Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  প্রযুক্তি বন্ধন  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
কয়লা সম্পদ বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠক এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা Download PDF version
 

প্রযুক্তি বন্ধন

কয়লা সম্পদ বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠক এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা

মোঃ খালেকুজ্জামান


বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানী সঙ্কট এক অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের লক্ষে বাংলাদেশ সরকার এই বছরের জুন মাসে জ্বালানী ক্ষেত্রে কর্মরত প্রবাসী ও স্ববাসী বাংলাদেশীদেরকে নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেএকজন ভূতত্বের অধ্যাপক হিসাবে এবং সরাসরি কয়লা সম্পদের পরিবেশগত দিক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এর পেনসিলভেনিয়াতে গবেষণারত থাকার জন্য আমি এই গোলটেবিলে যোগ দিতে আমন্ত্রণ পাই। জ়ুন মাসের ১৫ থেকে ১৮ তারিখে টাঙ্গাইলের যমুনা অবকাশ কেন্দ্রে ৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশী এবং বেশ কয়েকজন দেশীয় বিশেষজ্ঞ জ্বালানী সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয়ে মত বিনিময় করেন।


দেশের কোন নীতিমালায় প্রবাসীদের মতামত নেয়ার ব্যাপারটি বাংলাদেশে এই প্রথম এবং এই কারণে সরকার প্রশংসার দাবীদার।  পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রবাসীদের লব্ধ জ্ঞান দেশের উন্নয়নের কাজে লাগানোর নজির আছে। বাংলাদেশও ভবিষ্যতে প্রবাসী বাঙালীদের নানা বিষয়ে আহরিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নতি করবে বলে আশা করা যায়।


জুন মাসের গোলটেবিলে মূলতঃ চারটি ইস্যুর গভীর বিশ্লেষণ এবং সেই সংক্রান্ত পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়।  এই চারটি বিষয় হল - জ্বালানী নিরাপত্তা, বড়পুকুরিয়ায় কয়লা উত্তোলনের বর্তমান অবস্থার উন্নয়নকল্পে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পেশ করা, অন্যান্য কয়লাক্ষেত্রগুলির ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করা, এবং কয়লা উত্তোলনের নিমিত্তে উচ্ছেদকৃত জনগনের পুনর্বাসন বিষয়ে মতামত প্রদান করা।


সরকারের এই উদ্যোগটা যুগান্তকারী হলেও অংশগ্রহণকারী অনাবাসী বিশেষজ্ঞ এবং আয়োজকদের মাঝে সমন্বয়হীনতার কারণে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রাগুলি অর্জিত হয় নি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমার মনে হয় এমন একটা সুন্দর সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলো।  প্রথমদিকে অনেক চেষ্টা করেও প্রবাসী বিশেষজ্ঞরা আয়োজকদের কাছ থেকে তেমন কোন দিকনির্দেশনা পাননি। এমনকি, আদৌ গোলটেবিল বৈঠকটা হচ্ছে কিনা সেটাও বোঝা যাচ্ছিল না। মূলতঃ, অষ্ট্রেলিয়ার একজন প্রবাসী বিশেষজ্ঞ সমস্ত জিনিষগুলি সমন্বয় করছিলেন। যদিও পেট্রোবাংলার উদ্যোগে গোলটেবিলের আয়োজন করা হয়েছিল,  প্রাথমিক আমন্ত্রণটিও এসেছিল অষ্ট্রেলিয়ার সেই প্রবাসীর কাছ থেকেই। সরকারী গাফিলতির জন্য শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে একজন প্রবাসী নিজ খরচে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।

চিত্র ১: বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বিভিন্ন কয়লাখনির অবস্থান (সূত্রঃ Hayashi & Islam 2008)


প্রবাসী বিশেষজ্ঞ নির্বাচনের বিষয়টিও যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করে করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়না। যেহেতু সরকারী খরচে সবাইকে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেহেতু সরকারকেই এ ব্যাপারে আরও একটু মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল। তাছাড়া, গোলটেবিলটা ঢাকার বাইরে, সাংবাদিক এবং লোকচক্ষুর আড়ালে, অনুষ্ঠিত হবার কারণে প্রথম থেকেই পত্রপত্রিকায় খুবই নেতিবাচকভাবে নানা ধরণের সংবাদ ছাপা হয়। অনেকেই পুরো গোলটেবিল বৈঠকটাকেই একটা ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখে। সরকার এই ব্যাপারটা আরও সুন্দরভাবে পরিচালনা এবং সমন্বয় করে সমালোচনার বদলে সুনাম অর্জন করতে পারত বলে আমার ধারণা।

