Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
ভারতবর্ষ ও আমেরিকায় হিন্দু ধর্ম ও মন্দির Download PDF version
 

প্রবাসে মন্দির

 

ভারতবর্ষ  ও আমেরিকায় হিন্দু ধর্ম ও মন্দির

বিষ্ণুপদ গোস্বামী

বহু সাধনার তীর্থক্ষেত্র ভারতবর্ষে - যেখানে অসংখ্য সাধক-সাধিকার পবিত্র যোগক্ষেম, আজও নিত্য প্রবাহে আকাশে-বাতাসে, জলে-স্থলে, অরণ্যে অবিরাম আশীর্বাদ স্বরূপ আধ্যাত্মিকতার বীজবর্ষ অব্যাহত। বর্তমানে ভারতবর্ষ ও বিদেশে মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে এবং সামাজিক দুষ্-প্রবৃত্তিগুলি বিনাশ করতে সকল স্থানে গড়ে উঠেছে মন্দির, মসজিদ ও গীর্জা। বিদেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর মন্দির নিমার্ণের জন্য উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রে যেমন হিউষ্টন, নিউ ইয়র্ক, বাল্টিম, স্যান ফ্রান্সিসকো, লস এঞ্জেলে, শিকাগো ও অন্যান্য শহরের মন্দিরগুলোর ভ্যন্তরী শুদ্ধতা,পবিত্রতা ও পূজাদীর মধ্যে সর্বাঙ্গীন শাস্ত্রসম্মত বিধি পালন ভক্ত মনে প্রগা ভক্তি-ভাবনকে জাগ্রত করছে। দেশের মন্দির সর্বজন বিদিত, আর দেশে শাস্ত্র মত সব করা হয় এবং করা সম্ভব।  কিন্তু বিদেশেও এখন সব কিছু করা সম্ভব হচ্ছে একমাত্র ভগবানের আর্শীবাদে ও ভক্তদের ভক্তির জোরে।

পূজা কি? জীবস্ত ধর্মের ভিত্তিতে বিশ্লিষ্ট - বিপর্যস্ত জাতিকে পুনরায় সঙ্ঘবদ্ধ করা, শক্তিশালী হওয়া, আত্মরক্ষা, আত্মপ্রচার, সংস্কৃতি রক্ষা, সমাজ গঠন, জাতি গঠন ও কর্ম পরিকল্পনার জন্য যে শক্তি প্রয়োজন তার নাম হলো পূজা। প্রেম-ঘৃণা, ধর্ম-অধর্মচরণ সৃষ্টির খেলায় নিরন্তর চলছে । মহাজ্ঞানীরা বলেছেন যে জীব দেহপ্রাপ্ত হয় মুক্ত দেহ পাবার জন্য। শ্রীকৃষ্ণ, যীশু, হযরত মুহাম্মদ অথবা রামকৃষ্ণদেব এই জীবদেহ ধারণ করেছেন পরমগতির সাধনা করেছেন। সবাই বলেছেন,এই জীবদেহ নশ্বর - মুক্তির পথে চলে। দেহ তো বাসাংসি জীর্ণানির মত ত্যাগ করতে হবে। মৃত্যু হলো এক জীবন থেকে আরেক জীবনে প্রবেশের পাসপোর্ট মাত্র। তাই যতদিন এই জীবন আছে ততদিন ভালো কর্ম করে যাও। কর্মের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করো।

আমর পৌরহিত্য জীবনে ভারতের মধ্যে যেমন পশ্চিম বঙ্গ, দিল্লী, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশসহ বিভিন্ন জায়গায় মন্দির ও মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছি এবং প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে ২৫/৩০ বৎসর যাবৎ পৌরহিত্য করেছি। ভারতবর্ষে সবকিছু সুন্দরভাবে করা যায়। কিন্তু সুদূর আমেরিকাতেও যে সেটা সম্ভব নয় তা আমার জানা ছিল না। এখানে এসেও বিভিন্ন মন্দির ও মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছি এবং আরো বিভিন্ন কাজে বিভিন্নস্থানে গিয়েছি। মনেই হয় না যে আমি ভারতের বাহিরে আছি।

