Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
আমেরিকাতে সংস্থা-সংগঠন ও তার পরিচালনা Download PDF version
 

প্রবাসে মন্দির

আমেরিকাতে সংস্থা-সংগঠন ও তার পরিচালনা

দিলীপ দত্ত

আমরা সামাজিক জীব-মিলে মিশে বাদে-বিবাদে জীবন যাপন করে যাই। আমাদের ইতিহাস কত শত সমাজ ব্যবস্থার উত্থান পতনের ইতিহাস।

গত চল্লিশ বছর ধরে বিভিন্ন দেশ থেকে সুখী জীবনের সন্ধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দলে দলে মানুষ এসেছে। সত্তর দশকে এর শুরু। ঐ সময় শুরু হয় শহরে শহরে নবাগতদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মানুষ্ঠান ভাড়া করা হল ঘরে। কোন একজন বা দুজনের মাথায় কোন এক বিষন্ন সন্ধ্যায় এলো একটা নাচ গানের অনুষ্ঠান করলে কেমন হয়। অথবা কেউ ঈশ্বর আরাধনার প্রস্তাব নিয়ে এলো, বন্ধুদের ডেকে প্রস্তাব রাখলো। একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের জন্ম হলো। সে বড় হতে লাগলো। হামাগুড়ি থেকে হাঁটা- নানা প্রয়োজনে পরিধি বাড়তে থাকলো। বৃহত্তর প্রচেষ্টার প্রয়োজন উপলব্ধি হলো। এই ধরনের প্রতিষ্ঠান বীজ থেকে শুরু হয়ে কোন একদিন মহীরুহে পরিত হয়েছে। সাথে সাথে আরেক ধরনের প্রতিষ্ঠান এদেশে শুরু হয়েছে এক মহীরূহে শাখা হিসাবে। দেখা গেল শহরে শহরে মন্দির-মসজিদের আবির্ভাব। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পিছনে আছে তার নিজস্ব কাহিনী। সেসবের বর্ণনা এ প্রবন্ধের লক্ষ্য নয়। তবে সেগুলোকে কয়েকটি পদ্ধতির আওতায় অনুসরিত বলে ধরা যায়।

সব প্রতিষ্ঠানের অবস্থিতির মূলে তিনটি পরস্পর পরিপরক অবস্থা আমার বিচারে প্রয়োজনীয়। যে কোন একটির অভাবে ঘটনাটি ঘটবে না। শুধু প্রতিষ্ঠানই কেন, জীবনের প্রতিটি ঘটনার সাফল্যের কার ঐ তিনটির এক যোগে সহবস্থান একটি ত্রিভুজের এক কোনায় বসানো যাক উদ্দেশ্য বা কি করতে চাই - অর্থাৎ একটি সামাজিক সংস্থা গড়তে চাই। ত্রিভুজের আরেক কোনায় কর্ম, দ্যো, দ্যোক্তা, সংগঠন অর্থাৎ প্রয়াস তৃতীয় কোনায় অর্থ

 

 

 

এটা বলাই বাহুল্য যে ঐ তিনটির যে কোন একটির অভাবে কোন ঘটনা ঘটতে পারে না। উদ্দেশ্য অর্থ্যৎ পরিকল্পনা বা কোন গঠনমলক কাজ বা একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রচেষ্টা। প্রথম কাজ তাই সঠিকভাবে নির্ণয় করা কে বা কারা এর গ্রাহক হবে। তাদের ইচ্ছা, অনিচ্ছা, চাহিদা যাচাই করা। এই সমীক্ষার মাধ্যমে বুঝতে হবে সভ্যদের ইচ্ছা জোর। আবার অনক সময় যারা প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের দ্বারা উপকৃত হবে তাদের সাড়া সীমিত থেকে নেতিবাচক হতে পারে। এই খানে আসে নেতৃত্বের দূরদৃষ্টির পরিচয়।

উদ্দেশ্য যখন প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন প্রয়োজন হবে অর্থ অর্থ শক্তিশালী। দাতারা অর্থ না দিলে উদ্দেশ্যে ছাই পড়তে পারে। অর্থের জোরে সফলতা সম্ভব। এখানে যারা প্রয়াসী তাদের সজাগ থাকা দরকার। কারণ অর্থ সংগ্রহে প্রয়াসের বিশেষ প্রয়োজন। অর্থ সংগ্রহ আর উদ্দেশ্যের সাফল্যে প্রয়াসের সার্থকতা।

বহুমখী-সমস্যা সমাধান প্রয়াসের প্রধান লক্ষ্য। প্রয়াসের জন্য চাই সংগঠন, নেতৃত্ব, নিয়ম, সম্প্রীতি ও সংহতি। বাক-বিতন্ডা, বিচ্ছেদ, প্রত্যক্ষ প্রতিরোধ - এসবের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াসেই সার্থকতা আসে। সার্থকতা মানে উদ্দেশ্যে উত্তরণ। এক উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে অন্য গন্তব্যে পৌঁছানোকে বলা যেতে পারে ব্যর্থতা।

