Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
গ্রেনেড, বুলেটের তাড়া, শেখ হাসিনা এবং দিনবদলের রাজনীতি Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

 

গ্রেনেড, বুলেটের তাড়া,

শেখ হাসিনা এবং দিনবদলের রাজনীতি

শুভ কিবরিয়া

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড এবং বুলেট তাড়া করে ফিরছেসন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের এই আক্রমণ থেকে সকলে মিলে তাকে রক্ষা করতে না পারলে আমরা শত্রুর মোকাবেলা করতে পারব না।

ѯ^ivóªcÖwZgš¿x শামসুল হক টুকু

(ভোরের কাগজ b‡e¤^i ২০০৯)

আজকাল অনেকেই চকচকে মুজিব কোট পরেনপ্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারাও আজ নতুন নতুন মুজিব কোট পরেন, যারা জীবনে কোনো দিন মুজিব কোট পরেননিঅনেকেই আজ শেখ হাসিনার নামে জোরে জোরে স্লোগান দেনএসব চাটুকারে দল ছেয়ে গেছেতাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবেকারণ এরাই একদিন বেঈমান মোশতাক হবে

- সাবেক ¯^ivóªgš¿x মোহাম্মদ নাসিম

(নয়াদিগন্ত b‡e¤^i ২০০৯)

 

- দুটি বক্তব্যই এক অনুষ্ঠানে দেয়াক্যাপ্টেন মনসুর আলী স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত জেল হত্যা দিবসের আলোচনায় বর্তমান ও সাবেক ¯^ivóªgš¿x এই কথা বলেছেন¯^ivóª মন্ত্রণালয়ে কাজ করছেন, করেছেন আওয়ামী লীগের সে রকম এই দুই নেতার বক্তব্যই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ

বর্তমান ¯^ivóªcÖwZgš¿x যখন বলেন, গ্রেনেড বুলেট বোমা শেখ হাসিনাকে তাড়া করছে, তখন আতঙ্কিত হতে হয় বৈকি! কেননা একজন প্রধানমন্ত্রীর জীবনের পেছনে ছুটে বেড়ানো বুলেট, বোমা থেকে তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব যে মন্ত্রণালয়ের সেই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীই যখন প্রকাশ্যে এই কথা বলেন, তখন আশঙ্কা জাগেপ্রথমত, মন্ত্রী কি অসহায়, দায়িত্ব পালনে অক্ষম! নাকি, জেনেশুনে বিষ পান করে এই কথা বলছেন তিনি!

¯^ivóªcÖwZgš¿xi মুখ থেকে যদি এই কথা উচ্চারিত হয়, তাহলে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রশ্নে জনগণের ভাবনা কি হবে?

এই প্রশ্নটি গুরুত্বর এবং তাৎপর্যময়

২.

অন্যদিকে বর্তমানের মুজিবকোটওয়ালাদের সম্পর্কে সাবেক ¯^ivóªgš¿x যখন প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতের বেঈমান মোশতাক প্রসঙ্গ তুলে আনেন- তখন রাজনীতির গতি প্রকৃতি বিবেচনায় এক সঙ্কটের আশঙ্কা যে তাদের মনেও ঘুরপাক খাচ্ছে, সেই উদ্বেগটিও জাগে

কেননা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা জড়িয়ে ছিলেন  কিংবা যারা এই হত্যাকাণ্ডের সুবিধাভোগী পরবর্তীতে তাদের অনেকেই মিশে গেছেন আওয়ামী ধারার সঙ্গেবঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিজ নিজ অবস্থান থেকে আপোষকামী মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে আমলাতন্ত্রের যে অংশটি দীর্ঘদিন খুনী চক্রের ক্ষমতাকেই সহায়তা করেছেন, তারাও আজ সরকারের সঙ্গী হয়েই রয়েছেনআদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলা চলাকালে এ রকম একজন সম্পর্কে প্রশ্নও উঠেছেতৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) এ কে এম শফিউল্লাহ সম্পর্কে আদালত কটাক্ষ করেছেনকাপুরুষ, ভীতু অভিধায় তাকে অভিহিত করেছেনআজ প্রধানমন্ত্রীর পরে বেসামরিক যে ব্যক্তিটিকে সবচেয়ে ক্ষমতাবান মনে করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামও বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একই রকম ভূমিকাই রেখেছেনযে কারণে আওয়ামী লীগার সাজার জন্য ঘন ঘন তাদের মুজিব কোট গায়ে দিতে হয়মোহাম্মদ নাসিম হয়ত তাদের মতো লোকদের কথা মনে করেই বেঈমান মোশতাকদের চেহারা সামনে এনেছেন

৩.

