Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা অগ্রহায়ণ ১৪১৬ •  9th  year  8th  issue  Nov-Dec  2009 পুরনো সংখ্যা
অতিথি সম্পাদকদের কথা Download PDF version
 

প্রবাসে মসজিদ ও মন্দির

 

 

অতিথি সম্পাদকদের কথা

ঈশ্বরের উপসনা করার জন্য মুসলমানদের মসজিদ আর হিন্দুদের মন্দির। মসজিদের আজান এবং মন্দিরের ঢাক ও শঙ্খধ্বনি আমাদের বাঙালি সমাজে অতি পরিচিত। এ নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ঘটনা-দূর্ঘটনা অনেক ঘটলেও সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী এই সহ-অবস্থান অক্ষুন্ন রয়েছে। এখনকার বিশ্বায়নের যুগে সকল ধর্মের বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের সহ-অবস্থানের উন্নয়ন ছাড়া পৃথিবীর ৬.৭ বিলিয়ন মানুষ অন্য কিছু চিন্তা যে করবে না এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়।

উল্লেখ্য যে বিশ্বের লোকসংখ্যার প্রায় ২৪.৩% মুসলমান এবং ১৩.৩% হিন্দু। হিন্দুদের মধ্যে ৯৯.৩% বাস করেন এশিয়া মহাদেশে। মুসলমানদের প্রায় ৯৬% বাস করেন এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে। সামান্য যা বাকী তাঁরা সব অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা ছড়িয়ে আছেন। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে মাত্র ২.৪ মিলিয়ন মুসলমান এবং ১.২ মিলিয়ন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এই পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্চ সেন্টার থেকে এবং অনেকের মতে এ সংখ্যা আরো বেশী হতে পারে। তবুও এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বলা যায় যে আমেরিকায় মসজিদ বা মন্দিরের সংখ্যা তুলনামলকভাবে কম হওয়াই স্বাভাবিক।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মন্দির ও মসজিদের ইতিহাস খুব পুরনো নয় - মাত্র দেড় শতাব্দীর। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য এটাকে পড়শীর পাঠকদের কাছে সংক্ষেপে তুলে ধর। এর প্রেক্ষিতে প্রাথমিক পর্যায়ে কি ঘটেছিল ও বর্তমানে আমরা কোথায় অবস্থান করছি তার একটা সম্যক ধারণা দেয়া একান্ত প্রয়োজন। এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ থেকে হিন্দু ও মুসলমান এসে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিকতা বাঁচিয়ে রাখার এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এগুলো গ্রহযোগ্য করার চেষ্টায় মন্দির ও মসজিদ নির্মাণ করাটাকে প্রয়োজন বলে মনে করেছেন। এ প্রচেষ্টায় তাঁদের অনেক বাধা পেতে হয়েছে। প্রধানতঃ সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রীষ্টান প্রতিবেশীরা নতন অভিবাসীদের কর্মস্থলে ভাগ বসানোর ফলে নিজেদের কাজ পাওয়া শক্ত হওয়ার কারণে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। নতন ধর্ম ও সংস্বৃতিকে তাঁরা সন্দেহের চোখে দেখেছেন। এসব অবস্থা চূড়ান্ত রূপ নেয়ায় কোথায়ও কোথাও নবাগতদের উৎপাটনও ঘটেছে। বিশেষ করে এশিয়া থেকে আগত অভিবাসীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইন-কানুনের হরেক-রকম অদল-বদল ঘটেছে। অবশেষে ১৯৬৫ সনের অভিবাসন আইন এশিয়াবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার এবং নতনদের আসার পথ উন্মুক্ত করেছে। এ আইনের আওতায় পরিবার পূণর্মিলন নীতিমালা জন্য এশিয়া থেকে আত্মীয়-স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে আনা সহজতর করা হয়েছে। এশিয়ার মানুষ এ সুযোগ নিয়েছেন; বাঙালিরাও পিছনে পড়ে থাকেন নি।

এখন আমেরিকায় শত শত মসজিদ ও মন্দির স্থাপিত হয়েছে। এসব সম্ভবপর হয়েছে মূখ্যতঃ দুটি কারণে -অভিবাসীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও তাদের সংখ্যায় পর্যাপ্ততা। সমষ্টিগত প্রচেষ্টায় নতন মসজিদ বা মন্দির নির্মাণ এখন খুব সহজ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একক বা পারিবারিক অর্থায়নেও এসব নির্মা হচ্ছে। মোদ্দা কথা, উপাসনা করার জন্য আমাদের আর খুব একটা দূরে যেতে হয় না। ধর্মীয় আচারের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, যেমন বিবাহ ব্যবস্থা বা মৃত স্বজনদের সৎকার ঠিক দেশের মতই এখানে করা যায়। এসবের মাধ্যমে দ্বিতীয় প্রজম্মের ছেলে-মেয়েরাও তাঁদের বাবা-মায়ের ধর্ম ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারছে।

আমেরিকার খৃষ্টানদের চার্চ বা ইহুদিদের মন্দিরে নারী-পুরুষ একসাথে উপাসনা করেন। এর সাথে খুব মিল নেই বলে মসজিদ বা মন্দিরে নারীদের অবস্থান কি তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা সবার বিবেচনার বিষয় হবে বলে আশা করছি।

মসজিদ-মন্দির আমাদের আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও সামাজিকতার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি যা নাকি এখনও আমেরিকাসহ পৃথিবীর অনেক দেশে অনেকটাই অজ্ঞাত, সন্দেহের কার বা বিভিন্নভাবে বিকৃত, তার সঠিক পরিচিতি ঘটাতে আমাদের উপাসনার স্থানগুলোর ভমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

 

- ভজেন্দ্র বর্মন ও আব্দুল কাইউম খান

 

মন্তব্য:
মিয়া সাহেব   November 20, 2009
বড় পলিটিক্যালি কারেক্ট সংখ্যা। হিন্দু মন্দিরের কুসংস্কার আর জাতপাত এবং মসজিদে হিংসা ও মধ্যজুগীয় ধ্যানধারণার প্রচার নিয়ে কেউ লিখলেন না।
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.