মনে পড়ে হোমা পাখীর কথা যা বেদে আছে। খুব উচুঁ আকাশে সে পাখি থাকে। আকাশেই ডিম পাড়ে। ডিম পাড়লেই ডিমটা পড়তে থাকে। ডিম পড়তে পড়তে ফুটে যায়। তখন ছানাটা পড়তে থাকে। পড়তে পড়তে তার চোখ ফুটে আর ডানা বেরোয়। চোখ ফুটলেই দেখতে পায় যে সে পড়ে যাচ্ছে আর মাটিতে লাগলে একেবারে চুরমার হয়ে যাবে। তখন সে পাখী মার দিকে একেবারে চোঁচা মেরে দৌড় দেয় আর উঁচুতে উঠে যায়। এখানে স্বামী বিবেকান্দের কথা মনে পড়ে গেল। স্বামীজি ছিলেন হোমা পাখী। তাঁর জীবনের এক লক্ষ্য, মার কাছে চোঁচা দৌঁড় দিয়ে উঠে যাওয়া গায়ে মাটি না ঠেকতে অর্থাৎ সংসার স্পর্শ না করে ভগবানের পথে অগ্রসর হওয়া।

স্বামীজি শুধু পন্ডিত নন, তিনি সাধু পুরুষ ছিলেন। শুধু পান্ডিত্যের জন্য ইংরেজ ও আমেরিকানরা ভৃত্যের বা সন্তানের ন্যায় তাঁর সেবা করেন নাই। তাঁরা বুঝেছিলেন, ইনি আর এক ধরনের মানুষ। লোকে সম্মান, টাকা, ইন্দ্রিয়সুখ, সন্ন্যাস, পান্ডিত্য নিয়া থাকে। এঁর এক লক্ষ্য - ঈশ্বর লাভ। তাই খ্রীষ্টীন মূলূকে ভারতীয় ধর্ম, সভ্যতা এবং সংস্কৃতির যে বীজ তিনি বপন করেছেন তার ফল আমরা হাতে হাতে পাচ্ছি। দেশ থেকে বিদেশে এর প্রভাব পড়েছে অনেক বেশী। আজ অনেক বিদেশীরা মন্দিরে এসে ধর্ম আলোচনা করেন, হিন্দুশাস্ত্র যে বিজ্ঞান সম্মত তা বোঝান। হিউষ্টনের দূর্গা মন্দিরেও তাঁরা এসে বক্তব্য রাখেন।

স্বামীজির সকলের জন্য করুণা ছিল। বিশেষ করে যারা বহেলিত, দলিত, পীড়িত তাদের জন্য তাঁর প্রাণ সর্বদা কাঁদতো। পাশ্চাত্য দেশে ভোগ-বিলাসের মধ্যে তাঁকে শুতে দেয় দুগ্ধফেনিভ শয্যায়। তিনি  তার উপরে শুতে পারেন নি। মেঝেতে গড়াগড়ি করে কেঁদেছেন আর চোখের জল ফেলেছেন। ভেবেছেন, এখানে এত প্রাচুর্য, আর আমাদের দেশের মানুষ দু মুঠো অন্ন পায় না। কী দুঃখ, কী দৈন্য, কী দুরাবস্থা তাদের! এরই প্রতিকারের জন্য তিনি পাশ্চাত্য দেশে এসেছিলেন, কিন্তু এসে কি দেখলেন? যে দৈন্য আমাদের দেশে এত প্রকট, এত নগ্ন যার জন্য আমরা জগতের কাছে নিন্দিত, অবহেলিত, সেই ভারতের চেয়েও প্রবলতর অভাব এখানে। তা হলো ধর্মের, আধ্যাত্মিকতার, নৈতিকতার। স্বামীজি গিয়েছিলেন দারিদ্রের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে, তা দিয়ে যদি দেশে কিছু করা যায়। কিন্তু দেখলেন, সেখানেও অভাব কম নয়। যেখানে যা অভাব সেখানে তা দেওয়াই হলো দূরদর্শী মানুষের কাজ। কাজেই সেখানে তিনি ধর্মদানে ব্যাপৃত হলেন। হিন্দু ধর্মের বীজ বপণ করলেন।

ভগবানে ভক্তি থাকতে হবে সে আমরা যেখানেই থাকি না কেন। এটা দেশ বা বিদেশ সব ক্ষেত্রেই সমান। তাই তো প্রকৃত ভক্তদের দিয়ে বিদেশেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য মন্দির। দেশের মত বিদেশের মন্দিরগুলোতে ভক্তের সমাগমও কম নয়।

ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!

____

ডঃ বিষ্ণুপদ গোস্বামী ২০০৩ সন থেকে হিউষ্টন দূর্গাবাড়ি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত। তিনি চিত্তরঞ্জন পার্ক কালীমন্দিরেও পৌরহিত্য করেছেন।

হিইষ্টন, টেক্সাস

নভেম্বর ৩, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.