Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
উত্তর আমেরিকায় হিন্দুদের আগমন ও তাঁদের মন্দির নির্মাণ Download PDF version
  প্রবাসে মন্দির

 

উত্তর আমেরিকায় হিন্দুদের আগমন ও তাঁদের মন্দির নির্মাণ

ভজেন্দ্র বর্মন

উত্তর আমেরিকায় বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু ধর্মের উত্তরণ বহু বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করার পর ঘটেছে। এটা নয় যে হিন্দুরা এখানে আসতে চাননি। বৈধভাবে আসার জন্য তাঁদের ততটা সুযোগ ছিলনা। হিন্দুদের অল্প অল্প করে অনেক আগে থেকে আসা শুরু হলেও এখানে তাঁদের সংখ্যার পর্যাপ্ততা ও তাদের ব্যাপক হারে মন্দির নির্মাণ বলতে গেলে মাত্র চল্লিশ বছর আগে ১৯৭০ দশক থেকে শুরু হয়েছে।

১৯৬৫ সনের আগে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের আমেরিকায় অভিবাসনের বিরুদ্ধে অনেক ধরণের আইন পাশ হয়েছে। এখানে কয়েকটি আইনের নমুনা দেয়া হলো।

১৭৯৮    জাহাজে করে আসা সকল বিদেশীদের তালিকা থাকবে। শান্তি ও নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটানোর সন্দেহে বিদেশীদের কারাবদ্ধ করা বা ফেরত দেওয়া হবে।

১৮৬২     সাদা শ্রমিকদের চীনা-কুলিমজুরদের প্রতিযোগীতা থেকে রক্ষা করা হবে এবং চীনাদের অভিবাসনে বাধা থাকবে।

১৯৬৮     চীনা অভিবাসীরা নাগরিক অধিকার পাবে না।

১৮৭০    আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ এবং হিন্দুরা নাগরিক হতে পারবে।

১৮৮২    ১০ বৎসরের জন্য চীনাদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা নিষিদ্ধ। চীনা অভিবাসীরা নাগরিক হওয়ার অনুপযুক্ত।

১৮৮৫    কোন চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিক আনা নিষিদ্ধ।

১৯০২     চীনাদের অভিবাসন অনিদির্ষ্টকালের জন্য বন্ধের নবায়ন।

১৯০৭    আমেরিকান মহিলারা যারা বিদেশীদের বিবাহ করবে তারা নাগরিক অধিকার হারাবে।

১৯১৭     এশিয়াটিক বার্-ড জোন যথা (জাপান ছাড়া) ভারত, ইন্দোচীন, আরবাঞ্চল, ইষ্ট ইন্ডিজ, ইত্যাদি এলাকা থেকে শ্রমিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

১৯২২     মার্কিন মহিলা কোন বিদেশীকে বিবাহ করলে নাগরিকত্ব হারাবে না। বিদেশী মহিলা আমেরিকানকে বিবাহ করলে নাগরিকত্ব পাবে না।

১৯২৪     এশিয়াবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার নেই; তারা আমেরিকায় ঢুকতে পারবে না।

১৯৪০    ফিলিপাইন থেকে আসা অভিবাসীরা নাগরিক হতে পারবে।

১৯৪৩    নিদর্শন হিসেবে বৎসরে ১০০ চীনা অভিবাসীকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে।

১৯৪৬     বৎসরে ১০০ জন ভারতীয় নাগরিক অভিবাসন পাবেন।

১৯৫২     চীনাদের অভিবাসনের উপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো।

১৯৬৫     দেশভিত্তিক অভিবাসনের সংখ্যা তুলে নেয়া হলো। প্রতিটি দেশ থেকে ২০,০০০ ব্যক্তি আসার অনুমতি পেতে পারে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিবারের সদস্যদের পনর্মিলন অগ্রাধিকার পাবে।

১৯৬৫ সালের আইনের মাধ্যমে বিশ্বের সকল মানুষ সমান অধিকারের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সুযোগ পেয়েছে। এটা এশিয়াবাসীদের জন্য বড় একটি পাওয়া। এর মাধ্যমে ভারতীয় হিন্দুদের বা পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের হিন্দুদের জন্য আমেরিকাবাসী হওয়ার আইনগত বাধা অপসারণ হয়েছে।

