Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
উত্তর আমেরিকার মসজিদ স্থাপত্য - একটি সমীক্ষা Download PDF version
 

প্রবাসে মসজিদ

 

উত্তর আমেরিকার মসজিদ স্থাপত্য - একটি সমীক্ষা

তাহমিদুর রহমান

ইসলামের প্রথম মসজিদ স্থাপিত হয় ৬২২ খ্রীষ্টাব্দে, মদীনায়। মসজিদ অবয়ব ছিল অতি সাধার- পোড়া মাটির ইট আর তাল গাছের কাঠ দিয়ে বানানো হয়েছিল সেটি। সেই প্রথম মসজিদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্থাপিত মসজিদের কোথায় যেন একটি যোগসূত্র আছে দুটি মসজিদই ছিল চৌকোনা আকৃতির। ১৯৩৪ সালে সেডার রেপিড্স, আইওয়াতে যে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল তার মূল পৃষ্ঠপোষক ছিল সিরিয়া এবং লেবাননের অভিবাসীগ। মদীনা আর সেডার রেপিড্স-এর মাঝে প্রায় ১৩ শতকের ব্যবধান। এর মাঝে বদলে গেছে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের উপাসনালয়ের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ চেহারা। নতুন পরিবেশ, নতুন মনমানসিকতা ও উপযোগিতা গড়ে তুলেছে মসজিদ স্থাপত্যের নতুন সংজ্ঞা।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি একটি সমীক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০০০টি মসজিদের মাঝে কেবল ১০০টির মত মসজিদের মৌলিক স্থাপত্য চিহ্নিত করা যায়। বাদ বাকি স্থাপনাগুলো অন্য কোন দালানের পরিবর্তিত রূপ ধরা যেতে পারে। এই সব মসজিদ কেবলমাত্র উপাসনার জন্যই ব্যবহৃত হয়নি। এগুলোতে স্কুল, ক্লাব ঘর, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠানাদি স্থান পেয়েছে।

গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন মসজিদগুলোর নির্মাণে স্থাপত্যবোধের প্রতি উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। যদিও এই সব মসজিদগুলো বাহ্যিক অবয়বে ভিন্নধর্মীতা রয়েছে তথাপি বিশ্লেষকগ এর মাঝে তিনটি প্রধান স্রোত লক্ষ্য করছেন - প্রথমটি মুসলিম আদি স্থাপত্যের আদলে গড়া, দ্বিতীয়টি মুসলিম স্থাপত্য ও আধুনিকতার একটি সংমিশ্র আর তৃতীয়টি সম্পূর্ণ নতুন স্থাপত্য যা ঐতিহ্য ও আধুনিকতা কে অতিক্রম করে গেছে।

প্রথম ধারার স্থাপত্যের মধ্যে পড়ছে ইসলামিক সেন্টার অব ওয়াশিংটন ডিসি (১৯৫৭), ইসলামিক সেন্টার অব গ্রেটার টলেডো, ওহাইও (১৯৮৩), এবং ইসলামিক সেন্টার অব ওয়েষ্ট ভারজিনিয়া, সাউথ চার্লসটন (১৯৮৯)।

দ্বিতীয় আধুনিক ধারার স্থাপত্যের মধ্যে পড়বে ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, নিউ ইয়র্ক (১৯৯১) দারাল ইসলাম, আবিকি, নিউ মেক্সিকো (১৯৮১)।

একেবারে অভিনব ধারার মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা (ইসনা), প্লেইনফিল্ড, ইন্ডিয়ানা (১৯৭৯), ইসলামিক সেন্টার অব আলবুকার্কি, নিউ মেক্সিকো (১৯৮১), ইসলামিক সেন্টার অব এডমন্ড, ওক্লাহোমা (১৯৯২), ইসলামিক সেন্টার অব এভান্সভিল, ইন্ডিয়ানা (১৯৯২)। এই সব মসজিদগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক উপাসনার আয়োজন করে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে মসজিদগুলো স্কুল, গ্রন্থাগার, সম্মেলন কক্ষ, আবাসিক গৃহায়ন ও দাফন কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

বিশেষভাবে বলতে হয় ইসলামিক সেন্টার অব ওয়াষিংটনের কথা। মৌলিক আকৃতির কথা বিবেচনায় রেখে একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দালানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইতালীয় স্থপতি মারিওরসির করা এই কাজটিতে তার মিশরীয় প্রভাবের ছাপ পাওয়া যায়। দীর্ঘ দিন তিনি কায়রোতে কাজ করেছেন। মামলুক স্থাপত্যের অনুপ্রেরণা থেকে এ কাজটি করেছেন স্থপতি। তুর্কী, অটোম্যান ও আন্দালুসিয়ার প্রভাব মেলে ভ্যন্তরী শিল্পকর্মে। তুরস্ক, মিশর ও ইরানের আর্থিক সহায়তায় করা এই মসজিদটি মূলতঃ কূটনৈতিক মিশনগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছে।

আলবেনিয়া ইসলামিক সেন্টার, হারপার উডস, মিশিগান-এর নকশা একই আদলের - ঐতিহ্যবাহী। যুক্তরাষ্ট্রের স্থপতি ফ্রান্ক বেইমারের গড়া এই মসজিদটি বাহ্যিক দর্শনে অটোম্যান স্থাপত্যের সাদৃশ্য বজায় রেখেছে।

