Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
আমেরিকাতে মসজিদ ও মুসলমানরা Download PDF version
 

প্রবাসে মসজিদ

 

আমেরিকাতে মসজিদ ও মুসলমানরা

খোন্দকার মজিদুল ইসলাম

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ইবাদত বা উপাসনার স্থান হচ্ছে মসজিদ। মদীনায় হিজরতের পর হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কোবাতে একটি মসজিদ নির্মা করেন। মুক্ত ইসলামের এটাই প্রথম মসজিদ। রসুল (সাঃ)-এর মসজিদ শুধু নামাজের জন্যই ছিল না- বরং এটা ছিল একটা শিক্ষাকেন্দ্রও। এখান থেকেই তিনি নবগঠিত রাষ্ট্রের যাবতীয় কর্মকার্য পরিচালনা করেছেন। এখানেই পরামর্শ সভা এবং ব্যবস্থাপনা পরিষদের অধিবেশন সম্পাদিত হোত। মসজিদ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু।

আমেরিকাতে মুসলমানদের আগমন হয় উনবিংশ শতাব্দীর শেষাংশে। প্রথম মসজিদ নির্মিত হয় বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে। মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে, আমেরিকাতে মসজিদের সংখ্যাও বেড়েছে। বর্তমানে এখানে মসজিদের সংখ্যা প্রায় ,০০০। প্রত্যেক মসজিদই একটি লক্ষ্য (mission) নিয়ে গঠিত হয়েছে। অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে প্রত্যেক মসজিদই একটি কর্মব্যস্ত আবহ বিদ্যমান। মসজিদগুলোর অধিকাংশ বয়সে নবীন; শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ মসজিদ স্থাপিত হয়েছে পঞ্চাশের দশকে। মুসুল্লীদের শতকরা ৩৩ ভাগ এশীয়, ৩০ ভাগ আফ্রোদেশীয়, ২৫ ভাগ আরবীয় এবং বাদবাকী ১২ ভাগ অন্য দেশীয়।

আমেরিকাতে নির্মিত মসজিদগুলো বিভিন্ন নামে অভিহিত। যেমন:

·            মসজিদ,

·            জামে মসজিদ,

·            মুসাল্লা, এবং

·            ইসলামিক সেন্টার।

শহরের বৃহত্তম মসজিদকে সাধারতঃ জামে মসজিদ বলা হয়। সাময়িকভাবে মহল্লায় বা কর্মস্থলে ব্যবহৃত নামাজের স্থানকে মুসাল্লা (সালাতের/নামাজের স্থান) বলা হয়। প্রায়শঃ অনেকটা বৃহত্তর উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ইসলামিক সেন্টারগুলো স্থাপিত হয়। সবগুলো ইসলামিক সেন্টারই নামাজ ছাড়াও নানাবিধ কল্যাকর ও জনহিতকর কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু।

আমেরিকাতে বর্তমানে প্রায় ৬ (ছয়) মিলিয়ন মুসলমান আছেন। প্রায় ২ (দুই) মিলিয়ন মুসলমান কোন না কোন ভাবে মসজিদের সাথে জড়িত। মসজিদের সংখ্যা ওয়েষ্টকোষ্টের চাইতে ইষ্টকোষ্টে বেশী। অধিকাংশ মসজিদই শহরাঞ্চলে অবস্থিত।

সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে মুসলমানদের কাছে মসজিদের স্থান সবার উপরে। মুসলিম জনগোষ্ঠির বহু কর্মকনণ্ডই মসজিদ কেন্দ্রিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীগণ মসজিদকে সন্তান-সন্ততিদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য ব্যবহার করছেন; একই সাথে, কমুউনিটির সবার সাথে সৌহার্দ্য স্থাপনের নিমিত্তে মসজিদ একটা মিলনকেন্দ্রও বটে।

আমেরিকার মসজিদ ও দেশীয় মসজিদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়। এদেশে আজান দেওয়া হয় মসজিদের ভেতরে। এখানে মহিলাদের উপস্থিতিও অপেক্ষাকৃত বেশী। আবার অধিকাংশ মসজিদেই বিভিন্ন দেশ ও জাতীয়তার মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে। অনেক মসজিদই কোন না কোন সংস্থার সাথে সংযুক্ত (affiliated)। মসজিদ কার্যক্রম মসজিদ কমিটির সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হয়। মসজিদ কমিটিতে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও সদস্যা হিসাবে থাকেন।

