Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা কার্তিক ১৪১৬ •  9th  year  7th  issue  Oct-Nov  2009 পুরনো সংখ্যা
প্রিয় স্বদেশ বাংলাদেশ Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

প্রিয় স্বদেশ বাংলাদেশ

রানু ফেরদৌস

       হ্যাঁ, সদ্যই বাংলাদেশ ঘুরে এলাম। প্রায় মাসখানেক ছিলাম এবার। ফিরে আসার পরে সবাই যে প্রশ্নগুলো করে থাকে তা এরকম, কেমন কাটলো বাংলাদেশে? শরীর টরীর ভাল ছিল তো? খুব গরম ছিল কি? বাঙালি বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনরাই  এ ধরনের প্রশ্নগুলো করে থাকে।

       সামারে দেশে যাই বলে গরম সংক্রান্ত প্রশ্নটিও যুক্ত হয়। আবার দেশে যাবার পূর্বেও এধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। ওরে বাবা! এই গরমের মধ্যে দেশে যাচ্ছেন? দেশ সম্পর্কে কিছু অনুযোগ, অভিযোগের অভিজ্ঞতাও অনেকে বর্ননা করে থাকে। ওহ্ অসহ্য গরম, যা ট্রাফিক জ্যাম, পেট খারাপ ইত্যাদি ইত্যাদি।

       বাংলাদেশ সম্পর্কিত সকল তথ্য বাঙালি মাত্রই জানেন। কিন্তু কি উপায় বলুন? থাকি আমেরিকায় বিশ বছরেরও অধিক। স্বামীর চাকরিসূত্রে পাওয়া ছুটিতে দেশে বেড়াতে যাই দুবছর পর পর, এক মাসের জন্য। আর সবসময়ই এ ছুটি বাচ্চদের স্কুলের দীর্ঘ ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হয়। নাহলে বাচ্চাদের পড়াশুনার ক্ষতি হয়। আর সত্যি বলতে কি, আমার কখনও সমস্যার কথা মনেও আসে না, দেশে যাব, প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হবে, সুন্দর সময় কাটবে এ আনন্দেই বিভোর থাকি।

এবারে আসল কথায় আসি, দেশে কেমন কাটলো? এবার জুলাই মাসের ছাব্বিস তারিখ থেকে আগষ্ট মাসের তেইশ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশে ছিলাম। সবকিছু মিলে অত্যন্ত ভাল সময় কেটেছে আমাদের। মা-বাবা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন সবাই ভাল আছে। গত ডিসেম্বর মাসে ছোট বোনের বিয়ে উপলক্ষে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম, আমার আব্বার শরীরটা তখন খুব খারাপ ছিল। বিছানা থেকে উঠে বসারও শক্তি ছিলনা। এবার যেয়ে দেখি আব্বা আগের মত সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন, যা এবার আমার জন্য বিরাট পাওয়া।

     ছাব্বিসে জুলাই, সেদিন শ্রাবণ মাসের এগারো তারিখ। সাধারনত এসময় বৃষ্টি ও বর্ষার মৌসুম। কিন্তু এবার কোন বৃষ্টির দেখা নেই তখনো বাংলাদেশে, বৃষ্টির জন্য হাহুতাশ চলছে দেশে- কোথায় নাকি বৃষ্টির প্রার্থনায় ব্যাঙের বিয়ের আয়োজনও সম্পন্ন করেছে একদল লোকজন। সাতাশ তারিখ সন্ধ্যা থেকে প্রবল বর্ষণে আকাশ যেন ভেঙ্গে পড়ে। সারারাত অবিরাম ধারায় বৃষ্টি নামার ফলে সকাল বেলা ঢাকার রাস্তাঘাট নদীতে রূপান্তরিত হয়। সকালেও বৃষ্টি থামার লক্ষণ দেখা যায় না। টিভি চ্যানেলগুলো ডুবন্ত ঢাকার চিত্র তুলে ধরছে। অসংখ্য গাড়ী রাস্তায় রাস্তায় বিকল হয়ে পড়েছে ও পড়ছে বলে খবর চলতে থাকে। স্কুল কলেজ, অফিস-আদালতে যাওয়ার কোন উপায় নেই, গাড়ী বের করা যাচ্ছে না। রিক্সা খানিকটা উচু হওয়াতে অনেকে রিক্সাকে জরুরী কাজে ব্যবহার করছিল সেদিন। আমাদের পরিবারের অনেকেই সেদিন বেশ বিপদে পড়েছিল। আমার ভাই ভাবী ও ওদের এক বাচ্চা-ওরা সেদিন চট্টগ্রাম বেড়াতে যাবে ট্রেনে, বেশ কদিন আগেই টিকেট কাটা হয়েছে। মহা ঝামেলা করে ওরা ট্রেন ষ্টেশনে পৌঁছাতে পেরেছিল, উত্তরা থেকে। আর এদিকে আমার ছোট বোনের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে বুয়েটে। উত্তরা থেকে বুয়েট পর্যন্ত ও যে কেমন করে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল, সে এক মহা ইতিহাস।

