Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ১২তম সংখ্যা চৈত্র ১৪১৬ •  9th  year  12th  issue  Mar - Apr  2010 পুরনো সংখ্যা
নারীদের সামাজিক অবস্থা Download PDF version
 
বাংলাদেশের এনজিও

  

নারীদের সামাজিক অবস্থা

ফরিদা খান

  বাংলাদেশ তথা সমগ্র বাংলায় নারী অধিকার অর্জনের সংগ্রাম নতুন নয়। ইংরেজ শাসনের সময় বহু বাঙ্গালী নারী উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, বাংলার সংস্কৃতিতে মাতৃতন্ত্রের বহু উপকথা, প্রবাদ ও চিত্র বর্তমান। এই প্রবন্ধে আমি কিছু তথ্য ও উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে খুব সংক্ষেপে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে নারীদের অবস্থার একটি সাধারণ পর্যালোচনা করব।

প্রতি বছর জাতিসংঘ সারা বিশ্বে নারী অধিকারের যে অগ্রগতি নির্ণয় করে তাতে মানব উন্নয়নের শীর্ষক (Human Development Index) বলে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত বছর নারী উন্নয়ন শীর্ষকে বাংলাদেশ ১৫৫টি দেশের মধ্যে ১২৩ নম্বর স্থান অধিকার করে। নারী অধিকার আদায়ের শীর্ষকে বাংলাদেশের স্থান হয় ১০৯টি দেশের মধ্যে ১০৮তম। নিঃসন্দেহে এই সংখ্যাগুলি বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সম্মানের নয়। তবে আমার মনে হয় বিভিন্ন দেশের মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা আমাদের ভুল ধারনা দিতে পারে, বিশেষতঃ যখন এই শীর্ষক নির্ধারণের জন্যে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তা সব দেশের জন্য সমান ভাবে খাটে না। তবে কোন নির্দিষ্ট দেশের জন্য বিভিন্ন বছরের মধ্যে উন্নয়নের তুলনা হতে পারে। তবে এটা আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয় এবং আমি সাহায্য সংস্থাগুলো কর্তৃক অধিকার অগ্রগতির যে সমস্ত নির্ণায়ক তার মধ্যে না যেয়ে তৃণমূলে যে সমস্ত তথ্য উপাত্ত আছে তার অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করব।

২০০৮ সালে পুরুষ ও নারী সংখ্যার অনুপাত বাংলাদেশে ১০৫.৬, অর্থাৎ প্রতি ১০০০ জন নারী প্রতি ১০৫৬ জন পুরুষ আছে। নারী সংখ্যার এই নিম্ন মান দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও দেখা যায়। অমর্ত্য সেন (১৯৯০) একে হারিয়ে যাওয়া নারী সমস্যা বলে অভিহিত করেছিলেন। আমাদের সংস্কৃতিতে নারীরা তুলনামূলকভাবে পুষ্টিহীনতায় ভোগে, তাদের পুরুষ প্রতিবেশীদের তুলনায় তারা চিকিৎসার সুযোগ কম পায়, স্বাভাবিকভাবেই তাদের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় কম। যদিও ইদানীং কালে নারী উন্নতির পরিসংখ্যানের অনেক অগ্রগতি হয়েছে, তবুও অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা রয়ে গেছে।

 