আমাদের জানা মতে ১৮৯৯ সনের ৫ই এপ্রিল বৃটিশ রয়াল আর্মীর চারজন পাঞ্জাবী হংকং থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আসেন। এরাই হয়তোবা প্রথম ভারতবাসী যারা আমেরিকায় পা দেন। এরপর সুযোগ অন্বেষী অনেকেই কৃষি-শ্রমিক হিসেবে ও কাঠের কাজে ক্যালিফোর্নিয়ায় আসেন। এসময় কালে একই কারণে কানাডার বৃটিশ কলাম্বিয়াতেও ভারতীয়রা আসা শুরু করেন কিন্তু পরে কনাডার ২০০ ডলার সাথে নিয়ে আসার নতন আইন শক্ত বিধায় আমেরিকার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলেই ভারতীয়রা পাড়ি দেয়া শুরু করেন। এরা কাঠের মিলে কাজ নেন এবং ওয়াশিংটন রাজ্যের বেলিংহাম শহরে ও তার পাশাপাশি অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ হলো পাগরী পরিহিত শিখ; বাকী সব হিন্দু। ঐ সময় (১৯০৭ সনে) বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় অভিবাসীদের মোট সংখ্যা ছিল মাত্র দু হাজার।

ভারতীয়রা কঠোর পরিশ্রমী এবং সস্তায় কাজ করাতে স্থানীয় শ্রমিকরা কাজ হারাতে থাকেন। নবাগতরা তখন স্থানীয়দের কাছে ভীতি ও ক্রোধের কারণ হন। এর ফলস্বরূপ ১৯০৭ সনের ২রা সেপ্টেম্বর শ্রমিক দিবসে সাদা শ্রমিকরা ভারতীয়দের কাঠের মিলে নিযুক্তি বন্ধের দাবী জানান। এরপর ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ভারতীয়দের আক্রমন ও তাদের ঘর-বাড়ি ভাংচুড় করা চলতে থাকে। এসব ভারতীয়রা তখন পাশের এক শহর এভারেটে কাঠের মিলে কাজ নেন। সেখানে নভেম্বর মাসের ৫ তারিখে তাঁদের উপর আবার একই ধরণের আক্রমন করা হয়। এরপর এশিয়াবাসীদের অভিবাসন বন্ধের দাবী চলতে থাকে। প্রধানতঃ এ কারণে ১৯১৭ সনের এশিয়া থেকে শ্রমিকদের আসা বন্ধ করার আইন পাশ হয়।

উপরের তালিকা থেকে সুষ্পষ্ট যে পরবর্তী প্রায় পঞ্চাশ বৎসর ( ১৯১৭ থেকে ১৯৬৫ সন পর্যন্ত) বৈধভাবে অভিবাসন নিয়ে খুব বেশী হিন্দুর আমেরিকায় আসার সুযোগ ঘটে নি। এ জিনিষটি যে সত্য তা নিম্নের তালিকা থেকেও বোঝা যায়। উল্লেখ্য যে তালিকার ১৯৪০ সনের ২,৪০০ জন হিন্দুর মধ্যে ১৬০০ এর অধিক ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন রাজ্যে বাস করতেন।

 

সন

ভারতীয় বংশোদ্ভ

হিন্দু

যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা

১৯৪০

---

২,৪০০

১৩১,৬৬৯,০০০

১৯৭০

৩৩২,৪০০

৩,১৩০

২০৩,২১২,০০০

১৯৮০

৩৮৭,২০০

---

২২৬,৫৪০,০০০

১৯৯০

৮১৫,০০০

২২৭,০০০

২৪৮,৭০০,০০০

২০০০

১,৬৭৯,০০০

৭৬৬,০০০

২৮১,৪০০,০০০

 

