Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
আমি ফাইস্যা গেছি Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

ওয়াশিংটনের জানালা

আমি ফাইস্যা গেছি

ওয়াহেদ হোসেনী

     সকাল থেকে বসে বসে দৈনিক টুডু লিষ্টিটা তেরী করে চলেছি । ফর্দে কখনো লিখছি কম্পুটার রুম গোছাতে হবে,কখনো যোগ করছি শীতের দিনের কাপড়চোপড় বের করতে হবে কখনো বা লিখছি প্রিন্টারের ইংক-জেট কালি কিনতে হবে । ফর্দ বেড়েই চলেছে । এক সময় মনে হল ফর্দটা গিন্নীর মাসিক বাংলা বাজারের ফর্দের চাইতেও বড় হোয়ে যাচ্ছে । লিস্টি তৈরী করার আসল  কারণটা কি জানেন -ভয় । ভয় ঢুকেছে মনে । তাই নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি । সুন্দরী পড়শীর ভয় । এক্সিকিউটিভ এডিটর সাহেব তাঁর ফ্রেন্ডলি রিমাইডিং ইমেলে যে ডেডলাইন দিয়ে দিয়েছিলেন - গুটি গুটি পা পা করে সে দিনটা এসে গেল বলে, অথচ নিয়মিত কলাম ওয়াশিংটনের জানালা দিয়ে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না । তাই ফর্দই লিখে চলেছি । কদিন ধরে অঝোরে বৃষ্টি ঝরে চলেছে । থামার কোন লক্ষণই নেই । লিভিং রুমে গিয়ে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাহিরে কি ঘটছে ঠাহর করার চেষ্টা করলাম । অতি পাতলা পর্দা দিয়েও কিছু দেখতে না পেয়ে পর্দাটা তুলে ধরতেই মনে হোল যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে হঠাৎ খবর এসেছে, সদ্য বিধবা হওয়া বধূর অশ্র যেন ঝরে চলেছে, শেষ নেই তার । নিজেকে নিজেই তিরস্কার করলাম এই বলে এমন অলুক্ষণে তুলনা দিতে হয়? তার চেয়ে ভাবি না কেন এমনও দিনে তারে বলা যায় গোছের কিছু । তাইতো নিজে গাইতে না পারলে কি হবে এই টেকনোলজির যুগে অভাব কিসের? ইউ টিউবের বদৌলতে ... ইত্যাদি ইত্যাদি ভাবতে আবার ফিরে গেলাম লিভিং রুমে ।

     টেলিভিশনটা কখন চালিয়ে দিয়ে গিয়েছিলাম, মনে নেই । সিএনএন বকবক করে ব্রেকিং নিউজ দিয়ে চলেছে । সিডি রেকের সামনে দাঁড়িয়ে চোখ বুলিয়ে চলেছি । পছন্দ করার চেষ্টা করছি । খুঁজতে গেলেই যুতসই কিছুই পাওয়া যায় না । এমন সময় চোখ থেমে গেল একটা সিডির ওপর । ভেসে উঠলো ফেয়ারফ্যাক্স শহরে গাছ গাছাল দিয়ে ঘেরা বিরাট জর্জ মেসন বিশ্বাবদ্যালয়ের চমৎকার ক্যাম্পাস। মাঝে পেট্রিয়েট সেন্টার । বিরাট মঞ্চের মাঝে একটা চেয়ারে কোলে গীটার নিয়ে বসে সাধারণ বাংলাদেশী চেহারার এক শিল্পী । রুক্ষ্ম চুল, ভাংগা গালে মাঝারী গোছের দাড়ী, তাও মাঝে মাঝে দুচারটা সাদা । টুংটাং করে গীটার বেজে উঠলো আ আ আ করে তাল ধরলেন শিল্পী হায়দার হোসেন । সারা প্রেট্রিয়েট সেন্টারে ছুঁচ পড়লে শোনা যাবে এমন নীরবতা । পরমুহূর্তে বেরিয়ে আসলো আমি ফাইস্যা গেছি আর সারা পেট্রিয়েট সেন্টার উচ্ছাসে ফেটে পড়লো । ঐ সিডিটাই বেছে নিয়ে স্টেরিওতে লাগিয়ে গিয়ে বসলাম দোল চেয়ারে । এই সময়টা আমার বড় আনন্দের, উপভোগের । গান শুনি, টিভি দেখি, খবর কাগজ পড়ি. বই পড়ি, মন চাইলে পড়শীর কথা মনে করে এক আধ পাতা লিখে ফেলি । চুপিসারে কোন এক সময বলে ফেলি  সকল প্রশংসা তাঁর