ঐতিহাসিকভাবে মসজিদ কাঠামো গম্বুজ ছাদ ও আর্চ সম্বলিত দরজা/জানালার সাথে সম্পর্কিত। প্রযুক্তির অভাবিত উন্নতির কারণে ছাদ তৈরীর অনেক কৌশল এখন সহজ লভ্য, তাই আধুনিক মসজিদগুলিতে গম্বুজ/আর্চ এর ব্যবহার মোটিফ বা প্রতীকে  পরিণত হয়েছে।

আমেরিকার পটভূমিতে মসজিদ ভিত্তিক নিম্নলিখিত অনুষ্ঠানগুলি উল্লেখযোগ্য:

·            (পাঁচ) ওয়াক্ত নামাজ আদায় মসজিদের অন্যতম ব্যবহার;

·            শুক্রবারে জুম্মার নামাজ লক্ষ্যণীভাবে মুসুল্লীদের বেশী উপস্থিতি, খুৎবার সারাংশ ইংরেজীতে প্রদান;

·            শনি-রবিবার (week end)- কিশোর / কিশোরীদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান, অনেক মসজিদে full time - ইসলামী স্কুল আছে, কিছু মসজিদে হাদীস শিক্ষার ক্লাস আছে;

·            ধর্মীয় উৎসব পালন দুই ঈদের নামাজ, নানা প্রকার সামাজিক অনুষ্ঠান, পরিবার ভিত্তিক, “My Family at Mosque”  জাতীয় বিবিধ অনুষ্ঠান;

·            ধর্মীয় বই বিক্রয় কেন্দ্র ও গিফট্ সেন্টার;

·            ধর্ম প্রচার ও প্রসার (ইসলামী দাওয়া);

·            শিক্ষামূলক ও ধর্মীয় বক্তৃতা;

·            অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে “Interfaith Dialogue”;

·            পারিবারিক বিবাদ মিমাংসার পরামর্শ (Counseling);

·            ভোটার রেজিষ্ট্রেশন;

·            নানাবিধ সাহায্য মূলক কার্যক্রম (যেমন অন্ন বস্ত্রের সাহায্য, বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান, মৃতের সৎকারের ব্যবস্থা); ও

·            ধর্মগ্রহ অনুষ্ঠান।

আমেরিকাতে স্থাপিত অধিকাংশ মসজিদ অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল। ব্যক্তিগত দানই (donation) মসজিদের প্রধান আয়ের উৎস। ফান্ড রেইজিং এবং ডিনার/লাঞ্চ এর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। Donation-এর মাধ্যমেও (প্রধানত শুক্রবার জুম্মার দিন) মসজিদের ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়। রমজান মাসে সব মসজিই অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশী ডোনেশন সংগ্রহে সচেষ্ট থাকে। মুসলিম ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী রমজান মাসে দান-সাদকার পুন্য বহুগুণে বর্দ্ধিত হয়। তাই মুসমানগণ যথাসাধ্য এই মাসে দান করেন। অনেক মসজিদ নিজস্ব সম্পত্তির অধিকারী। এই সম্পত্তি থেকেও কিছু আয়ের ব্যবস্থা হয়। অনেক মসজিদ অন্যান্য ইসলাম ভিত্তিক সংস্থা থেকেও অনুদান গ্রহ করে।

আমেরিকাতে মসজিদ ও মুসল্লীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধিমা। প্রায় সব শহরেই নতুন নতুন মসজিদ তৈরী হচ্ছে। পুরনো মসজিদগুলিরও সংস্কার হচ্ছে। ধর্মপ্রা ব্যক্তিগ আগামী প্রজন্মের জন্য মসজিদকে উন্নত থেকে উন্নততর করার জন্য নিবেদিত প্রা। এই কাজকে সাদকায়ে জারিয়া বলে তাঁরা মনে করেন। ৯/১১-এর পর প্রায় মসজিদই ইসলামের সার্বজনীন এবং শাশ্বত রূপ তুলে ধরার ও ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার করার ব্যাপারে সচেষ্ট। আমাদের প্রত্যাশা আমেরিকার মসজিদগুলি একতাবদ্ধভাবে নিজেদেরকে সামাজিক জনকল্যাখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

 

তথ্যসত্র: ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্রবন্ধ। পরিসংখ্যানের অভাবে অনেক কিছুই অনুমানভিত্তিক।

______

খোন্দকার মজিদুল ইসলাম California Department of Water Resources- পানিসম্পদ প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত।

ওয়েস্ট স্যাক্রামেন্টো, ক্যালিফোর্নিয়া

নভেম্বর ৭, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.