Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  শিল্প সংস্কৃতি  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
মর্ত্যলোকের পূর্ণিমা Download PDF version
 

শিল্প-সংস্কৃতি

মর্ত্যলোকের পূর্ণিমা

মোর্শেদা ডেইজি

 

            কাজ নিয়ে এমনই ব্যস্ততা এখন দেশি চলচ্চিত্রের শীর্ষস্থানীয় নায়িকাদের একজন পূর্ণিমার তবে কিছুদিন আগে পূর্ণিমাকে নিয়ে যখন নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হচ্ছিল, তখন অনেকেই বলেছিলেন, এই বুঝি পূর্ণিমার অমাবস্যা শুরু হলো কিন্তু মনের মাঝে তুমি এবং হৃদয়ের কথা ছবির ব্যাবসায়িক সাফল্য সব নেতিবাচক খবরকে দূরে ঠেলে দিয়েছে পূর্ণিমাকে নিয়ে আবারও তৈরি হচ্ছে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র অমাবস্যা কেটে পূর্ণিমা আবার তাঁর আলো ছড়াতে শুরু করেছেন বেশ জোরালোভাবেই

            নিজের বাসায় বসে আত্মতৃপ্তি নিয়েই পূর্ণিমা বললেন, সত্যি বলতে কি, কিছু মানুষ আমাকে ধ্বংস করে দিতে আদাজল খেয়ে নেমেছিল, কিন্তু প্রেক্ষাগৃহ ভর্তি দর্শক যখন আমার ছবি দেখে প্রশংসা করেছে, তখন আমার সম্পর্কে বলা মিথ্যা কথাগুলো ধোপে টেকেনি আর জন্য এখন আত্মবিশ্বাসটাও অনেক বেড়ে গেছে আগামী দিনগুলোতে যেসব ছবিতে কাজ করব, তাতে এটুকু বলতে পারি, দর্শক তাদের প্রত্যাশা মতো ছবিই দেখতে পাবে

            পূর্ণিমার পেশাজীবনে শুধু যে এখন বিনোদননির্ভর ছবি তৈরি হচ্ছে তা নয়, মুক্তির মিছিলেও আছে একাধিক ছবি

            পূর্ণিমার সমালোচকেরা প্রায়ই বলেন, মনের মাঝে তুমি বা হৃদয়ের কথা ছবির মতো পূর্ণিমার কেরিয়ারের ঝুলিতে আর কোনো ছবি নেই তবে বিষয়টি তিনি দেখেন অন্যভাবে, আসলে একটার মতো আর একটা যে হবে, কথা বলা যাবে না মনের মাঝে তুমি খুবই আলোচিত একটি ছবি কিন্তু এর পর আমার ব্যস্ততা যেভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি এর কারণ, আমাকে নিয়ে কোনো নির্মাতাই আর ওই রকম ছবি বানাননি আবার অলীক যখন হৃদয়ের কথা বানালেন, তখন মানুষ ছবিটি দেখল ভবিষ্যতে যে ছবিগুলো মুক্তি পাবে, সেগুলোর মধ্যে কোনো একটি ছবি যে মনের মাঝে তুমিকেও ছাড়িয়ে যাবে না, এমন তো কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না তবে এটা ঠিক, মনের মাঝে তুমি বা হৃদয়ের কথার মতো ছবি যদি বছরে দশটা করে তৈরি হতো, তাহলে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পটা অন্য রকম হতে পারত অন্তত প্রেক্ষাগৃহে ফিরে আসত দর্শক

            পূর্ণিমা মনে করেন, শুধুই বিকল্প ধারার ছবি বানিয়ে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় যেমন, শাস্তি ছবিতে কাজ করার পর দেখলাম, চারদিকে অনেক প্রশংসা কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি সেভাবে চলেনি অথচ যে ছবিটি চলেছে, সেটা নির্মাণশৈলীর দিক থেকে শাস্তির কাছে কিছুই নয়