টলেডো, ওহাইওর মসজিদটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সুদীর্ঘ ১৩৫ ফুট মিনার আর বিশাল গম্বুজ। মিড ওয়েষ্ট এর শস্যক্ষেত্রে এ যেন এক অদ্ভুত মধ্যপ্রাচ্যীয় অবস্থান। এটির স্থপতি তুর্কী তালাত ইটেল। চার্লসটনের মসজিদটির নকশা করতে গিয়ে উইলিয়াম প্রেসটন লাহোরের বাদশাহী মসজিদকে অনুসর করেছেন। চার্লসটনের অভিবাসীদের মনপুত হয়েছে সেই মসজিদ - এটি যেন ভিনদেশে দেশকে নতুন করে খুঁজে পাওয়া - অবিকল স্থাপত্য অনুকরণের মধ্য দিয়ে। মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন স্বরূপ এই সব মসজিদের গম্বুজ, খিলান ও মিনার অভিবাসীদের অন্তরে ধর্মানুভতি জাগানোর সাথে সাথে ফেলে আসা স্বদেশের সান্নিধ্য এনে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার স্থাপনাতেও এই সব নিদর্শনের অনুকর লক্ষ্য করা যায় - থিয়েটার, রেষ্টুরেন্ট, এমনকি জুয়াশালার দালানগুলোতে।

আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মিশ্রণে গড়া মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম ইসলামিক কালচারাল সেন্টার অব ম্যানহ্যাটান। ১৯৯১ সালে নির্মিত মসজিদটির মূল নকশা এসেছে স্কিডমোর, ওয়িন্স ও মেরিল নামের নামকরা স্থাপত্য ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান থেকে। মুসলিমদের দাবি ছিল মসজিদটিতে মিনার ও গম্বুজ সংযোজিত করা। স্থপতিদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তা যোগ করা হয়েছে শেষ পর্যন্ত। আপার ম্যানহ্যাটনের ব্যস্ত কর্মকোলাহলের মাঝে এর সুউচ্চ মিনার আর জ্যামিতিক অবয়ব উপাসনার এক উম্মুক্ত আধুনিক আহবান জানাচ্ছে।

একই ঘরানার আরেকটি মসজিদ দারাল ইসলাম, আবিকি, নিউ মেক্সিকো। মিরীয় স্থপতি হাসান ফাত্ হির করা এই মসজিদটিতে মিসরের একটি মসজিদের আদল অনুসর করা হয়েছে। মসজিদটি অবশ্য মূলধারার জীবন থেকে কিছুটা পৃথক - অবস্থানগত ব্যবধানের কারণে

গুলজার হায়দার ও বার্ট প্রিন্সের গড়া স্থাপনাগুলোর মাঝে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা বিমুখ ধারা লক্ষ্য করা যায়। তাদের ধরটি একটি বিশিষ্ট মৌলিক ভাবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কিছুটা পরিবেশবাদ ও বিবর্তনের ছোঁয়া এতে লক্ষ্য করা যায়। প্লেইনফিল্ড ইন্ডিয়ানার ১৯৭৯ সালে গড়া মসজিদটি গড়তে গিয়ে পাকিস্তানী ক্যানাডীয় হায়দার ভেতর ও বাহিরের একটি ভিন্নরূপ আরোপ করেছেন। Space বা শূন্যের নীরব অবস্থান ও form বা আকৃতির ইচ্ছাকৃত উপস্থিতি এতে লক্ষ্য করা যায়। ভেতরের সুবিশাল পরিসর, মহান সৃষ্টিকর্তার সিফাত আল-জাহির (সুষ্পষ্ট বা the manifest) কে মনে করিয়ে দেয়। বাহ্যিক ঘনাকৃতির গাঁট বাঁধা কাঠামো সৃষ্টিকর্তার অন্য এক সিফাত আল বাতি (গূঢ় বা the hidden) কে স্মর করায়। বার্ট প্রিন্সের ১৯৯১ সালে গড়া আলবুকার্কি, নিউ মেক্সিকোর মসজিদটির সারিকৃত দেয়াল যেন ক্রমশ আকাশমখী হতে চায়। এই বিশিষ্ট স্থাপনার উচু স্তম্ভগুলোর সরু জানালা বেয়ে আলো নেমে আসে মসজিদের অভ্যন্তরে এবং সৃষ্টি করে এক আধ্যাত্মিক অপার্থিব পরিবেশ। যে পরিবেশ উপাসকদের আরো মনোনিবিষ্ট করে একত্বের উপাসনায়।

স্বদেশ থেকে দূরে বেড়ে উঠছে উত্তর আমেরিকার মুসলিম সমাজ। দৈনন্দিন কর্মের প্রবাহ যেমন চলেছে বেড়ে, তেমনি বাড়ছে আত্মিক চাহিদাগুলো। মসজিদ নির্মাণের মত আর্থিক ভাবে ব্যয়বহুল প্রকল্পে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন। নির্মিত হচ্ছে মসজিদ শহরে শহরে। কোনটিতে বিশিষ্ট নকশার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে আর কোনটি পুরনো কোন দালানকে পরিবর্তিত করে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এরই সাথে পরিবর্তিত হয়ে পড়ছে গোটা উত্তর আমেরিকার মুসলিম স্থাপত্য। মামলুক, অটোম্যান, স্প্যানিস ঘরানার অনুসর থেকে শুরু করে উত্তর আধুনিক নকশার ছোয়া তাতে রয়েছে। এই সব পার্থক্য সত্ত্বেও এই মসজিদগুলো গড়ে তুলছে এক আত্মিক বন্ধন - একটি আধ্যাত্মিক বেষ্টন

তথ্যসুত্রঃ

ডঃ ওমর খালিদির গবেষণামূলক প্রবন্ধ Mosques in North America 2006 অবলম্বনে

_____

তাহমিদুর রহমান তড়িৎ প্রকৌশলী হিসাবে ইন্টেল-এ কর্মরত।

ফলসাম, ক্যালিফোর্নিয়া

নভেম্বর ৪, ২০০৯

 

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.