Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রে লিটল বাংলাদেশ Download PDF version
 

উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড

যুক্তরাষ্ট্রে

লিটল বাংলাদেশ

ইউনুস রাহী

     সেই অনাদিকাল থেকে, বাঙালী যখনি দেশের বাইরে যেখানে, যে দেশে গিয়েছে চাকরির প্রয়োজনে কিংবা দীর্ঘ প্রবাসে বা অভিবাসে, সেখানেই নিজের মত করেই গড়ে নিয়েছে একটি নিজস্ব আঙিনা- যেখানে শোভিত হয়েছে বাঙালীর নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি, প্রোথিত হয়েছে নিজস্ব আচার আচরণ আর ঝংকৃত হয়েছে নিজস্ব সংগীত-সুরের সেই লীলাময়ী মূর্চ্ছনা। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য আরো কিছু জায়গার মত লস এঞ্জেলেসেও বাঙালীর বসতি ঘটেছে সেই সুদূর অতীতে। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর উত্তর আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম (নিউ ইয়র্কের পর) বাঙালী জনবসতি হিসেবে পরিচিতি ঘটেছে লস এঞ্জেলেসের । সেই তখন থেকেই স্বকীয়তা পুরোপুরি বজায় রেখেই আত্ম প্রতিষ্ঠ একটি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল মিক্সিং বোল লস এঞ্জেলেসে স্থান করে নিতে তৎপর হয়েছে এখানকার বাংলাদেশীরা। সুদীর্ঘ এই বাসনা এবং তৎপরতার একটি সুফল বাস্তবায়ন ঘটেছে এই সেইদিন ১৪ই অক্টোবর ২০০৯। লস এঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলম্যান টম লাবঞ্চের দীর্ঘ-প্রতীক্ষিত ঘোষণা এবং চুক্তিপত্র সম্পাদনের মাধ্যমে। দেশের বাইরে আরেকটি বাংলাদেশ- সুবিস্তৃত লস এঞ্জেলেস নগরীর অন্যতম ব্যস্ত একটি করিডোরের আনুষ্ঠানিক নামকরণ হয়েছে লিটল বাংলাদেশ । এর মাধ্যমে এই প্রথম সমগ্র উত্তর আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠ এলাকায় স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে আমাদের বাংলাদেশ। ভবিষ্যত প্রজন্মের বাংলাদেশী- আমেরিকানদের কাছেও একান্ত স্বদেশ হয়ে বিকশিত হওয়ার জন্য জন্ম নিল লিটল বাংলাদেশ