আগে উল্লেখ করা হয়েছে এবং উপরের তালিকা থেকেও বোঝা যায়, ১৯৭০ এর দশকে অধিক হারে হিন্দুদের বৈধভাবে অভিবাসন শুরু হয়। তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এখন এদেশের ৩০০ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ১.২ মিলিয়ন হিন্দু। মোট জনসংখ্যার তুলনায় খুবই নগন্য (মাত্র ০.৪%) হলেও সমষ্টিগত ভাবে হিন্দুদের পরিমাণ কম নয়। ইদানিং যারা এসেছেন তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ লোক উচ্চশিক্ষিত ও পেশাধারী যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ডক্টরাল ডিগ্রিধারী বৈজ্ঞানিক, অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক এবং ব্যবসায়ী। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা আবার আমেরিকার বড় বড় শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। হিন্দুরা এমনভাবে দলবদ্ধ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে বাস করাতে বরং লাভবান হচ্ছেন। এক জোট হয়ে তাঁরা তাঁদের সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্মের কথা চিন্তায় আনতে পারছেন। মন্দির নির্মণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন বা সাংস্কৃতিক সংস্থার মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্যকে বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছেন।  সেই সাথে এদেশের মানুষের কাছে তাঁদের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারছেন।

হিন্দুদের সাকার ও নিরাকার ঈশ্বর বা শক্তির ব্যাপারটা অনেকটা জটিল। নিরাকার এক অদ্বিতীয় ঈশ্বরের চিন্তা সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজ নয় বলে সাকার রূপে কল্পনা করে ঈশ্বরের প্রতীককে হিন্দুরা নানা আচার-পদ্ধতি দিয়ে উপাসনা করেন। তাঁরা অসীম অনন্ত ঈশ্বরকে মৃন্ময় বা প্রস্তরময় প্রতিমার মাঝে দেখেন। শক্তিরূপে তাঁদের দেবীগ তাই রুদ্র, বুদ্ধি, ঐশ্বর্য্য, স্মৃতি, ধতি, কান্তি বা মাতার প্রতীক। এসব কিছুই হিন্দুদের চারটি যে বেদ ধর্মগ্রন্থ আছে তার উপর ভিত্তি করে।

১৮৯৩ সনের (১১-২৭) সেপ্টেম্বরে শিকাগো বিশ্বধর্ম সম্মেলনে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ যে হিন্দুদর্শ তুলে ধরেছেন এবং তিনি পরবর্তী দু বছর যা আমেরিকাতে প্রচার করেছেন তা মূলত বেদান্ত দর্শ ও হিন্দুশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে নিরাকার ঈশ্বরের ধ্যান ও উপাসনা। এটা প্রচার করা তখন হয়তোবা সহজ ছিল। কারণ এর বহু আগে থেকেই বেদান্ত দর্শনের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ গীতা ইংরেজিতে অনুদিত হয়ে (চার্লস উইলকিন্স, ১৭৮৫) ইউরোপ ও আমেরিকায় গবেষণার বিষয় হিসেবে পরিচিত ছিল। গীতা নিজস্ব প্রচেষ্টায় আত্মোপলব্ধি, আত্মসংযম ও ঈশ্বরের ধ্যানকে প্রাধান্য দেয়।

 

আমেরিকায় এখন দু ধরনের মন্দির দেখা যায়। নিজস্ব প্রচেষ্টায় ধর্মচর্চার জন্য আছে বেদ-ভিত্তিক মন্দির, বেদান্ত সোসাইটির মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশনগুলো। এখন প্রতিমা স্থাপন ও পুরোহিতের মাধ্যমে জাকজমক করে উপাসনা করার জন্য অনেক মন্দির নির্মণ করা হয়েছে। স্বদেশের সাথে তাল মিলিয়ে এসব মন্দিরে বারো মাসে তেরো পার্বন পালন করা হয়। হরেকৃষ্ণ মন্দিরগুলো দ্বিতীয় প্রকারের মন্দিরের আওতায় পরে। হরেকৃষ্ণ মন্দিরে সাধারণত হনুমান, রাধা এবং কৃষ্ণের বিগ্রহ থাকে। অন্যান্য মন্দিরগুলোতে এক (যেমন গনেশ ঠাকুর বা কালী ঠাকুর) বা একাধিক প্রতিমা রাখা হয়। দেশের মত এখানকার মন্দিরগুলোর মধ্যে একটার সাথে অন্যটির খুব একটা মিল নেই