গোলটেবিলে যোগ দেয়ার আগে সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়বস্তু কিংবা প্রত্যাশিত ফলাফলের ব্যাপারে তেমন কিছুই আমরা জানতে পারিনি।  সেইদিক থেকে আমরা খুব বেশী পূর্ব প্রস্তুতি  নিয়ে আসতে পারিনি। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমরা পেট্রোবাংলার আয়োজকদের কাছ থেকে বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, এবং অন্যান্য জ্বালানী বিষয়ে কিছু ডকুমেন্টের কপি চেয়েছিলাম, কিন্তু বাংলাদেশে আসার আগে আমরা এসবের কিছুই হাতে পাইনি। আমরা যমুনা অবকাশ কেন্দ্রে পৌঁছনোর পর কয়লানীতির বিভিন্ন সংস্করণসহ আরো কিছু নীতিমালার কপি প্রদান করা হয়, কিন্তু বড়পুকুরিয়া এবং ফুলবাড়ীসহ অন্য কোনো কয়লাক্ষেত্রের ভূতাত্বিক, হাইড্রলজি, উন্নয়নের নক্সা, পানিসম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা, কিংবা পরিবেশগত সমীক্ষার কোন রিপোর্টের কপি প্রদান করা হয়নি। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে আলোচ্য বিষয়ে যে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, সেটাকে সূত্র ধরে আমরা প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম  এত গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং এর জন্য যেরকম তথ্য সরবরাহ এবং সমন্বয় দরকার ছিল সেরকমটি মোটেও হয়নি


যমুনা অবকাশ কেন্দ্রে পৌঁছার পর মাননীয় জ্বালানী উপদেষ্টা আমাদেরকে আলোচনার বিষয়বস্তু এবং সরকারের প্রত্যাশার বিষয়গুলি সম্বন্ধে ধারণা দেন। তাছাড়া, পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বর্তমান কয়লানীতিটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা করেন সেই উপস্থাপনা থেকে একটা জিনিস আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, তারা এই নীতিমালাটির অনেক দিক পছন্দ করছেন না, এবং এর অনেক অংশই তারা বাদ দিতে চান  প্রবাসীদের কাছে তাদের প্রত্যাশাটাও অনেকটা এরকমই ছিল সরকারী উপস্থাপনায় এবং কথাবার্তায় একটা জিনিস পরিস্কার বোঝা যায় যে, তারা চাচ্ছেন একটা ছোটখাটো কয়লানীতি যেখানে পরিবেশের বিষয়গুলি এত গুরুত্ব পাবে না, কারণ তারা মনে করেন যে, পরিবেশ সংরক্ষণ করে কয়লা উত্তোলন করলে সেটা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবেনা


আমি এবং আরও কয়েকজন অংশগ্রহণকারী অনেক যুক্তি এবং উপস্থাপনার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করি যে, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা এবং পরিবেশকে ধ্বংস করে কোনো উন্নয়নই আসলে এখানে টেকসই হবে না বিশেষ করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে যদি কয়লা উত্তোলন করা হয়, তাহলে পরিবেশের এবং পানিসম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা পৃথিবীর অনেক অঞ্চলের কয়লাখনির অভিজ্ঞতা সেটাই প্রমাণ করে অন্যদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কয়লাখনির নমুনা এবং খনন পদ্ধতি ঠিক করাটাই আমাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে

যদিও চারদিন ধরে গোলটেবিল বৈঠক হয়েছিল, তার মধ্যে দুই দিনেরও কম সময় প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের জন্য ধার্য করা ছিল এতগুলি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তেমন পূর্ব-প্রস্ততি ছাড়া সুনির্দিষ্ট পরামর্শ, সুপারিশ, এবং নীতিমালা প্রণয়ন করা মোটেও সহজ ব্যাপার ছিলনা কিন্তু দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে, সকল প্রবাসী বিশেষজ্ঞরাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে অনেকগুলি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ সরকারকে দিয়েছেন সেসমস্ত পরামর্শগুলি পরবর্তিতে প্রেস এবং মিডিয়ার সামনে উপস্থাপিত করা হয়, যা অনেক পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে


চিত্র ২: ফুলবাড়ীর ধানক্ষেতের কয়েকশো মিটার নিচেই রয়েছে কয়লা খনি, বেশির ভাগ স্থানীয় অধিবাসীরা এই খনির বিপক্ষে (ফটো সূত্র: JACSES)


কয়লানীতির বিষয়ে নিম্নোক্ত পাঁচটি বিষয়ে মতৈক্যের ভিত্তিতে সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়েছিলঃ