শিক্ষা ও কাজঃ

এই শতাব্দীর শুরুতে গ্রামে নারী সাক্ষরতা ছিল ২০%, পুরুষ সাক্ষরতার অর্ধেক। ২০০৪ সাল নাগাদ এই সংখ্যাটা ৪৬%-এ উন্নিত হয়েছে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সের মেয়েদের মধ্যেই মূলতঃ এই অগ্রগতি হয়েছে। ২০০৮ সালে এই বয়সের শ্রেণীভুক্ত মেয়েদের সাক্ষরতা ৭১%-এ উন্নিত হয়েছে (বিবিএস ২০০৮)।  তবে এদের মধ্যে খুব কম অংশই পরবর্তী শিক্ষার ধাপে যায় যার ফলে কর্মক্ষত্রে তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কমে যায়। তিন-চতুর্থাংশের (৭৫%) বেশী নারী পারিবারিক কৃষিক্ষেত্রে অবৈতনিক শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত।  দশ শতাংশের (১০%) নিচে নারীরা নিজস্ব কাজে বা ছোট ব্যবসায় আর ৬% কন্ট্রাক্ট শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত। শহর এলাকায়, নারী শ্রমিকদের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভাল, তাদের অর্ধেক বৈতনিক কর্মী হিসেবে নিয়োজিত। কিন্তু শুধুমাত্র ৫ জনের মধ্য ২ জন (৪০%) ফরমাল শিল্পে কাজ করে, মূলতঃ পোষাক শিল্পে। বাদবাকীরা অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্পে, যেমন ফেরিওয়ালা অথবা মধ্য ও উচ্চবিত্ত বাড়িতে সাহায্যকারী বা পরিচারিকা হিসেবে নিয়োজিত। শুধুমাত্র কয়েকটি ক্ষেত্রেই নারীদের চাকরিতে দেখা যায়, মূলতঃ  নার্স, শিক্ষিকা, পোষাক শিল্পে ও ক্ষুদ্র-ঋণ মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়।

এছাড়া নারী ও কিশোরীরা ট্রাফিকিংর শিকার। ইউনিসেফ রিপোর্ট বলে প্রতি মাসে ৪০০ জন নারী ও শিশু ট্রাফিকিংর শিকার হচ্ছে। এদের প্রায় সবাই ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে যাদের হয় শিশু শ্রমিক হিসাবে ব্যবহার করা হয় নয় যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত করা হয়

স্বাস্থ্যঃ

ফার্টিলিটি এবং পুরুষ ও নারী শিশুদের বাঁচার তুলনামূলক হার গত চার দশকে অনেক উন্নত হয়েছে। তবে মানুষ-প্রতি চিকিৎসার ব্যবস্থা বাংলাদেশে খুবই কম যা কিনা দেশের দারিদ্রতাই নির্দেশ করে, তার মধ্যে নারীরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে আরো কম অগ্রাধিকার পায়। পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি যেখানে মহিলাদের জীবন সীমা পুরুষদের চাইতে কম। পরিবারে পুরুষরাই সবচেয়ে ভাল খাবারের দাবিদার। তাছাড়া বাল্যবিবাহের সংখ্যা অনেক। যদিও ১৮ বছর হচ্ছে বিবাহ করবার আইন্ অনুযায়ী নিম্ন সীমা, ১৫ থেকে ১৭ বছরের শতকরা ৪০ ভাগ মেয়ে বিবাহিত। বাচ্চার জন্মের সময় মা-দের মৃত্যুর হার এখনো অনেক বেশী প্রতি ১ লক্ষ (১০০,০০০) জন্মতে ৪৪০ জন মার মৃত্যু হয়। মাত্র এক তৃতীয়াংশ জন্মতে কোন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী উপস্থিত থাকে (UNICEF, 2005)। বিয়েতে পণপ্রথার বিরুদ্ধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৩ সালে সকল সরকারী কর্মচারীদের তৎপর হতে বলেন, কিন্তু পণের জন্য বধূকে উৎপীড়ণ ও কোন কোন ক্ষেত্রে হত্যা এখনো হচ্ছে। যদিও মা-বাবারা কন্যাকে শিক্ষা দেয়া উচিত সেটা বোঝেন, কিন্তু অনেক গবেষণাই দেখাচ্ছে যে অল্প বয়েসে বিয়ে দিলে পণের মূল্য কম হয় এবং বাল্যবিবাহের জন্য এখনো এটা একটা জোরালো কারণ। যেহেতু বাংলাদেশে বয়সের সাথে কর্তৃত্ব বাড়ে, স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে বয়সের অনেক পার্থক্য থাকলে স্ত্রী প্রায় তার সারা জীবনই স্বামীর অনুগত সেবিকা হয়ে তার জীবন কাটায়।