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার আদালতে চলছেবঙ্গবন্ধুর খুনিরা অধিকতর তৎপরতারাই দেশে নানা অরাজকতা চালাচ্ছেন এই আশঙ্কার কথাও ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে, সরকারি তরফেবোঝা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে এখনও সমাজে যথেষ্ট শক্তিশালীসমাজ ও রাজনীতির বড় জায়গা জুড়ে তারা এখনও বিদ্যামাননইলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে বিব্রত, বিরক্ত, বিশৃঙ্খলা করবার ক্ষমতাই বা তারা পাচ্ছেন কিভাবে? বর্তমানে এই প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে অতীতের দিকেও দৃকপাত করা দরকারবঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার যেমন আজ জাতির দাবি, তেমনি বঙ্গবন্ধুর খুনের পরে তার দল, অনুগত নেতা সকল, সুবিধাভোগী রাজনৈতিক অংশের ভূমিকাও মূল্যায়িত হওয়া দরকারকেননা তা না হলে যে সমাজ বাস্তবতা তখন বিদ্যমান ছিল তা অনুভব করা যাবে নাঅনুসন্ধান করা যাবে নাখুঁজে পাওয়া যাবে না আওয়ামী লীগের শক্তি এবং দুর্বলতাযেটা খুব জরুরিভাবে খুঁজে  বের করা দরকারগ্রেনেড এবং বুলেট বোমার হাত থেকে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে হলে সেই অনুসন্ধান আজ খুব জরুরি

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, বঙ্গবন্ধুর খুনের পর তার সহকর্মী-সহযোদ্ধারা এত নীরব রইলেন কেন? জনমানুষের ক্ষোভ-প্রতিবাদের নীরব শক্তিকে সরবে রূপান্তরিত করার কোনো উদ্যোগ তখন নেয়া সম্ভব হলো না কেন? যে জনমানুষ বঙ্গবন্ধুর কথায় জীবনপণ বাজী রাখলেন, সেই বঙ্গবন্ধুকেই যখন নৃশংসভাবে খুন করা হলো তখন তীব্রতম প্রতিবাদ, প্রতিরোধে রাজপথ প্রকম্পিত হলো না কেন?

এই প্রশ্নটির সামনে আজকের আওয়ামী লীগ যদি হাজির হতে পারে, তবে ভবিষ্যতেও যে কোনো সঙ্কটে, বিপদে তার ভেতরের শক্তি A‡š^lY অনেক সহজতর হতে পারে

৪.

¯^vaxbZvi উন্মেষ ১৯৭১ সালের ১৬ wW‡m¤^i| কার্যতঃ ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সালের আগস্ট, এই সাড়ে তিন বছর বঙ্গবন্ধু শাসন করেছেনএই সাড়ে তিন বছরেই জনপ্রত্যাশার পাহাড় থেকে দূরে আর আসে তৎকালীন সরকারযে জনকর্তৃত্বের সরকার চেয়েছিল দেশ, তার বদলে আমলাপ্রবণ শাসন দেখা  দেয় তখনপরিবার এবং আত্মীয়তন্ত্র প্রবল হয়¯^w¯Íi বদলে নানা রকম অপশাসন জনগণকে দুর্বিষহ করে তোলেঘটনার বিবরণ না দিয়েও বোঝা যায় ১৯৭১ সালের রণাঙ্গণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করে, ১৯৭৪-৭৫ সালে  সেই আওয়ামী লীগকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নাজনগণের ভরসার সেই আওয়ামী লীগকে খুঁজে পায় না তারাকেননা তখন তারা জনগণের চাইতে অর্থে, বিত্তে, ক্ষমতায়, দুর্নীতিতে অনেক ওপরে উঠে যায়জনগণ এবং আওয়ামী লীগ দুই অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েযে মাটি, মানুষ আর দেশ আওয়ামী লীগের ভিত্তি ছিল, সেখানে ক্ষমতা অর্থ, প্রতিপত্তি জায়গা নেয়

১৯৭১ সালে অস্ত্রহাতে জীবন বাজি রাখা বিপ্লবী মানুষটির গাড়ি, বাড়ি, সম্পদ প্রতিপত্তি চোখের সামনে বাড়তে থাকে১৯৭১ সালের wW‡m¤^‡ii সঙ্গে ১৯৭৪ সালের wW‡m¤^‡ii যেকোনো পরিসংখ্যান নিলেই বোঝা যাবে সম্পদ কীভাবে কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত হয়ে ছিলজনমানুষের দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এই কুশাসনকে নিবৃত করতে পারেনিবরং সেই কুশাসনের অংশ হয়ে উঠেছিলদল এবং সরকার একাকার হয়ে ওঠেরক্ষীবাহিনী নির্যাতনের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়সেদিনের সেই শাসন যে দেশের জন্য দুঃখ বয়ে আনবে তা বুঝতে পেরেছিলেন তখনকার অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদযিনি নিজে তখন সরকারের মধ্যে থেকে সরকারে না থাকা মানুষ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তার নামে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া তাজউদ্দিন ততদিনে বঙ্গবন্ধুর শাসকদল ও সরকারের কাছে একঘরেতবুও ভবিষ্যতের চোখে, বর্তমানের অবস্থা বিশ্লেষণ করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের সহযোদ্ধা এই মানুষটি১৯৭৪ সালের ১৬ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত তার একটি বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন,

