Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৪১৬ •  9th  year  1st  issue  Apr-May  2009 পুরনো সংখ্যা
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার Download PDF version
 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
জাকিয়া আফরিন

যুদ্ধাপরাধ এই মুহর্তে শুধু বাংলাদেশেই নয়, আর্ন্তজাতিক অঙ্গনেও একটি আলোচিত বিষয়। সর্বশেষ – ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালত (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট, সংক্ষেপে আইসিসি)এই পরোয়ানা রাতারাতি উদয় হয়নি, দীর্ঘ এক বছরের প্রস্তুতিপর্ব শেষেই এর আবির্ভাব। তুড়ি মেরে এই খবর উড়িয়ে দিয়েছেন বশির – আন্তর্জাতিক আদালত আইসিসি-কে তুলনা করেছেন পাদুকার সঙ্গে। আজ থেকে বিশ-পঁচিশ আগে হলে হয়ত এ নিয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজনই বোধ করতেন না। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শাস্তিব্যবস্থার যে নবজাগর এসেছে, তার একটি বড় উদাহর সুদানের প্রেসিডেন্টের উক্তি। রামসফেল্ডের পদত্যাগের পর লেখালেখি হয়েছিল তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়েও। আজকের মত মনোযোগ ইতিহাসে কখনো পায়নি যুদ্ধাপরাধ কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর বিচার নিয়ে

ন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কিত আইন রয়েছে বহুদিন থেকেই। ১৯০৭ সালের হেইগ ও ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন-এর কথা মনে করা যায়। তবে এগুলোকে বলা যায় নীতিমালা, বড়জো নৈতিক বিধিনিষেধ। আন্তর্জাতিক আইনের যে মূল সমস্যা তা হলো চুক্তিভিত্তিক নিয়ম তাই চুক্তি না মানলে বা স্বাক্ষর না করলে এর প্রতি দায়বদ্ধতা জন্মায় না সমস্যাটা এক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তবুও সময় ক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গে জেনেভা কনভেনশনসহ যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কিত আইন একটি বিশেষ মর্যাদার স্থানে পৌঁছেছে - একে বলা হয় ‘Customary আইন, যা কিনা Custom হিসেবে সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আন্তর্জাতিক আইন আরে একটু অগ্রসর হয় ‘ন্যুরেবার্গ’ ট্রাইব্যুন -এর মাধ্যমে। বিভিন্ন কারণে এই ট্রাইবুন্যাল সমালোচিত হয় মানবাধিকার কর্মী ও আইনজ্ঞদের কাছে, একে অভিহিত করা হয় ‘বিজয়ীর ট্রাইবুন্যাল’ হিসেবে যা অভিযুক্তদের অধিকারের কথা মাথায় রাখেনি মোটেও। তাই অনেক আইনজ্ঞ যুদ্ধাপরাধ বিচারের অগ্রগতির আলোচনায় নীরব থাকেন এই আদালত সম্পর্কে।

পরবর্তী প্রায় পঞ্চাশ বছর নীরবতার ইতিহাস। সম্মিলিতভাবে অর্থাৎ জাতিসংঘের উদ্যোগে হয়নি কোন যুদ্ধপারাধের বিচার। অথচ গবেষকদের হিসেবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী ঘটে গেছে প্রায় ২৫০টির মত গৃহযুদ্ধ। আমেরিকা ও রাশিয়ার স্নায়যুদ্ধ এর জন্য দায়ী মনে করা হয়। দুই শক্তিকে একমতে না পাওয়ার মূল্য দিতে হয় নিরাপত্তা পরিষদকে- জাতিসংঘের যে অঙ্গ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবুও বিভিন্ন দেশ এককভাবে চেষ্টা করেছে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে। এখানে উল্লেখ্য যে, যেকোন দেশই নিজ উদ্যোগে করতে পারে যেকোন যুদ্ধাপরাধের বিচার। আইনের ভাষায় একে বলা হয়  Universal Jurisdiction বা সর্বজনীন বিচার ক্ষমতা। ইউরোপিয়ান দেশগুলো, আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, বেলজিয়ামের সুনাম রয়েছে এ বিষয়ে। চিলির কুখ্যাত স্বৈরশাক পিনোশে বিচারের সন্মুখীন হয়েছিলেন এমনি একটি আদালতেই। বলা হয়, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের সম্ভাব্য বিচার এড়াতে জর্জ বুশসহ তার প্রশাসনের কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গের ইউরোপে বেড়াতে না যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সে যাই হোক ফিরে আসি মূল আলোচনায়। স্নায়যুদ্ধের পুরোটা সময় সংস্থা হিসেবে জাতিসংঘ যেমন ছিল নিস্ক্রিয়, ভারসাম্য রক্ষায় তেমনি তৎপর হয়ে উঠেছিল নানা দেশ। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকে নব্বই দশকের শুরু থেকেই।