ইদানীং কালে নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য যে সমস্ত সূচকের অগ্রগতি হয়েছে, তা অনেকেই মনে করছেন দেশের বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এন.জি.ও) কাজের কারণেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাসমূহের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সংস্থাগুলো বাংলাদেশে নানান ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প ও পরীক্ষায় নিযুক্ত আছে। এ ছাড়াও, বিভিন্ন নারী অধিকারের বিষয়বস্তু জাতীয় উন্নয়ন আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ১৯৭৮ সালে, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রায় প্রথম একটি নারী বিষয়ক মন্ত্রাণালয় সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে নারীদের সামাজিক অবস্থান পরিবর্তনে যে দুটি নীতি খুবই কার্যকরী হয়েছে সেগুলি হল এন.জি.ও.-দের ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প ও সরকারীভাবে যে সমস্ত পরিবার তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছে তাদের সাহায্য করা। তদুপরি, পরিবার পরিকল্পনা নীতির অধীনে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.৪% (১৯৭০ দশক) থেকে কমিয়ে ২০০৯ সালে ১.৩% এ নিয়ে আসা হয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণ গৃহপালিত পশু ব্যবসা থেকে শুরু করে বস্ত্র শিল্প, এমন কি বিভিন্ন খুচরো বা বড় পারিবারিক খরচ মেটানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। অনেক গবেষণাই প্রমাণ করে নারীরা ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প থেকে লাভবান হয়েছে। তারা তাদের নিজস্ব অর্থ সংরক্ষণ করতে পারছে, তাদের শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করছে। এর ফলে তাদের শিশুরাও ভাল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যবস্থা পাচ্ছে। অন্যদিকে কিছু গবেষণা দেখাচ্ছে যে ক্ষুদ্র ঋণ হয়ত পণ প্রথাকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরো প্রতিষ্ঠা করেছে, যদিও এন.জি.ও.-রা পণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছে।

 

সম্পত্তিঃ

নারীরা খুব বেশী সম্পত্তির অধিকারী নয়, অথবা তারা তাদের সম্পত্তিকে ম্যানেজ করে না। মুসলিম ও পুরাতন হিন্দু উত্তরাধিকারী আইন পুত্র সন্তানের দিকে পক্ষপাতিত্ব করে এবং সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রায় সব সিদ্ধান্তই পুরুষ আত্মীয়র দ্বারা নির্ধারিত হয়। মেয়েদের পরিবার, মূলতঃ তাদের পিতারা, তাদের ভাবী স্বামী নির্ধারণ করে, যা কিনা তাদের জীবনের মূল নির্ধারক হিসেবে উপস্থিত হয়। যে সমস্ত মাতৃতান্ত্রিক সমাজে মেয়েরা সম্পত্তি পায় ও সম্পত্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেই সমস্ত সমাজ বাংলাদেশে খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। গারো, খাসিয়া ইত্যাদি মাতৃতান্ত্রিক সমাজ খুব দ্রুত সমতলের বাঙ্গালী সমাজের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং সেখানকার নারীরা তাদের প্রতিষ্ঠা হারাচ্ছে। সমতলের জনসংখ্যার চাপ আদিবাসী জনগণকে তাদের পূর্বপুরুষের জায়গা থেকে বিতাড়িত করছে।  

 

রাজনীতিঃ

যদিও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুজন নারী অভিষিক্ত হয়েছেন, তবুও দেশের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। ১৯৯৬-এর আগে কোন নারীই মন্ত্রীসভায় পূর্ণ দায়িত্ব পান নি। বর্তমান মন্ত্রীসভায় সেই তুলনায় নারীদের পূর্ণ মন্ত্রীত্বের ব্যাপারে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র, বৈদেশিক, কৃষির মত গূরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীত্ব নারীরা পেয়েছেন। ২০০৮ এর সংসদ নির্বাচনে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অনেক নারীই নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ২০০১-এর নির্বাচনে যেখানে ৩৮ জন নারী ৪৮টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, ২০০৮ সালে ৫৪ জন নারী ৫৫টি আসন থেকে নির্বাচনে অবতীর্ণ হন। তদুপরি, নির্বাচিত নারীদের ছাড়াও ৪৫টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে।

