Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
মুসলিম নারী - উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষিতে একটি বিশ্লেষণ Download PDF version
 

প্রবাসে মসজিদ

 

মুসলিম নারী উত্তর আমেরিকা প্রেক্ষিতে একটি বিশ্লেষণ

সৌমি হক

উত্তর আমেরিকার মসজিদে নারীর অবস্থান ও অবদান নিয়ে লিখতে গেলে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার বিবেচনায় চলে আসে। উপমহাদেশীয় দেশগুলিতে ও মধ্যপ্রাচ্যে যেখানে মুসলিম সমাজের একটা বৃহৎ অংশ বাস করে, মসজিদ কেন্দ্রীক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ তেমনটা দেখা যায়না বললেই চলে। যদিও উত্তর আমেরিকায় এই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে তথাপি নারীর ব্যাপক অংশগ্রহ এখনও সম্ভব হয়ে উঠেনি।

ইসলামিক সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা, ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা, কান্সিল অব আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস এর আয়োজনে করা সমীক্ষায় উত্তর আমেরিকার মুসলিম নারীদের ব্যাপারে নচের বিষয়গুলো বেরিয়ে এসেছে -

·                     মসজিদে সংখ্যা গুরু অংশগ্রহকারীরা পুরুষ। শতকরা ৭৫ ভাগই পুরুষ সমীক্ষায় বলে।

·                     যদিও ৫৪ ভাগ মসজিদ নারীদের জন্যে নিয়মিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, তবুও প্রায় ১৯ ভাগই কোন ধরণের নারী কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান আয়োজনে জড়িত নয়। শতকরা ২৭ ভাগ মসজিদ কদাচিৎ নারীদেরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

·                     মসজিদ পরিচালনার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। শতকরা ৫০ ভাগ মসজিদ কোন না কোন সময় পরিচালনা পরিষদে মহিলাদের অন্তর্ভূক্ত করেছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য ৩১ ভাগ মসজিদে নারীদের মসজিদ পরিচালনায় কোন অংশগ্রহণের ব্যবস্থা নেই। ১৯ ভাগ মসজিদ বলছে দ্বার উন্মুক্ত রেখেও উপযুক্ত সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা।

·                     পৃথক কক্ষে নামাজ পড়বার ব্যাপারটি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৯২ সালে এই হার ছিল ৫২ শতাংশ। এটি বেড়ে এখন ৬৬ শতাংশে উত্তীর্ণ হয়েছে।

·                     সমীক্ষাটিতে অংশগ্রহকারীদের ৫৩% ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী অথবা তার অধিক বয়সী

২০০১ সালে কানাডার বেশ কটি শহরে মহিলাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে জানা গেছে তারা দুটি ব্যাপারে প্রশ্ন তুলছেন - প্রথমতঃ মসজিদের সার্বিক পরিচালনায় ও নেতৃত্বে তারা কম অংশগ্রহ লক্ষ্য করছেন এবং দ্বিতীয়তঃ ধর্মীয় প্রভাব নয় বরং সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণেই তাদের অংশগ্রহণে পুরুষ পক্ষ থেকে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এ বাস্তবতাকে সামনে রেখেই আমরা দেখতে পাই উত্তর আমেরিকার মসজিদগুলিতে নারীদের অংশগ্রহ মন্থর হারে হলেও বাড়ছে। নিম্নে সে ধরণের কয়েকটি ক্ষেত্র নিয়ে আলোকপাত করা হলো।

·                     প্রাত্যহিক প্রার্থনা গুলোতে নারীদের উপস্থিতি কম হলেও সাপ্তাহিক জুম্মা প্রার্থনায় তাদেরকে নিয়মিত দেখা যায়। স্বদেশ থেকে দূরে থেকে ধর্মবোধ বা সংস্কৃতিগত কার তাদের অংশগ্রহণের মূল কারণ। এছাড়া মসজিদে সপরিবারে উপস্থিত থাকার কারণে সামাজিক আলাপচারিতাও একটি ক্ষেত্র গড়ে তোলে

·                     ধর্মীয় উৎসব যেমন ঈদ-এর সময় জামা কাপড় আর অলংকার সজ্জিত নারীদের দেখা যায় সকালের প্রার্থনায় শরিক হতে। এই সব আয়োজনে খাবার নিয়ে অংশগ্রহণের উৎসাহ দৃশ্যমান

·                     রমজানের সময় তারাবি ও ইফতারে তাদের অংশগ্রহও বেশ স্পষ্ট। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে মসজিদে মহিলাদের উপস্থিতি খানিকটা বেশী।

·                     ধর্মীয় জ্ঞান ও কুরআন চর্চার অনুষ্ঠানগুলোতে সপরিবারে নারীপুরুষের অংশগ্রহণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কোন কোন মসজিদে নারীরা পৃথক কক্ষে থাকলেও audio visual-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপস্থাপনায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।

·                     উত্তর আমেরিকার মুসলিম মহিলারা উপার্জনে অংশ নেন। ফলে মসজিদের সম্প্রসার ও ব্যব্স্থাপনায় তারাও আর্থিক সাহায্য যুগিয়ে থাকেন। অনুদান ও দুস্থদের জন্য সাহায্য সংগ্রহতেও তাদের অবদান দিন দিন বাড়ছে।

·                     অভিবাসীদের শিশুদের জন্য মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত স্কুল একটি জনপ্রিয় ধারণা। কোন কোন অঙ্গরাজ্যে এটি প্রায় প্রথাসিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই সব স্কুলে অনেক ক্ষেত্রে সিংহভাগ অবদান নারীরা রেখে চলেছেন।

·                     মসজিদের অনেক ছোট খাট কাজে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে এবং নারীরা পেশাদারিত্ব নিয়ে এই সব কাজ পরিচালনা করছেন। হয়তো এসব মসজিদে জমা-খরচ রাখার উপযুক্ত লোক নিয়োগ করার অর্থ নেই। একজন মুসলিম নারী অবসর সময়ে মসজিদের পক্ষ থেকে এই কাজটি পারিশ্রমিক ছাড়াই সম্পাদন করছেন। সম্ভবতঃ এ ধরণের নীব অবদানের সংখ্যা অনেক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমীক্ষার বাইরে।

উত্তর আমেরিকার মুসলিম নারী প্রথাগত ভূমিকা থেকে বেরিয়ে এসে এভাবেই ক্রমশঃ তাদের অবস্থানকে সুস্পষ্ট করছেন। এটি বিশেষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন তাদের এই সীমিত অংশগ্রহণের কতটুকু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অপ্রগতিশীল ভাবনার কারণে আর কতটুকু ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে হচ্ছে। সুবিচক্ষণ বিবেচনায় প্রথম কারণটিই হয়তো বাধা হিসেবে প্রতীয়মান হবে।

তথ্যসুত্রঃ

Women Friendly Mosques and Community Centers: Working Together to Reclaim Our Heritage by Islamic Social Services Associations and Women in Islam, Inc.

 

_______

ক্যালিফোর্নিয়ার ফলসাম নিবাসী সৌমি হক কস্ট এ্যান্ড মার্জিন এ্যানালিস্ট হিসাবে Numonyx EBG Finance কোম্পানীতে কর্মরত।

ফলসাম, ক্যালিফোর্নিয়া

নভেম্বর ৮, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.