     দোল খেতে খেতে টেলিভিশনের ওপর নজর পড়তেই দেখি রাতের দৃশ্য । দেলওয়ার অংগ রাজ্যে ডোভার এয়ার বেস, দেখি সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন উর্দিপরা কয়েকজন পদস্থ সামরিক অফিসার । একদম ডান পাশে সিভিলিয়ান পোশাকে, হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা । টুপি পরা অফিসাররা টুপির কাছে হাত তুলে স্যালুট করছেন । সিভিলিয়ন পোশাকে, খালি মাথায়, মুখ কঠিন করে দাঁড়িয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট । খালি মাথার কাছে হাত তুলে স্যালুট করছেন । সি সেভেনটিন ট্রান্সপোর্ট বিমান থেকে তিন বাহিনীর সৈন্যরা ধরাধরি করে আমেরিকান পতাকায় মোড়া কফিন নামাচ্ছেন । এক, দুই, তিন ... যুদ্ধের আসল রূপ, চরম মূল্য । ডোভার এয়ার বেসের সেই রাতের দৃশ্যের প্রেক্ষাপটে রিপোর্টার বলে চলেছেন- প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু  বুশ ২০০১ সনের অক্টোবর মাসে যুদ্ধ শুরু করেন বটে, মাঝে মধ্যে ইরাকে, আফগানিস্থানে গোপনে সৈন্য ছাউনিতে গিয়ে সৈন্যদের সংগে থ্যাংকস গিভিং-এর খানা খেয়ে, ছবি তুলে সৈন্যদের উৎসাহ দিয়ে হোওয়াইট হাউজে ফিরে এসে গাল ভরা হাসি মুখে আমরা জিতছি ঘোষণা করেন । কখনো বা mission accomplished বলে পাইলটের বেসে যুদ্ধ জাহাজে নামেন । কিন্তু না যুদ্ধের আসল রূপ, সুস্থ সবল জোয়ান মানুষের মুহূর্তের মধ্যে লাশে পরিণত হওয়া, দেখেন নি । কিংবা সে লাশকে দেশের মাটিতে গ্রহণ করতে জর্জ বুশ কোনদিন যান নি । যেতে হোল তাকে যিনি স্বেচ্ছায় এবং ভীষণ প্রতিযোগিতা করে এসে বসেন হোওয়াইট হাউজে । রাতের অন্ধকারে কম আলোতেও প্রেসিডেন্টের মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল । কঠিন মুখ যেন আরো কঠিন হোয়ে উঠছে । ঠিক এই সময় টেলিভিশনের দৃশ্য পরিবর্তন হোয়ে গেল ।

ওয়াশিংটন এলাকার বিরাট এক আবহাওয়া মানচিত্রের সামনে দাড়িয়ে এক ওয়েদার গড ঘোষণা করলেন আমার কাছে দুটো সংবাদ আছে । একটি শুভ, অন্যটি অশুভ। প্রথমে শুভ সংবাদটা দি - আগামি বৃহস্পতিবার ভোর বেলা থেকে বৃষ্টি থেমে যাবে। সুন্দর রোদ উঠবে । কোন বাতাস থাকবে না , আর দিনের মাঝা মাঝি তাপমাত্রা উঠবে ৭৫ ডিগ্রীতে । দিনটি উপভোগ করার জন্য প্রস্তুত হন। আর অশুভ সংবাদটা হোল আগামী তিন দিন ধরে চলবে অঝোর বৃষ্টি, ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সম্ভবনা আছে । মাঝে মাঝে ঝটকা বাতাস বইবে, বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৫০ মাইল পর্য্যন্ত উঠতে পারে । ওয়েদার গড বিদায় নিয়ে চলে যেতেই ব্রেকিং নিউজ আবার শুরু হোল

     খালি মাথার কাছে হাত তুলে স্যালুট করে চলেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা । অফিস যাওয়ার সময় গিন্নী লন থেকে খবর কাগজটা ঘরে দিয়ে গেছেন । দেখলাম প্রথম পাতার প্রধান ছবিটা হলো যুদ্ধে আহত এক সৈন্যের কেটে ফেলা পা পরীক্ষা করছেন ওয়াশিংটন ওয়াল্টার রীড মিলিটারি হাসপাতালের এক ডাক্তার । খবরের শিরোনাম গত তিন মাসে আফগানিস্থানে আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কোলের ওপর দুহাত রেখে ধীরে ধীরে দোল খাচ্ছি আর ভাবার চেষ্টা করছি কাল রাতে অন্ধকারে নিহত সৈন্যদের লাশ গ্রহণ করতে করতে প্রেসিডেন্ট ওবামা কি ভাবছিলেন ? তিনি কি চিন্তা করছিলেন আফগানিস্থানে সেনাপতি জেনারেল ম্যাক কৃষ্টালের অনুরোধ অনুযায়ী আরো ৪০ হাজার সৈন্য পাঠাবেন কিনা ? নাকি অন্য কোন সিদ্ধান্ত নেবেন ? নাকি ম্যাথু হো নামে ইস্তফা দেওয়া ঐ ছোকরা অফিসারটাই ঠিক- যুদ্ধ করে আফগানিস্থান জয় করা যাবে না, অন্য পথ ধরতে হবে । জানি না ওবামা কি ভাবছিলেন । সত্যি, আমার ভারী জানতে ইচ্ছা করে ওবামা কি ভাবছিলেন । এতক্ষণে খেয়াল হোল তাই তো স্টেরিও তখনও চলছে, হায়দার হোসেন গীটার বাজিয়ে গেয়ে চলেছেন

     আমি ফাইস্যা গেছি, আমি ফাইস্যা গেছি মানকির চিপায়, আমার এই দিলের চোট বোঝে না কোন..

লিভিং রুমের জানালা দিয়ে নয় ফ্যামিলি রুমের বিরাট কাচের দরজা দিয়ে দেখি অঝোরে বৃষ্টি ঝরে চলেছে । ওয়েদার গড নিশ্চয় ঠিক- তিনটা অশুভ দিন পার করতে পারলে আসবে . . .

ElderHossaini@gmail.com

ওয়াশিংটন ডিসি

নভেম্বর ০১, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.