Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  প্রযুক্তি বন্ধন  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
কোপেনহেগেনের পথে – পৃথিবীর জলবায়ুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে Download PDF version
 
প্রযুক্তি বন্ধন

 

কোপেনহেগেনের পথে পৃথিবীর জলবায়ুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে

  পড়শী প্রতিনিধি

 

আগামী ৭ই ডিসেম্বর থেকে ১৮ই ডিসেম্বর ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন সংঘটিত হবে। বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অনেকেই বলছেন কোপেনহেগেনে ডিসেম্বরের জলবায়ু সম্মেলন মানব জাতির ভবিষৎ নির্ধারণ করবে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ২০১২ সালে ১৯৯৭ সালে গৃহীত কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। কিয়োটো প্রটোকলের বেশীর ভাগ উদ্দেশ্যই বাস্তবায়িত হয় নি, সেই জন্য জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশানের (UNFCC) সংস্থাসমূহ জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের গতিশক্তি বজায় রাখার জন্য নতুন একটা প্রটোকলের জন্য চেষ্টা করবে।

নিউ সায়েন্টিস্ট  পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু তথ্য অনুযায়ী শিল্প বিপ্লবের পর থেকে আমরা ৫০০,০০০ মেগাটন কার্বন পৃথিবীর পরিবেশে যুক্ত করেছি (আসলে ১.৮ মিলিয়ন মেগাটন কার্বন-ডাই-অক্সাইড), এর মধ্যে ২০০,০০০ মেগাটন কার্বন এসেছে গাছ এবং বনজ সম্পদ ধ্বংসের ফলে। আমরা যদি আর ২৫০,০০০ মেগাটনের বেশি কার্বন নির্গত না করি, তাহলে ৭৫% ভাগ সম্ভাব্যতা আছে পৃথিবীর তাপমাত্রাকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে না দেবার। কেন ২ ডিগ্রি? অনেক বিশেষজ্ঞের মতে ২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা হলে মহাসমুদ্রের অনেক ছোট দ্বীপ ডুবে যাবে, মহাদেশগুলোর উপকূলরেখার স্থায়ী পরিবর্তন হবে, জীব-বৈচিত্র্যের চরম ক্ষতি হবে, সামগ্রিক আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে এবং প্রায় ১ বিলিয়ন লোক পানীয় জলের অভাবে ভুগবে। নিসন্দেহে এর প্রতিটিই বাংলাদেশের জন্য বিশেষ ভাবে ক্ষতিকর হবে।

বর্তমান হারে কার্বন নির্গত করলে আর মাত্র ২০ বছরের মধ্যে আমরা ২৫০,০০০ মেগাটনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাব। আর যদি আমরা ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য ৫০% সম্ভাব্যতা মেনে নিই, তাহলে হয়তো আরো ২৫০,০০০ মেগাটন নির্গত করা যাবে। যেটাই হোক না কেন বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন করতে নতুন প্রযুক্তির কার্বনবিহীন সমাজের সৃষ্টি করতে হবে। সেই জন্য শিল্পায়িত ও অনুন্নত দেশগুলোর মধ্যে একটা বোঝাপড়ার ব্যাপার আছে যেখানে দুই পক্ষই তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এবং সেখানে নতুন প্রযুক্তি অবলম্বনে কার্বনবিহীন শক্তি উৎপাদনের জন্য আর্থিক ও কারিগরী সাহায্যের দরকার হবে। এর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১০০ বিলিয়ন ইউরোর একটা তহবিলের প্রস্তাব দিয়েছে। কোপেনহেগেনে এই অর্থ সংগ্রহের জন্য উন্নত দেশগুলোর একটা মতৈক্যে আসতে হবে। সুইজারল্যান্ডের এক প্রস্তাব আনুযায়ী প্রতিটি দেশের কার্বন নির্গমনের একটা উচ্চ সীমা থাকবে, সেই সীমার ওপর যদি সে কার্বন সৃষ্টি করে তবে সেই কার্বনের জন্য একটা কর জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিলে জমা দিতে হবে।

 

 

টেবিল ১: আমরা ইতিমধ্যে, গত ২৫০ বছর ধরে, ৫০০,০০০ মেগাটন কার্বন নির্গত করেছি। কোন জায়গা থেকে কত পরিমাণ কার্বন এসেছে তার হিসাব এই টেবিলে দেয়া হয়েছে। আরো ২৫০,০০০ মেগাটন কার্বন পৃথিবীর তাপমাত্রাকে ২ ডিগ্রির বেশি বাড়াবে।

বর্তমানে ১৫% কার্বন আসছে বন ধ্বংসের ফলে। বিভিন্ন প্রস্তাব অনুযায়ী উন্নত দেশগুলি তাদের সীমার ওপর কার্বন নির্গমনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বনজ দেশগুলির সরকার ও অধিবাসীদের তাদের বনকে জীবিকার জন্য ধ্বংস না করার জন্য সাহায্য করবে। নিসন্দেহে এই প্রস্তাব কার্যকরী করতে দুর্নীতিবিহীন তত্ত্বাবধানের প্রয়োজন আছে। ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়া এই প্রকল্পে লাভবান হবে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রায় ১৩,০০০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নতুন প্রযুক্তির শিল্প গড়ে তুলতে। বাংলাদেশে নতুন ধরনের শিল্প গড়তে জন্য এই তহবিল কাজে লাগতে পারে।           

২ ডিগ্রি লক্ষ্যমাত্রার জন্য ২০২০র মধ্যে উন্নত দেশগুলোর কার্বনের পরিমাণ ২৫-৪০% কমাতে হবে, বর্তমানে তারা ১০-২৪% পর্যন্ত রাজী হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ১৫-৩০% কমাতে হবে, তারা রাজী হয়েছে ৫-২০% কমাতে। এই প্রেক্ষাপটে এবং জলবায়ুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের অভাবে কোপেনহেগেনে কোন ধরনের বড় বোঝাপড়ার সম্ভাবনা কম, বিশেষত: যুক্তরাষ্ট্র যদি কোন প্রস্তাব কোপেনহেগেন না আনে, তবে চীন ও ভারত কোন নির্দিষ্ট কার্বন সীমা মেনে নেবে কিনা সন্দেহ। এছাড়া কিছু কিছু নবোন্নত দেশের মাথাপিছু কার্বন ইউরোপের দেশগুলোর সমান বা তার থেকে বেশি যেমন দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া, তারা হয়তো কোন কার্বন সীমায় যেতে রাজী হবে না। আর নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগে তেলের রপ্তানী কমে যাবার ভয়ে সৌদি আরব ও পারস্য উপসাগরের রাষ্ট্রগুলি কার্বন সীমা সংক্রান্ত কোন প্রটোকলে যেতে খুব একটা উৎসাহিত নয়। তাই সব মিলিয়ে, বিশ্বব্যাপী পরিবেশবাদী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক রাষ্ট্রনেতার সদিচ্ছা সত্ত্বেও কোপেনহেগেনের শীর্ষ-বৈঠক জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে কোন বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবে কিনা সেটা দেখবার বিষয়। আমরা অধীর আগ্রহে এই সম্মেলনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছি।

 

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.