নেপথ্যের কথাঃ

            লিটল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালীর আকাঙ্খা এবং সুযৌক্তিক দাবী বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফোরামে উপস্থাপিত হলেও সত্যিকারভাবে, সঠিক সময়ে সঠিক প্লাটফরমে সঠিক নগর পিতাদের কাছে এই দাবী সর্বপ্রথম তুলে ধরা হয় ২০০১ সালের ২৮শে মে। ঐ সময়ে লস এঞ্জেলেসের বাঙালী অধ্যুষিত এলাকার প্রাণকেন্দ্র শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল দুইদিন ব্যাপী ষষ্ঠ উত্তর আমেরিকা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন বর্তমান লেখকেরই আহবায়কত্বে। সম্মেলনের সমাপনী দিবসের সন্ধ্যায় বিশেষ ব্যবস্থাধীনে আমন্ত্রিত হয়ে আসেন ঐ সময়ে লস এঞ্জেলেসের মেয়র পদপ্রার্থী (বর্তমান মেয়র) আন্টনিও ভিয়ারাইগোসা। ল্যাটিন বংশোদ্ভূত ভিয়ারাইগোসা বাঙালীর এই মিলনমেলায় বাঙালীর নিজস্ব সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই সার্থক প্রদর্শনীতে এতটাই মুগ্ধ ও বিমোহিত হয়ে পড়েন যে, তাঁর কাছে লিটল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবী উপস্থাপনের সাথে সাথেই বিপুল করতালির মাধ্যমে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হবার পরপরই তিনি এই দাবী বাস্তবায়নে তৎপর হবেন। সে নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত না হলেও ২০০৫ সালের নির্বাচনে ভিয়ারাইগোসা লস এঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের মার্চে বাফলা আয়োজিতবাংলাদেশ ডে প্যারেড-এ মেয়র আমন্ত্রিত হয়ে এলে সেই পুরনো দাবী এবং তার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে লিটল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। লস এঞ্জেলেসের সুপরিচিত ও দীর্ঘকালীন কম্যুনিটি কর্মী (অধুনা-স্থগিত বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব লস এঞ্জেলেসের প্রাক্তন সভাপতি) মমিনুল হক বাচ্চু ভার নেন প্রস্তাবিত লিটল বাংলাদেশ এলাকায় বসবাসকারী অনু্ন্য ৫০০ বাংলাদেশীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করে আনুষ্ঠানিক দাবী লস এঞ্জেলেস সিটিতে উপস্থাপন করার। কষ্টসাধ্য এই কাজটিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করেন লস এঞ্জেলেস ও পার্শ্ববর্তী বিশাল এলাকার সকল বাংলাদেশী কম্যূনিটি-কর্মীরা । প্রস্তাবিত এলাকার কাউন্সিলম্যান টম লাবঞ্জ ও তাঁর ফিল্ড কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় ২০০১ সালে বর্তমান মেয়র ভিয়ারাইগোসার প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি সম্বলিত অনুষ্ঠানের ধারনকৃত ভিডিওটি । সব কিছুই যখন অনুকুলে, ঠিক তখনি প্রবল আপত্তি ও প্রতিবাদ নিয়ে উপস্থিত হয় লস এঞ্জেলেসের সুসংবদ্ধ কোরিয়ান-আমেরিকান কম্যুনিটি । প্রস্তাবিত লিটল বাংলাদেশ এলাকাটি বৃহত্তর কোরিয়া টাউন এলাকার একাংশ, এবং সে কারণে কোরিয়ানরা তাদের অধিকার এভাবে হাতছাড়া করতে মোটেও প্রস্তুত নয় । শুরু হয় কোরিয়ান কম্যুনিটি লীডারদের সাথে বাঙালিদের আলাপআলোচনা, আপত্তি-নিষ্পত্তির পর্বটি । একাজে বাঙালিদের পক্ষে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে এগিয়ে যান কম্যুনিটি কর্মী মুজিব সিদ্দিকী । কাউন্সিলম্যানের মধ্যস্থতায় আলোচনা, পাল্টা আলোচনা যখন বাঙালিদের অনুকলে সমাপ্তির দোরগোড়ায়, তখনি ঘটে আরেক বিপত্তি- বাঙালীর চিরায়ত আত্মকলহ । লস এঞ্জেলেসের এত এত নব্য ও পুরাতন নেতারা মুজিব সিদ্দীকীর একক কৃতিত্ব  অর্জনের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকতে একান্তই নারাজ। তাঁরাও যে এই কৃতিত্বের দাবীদার! সুতরাং গঠন কর নেতা-কমিটি। কিন্তু বললেই তো আর হল না। একটি একক সংগঠনের দীর্ঘ- নিষ্ক্রিয়তার অবসরে লস এঞ্জেলেসে এখন শতাধিক ছোট-বড় সংগঠন (এবং সেই পরিমাণের নেতৃবৃন্দ)। সুতরাং একক নেতৃত্ব নিয়ে কারো পক্ষ্যেই কম্যূনিটির প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ এখন আর নেই- তা যত মহৎ উদ্দেশ্যেই হোক না কেন। এই প্রেক্ষিতে প্রায় ৫০ জনকে নিয়ে যখন নেতৃত্ব কমিটি গড়ার আশংকা দেখা দেয়, তখন শেষ পর্যন্ত ১০ জনের কমিটি গড়ে কোনরকম দফা-রফা ঘটে। এতেও অবশ্যি সমস্যার সমাধান হয় না। এই নেতারা পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি করে লিটল বাংলাদেশ উদ্যোগকেই নস্যাৎ করে দেওয়ার সম্ভাবনার সৃষ্টি করে। সবশেষে এই উদ্যোগের মূল আবেদনকারী সরাসরি সিটি এটর্নীকে চিঠি লিখে নেতৃত্ব-কমিটিকে বেআইনী ঘোষণা করতে বাধ্য করে এবং এর পরিবর্তে একজনকে নেতৃত্ব গ্রহণ করে উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব প্রদান করলে আশার সঞ্চার ঘটে। কাউন্সিলম্যান তখন এই নেতা তথা কম্যুনিটি কর্মী শামীম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে কোরিয়ান কম্যুনিটি নেতার সাথে সমঝোতায় মিলিত হয়ে এবং একত্রে এলাকা ভ্রমণ করে সর্বসম্মতভাবে লিটল বাংলাদেশের সীমারেখা নির্ধারণ করতে সক্ষম হন এবং এই মর্মে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে লিটল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটে ১৪ই অক্টোবর ২০০৯ তারিখে এবং সাথে সাথেই দেশ বিদেশের সকল বাঙালীকে অপরিসীম আনন্দে উদ্বেলিত করে।