রুয়ান্ডায় গহত্যা রোধ করতে ব্যর্থ জাতিসংঘ সমালোচনার ঝড়ে যখন বিপর্যস্ত, কাছাকাছি সময়েই ঘটে যায় বসনিয়ায় মানবতার আরেক কলংকজনক অধ্যায়। নড়েচড়ে ওঠে নিরাপত্তা পরিষদ। সূচনা হয় রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনল ১৯৯৩ (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনল ফর রুয়ান্ডা) ও ইয়ুগোশ্লাভ ট্রাইব্যুনল ১৯৯৪ (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনল ফর ইয়ুগোশ্লাভ)। এই দুই ট্রাইব্যুনল আধুনিকায়ন করল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। অপরাধের সংজ্ঞা থেকে শুরু করে অপরাধীদের অধিকার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, নারীদের বিশেষ বিবেচনা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে অভাবনীয় পরিবর্তন এলো প্রচলিত আইনে। বসনিয়া ট্রাইব্যুনালেই বিশ্বে প্রথমবারের মত ধর্ষণের অভিযোগে যদ্ধাপরাধীর সাজা পেল একজন সার্ব।

এই অগ্রগতির পরপরই সংযুক্ত হল সর্বশেষ উপাখ্যান আন্তর্জাতিক ফৌজদার আদালত বা আইসিসি। এই আদালত একটি চুক্তির মাধ্যমে গঠিত এবং এর শুধুমাত্র ২০০২ সালের পরবর্তী যুদ্ধাপরাধ নিয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার রয়েছে। এই আদালতের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের স্থায়ী বিচার ব্যবস্থারই শুধু উপায় হলো না, সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ ঠেকাতেও এই আদালত ভূমিকা রাখবে বলে মনে হচ্ছে। আইসিসি-তে তিন উপায়ে একটি মামলা শুরু করা যায়- চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী যেকোন দেশের অনুরোধে, তদন্ত কর্মকর্তার নিজস্ব উদ্যোগে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশে। চুক্তিতে স্বাক্ষর না করা দেশগুলো এই আদালতের বিচার আওতায় না থাকলেও নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে আইসিসি। অর্থাৎ পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে বসে কোন সরকার প্রধান যখন নির্যাতন চালাবেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর, আন্তর্জাতিক আইনের হাত গলে মুক্তি পাবার সম্ভাবনা তার খুব কম। তাইতো ভীত বশির এবং আরো অনেক রাষ্ট্রনায়ক।

আগেই বলেছি, আইসিসি ২০০২-এর পরবর্তী যুদ্ধাপরাধের বিচার করার ক্ষমতা রাখে। এর আগেকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রয়েছে  তিনটি পথ। নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনল - রুয়ান্ডা বা বসনিয়া ট্রাইব্যুনালের মত; জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিজ দেশে বিশেষ ট্রাইব্যুনল – সিয়েরা লিওন বা কম্বোডিয়ার মত; কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের কিছুটা গ্রহ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব ট্রাইব্যুল – ইরাকের মত। শেষোক্ত ট্রাইব্যুলটিতে নিরপেক্ষতার অভাব একটি বড় সমস্যা হতে পারে। সাদ্দাম হোসেনের বিচার নিয়ে যেমন সংশয় ছিল তেমনি অমানবিক ছিল তার জীবনাবসানের শেষ মুহূর্তগুলো। আন্তর্জাতিক আইন ন্যয়বিচারে বিশ্বাসী, মানুষের অমানবিক আচরণে নয়।

বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে সুযোগ ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একই ধরণের ট্রাইব্যুনলগুলোর তুলনামূলক গবেষণা করে সঠিক পথে এগুনোই আমাদের কাম্য।

 

লেখক পরিচিতি : ড: জাকিয়া আফরিন সমাজকর্মী আইনবিদ; ই-মেইল : zafrin@gmail.com

১৫ মার্চ ২০০৯

ঢাকা থেকে

 

 

মন্তব্য:
Rajib   May 13, 2009
Can you produce a true list of war-criminals??
অপু   April 18, 2009
ভালো লাগলো
সাগর চৌধুরী   12-04-2009
ধন্যবাদ। ভালো লাগলো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে বেবাক জনগণের কথা ভুলে গেলে চলবে কি করে সরকারের? যেখানে নিত্যদিনের সমস্যার মধ্যে ইলেক্ট্রিসিটি, ইন্টারনেট, রাস্তার যানজট। সেখানে.....
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.