Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ১২তম সংখ্যা চৈত্র ১৪১৬ •  9th  year  12th  issue  Mar - Apr  2010 পুরনো সংখ্যা
একটু অসাবধান হোলেই Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

 

 

ওয়াশিংটনের জানালা

 

একটু অসাবধান হোলেই

 

ওয়াহেদ হোসেনী

 

   সকাল বেলা পড়ার ঘরে বসে ই-মেইল দেখছিলাম। অনেকটা হঠাৎ করেই জানালা দিয়ে বাইরে নজর চলে গেল। ব্যাক ইয়ার্ডে বড় বড় বেশ কয়েকটা গাছ, একটাও পাতা নেই, একেবারে নেড়া। বেশ জোরে বাতাস বইছে, গাছ গুলো দুলছে। একবার এদিক একবার ওদিক। স্নো পড়ে পড়ে মাটি নরম হয়ে আছে। ভয় হয়, একটা গাছ যদি বাড়ীর ওপর পড়ে, তবে চরম পত্রের এম আর আখতার মুকুলের ভাষায় বাড়ী অক্করে সাফ হয়ে যাবে। শুকনো ডাল পালার ভেতর দিয়ে দেখছি, নী-ই-ল আকাশ, এক টুকরোও মেঘ নেই কোথাও। হঠাৎ একটা পাখী উড়ে এসে বসলো একটা ডালে। মাথাটা লাল, গায়ে ডোরা কাটা। পা দিয়ে ডালটা শক্ত করে ধরে, ঠোট দিয়ে ঠক ঠক করে ঠুকতে থাকলো। নেচে নেচে একবার এখানে বসে, একবার ওখানে। আর সহজ সরল ভাবে ঠোট দিয়ে ঠুকতে থাকে ডালে। এক সময় দেখি পাখীটা ডালের নিচের দিকে। ভয় হোল, মধ্যাকর্ষণের বলে এই বুঝি পড়ে গেল।  কিন্তু না, পড়লো না, পা দিয়ে শক্ত করে ধরে, প্রকৃতির নিয়মকে অমান্য করে সহজ ভাবে তার কাজ করে যেতে থাকলো। তার কৌশলের কাছে, প্রকৃতিও যেন হার মেনে নিলো। কাঠ ঠোকরার এই খেলা দেখে একটা লোকের কথা মনে পড়ে গেল।  তিনিও কাঠ ঠোকরার মত ডালের নিচে থেকে ঠুকরে যাচ্ছেন। তারও মনের ভাব, কাঠ ঠোকরার মত তিনিও শক্ত পায়ে ডাল ধরে প্রকৃতির নিয়ম অমান্য করে তার কাজ করেই যাবেন।

   ফুট এক ইঞ্চি লম্বা লোকটা তেমন চওড়া নন। এই সে দিন বার্ষিক ফিজিক্যাল করিয়ে আসলেন। ডাক্তাররা, কোলেস্ট্রোল সামান্য একটু বেশী হোলেও ভদ্রলোককে, ইন ফাইন হেলথ, ফিট টু ওয়ার্ক বলে সার্টিফিকেট দিয়ে দিলেন। মেরিণ ওয়ান হেলিকপ্টারে করে বেথেসডার নেভাল হস্পিটাল থেকে হোওয়াইট হাউসে এসে, টাই বিহীন সাদা শার্ট, আর কালো জ্যাকেট পরা কৃষ্ণাঙ্গ ভদ্রলোকটি একটু লাজুক লাজুক ভাবে সাংবাদিকদের বললেন, না, ধূম পান সম্পূর্ণ ভাবে ছাড়তে পারিনি। তবে বলতে পারেন শতকরা ৯৫ ভাগ কমিয়ে ফেলেছি। তবে কি জানেন, এত চাপ, মাঝে মাঝে পারি না। বুঝতেই পারছেন কার কথা বলছি। ভদ্রলোক ওয়াশিংটন ডিসি শহরের পেনসিলভেনিয়া এভিন্যু-র ওপর ১৬০০ নম্বর বাড়ীতে দোতালায় সপরিবারে থাকেন। তাঁর দুই কন্যাকে গাড়ী করে বেশ কয়েক মাইল দূরে স্কুলে যেতে হয়। ভদ্রলোকের স্ত্রী কোন চাকরী করেন না। তবে ভদ্রলোকের খুব সুবিধা। দোতালা থেকে নিচে নামলেই অপিস। যানজটের কথাতো দূরে থাক, রেকর্ড পরিমান স্নো পড়লেও চিন্তা নেই। ওয়াশিংটন শহরে স্নো পড়ার জন্য স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে, উইন্ডি সিটি শিকাগো বাসী ভদ্রলোক আবার রসিকতাও করতে ছাড়েন না। ওপর থেকে নেমে অপিস যাওয়ার পথে বারান্দায় কেউ সামনে পড়ে গেলে, সরে গিয়ে রাস্তা করে দেয়। ওয়াশিংটন শহরে বসবাস করে এত মজা আর হয় না। মজার সমাপ্তি ঐখানে। তার পর মাথায় পড়েছে চাপ, কাধে পড়েছে ভার। বারাক ওবামাকে, ওপর তালা থেকে নিচের তালায় নেমে চাকরী করার জন্য যারা হিংসা করে তারা হয় চাপের কথা জানে না, বা বোঝার কথা বোঝে না কিংবা দায়িত্বের কথা গ্রাহ্য করে না।