     এত গেল বাবার বাড়ীর ব্যাপার। শ্বশুরবাড়ীর খবর শুনুন তাহলে! ঐ দিন অর্থাৎ আঠাশ তারিখ বিকেলেই আমার ননদের মেয়ের গায়ে হলুদ সেগুনবাগিচার এ্যাপার্টমেন্ট বাড়ীর ছাদের কমিউনিটি সেন্টারে। থাকি গুলশান দুই নম্বরে ভাসুরের বাসায়, কি করে যে যাব সেই চিন্তায় সবাই অস্থির। এই বিয়ে উপলক্ষ করেই আমরা গ্রীস বেড়াবার ট্রিপ বাতিল করে ছাব্বিশ তারিখে ঢাকায় আসি। যাহোক দুপুরের দিকে বৃষ্টিটা প্রায় থেমে যায়। ততক্ষণে ভাসুরের গাড়ীর ড্রাইভার এসে পৌছে। আর একমাসের জন্য ড্রাইভার সহ ভাড়া করা আমাদের মিনি মাইক্রোটাও এসে পৌছাতে সক্ষম হয় দুপুরের পর। বিকেল থেকে আবার বৃষ্টি শুরু হয় থেমে থেমে। তবুও আমরা শেষমেশ হলুদের অনুষ্ঠানে পৌঁছি মহা জ্যাম পার হয়ে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে। পরের দিনও বৃষ্টি থামাথামির লক্ষণ থাকে না। আবার সেই দুঃশ্চিন্তা, সন্ধ্যায় বরের হলুদে কি করে যাব? এ অনুষ্ঠান মিরপুরে এক চায়নীজ রেষ্টুরেন্টে। সন্ধ্যায় গুলশান থেকে বের হয়ে এক জ্যামে আটকে যাই, এক পর্যায়ে ড্রাইভার গাড়ী ঘুরিয়ে অন্য এক রাস্তা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেখানেও জ্যামে পড়ে যাই। ড্রাইভার আবার গাড়ী ঘুরিয়ে অন্য রাস্তার দিকে ছুটে যায় জ্যামহীন রাস্তা পাওয়ার আশায়। ইতিমধ্যে সেলফোন মাধ্যমে জানতে পারি আত্মীয়স্বজনের এক এক দল এক এক জ্যামে আটকে আছে। সান্তনা খুজি এই ভেবে যাক্ কেউ এখনও পৌছেনি তাহলে! পৌছাবার পরেও আর এক কান্ড, ঐ রাস্তা নদী হয়ে পড়েছে। গাড়ী থেকে নামার জন্য প্রায় ছয় সাত ফুট লম্বা এক ব্রীজ তৈরী করা হয়েছে ইট-কাঠ সহযোগে। দুই-তিনজনের সাহায্যে আগত অতিথিগণ অতি সাবধানে ব্রীজের উপর নামতে সক্ষম হচ্ছে, অন্যথায় রাস্তা-নদীতে হাবুডুবু খেতে হবে যে এবারের বাংলাদেশ ভ্রমণে এ এক বিরল অভিজ্ঞতাই বটে!