(১) জ্বালানী নিরাপত্তা আগামী ২০ বছরের জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করে, আভ্যন্তরীণ চাহিদা অনুযায়ী কয়লা উত্তোলন করা হবে বর্তমান এবং ভবিষ্যত চাহিদার হিসাব অনুযায়ী কয়লা রপ্তানীর প্রশ্ন অবান্তরশুধু বিশেষ পরিস্থিতিতে কয়লা রপ্তানীর কথা বিবেচনায় আনা যেতে পারে

(২) প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনী কাঠামো তৈরী করা যেহেতু বাংলাদেশে কয়লা উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল, বিশেষজ্ঞ, প্রতিষ্ঠান, এবং আইনী কাঠামো নেই, সেই জন্য অতি জরুরী ভিত্তিতে প্রইয়োজনীয় লোকবল, নীতিমালা, আইন, এবং শিক্ষাসহ অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবেকয়লাখাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য খনি বাংলানামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবেএখানে উল্লেক্ষ্য যে, বাংলাদেশে কোন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হবে সে ব্যাপারে কোন সিদ্ধন্তে পৌঁছানো যায়নি প্রত্যেকটি কয়লাখনির ভূতাত্বিক, আর্থ-সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় এনে যে পদ্ধতিটি সেই এলাকার জন্য সবচেয়ে যুতসই হবে তাই গ্রহণ করা প্রয়োজনএ বিবেচনা থেকেই এই লেখক ফুলবাড়ী কয়লা অঞ্চলটি উন্মুত্ত পদ্দ্বতিতে করার উপযোগী নয় বলে পরবর্তীতে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেছেন একইভাবে, অন্য একজন প্রবাসী অংশগ্রহণকারী পত্রপত্রিকায় এবং টেলিভিশনে উন্নুক্ত পদ্ধতিতে এশিয়া এনার্জি নামক কোম্পানীর প্রস্তাবিত ফুলবাড়ী কয়লাখনির পক্ষে মত প্রকাশ করেছেনস্থানীয় জনগণকে আস্থায় এনে সরকারকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে

(৩) পরিবেশ, স্বাস্থ্য, এবং খনি নিরাপত্তাযেকোন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনই পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক, তাই কিভাবে কয়লা উত্তোলনের সমস্ত পর্যায়ে পরিবেশ, পানি সম্পদ, জনগনের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সেই দিকে শুধু নজর দিলেই চলবে না, এর জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি, প্রচলিত এবং ভবিষ্যতের আইনের সঠিক বাস্তবায়নও করতে হবে। কয়লা উত্তোলনের সাথে জড়িত সঠিক মানদণ্ড এবং মাপমাত্রা তৈরী করতে হবে। কয়লা উত্তোলন পরবর্তীকালে যাতে কয়লা অঞ্চলকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে মূল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।

(৪) কয়লা উত্তোলনের অর্থ যোগান সরকারী, বেসরকারী, লগ্নিদাতা, বন্ড, এবং সরকারী তত্বাবধানে বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থের যোগানের সুপারিশ করা হয়েছে


(
৫) কয়লাখনি অঞ্চল থেকে উচ্ছেদকৃত এবং পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ কয়লা অঞ্চলে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের সবাইকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণসহ চাকুরী, ট্রেনিং, এবং যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।  পানি সম্পদের গুণগত এবং পরিমানগত অবস্থা খনিপূর্ব অবস্থায় বজায় রাখার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।

অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সরকারী এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবীদার কারণ প্রবাসীদের সহকারে দেশের কয়লা নীতি নিয়ে এটাই প্রথম আলোচনা।  প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞদের সাথে মত বিনিময়ের মাধ্যমে কয়লানীতি এবং কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে অনেক সুচিন্তিত সুপারিশমালা এবং পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।  এখন দেখার ব্যাপার সরকার দেশপ্রেমিক প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের মতামতকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং বাস্তবায়ন করেন।  এবারের কয়লা সংক্রান্ত গোলটেবিল বৈঠকটি অনেক কারণেই একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।  এখন এটা শুধু ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে, নাকি বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নির্ভর করছে সরকারের ইচ্ছার উপর।
___________________________________________________

ড. মোঃ খালেকুজ্জামান পেনসিলভ্যানিয়ার লক হ্যাভেন ইউনিভারসিটির ভূতত্ববিদ্যার অধ্যাপক। তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নদী ও পানি-সম্পদ বিষয়ক পরিবেশ এবং পেনসিলভ্যানিয়ার নদী এবং মাটির ওপর ওপর কয়লা উত্তোলনের প্রভাব।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.