সমস্য যখন বহুম তখন এক পা এক পা করে এগুনোই বিধেয়। আবার প্রতি পদক্ষেপে তৎকালীন পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমস্যার সমাধান করা দরকার। একটি প্রতিষ্ঠান কয়েকজনের প্রচেষ্টায় তৈরী হলো, তাঁরা নেতা ঠিক করলেন বা নেতা কয়েকজনকে আহ্বান জানিয়ে একটি সংস্থা গড়লেন। এর পরেই শুরু কিভাবে এগোতে হবে, তার পরিকল্পনা। এবার নেতৃত্বের পরীক্ষা। অনেক সংগঠন শুরুতেই শেষ হয়ে গেছে শুধু নেতৃত্বের দুর্বলতায়। নেতার ব্যবহারিক চরিত্র গঠিত হয় জ্ঞান, পারদর্শিতা ও ইচছার জোরে। কোন একটির অভাবে তিনি দুর্বল।

নিয়ম-শৃঙ্খলা ব্যতিরেকে স্বাধীন সমাজে কোন সংস্থা বেশীদিন টিকেনা। নিয়ম বলতে এক্ষেত্রে সাংবিধানিক নিয়মের কথা বোঝায়। সংবিধান সুদূর প্রসারী দৃষ্টি নিয়ে রচনা করা দরকার। আর দরকার তার প্রতি সকল সভ্যের শ্রদ্ধার অঙ্গিকার। যখন যেমন সুবিধা তখন তেমনভাবে নিয়ম বদলানোর মানে বিশৃঙ্খলতা ও সংবিধানের ব্যবহার স্বার্থ প্রনোদিত হয়। নিয়মের শাসন ও তার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রয়োগ প্রয়োজন। আমরা মানুষ। আমাদের মানসিকতার বৈষম্য ধ্রুব সত্য। আমরা তবুও এগিয়ে যেতে পারি এক সঙ্গে এক দিকে। আমরা পারি অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান করতে। আমরা তা পারি তখনই যখন আমরা শক্তি পাই সম্প্রীতি ও সংহতি থেকে।  

এবারেত্ত্ব থেকে সরে এসে কোন প্রতিষ্ঠান গড়া ও তার রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে কয়েকটি কথা বলা প্রয়োজন। যখন কিছূ নেই, শুধ একটা নতুন প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন আছে, তখন সমর্থনের অভাব বারবার হতাশা সৃষ্টি করে। সামনে কোন ফরমুলা নেই, যাকে অনুসর  করে এগুনো যায়। প্রয়োজন বোধ করেও অনেকে পাশে এসে দাঁড়াবেনা। সন্দেহ থেকে যায় সংগঠনের সফলতায়। এই বাধা পাহাড়ের মত উচু হয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়। নিরুৎসাহ হওয়া চলেনা - শুধ চেষ্টা করে যাওয়া যাতে নতুন নতুন পদ্ধতিতে সংস্থা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। নেতিবাচক কথায় নিরুৎসাহ না হওয়া একান্ত প্রয়োজন। সৌহার্দপূর্ণ দৃঢ়তা শেষ পর্যন্ত ঈপ্সিত ফল এনে দেবে। একটি সংস্থার জন্ম হবে।

এবার যা শুরু হলো তাকে চালাতে হবে। চলার পথে ঘটনার ত্রিভুজ সামনে এসে দাঁড়াবে বারবার নতুন পরিমাপ নিয়ে। উদ্দেশ্য অর্থ্যৎ সংকল্পিত পরিকল্পনা হচ্ছে ভবিষ্যতের  দিশারী। নির্ধারিত লক্ষ্যে এই সংস্থা চলেছে বা চলবে। যা সকলের সামর্থের সীমায়, যা সুদূর প্রসারী সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে বাস্তবের প্রতিফলনে ও উদ্দেশ্যের সফলতার আলোয় তা উদ্ভাসিত হবে। উদ্দেশ্য বদলালে সংস্থার চরিত্র বদলাবে।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বলতে হয় এই মুক্ত সমাজে যতদিন আমরা মুক্ত মনের পরিবেশ রচনা করবো, আমাদের গড়া সংস্থায় ততদিন থাকবে শান্তি আর সুন্দর হবে আমাদের সামাজিক জীবন।

 

_______

দিলীপ দত্ত পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। ছোটবেলা থেকে দেশ-বিদেশে নানf প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত।

হিউস্টন, টেক্সাস

নভেম্বর ৫, ২০০৯

 

 

মন্তব্য:
good story   November 20, 2009

এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.