১৯৯৭ এর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।  সেই বছর আইনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের তিনটি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত করা হয় যাতে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে নারী প্রতিনিধি থাকতে পারে। এই আসনগুলিতে শুধুমাত্র নারীরা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। সংরক্ষিত আসন ছাড়াও নারীরা যে কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। এর পূর্বে নারী প্রতিনিধি নির্বাচন ছিল মনোনয়ন বা অন্য কোন পদ্ধতির নির্বাচন মাধ্যমে। ১৯৯৭-এর নির্বাচনে প্রায় ১২,৮২৮ জন নারী দেশব্যাপী পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়াও ২০ জন চেয়ারম্যান ও ১১০ জন সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সদস্য নির্বাচিত হন। অবশ্য পরবর্তী রিপোর্টে দেখা যায় যে পরিষদের সভাগুলোতে মহিলাদের তেমন জোরালো অংশগ্রহণ ছিল না। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মতামতকে অগ্রাহ্য করা হয়। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার অভাব তাদের নির্বাচনের ধণাত্মক প্রভাবকে কার্যকরী হতে বাধা দেয়। ২০০৯-এর উপজিলা নির্বাচন হিংসা ও কম ভোটারের জন্য তেমন সফল হতে পারে নি। যদিও জেন্ডার ভিত্তিতে এই নির্বাচনের কোন রিপোর্ট নেই, তবে মনে হয় এই নির্বাচনে নারী অংশগ্রহণ অন্যান্য নির্বাচন থেকে কম ছিল।

বাংলাদেশের অসংখ্য এন.জি.ও. দেশের ঐতিহাসিক নারী আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে অনেকাংশেই তাদের কাজের ধারা ঠিক করেছে। নারীবাদী আন্দোলনের পুরোধা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, সরোজিনী নাইডু, ইলা মিত্র, অরুনা আসফ আলী প্রমূখ নারী তথা বাঙ্গালীদের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন। এই ধারার সংস্কৃতি এখনো বর্তমান এবং দেশের বিভিন্ন শক্তিশালী মহিলা সংগঠন নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

এই অধিকার আদায়ের সংগ্রামে একটি বিষয় আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। সেটা হচ্ছে নারীরা তাদের নিজেদের সম্পর্কে কি ভাবে ও সেই আত্মচিত্র পরিবর্তন করতে তারা কি করছে? অনেক সময় তারা বাড়ির বাইরে কাজ করে, তারপর বাড়ি ফিরে এসে স্বামী সেবা করে। তারা তাদের বোন বা মেয়েদের পারিবারিক বা পাবলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করে না। তাদের আত্মবিশ্বাস কম, যার ফলে তারা নিজেদের সিদ্ধান্তের মূল্য দেয় না। বিশেষতঃ যে সমস্ত নারী সামাজিক শ্রেণীতে নিচু তাদের মতামতের কোন মূল্য উচ্চ বা মধ্যবিত্ত নারী দেয় না।  নারী অধিকারের বিষয়ে পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গী যেমন পরিবর্তন করতে হবে, নারীদের আত্মমূল্যায়নও তেমন করতে হবে। এর জন্য যে পশ্চিমের ফেমিনিস্ট দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করতে হবে এমন নয়, দেশীয় সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যবোধের ওপর ভিত্তি করেও বাংলাদেশে নারী মুক্তির আন্দোলন অগ্রসর হতে পারে।   

 

লেখক পরিচিতি: ড. ফরিদা খান ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন,পার্কসাইডে অর্থনীতির অধ্যাপিকা।

 

পার্কসাইড, উইসকনসিন

মার্চ ৭, ২০১০

 

মন্তব্য:
S Rahman   March 23, 2010
Thanks for an informatic writeup. এই েলখাটি অনেকের অনেক কাজে আসবে। অনেক শুভেচ্ছা রইল।
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.