     আরও একদিনের অভিজ্ঞতা না বললেই নয়। সেদিন ছিল শবেবরাতের দিন, তবে আগে খেয়াল ছিলনা বলেই ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনবাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের পরিচালকদের সঙ্গে এপয়েন্টমেন্ট করে রেখেছিলাম। ইউনাইটেড নেশনস উইমেন্স গিল্ড, নিউইয়র্কের কুইন্স শাখার পরিচালক হিসেবে আমার দায়িত্ব বাংলাদেশের ৩টি সংগঠন পরিদর্শন করা ও অনুদানের অর্থ প্রদান করা। একই দিনে যাতে দুইটি সংস্থাই কভার করা যায় এভাবেই প্রোগ্রাম ঠিক করি।। রাত থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। সকাল ১০ টার দিকে লারা ফাউন্ডেশনের পরিচালক লেখিকা সেলিনা হোসেন আমাকে তুলে নেন। এরপর শ্যামলীতে অবস্থিত তাদের অফিসে পৌঁছি। সেখানে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে UNWG এর চেকটি প্রদান করি।

     ঐদিন আমার সঙ্গে গাড়ী না থাকায় সেলিনা আপা আমাকে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনে পৌছে দেবার জন্য তার গাড়ী ড্রাইভার সহ একজন তরুণ অফিসারকেও আমার সঙ্গে পাঠায়। এই ফাউন্ডেশনের নতুন অফিস মিরপুরে, কিছুদুর আসার পরেই আবার সেই রাস্তা নদীতে অবগাহন করতে হয় আমাদের। পানিতে সয়লাব হয়ে আছে চারদিক, অনেক উচু ফুটপাথও ডুবেছে কোথাও কোথাও। খলবল করে পানি কেটে গাড়ী এগিয়ে চলেছে, কোন কোনটা ইঞ্জিন বিকাল হয়ে অকেজো হয়ে পড়ছে আমাদের সামনেই। ছোকরা ড্রাইভার কৌশলে গাড়ী চালিয়ে নদী পার হতে চাচ্ছে। আমার ভীষণ দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে, সেলিনা আপার গাড়ীর কোন ক্ষতি না হয়ে যায়। ঝকঝকে নতুন সদৃশ্য গাড়ী, একপর্যায়ে আমার মনে হতে থাকে গাড়ীটি ভাসছে নাত, হালকা মনে হচ্ছে খুব। তরুন অফিসারকে সেকথা বলেই ফেলি, উত্তরে ও বলে আপা, গাড়ীর জন্য আমরা ভাবছি না, আপনাকে কি করে নিরাপদে পৌছে দেয়া যায়, সেই কথাই ভাবছি। আল্লাহ্ গাড়ীটা যাতে নষ্ট না হয় এইখানে! শেষে সে যাত্রাও নদী পার হয়ে গাড়ী সুস্থ্ অবস্থায়ই ডাঙ্গায় উঠে, গাড়ীর তিন আরোহী হাফ ছেড়ে বাঁচি। ইতিমধ্যে দুধারে তাকিয়ে তাকিয়ে মানুষের দুদর্শার নানাবিধ ধরন দেখতে পাই। প্রায়ই যাদের এই অবস্থা অতিক্রম করতে হয়, না জানি কি হয় তাদের মনের অবস্থা!

     আমাদের কাছে এতো প্রায় এ্যাডভেঞ্চারের সমপর্যায়ের ব্যাপার স্যাপার। প্রায়ই লাগাতার বৃষ্টি হয়েছে, প্রচুর ভাললাগায় মন ভরিয়েছি এই বৃষ্টি দেখে দেখে। জানালা ধরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে উপভোগ করেছি বৃষ্টিকে, গাড়ীতে যেতে যেতেও উপভোগ করেছি ঝম্ ঝমিয়ে নামা বৃষ্টির নাচনকে।