    ওপর তলা থেকে, নিচের তলায় নেমে অপিস করার চাকরীটা পাওয়ার জন্য শহরে শহরে, মাঠে ঘাটে মালিকের কাছে কাকুতি মিনতি করে শেষ পর্য্যন্ত বারাক যখন চাকরীটা পেলেন, তখন আর তাকে পায় কে। মনের আনন্দে লুকিয়ে ছাপিয়ে দু এক প্যাকেট বেশী সিগেরেট যে খাননি, সে কথা হলপ করে কেউ বলতে পারবে না। তিনি হয়তো ভাবেননি, ওপর তালা থেকে নেমে, ওভাল ওপিসে ঢুকে, বাঁ হাত দিয়ে কাগজে সই করেই চাকরী পাওয়ার সব প্রতিশ্রুতি মিটে যাবে। কিন্তু এত যে বাধা তা বুঝতে পারেননি। পদে পদে বাধা। শক্তিশালী ঐ সব বাধা সৃষ্টিকারীদের সাথে গা মিলিয়ে স্রোতে ভেসে গেলে কোন অসুবিধা ছিল না। ওপর তালা থেকে নেমে অপিস করে, ওপরে ফিরে গিয়ে মজায় ঘুমাতে পারতেন। কিন্তু বিবেক তাঁকে সেটা করতে দেয়নি।

   ভদ্রলোক প্রশ্ন করলেন, কংগ্রেসম্যান আর সেনেটরদের যারা চাকরী দিয়েছে, আমাকে যারা চাকরী দিয়েছে, আমাদের অবস্থা তাদের চাইতে অনেক অনেক ভালো থাকবে, আর আমাদের যারা মালিক তারা মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে, সেকি কথা! আইনের মার প্যাঁচ আছে এখানে। চাকর আর মালিকের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ফারাক, বিরাট ফারাক। মার প্যাঁচ এমন যে চাকর মালিককে দেখায় বুড়ো আঙ্গুল (আমেরিকান অর্থ নয়, বাংলা অর্থে)। আংগুল দেখিয়ে, ভুলিয়ে রেখে নিজে চুষে চুষে খায় মধু, আর ছোবড়া দিয়ে বলে আমরা হলাম স্বাধীন, সরকারকে আমাদের ওপর পোদ্দারী করতে দিতে পারি না। তাই মালিকের মঙ্গলের কথা কেউ যখন তোলে, তখন পড়ে যায় হৈ হৈ সরকারকে মাথায় বসাচ্ছে! তবে এই পৃথিবীতে অনেক পাগলের বাস। কাঠ ঠোকরার মত, ডালের নিচে থেকে ঠোকরালে বিপদ সমূহ, তবু ঠোকরাবেই। ওপর তলা থেকে, নিচের তলায় চাকরীর মজা ভুলে গিয়ে কাঠ ঠোকরার মত জোর করে পা দিয়ে আঁকড়ে ডালের নিচে থেকে ঠোকরাতে থাকেন।

   জানালা দিয়ে বাইরেরর দিকে তাকিয়ে তকিয়ে ভাবছিলাম, ওবামা তো খালি প্রেসিডেন্ট নন, ওবামা মাষ্টার মশায়ও। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে, সংসদীয় আইন পড়িয়ে পড়িয়ে হাত পাকিয়েছেন। দুষ্টু ছাত্রের বেয়াড়াপনার মুখে পড়েছেন যেমন, তেমনি সেই বেয়াড়াপনা থামানোর শিক্ষাও রপ্ত করেছেন ভালোই। হোওয়াইট হাউসের উল্ট দিকে, ব্লেয়ার হাউসে ডেকে পাঠালনে সব ঝানু ঝানু সাংসদদের।  দুষ্টুর চুড়ামনিরা প্রথমে বসতে চায়নি। এমুখ করে টেবিলে বসবো না, ওদুয়ার দিয়ে ঢুকবো না বলে বলে নানান ছুতো করলেও মাষ্টার মশায় তাদের বসিয়েই ছাড়লেন। দুষ্টুর দুষ্টামী তবু যাবে না। কেউ অভিযোগ করলো, তুমিতো সময় নিচ্ছ বেশী। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর, হ্যাঁ, সেটাইতো নিয়ম, আমি যে মাষ্টার। আর ঐ তুমি, সামনে ঐ কাগজের ঢিপি নিয়ে কি করছো, মনে করেছ আমি বুঝি জানিনা ওগুলো কি? বাদ দাও ওসব ফাজলামী, কাজের কথায় আসো। কাউকে বললেন, তোমার বুঝি মনে নেই, নির্বাচন আর নির্বাচনী অভিযান শেষ হয়ে গেছে? কাষ্ঠ হাসি দিয়ে ছাত্র বলে, সেটা আর বলতে! প্রতি দিনই তা বুঝছি না? মাষ্টারের উত্তর - তবে এসো কাজে নামি।  সাত ঘন্টা পর ছাত্র মাষ্টার বিদায় নিলো, তখন মনে হোল না যে একটি দুষ্টু ছাত্রও পথে এসেছে। মাষ্টার মশায় ওবামার সে কথা বুঝতে সময় লাগলো না এক মুহূর্ত।  ভদ্রলোকের বুঝি রবীন্দ্রনাথ পড়া আছে। বললেন, যা দেওয়ার দিয়েছি, যা নেওয়ার নিয়েছি। এখন তোর ডাক শুনে যদি কেউ না আসে, তবে একলা চলরে। কাঠ ঠোকরার মত ডালের নিচে গিয়ে পা দিয়ে জোরে আঁকড়ে ধরে ঠুকরে যাচ্ছেন। একটু অসাবধান হলেই ...

ওয়াশিংটন ডিসি

মার্চ ৫, ২০১০

ElderHossaini@gmail.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.