            বাংলা ছবি নিয়ে পূর্ণিমা অনেক ¯^cœ দেখেন যেমন মাঝেমধ্যেই পূর্ণিমা নিজেই অনেক গল্প দাঁড় করান তখন মনে হয়, মতিউর রহমান পানু চাচাকে নিয়ে আবার সেই মাদ্রাজে চলে যাই; সেখানে গিয়ে মনের মাঝে তুমি ছবির পার্ট টু তৈরি করে নিয়ে আসি কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্যের বাইরে হওয়ায় সেই ইচ্ছা আর পূরণ করা সম্ভব হয় না এর মধ্যে একদিন gy¤^vB‡qi ফানাহ দেখলাম; দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল আমাদের ছবির মান কতটা নিচে তা ভেবে আর কূল পেলাম না কদিন আগেও কলকাতার ছবির চেয়ে আমরা এগিয়ে ছিলাম, আজ কলকাতার লোকজন আমাদের ছবির নাম শুনলেই হাসে

পূর্ণিমা নিজে কিন্তু প্রচুর হিন্দি মানে gy¤^vB‡qi ছবি দেখেন বিশেষ করে মাধুরী দীক্ষিত, ঐশ্বরিয়া রাই বা প্রীতি জিনতার ছবি হলে তো কথাই নেই রাত জেগে ছবি দেখেন, এক-দুবার নয়, তিন-তিনবারও দেখেন কোনো কোনো ছবি পূর্ণিমা বলেন, প্রথম প্রথম তো মাধুরীর মতো করে কাজ করার চেষ্টা করতাম কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, নিজের মতো করেই কাজ করি না কেন তবে মাধুরীর অভিব্যক্তি আমাকে মুগ্ধ করে তাঁর ছবি দেখে অনেক কিছুই শেখা যায়

            বাংলা ছবির নানা দুর্গতি দেখে অনেকেই হতাশ কিন্তু হারতে চান না পূর্ণিমা ইদানীং বাংলা ছবি দেখতে দর্শক আবার প্রেক্ষাগৃহে আসছে- বিষয়টি তিনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন আর তাই তিনি নিজেকে তৈরি করছেন আগের মতো করে জন্য অবশ্য অনেক কষ্ট ¯^xKvi করতে হয়েছে তাঁকে, মাঝে কিছুদিন আমার ব্যস্ততা কম ছিল আমাদের সমস্যা হচ্ছে, একবার যদি কোনো খাওয়া-দাওয়ায় মজা পেয়ে যাই, তাহলে আর লোভ সামলাতে পারি না কিন্তু কিছুদিন পরই বুঝলাম, অতিরিক্ত মেদ জমতে শুরু করেছে এর পরই আমি সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে শুরু করি তবে কাজটা অনেক কঠিন, এর মধ্যে আবার অসুস্থ হলে খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা চলে আসে এতে করে অনেকটাই শুকিয়ে যাই শরীরটাও ঝরঝরে মনে হয়েছে এখন তাই খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে খুবই সতর্ক খাবার দেখলেই সেদিকে না তাকিয়ে অন্য দিকে মনোযোগী হই সৌন্দর্য ঠিক রাখার (ফিজিক্যাল ফিটনেস) কথা ভাবি যতটুকু দরকার ততটুকুই খাই

            শোবিজে কাজ করা ছাড়া পূর্ণিমা এখন আর অন্য কিছুতে জড়িত নন তবে তাঁর বড় বোন বুটিকের দোকান দিয়েছেন, তিনি বোনের কাজ দেখেন মাঝেমধ্যে বোনের সঙ্গে এখানে-ওখানে যান, এখন আমি অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত; অন্য কিছু করতে ভালো লাগে না তবে যখন বিয়েশাদি হবে, ইচ্ছা আছে, তখন নিজেও বড় আপার মতো বুটিকের দোকানের সঙ্গে জড়িয়ে যাব নতুন নতুন ডিজাইন নিয়ে কাজ করব ভালোই লাগে কাজটা করতে তবে এসব অনেক পরের ভাবনা আপাতত অভিনয় ছাড়া অন্য কিছু মাথায় নেই

            সবশেষে পূর্ণিমা বললেন, আমার এখন একটাই লক্ষ্য-নিজেকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া, যেখান থেকে আর পেছনে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না জন্যই নিজেকে তৈরি করেছি ২০০৭ সালের পর যে বছরটি, সেটি যেন শুধু আমারই হয়- এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি

            কোনো মাসে দুবার পূর্ণিমা হলে শেষেরটিকে বলা হয় নীল চাঁদ সেই নীল চাঁদ অসাধারণই বটে আমাদেরও প্রত্যাশা নিজের কাজ দিয়ে এই মর্ত্যলোকের পূর্ণিমাও নীল চাঁদের আলো ছড়াতে থাকবেন

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.