বয়ং। এসময় একটি গোয়েন্দা সংস্থা উল্লেখিত এনজিওটির কার্যক্রম অর্থাৎ জঙ্গী কার্যক্রম পরিচালনাকারী কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। বিভিন্ন ইসলামী এনজিওগুলোর তৎপরতায় সারাদেশে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আকাশচুম্বী হয়। ১৯৭১ সালের কায়দায় সাধারণ মানুষকে নির্যাতন, হত্যা, বোমা হামলাসহ আতঙ্কিত করে তোলে বাংলাদেশকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা বিশেষ করে ১৭ আগস্ট একযোগে দেশের ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোর করে তারা জানিয়ে দেয়- তাদের ক্ষমতা পাহাড় সমান। সূত্রমতে জঙ্গীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সহায়তা করে কুয়েতভিত্তিক এনজিও রিভাইভেল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি এবং যুক্তরাজ্যের একটি মসজিদের ইমাম আতাউর রহমান। এই ইমামের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন জিএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলাভাই। জঙ্গী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা দেশের যে সব জায়গায় বৈঠক করে তারমধ্যে ছিল- নওগাঁ, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনির হাট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সাতক্ষীরা ও ঢাকা। এই বৈঠকগুলো তারা করে এপ্রিল থেকে মধ্য আগস্ট পর্যন্ত। তিনি ২০ আগস্ট বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। জামায়তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-জিএমবি ও জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ- জিএমজি বি- শীর্ষে থাকা এই দু'টি জঙ্গী সংগঠনের নেতা ১৭ আগস্টের বোমহামলার খরচকৃত অর্থ উত্তোলনের জন্য ইসলামী ব্যাংক চট্টগ্রাম শাখা ব্যবহার করেন। যুক্তরাজ্যের ঐ জঙ্গী মওলানা আতাউর রহমান বাংলাদেশে অবস্থান কালেই একযোগে বোমা হামলাটি হয়। ঢাকা থেকে পাঠানো টাকা উত্তোলন করেন মোহাম্মদ নামক এক জঙ্গী। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ইসলামী ব্যাংক শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করে। এদিকে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ   তাঁর তিনটি ব্যাংক একাউন্টে প্রায় ৩ কোটি জমাকৃত টাকা থেকে ৭০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে ১৭ আগস্টের বোমা হামলার নিমিত্তে খরচ করেন- যা গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে আছে।

বর্তমান সরকার উল্লেখিত উগ্র-মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থ যোগানদাতা ইসলামিক এনজিওগুলোকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছে এবং জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে মহাজোটের শরিকদল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশে খান মেনন এমপি ইসলামী ব্যাংকসহ ইসলামপন্থী সকল এনজিওর কার্যক্রম  বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার দাবী জানিয়েছেন।

 

ঢাকা থেকে

মার্চ ৫, ২০১০

 

 

মন্তব্য:
erewre   May 27, 2016
Ralph lauren from the United States, and with a strong flavor of the Ralph Lauren Polo . The two Ralph Lauren name brands Poloby Ralph Lauren and Ralph Lauren opened the sales of high quality fashion in the world, will the designer Ralph Lauren Hoodies reputation and carry forward the glorious image of the Ralph Lauren brand. RALPH LAUREN (RALPH LAUREN) the fashion of the classic "" brand. Ralph lauren (RalphLauren) is a thick the smell good taste of fashion brand, design style Is Ralph Lauren's two famous brand "Lauren Ralph Lauren" (Ralph Lauren women's clothing), and Ralph Lauren Short-sleeved Polos (Ralph Lauren Polo brand) common characteristics. In addition to fashion, Ralph Lauren (Ralph Lauren) brand perfume, children's clothing, household products etc. Ralph Lauren outline is an American dream: the long grass, glittering and translucent antique, Ma Baoju. Ralph Lauren (Ralph Lauren) products: clothing and furniture, perfume or vessel, cater to the customer to the perfect life of Ralph Lauren Shirts upper class. Or as Ralph Lauren (Ralph Lauren) Mr Himself says: "the purpose of my design is to realize people's dreams Ralph Lauren Long-sleeved Polos - can imagine the best reality." Ralph Lauren (Ralph Lauren) fashion design fusion fantasy and inspiration of classical, romantic, innovation, all the details of the architecture in a not on the values of being eliminated by the time. Ralph Lauren (Ralph Lauren) are the main consumer class of medium or above income consumers and celebrities Ralph Lauren Shorts , and comfortable, good wear moderate price of Ralph Lauren, Ralph Lauren POLO shirts in Europe and the United States and Asia, has become almost everyone in the wardrobe essential clothing style!
Mahmoodul Haque Sayed   April 5, 2010
"জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশে ইসলামী এনজিওসমূহ" একটি সময়োপযোগী তথ্যবহুল নিবন্ধ। আরাফাত তারেককে এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। জোট সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জামাতে ইসলামীর সেক্রিটারি কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদ-এর মাধ্যমে দেশের-সমাজের সর্বস্তরে উগ্র-মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের শেকর বিস্তৃত করেছে। তা সমূলে ধ্বংস করতে হবে।
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.