বর্তমান অবস্থাঃ

     লস এঞ্জেলেসের কোরিয়ান কম্যুনিটির সম্মতিক্রমেই বর্তমান কোরিয়া টাউনের একটি অংশে লিটল বাংলাদেশ করিডোর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক থার্ড ষ্ট্রীটের চারটি বৃহৎ ব্লক নিয়ে এই করিডোর। পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত এই করিডোরের পূর্ব সীমান্তে রয়েছে নিউ হ্যাম্পশায়ার এভিনিউ এবং পশ্চিম সীমান্তে রয়েছে আলেকজান্ড্রিয়া এভিনিউ। এই করিডোরটি মূলতঃ একটি কমার্শিয়াল এলাকা কিন্তু এর উত্তর-দক্ষিণে দুই-তিন ব্লক জুড়ে রয়েছে বাঙালী অধ্যুষিত এপার্টমেন্ট ও আবাসিক এলাকা। বর্তমানে লিটল বাংলাদেশ অর্থাৎ থার্ড ষ্ট্রীটের উপরেই রয়েছে ৪টি প্রধান বাংলাদেশী মালিকানার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো- দেশী গ্রোসারী এন্ড রেষ্টুরেন্ট, এশিয়ান মার্কেট, বাংলাদেশ সেন্টার এবং বেঙ্গল লিকার এন্ড কনভেনিয়েন্স ষ্টোর। এই করিডোরের দুই-এক ব্লক বাইরে রয়েছে আরো কিছু বাঙালী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, যেমন স্বদেশ গ্রোসারী এন্ড রেষ্টুরেন্ট, তাওরাত রেষ্টুরেন্ট, এবং আলাদীন সুইটস গ্রোসারী এন্ড রেষ্টুরেন্ট। শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টার রয়েছে এই নির্ধারিত করিডোরের দুই ব্লক পূর্ব-দক্ষিণে। অচিরেই লিটল বাংলাদেশের সীমারেখার মধ্যেই আরো বেশ কিছু বাঙালী রেষ্টুরেন্ট, স্টোর, মিলনকেন্দ্র ইত্যাদি প্রসারের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদ

     গত ২রা নবেম্বর ২০০৯ কাউন্সিলম্যান টম লাবঞ্জ কোরিয়ান ও বাংলাদেশী কম্যুনিটি কর্মীদের উপস্থিতিতে লিটল বাংলাদেশে এসে লিটল বাংলাদেশ সাইনবোর্ড বসানোর স্থান নির্ধারণ করে দেন। আপাততঃ পূর্বমুখী ট্রাফিকের জন্য আলেকজান্ড্রিয়া এভিনিউর পূর্বে একটি সাইন এবং পশ্চিমমুখী ট্রাফিকের জন্য নিউ হ্যাম্পশায়ার এভিনিউ এর পশ্চিমে আরেকটি সাইন বসানো হবে যাতে লিটল বাংলাদেশ কথাটি লিখিত থাকবে। এছাড়া লস এঞ্জেলেসের ফ্রীওয়ে থেকে আগ্রহীদের লিটল বাংলাদেশে পৌঁছানোর জন্য ওয়ান-ও-ওয়ান তথা হলিউড ফ্রীওয়ের ভারমন্ট এভিনিউ এক্সিট এর কাছাকাছি বসানো হবে আরো দুটি লিটল বাংলাদেশ দিক নির্দেশনা সাইন । এই সাইন বোর্ডগুলো বসানোর কাজ আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করার দায়িত্ব নিয়েছে লস এঞ্জেলেস সিটি কর্তৃপক্ষ । এদিকে আগামী ২১শে নভেম্বর শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টারে এই উপলক্ষে একটি আনন্দ অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে । এই অনুষ্ঠানে লস এঞ্জেলেসের এবং পাশ্ববর্তী এলাকার বাঙ্গালীদের এক বিপুল অংশের যোগদান ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে ।

পরবর্তী উদ্যোগ

     লিটল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এখানকার বাঙ্গালিদের সব আকাঙ্খা মিটে গেছে বললে খুব ভুল হবে। লস এঞ্জেলেসের শ্যাটো সেন্টার প্রাঙ্গনে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এখানকার বাঙ্গালীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং সিটির কাছ থেকে সর্ব প্রকার অনুমোদন প্রাপ্তির বিষয়টি এখন মাত্র সময়ের ব্যাপার। এই শহীদ মিনারটি হবে লস এঞ্জেলেস সিটির জন্য বাঙ্গালীদের একটি উপহার যা নিঃসন্দেহে লস এঞ্জেসের কালচারাল আর্ট এবং দর্শনীয় স্থাপনায় হবে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এছাড়া লস এঞ্জেলেস সিটির অন্যতম সিষ্টার সিটি হিসেবে ঢাকাকে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়েও কাজ করা দরকার বলে অনেকে মনে করছেন । বর্তমানে ভারতের মুম্বাই এমনি একটি সিষ্টার সিটি। লস এঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চায়না টাউন, লিটল টোকিও, কোরিয়া টাউন, থাই টাউন, লিটল আর্মেনিয়া, ফিলিপিনো টাউন, লিটল ইথিওপিয়া ইত্যাদি। এই ধারায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত লিটল বাংলাদেশও স্বমহিমায় উদ্ভাসিত থাকবে আগামী দিনগুলোতে, যদি এই ধরনের উদ্যোগগুলোয় সমস্ত বাঙালী একযোগে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যেতে পারে । লিটল বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই দেশের বাইরে দেশ হবে, যখন ভিন দেশী ও ভিন সংস্কৃতির মানুষেরাও এখানে এসে দেখতে পাবে বাঙালীর স্বকীয়তাকে, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিফলন আর শাশ্বত বাংলা খাবার, বাঙালী উৎসব এবং বাংলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন । সেদিন হয়তো খুব বেশী দূরে আর নেই ।

লস এঞ্জেলেস

নভেম্বর ৬, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.