আমেরিকায় এখন প্রায় পাঁচ শত মন্দির আছে। এত মন্দিরের বর্ণনা অসম্ভব বলে এখানে প্রথম দিককার কিছু মন্দির ও নমুনা হিসেবে বিশেষ কিছু মন্দিরের উল্লেখ করা হলো।

বেদান্ত সোসাইটি/রামকৃষ্ণ মিশন বা বেদ-ভিত্তিক মন্দির:

·            বেদান্ত সোসাইটি - নিউইয়র্ক (১৮৯৪)

·            স্যান ফ্রান্সিসকো মন্দির - ক্যালিফোর্নিয়া (১৯০৬)

·            বেদান্ত মন্দির - বষ্টন, ম্যাসাচুয়েট (১৯১০)

·            হলিউড মন্দির - ক্যালিফোর্নিয়া (১৯৩৮)

·            বেদান্ত সোসাইটি - বার্কলী, ক্যালিফোর্নিয়া (১৯৩৯)

·            সান্তা বারবারা মন্দির - ক্যালিফোর্নিয়া (১৯৫৬)

·            আর্য্য সমাজ - হিউষ্টন, টেক্সাস (১৯৮৮)

 

হরে কৃষ্ণ মন্দির (ISKON)

·            স্টোরফ্রন্ট আশ্রম - নিউ ইয়র্ক সিটি (১৯৬৬)

·            নিউ বৃন্দাবন - ওয়েষ্ট ভার্জিনিয়া (১৯৮৩)

·            বার্শনা ধাম - অস্টিন, টেক্সাস (১৯৯০)

 

বিগ্রহ-মন্দির:

·            হরি মন্দির (স্বামীনারায়ন মন্দির) - ফ্লাশিং, নিউইয়র্ক  :  (যুক্তরাষ্ট্রে এখন ৫০টির অধিক স্বামীনারায়ন মন্দির আছে।)

·            শ্রী ভেংকটেশ্বর মন্দির - পিট্সবার্গ, পেন্সিলভ্যানিয়া (১৯৭৫)

·            পতি দেবাশ্রম (গনেশ মন্দির)  - ফ্লাশিং, নিউইয়র্ক (১৯৭৭)

·            মীনাক্ষী মন্দির - হিউষ্টন, টেক্সাস (১৯৭৯)

·            ম্যালিবু হিন্দু মন্দির- ক্যালিফোর্নিয়া (১৯৮১)

 

বাঙালীদের নির্মিত বিগ্রহ-মন্দির:

·            বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির-এল্মহার্সট-কুইন্স, নিউ ইর্য়ক (১৯৯৮)

·            দুর্গাবাড়ি মন্দির-হিউষ্টন, টেক্সাস (২০০০)

 

যেহেতু যে কোন মানুষের পরিচয় এখন পর্যন্ত অনেকটা সমাজ ও ধর্মভিত্তিক (বিশেষত তার নামটার জন্য), সে চাক বা না চাক, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ মানুষটির সমাজ বা ধর্ম তার আপন হয়ে দাড়ায় বললে হয়তোবা অত্যুক্তি হবে না। এ কারণেই আমাদের আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও সামাজিক আচার-আচরণ আমাদের সাথে সাথে ঘুড়ে বেড়ায় ও আমাদের উত্তরসুরীদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার শত শত হিন্দু মন্দিরগুলো মূখ্যতঃ গত চল্লিশ বছর ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের হিন্দুধর্মের প্রতি তাদের প্রগা ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।

 

______

ড: ভজেন্দ্র বর্মন পেশায় একজন রসায়নবিদ। সকল ধর্মের সহ-অবস্থানে তিনি বিশ্বাস করেন।

হিউস্টন, টেক্সাস

নভেম্বর ১, ২০০৯

 

মন্তব্য:
Mintu Alam    December 2, 2009
Thank you for your information , Dr. Barmon.
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.