     চট্টগ্রামের ফয়েস্ লেকে নৌকা ভ্রমনের সময়েও এবার উত্তাল বৃষ্টি বাতাসকে উপভোগ করেছি। এবার বাবার বাড়ী ও শ্বশুর বাড়ীর উনপঞ্চাশজন আত্মীয়স্বজন সহ কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলাম। গত কয়েক বছর ধরেই প্ল্যান করেছি, কিন্তু নানা কারণে তা কার্যকর হয়নি। এবারে বিশাল বাহিনীসহ কক্সবাজারের ৪ দিনের ট্রিপটি ছিল মনে রাখার মতন। বড় একটি বাস ভাড়া করে গিয়েছিলাম। পথে ফয়েস লেকে নামি, বৃষ্টি তখন প্রায় নেই। বাচ্চারা বড়রা মিলে কয়েকটি রাইড নেবার পরেই ঝামঝমিয়ে বৃষ্টি আমাদের স্বাগত জানায়। ভিজিয়ে কাকভেজা করে ছাড়ে। অনেক বছর পূর্বে ফয়েস লেক দেখেছি, যখন ছিল সম্পূর্ণই এক প্রকৃতি প্রদত্ত্ব দৃশ্যাবলী। এখন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে বহিরাঙ্গ। বিদেশের যে কোন দেশের এ্যামিউজমেন্ট পার্ক যেমন; তেমনি এখন। পরিবারসহ বিনোদনের চমৎকার এক ব্যবস্থা করা হয়েছে, খুব ভাল লেগেছে ওখানে।

     কক্সবাজারও সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে। প্রায় পচিঁশ বছর পর আবার গেলাম। অসংখ্য হোটেল, শপিংমল, রেস্তোরায় ভরে গিয়েছে। টুরিষ্টদের জন্য উপযুক্ত স্থানে রূপান্তরিত হয়েছে। হিমছড়িতে গেলাম। সেখানেও একই অবস্থা, আমূল পরিবর্তন, সিড়ি ভেঙ্গে পাহাড়ের চুড়ায় উঠার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখান থেকে দেখা যায় দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র তটরেখা। সমুদ্রের অপরদিকের পাহাড়ী দৃশ্যও অত্যন্ত দর্শনীয় ব্যাপার।

     হিমছড়ি পার হয়ে আরো সামনে ইনানী বীচ, এই প্রথমবার আমার আগমন এখানে। সমুদ্রে যখন ভাটা পড়ে তখন বীচের উপর জেগে উঠে অসংখ্য ছোটবড় পাথরের বহর। বীচের এই দৃশ্য প্রকৃতির ভিন্নতর এক সৌন্দর্য উপস্থাপন করে। মুগ্ধ হয়েছি সারি সারি সাম্পান দেখে আশে পাশে। কক্সবাজার থেকে ইনানী বীচ পর্যন্ত রাস্তাটি সমুদ্রের সমান্তরাল অবস্থানে তৈরী। একধারে অপূর্ব সমূদ্র অন্যধারে পাহাড়ী এলাকা, গ্রামগঞ্জ, অসম্ভব সুন্দরের সমারোহ।

এই ভ্রমণে এবার কয়েকটি ব্যাপার খুব ভাল লেগেছে। বাংলাদেশের মানুষ আগের চেয়ে অনেকবেশী ভ্রমণ বিলাসী হয়েছে, যা বেশ ভাল লেগেছে। ঢাকা কক্সবাজার দীর্ঘ সড়ক পথে বেশ কয়েকটি আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ রেষ্ট এরিয়া গড়ে উঠেছে। যাতাযাত পথে এ ধরনের ব্যবস্থা বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্রই তুলে ধরে।

     এবার শুধু কক্সবাজারই নয় ঢাকার বাইরে নেত্রকোনা বেড়াতে গিয়েছিলাম দুদিনের তরে। ওয়াশিংটন থেকে দেশে ফেরৎ সেন্টু রায়ের ওখানে। জেলে দিয়ে পুকুরে মাছ ধরার ব্যবস্থা ছিল আমাদের মেয়েদের জন্য এক মনোরম দৃশ্য। ওখানে আমরা ময়মনসিংহ ও মেঘালয়ের বর্ডারের কাছাকাছি এলাকা বিরিশিরিতে গিয়েছিলাম। দূরে বর্ডারের কাছে পাহাড়ি এলাকায় আদিবাসি গারোদের বসবাস। বিরিশিরিতেও অনেককে দেখলাম ফুটবল খেলারত এক মাঠে। সোমেস্বর নদীতীরের এক মাঠে খেলা চলছিল, পাশেই নদীর উপর বিশাল ব্রীজ। ব্রীজের উপর থেকে দূর পাহড়ের ছবিটবি তুললাম। কিছুক্ষণ হেটে বেড়ালাম। এ যাত্রায় আমাদের সঙ্গী ছিল নিউইর্য়ক থেকে দেশে ফেরত শীপু-শাহীন, ওদের মেয়ে বসুধা, প্রাক্তন পড়শী প্রতিনিধি আফতাব, সেন্টুদা, জেসমীন ভাবী, আমার স্বামী হাসান ফেরদৌস, আমাদের দুই মেয়ে শর্মী ও দিতি এবং ঢাকার কালি ও কলম পত্রিকার সম্মাদক আবুল হাসনাত। এই ভ্রমণে নদী-নালা, খালবিল সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে প্রাণভরে দেখে নিয়েছি। শুধু তাই নয় সেন্টুদা স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে রাত্রে তার পাঁচতলার একাংশের খোলা ছাঁদে গানের জলসার আয়োজন করে, যা ছিল বাড়তি পাওয়া। আর প্রতি বেলায় খাবারের সমারোহ স্বাদ যেন এখনও মুখে লেগে আছে!