দেশ গড়ার নামে জনতাকে হাতছানি দিয়ে ডেকে দেশ গড়তে উপদেশ দিলে কিছুই হবে নাকি করতে হবে তা আমাদের জানতে হবেপরিকল্পিত উপায়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং যে যেখানে আছেন, সেখানে তার কর্তব্য পুরোপুরি পালন করতে হবে

সবাইকে নিজ নিজ ঘর থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে হবেব্যক্তি জীবনে পূর্বাপর সংহতি বজায় রাখতে হবেঅন্যথায় দুর্নীতির উচ্ছেদ হবে না এবং বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি কখনো যাবে নাওপর থেকে আদর্শ অনুশাসন করে দেখাতে হবেতাহলে কর্মীরা উৎসাহ ও প্রেরণা পাবেউপরে বসে দুর্নীতি করে আদর্শবান নাগরিক হওয়ার উপদেশ প্রদান করা উপহাস মাত্রএতে জাতির দুর্ভোগ বাড়বে বই কমবে না

৫.

জনগণ এবং আওয়ামী লীগের এই বিভাজন দৃশ্যত দূরে ঠেলে দেয় আওয়ামী লীগের মতো পরাক্রমশীল দলকেদলের ডাকসাইটে থেকে তৃণমূলের নেতারা যে যার মতো, যে যার জায়গায় এস্টাবলিশমেন্টের অংশ হয়ে ওঠেনআদর্শ পরাভূত হয় বিত্তের কাছেযার ফলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নৈতিকতার শক্তি হারিয়ে ফেলেসে জন্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শতাব্দীর নৃশংসতম ঘটনা ঘটলেও দলের নেতাদের মধ্যে কোনো প্রতিরোধ স্পৃহার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় নাশত্রুপক্ষ দ্রুতই সমস্ত জায়গা জুড়ে বসে প্রতিরোধহীনভাবেএকমাত্র প্রতিরোধ হতে পারত যে রাজনৈতিক নেতৃত্বদের কাছ থেকে জেলবন্দি করা হয় তাদের১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে যিনি দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে দেশের ¯^vaxbZv যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন সেই তাজউদ্দিন আহমদকে খুন করে খুনিচক্রজেলখানায়সেই ধারাবাহিকতায় অপরাপর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের খুন করা হয় জেলখানার অভ্যন্তরে

অর্থাৎ যে প্রতিবাদ প্রতিরোধের হাত ধরে জনমানুষকে জাগাবার সুযোগ ছিল তাজউদ্দিন আহমদ-এর নেতৃত্বে তাকে সমূলে উৎপাটন করে খুনিচক্র রক্তাক্ত জেলহত্যার মাধ্যমেবঙ্গবন্ধুর খুনের এক্সটেনশন ঘটে জেলখানায় ৩ b‡e¤^i ১৯৭৫-এ

এরপর আওয়ামী লীগের তৎকালীন নেতৃত্ব এক অর্থে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠার কাজে লেগে যায়যে যার মতো নিজের নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়প্রতিবাদহীন আওয়ামী লীগ তখন এক অর্থে খুনিচক্রকে ক্ষমতায় থাকতে নীরব সমর্থন দিয়ে যায়

৬.

এই ঐতিহাসিক সামাজিক বাস্তবতার পুনর্মূল্যায়ন যথাযথভাবে হওয়া দরকারনইলে এবারে আওয়ামী লীগ যে দিনবদলের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা ব্যর্থ হতে পারেআজ দল ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব যদি বাড়তে থাকে, দলের ক্ষমতাবান অংশ যদি এস্টাবলিশমেন্টের অংশ হয়ে ওঠতে থাকে প্রবল পরাক্রমে তবে দিনবদলের পথের বাধাগুলো পাহাড়সমান হয়ে ওঠতে পারেতখন বুলেট, বোমা শুধু প্রধানমন্ত্রীকেই নয় গোটা দল এমনকি গোটা দেশকেই তাড়া করতে পারে

     ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের এক নেত্রী অস্ত্রসহ ধরা পড়েছেন কুষ্টিয়ায়এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা ওঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধেওশঙ্কা ও আশঙ্কা সবই বাড়ছেদূরহস্ত হচ্ছে দিনবদলের আকাঙক্ষা

ঢাকা।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.