Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৪১৬ •  9th  year  1st  issue  Apr-May  2009 পুরনো সংখ্যা
অতিথি সম্পাদকদের কথা ... Download PDF version
 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার 

অতিথি সম্পাদকদের কথা ...

যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচারের বিকল্প নেই

দেওয়ান শামসুল আরেফীন ও শেখ ফেরদৌস শামস

সুকাজ পুরস্কৃত হবে এবং কু-কাজ, অপরাধ দন্ডিত হবে সেটাই সমাজের নিয়ম। তা না হলে সমাজ, বৃহত্তর অর্থে রাষ্ট্র অকার্যকর হতে বসে। প্রবাদ আছে জাস্টিস ডিলেড জাস্টিস ডিনাইড। অর্থাৎ প্রাপ্য ন্যায়টি বিলম্বিত হলে ন্যায়টি সত্যিকার অর্থে প্রত্যাখ্যাত হয়ে যায়। বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের মতো বড় অপরাধের কাজটি এখন পর্যন্ত আইনি মানদন্ডে সর্বাঙ্গীন বিচার-প্রক্রিয়ার মুখোমূখী হয়নি জাতীয় পর্যায়ে তা একটা লজ্জাকর, অবমাননাকর বিষয়ই বটে। সাম্প্রতিক ইতিহাসে গ-হত্যার প্রকৌশলী হিসেবে খ্যাত আইকম্যানকে তার অপরাধ থেকে নিষ্কৃতি দেয়া হয়নি। তিনি প্রা বাঁচাতে জার্মানী ছেড়ে পালিয়ে আর্জেন্টিনা যান। সেখান থেকে তাকে ধরে এনে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। বাংলাদেশের বড়-ছোট আইকম্যানদের ক্ষেত্রে আমরা সেটা করতে পারিনি। আমাদের ৩৭ বছরের অন্তহীন অভিযোগ - আমাদের আইকম্যানরা আমাদের মাঝেই বিচররত – শুধু বিচররতই নয়- সদর্পে বিচররত রয়ে গেছে। কিন্ত্ত আমরা বা আমাদেরই বৃহত্তর এক অংশ তাদের টিকিটিও ছুঁতে পারছিনা। এ ব্যর্থতা আমাদের শুধু যে লজ্জায় ফেলেছে, অবমাননাকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে তা শুধু নয়; - তা একাত্তরের যুদ্ধের সত্যতা, সে যুদ্ধের ব্যাপক জান-মাল ইজ্জতের ক্ষতিগ্রস্ততার সত্যতা এবং সে সমস্ত ব্যাপারে আমাদের অর্থাৎ অভিযোগকারীদের সিরিয়াসনেস, সততা এবং এমনকি তাদের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ করার দ্বার অবারিত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে চলেছে।

গত ২৯শে জানুয়ারী যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচারের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নবম জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। স্বভাবতঃই এতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভত অসন্তে ক্ষোভের মুক্তির একটি সরু আলোকরশ্মি জনগ দেখতে পেয়েছে। আলোকরশ্মিটি গভীর নয় এই জন্যে যে আমাদের গ-প্রতিনিধিরা এর আগেও একাধিকবার আলোর আশা দেখালেও তাদের কাজ-কর্মে, জীবন-যাপনের মানদন্ডে তা প্রদর্শন করতে পারেননি। যে দলই ক্ষমতায় এসেছে যুদ্ধাপরাধ বিচারের ব্যাপারে প্রয়োজনানুগ আগ্রহ বা উদ্যোগ নেননি। তারা নির্বাচিত হওয়ার পরমুহূর্ত থেকেই নিজেদের গাড়ী, বাড়ী, চিকিৎসা, যাতায়তসহ যাবতীয় সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তৎপর হয়েছে। একাত্তরেত্রু দ্বারা ত্রিশ লাখ শহীদ, অপরাপর হাজার হাজার নির্যাতিত-ধর্ষিত মানুষের প্রত্যেকের নামসহ গ্রামওয়ারী স্মৃতিস্তম্ভ এবং তাদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগের ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরসহ একটি ডকুমেন্ট তৈরী ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা তারা যদি করতেন তাহলেও জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার কিছুটা হলেও পালন করা হতো এবং একাত্তরের চেতনা তৃমূল থেকে লালিত-পালিত হতো। জানা গেছে, এবারেও ইতোমধ্যে মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিব থেকে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্যে ১২৩ কোটি টাকার দাম গাড়ী কেনার ধুম পড়ে গেছে। তাই বলা মুশকিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারটি কার্যতঃ কতটুকু এগুবে?

তাই সম্ভবতঃ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ফেব্রুয়ারী ৩ তারিখে ‘প্রস্তাব পাসই যথেস্ট নয় যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু হোক’ শীর্ষক একাধারে গুরুত্বপূর্ণ ও ইঙ্গিতবহ একটি লেখা পত্রস্থ করেন। লেখাটি পড়ে বুঝতে বেগ পেতে হয়না যে যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচারের কার্যক্রম শুরু করা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প কোন খোলা নেই। এরমধ্যে অবশ্য আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ বিচার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন। সেটা আশার কথা। তবে বিচার প্রক্রিয়া যাতে ভিক্টরস ট্রায়াল বা ক্যামেরা ট্রায়ালের মর্য্যাদায় প্রত্যাখাত না হয় সে লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষকে বিচারের প্রতিটি পদক্ষেপে স্বচ্ছ্বতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, একাত্তরের যুদ্ধের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লেষ্ট বা শরীক শক্তিগুলোর সমীকর থেকে ইতোমধ্যে পাকিস্তান ও তার দোর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খসে পড়েছে। বর্তমান সরকার বুশ এবং তার সহযোগীদের ছড়ানো আমেরিকান আধিপত্যবাদের বা এমপোরিয়ামের জালে ধরা পড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশ সরকার মার্কিনীদের সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযানের অংশে সহযোগী হচ্ছে বলে বিভিন্নসূত্রে জানা যাচ্ছে। এই সব সম্পৃক্তি বিচার-প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা কঠিন কিছু নয়- এই মত বর্তমান সংখ্যার লেখকদের। আমরাও তা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি। এই বিচারের জন্যে আইনগত কাঠামো এবং বিচার কাজের ইনস্ট্রুমেন্টগলো স্থানীয় অথবা আন্তর্জাতিকভাবে উপস্থিত আইনবিদ জাকিয়া আফরিন এ বিষয়ে তার লেখাতে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। আমাদের ওভার-পলিটিসাইজড সামজে;- পিলখানার ট্র্যাজিডীর প্রেক্ষিতে কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ কথিত আমাদের মাথা ও মন মরে যাওয়া পচে যাওয়া সমাজে সেই উপযুক্ত আইনী ও ইনষ্ট্রুমেন্টের উপযুক্ত ব্যবহার আমরা করতে পারবো সে দাবী করার দুঃসাহস হয়তো করতে পারবোনা তবে ব্যর্থতা-প্রসূত ভবিষ্যতের অমো অমানিশার কথা চিন্তা করে সেক্ষেত্রে আমরা সে সমস্ত আইন অনুষঙ্গের যথার্থ ব্যবহারে দৃঢ় উদ্বুদ্ধ থেকে বিচারকার্য সুসম্পন্ন করেত পারবো সে আশাতো আমরা করতেই পারি।

 

দেওয়ান শামসুল আরেফীন, নিউ জার্সী : dsarefin@optonline.net

শেখ ফেরদৌস শামস, অ্যারিজোনা : shaikh_shams@yahoo.com

 

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.