     আমার মেয়েরা ঢাকায় অবস্থিত দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতেও অত্যন্ত আগ্রহী। এবার ওরা আহসান মন্জিল ও রিকসা পেইন্টিং দেখতে গিয়েছিল পুরনো ঢাকায়। রিকসায় ব্যবহৃত কিছু আর্ট কিনেও এনেছে শখ করে। সময়ের অভাবে আমার আর যাওয়া হয়নি। বাবার সঙ্গেই মেয়েরা এসব দেখে এসেছে।

     দেশে থাকাকালীন সময়ে সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে বা পাল্লা দিয়ে আমাদের সময় কাটে। প্রতিদিনই বন্ধুবান্ধব অথবা আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেয়ে অস্থির হয়ে যাই। আমাদের পরিকল্পনা থাকে পারলে কয়েকটি নাটক বা গানের অনুষ্ঠান উপভোগ করার, কিন্তু নিমন্ত্রনের অত্যাচারে, অনেককে খুশী করবার জন্য এসব পরিহার করতে হয়। সুবীরদার আমন্ত্রণে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনে একদিন যাই, অনেক শিল্পীদের সঙ্গে দেখা হয়। ফরিদা জামান, রোকেয়া সুলতানা, কনক চাপা চাকমা, ফরিদা পারভীন ও অনেকের সঙ্গে। ছায়ানটের অনুষ্ঠানে একদিন যাওয়ার সুযোগ ঘটে ঘন্টাখানেকের জন্য, সেখান থেকে আবার সাজ্জাদ শরীফের বাসায়। সেখানে আড্ডা হয় অনেকের সঙ্গে সুপরিচিত সব লেখকদের সঙ্গে। সম্পাদক, সাহিত্যিক, শিল্পী বন্ধুদের বাসার আড্ডাগুলো বরাবরের মত এবারও ছিল অন্যতম। তবে সবাইকে সময় দেয়া সম্ভব হয় না, এজন্য অনেক সময় বেশ খারাপ লাগে। কথা দেই, এর পরের বার অবশ্যই দেখা করবো।

     বাংলাদেশে আমার ভাললাগার বিষয় অনেক, খারাপ লাগার কয়েকটি দিকও বলি তাহলে। ঢাকা শহরের ট্র্যাফিক জ্যাম অসহ্য লেগেছে এবার। মা-বাবা ভাইবোনদের সঙ্গে যথেষ্ট সময় কাটানো হয়না, যা আমাকে যথেষ্ট পীড়া দেয়। শ্বশুর বাড়ীর ব্যাপারেও তাই, শুধু ঘরে বসে আড্ডা দিতেও ভীষণ ভাল লাগে আমার। এই অল্প সময়ে তা আর হয়ে উঠে না। মনে মনে প্রমিজ করি পরের বার সব ঠিক ভাবে সম্পন্ন করবো।

নিউ ইয়র্ক

অক্টোবর ৫, ২০০৯।

 

মন্তব্য:
মো: দেলোয়ার হোসেন    November 11, 2009
আপনাদের লেখা আমার খবু ভালো লেগেছে। আমি পড়শী নিয়মিত পড়ি। সব সময় আপনাদের মঙ্গল কামনা কির। মো: দেলোয়ার হোসেন এক্সিকিউটিভ মাই টিভি
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.