Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  ক্রীড়া  ||  ৯ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা কার্তিক ১৪১৬ •  9th  year  7th  issue  Oct-Nov  2009 পুরনো সংখ্যা
ক্রীড়া-কড়চা Download PDF version
 

ক্রীড়া

ক্রীড়া-কড়চা

জহিরুল ইসলাম নাদিম

ঈদ ও পূজোর দীর্ঘ ছুটির কারণে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন সঙ্গত কারণেই একটু থেমে ছিল। একে একে দুই উৎসবই শেষ হয়েছে। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া লাখো মানুষ আবার ফিরেছে রাজধানীতে। বাংলাদেশের খেলাধূলা এখন পর্যন্ত ঢাকা নির্ভর। ঢাকা থেমে যাওয়া মানে পুরো দেশের ক্রীড়া কর্মকান্ড স্থবির হয়ে যাওয়া। আশার কথা ঢাকার সাথে সাথে আবার জেগে উঠছে খেলার ময়দান। ইতোমধ্যে মাঠে গড়িয়েছে সিটিসেল ফেডারেশন কাপের থেমে থাকা প্রতিযোগিতা। এবং প্রথমেই বিরাট চমক নিয়ে এসেছে সিলেটের বিয়ানিবাজার এসসি নামক অশ্রুত দল কর্তৃক ঢাকার জায়ান্ট শেখ রাসেলের পতন। লাইম লাইটে আসার পর থেকেই বড় বাজেটের ভাল দল গড়ে শিরোপার দৌড়ে থাকে শেখ রাসেল। তাদের ফরেন রিক্রুট সব সময়ই সমীহ জাগানিয়া হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যত্যয় ছিল না। ঈদের আগে তারা সেনাবাহিনীকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আরো বড় প্রত্যাশা জাগিয়ে দিয়েছিল ভক্তদের মধ্যে। তাহলে কি এবার শিরোপার ট্রফি যাবে শেখ রাসেল কেসির ঘরেই? আপাতত প্রশ্নটি হালকা করে দিয়েছে জোসীর কোচিংয়ে অসম্ভব ভাল করা বিয়ানিবাজার এসসি দলটি। শেখ রাসেল কেসির  শুন্য তিন গোলের পরিষ্কার ব্যবধানে হারার পর তাদের প্রকৃত শক্তিমত্তা নিয়ে সন্দেহ ওঠাটাই স্বাভাবিক। এবার দলগঠনে আবাহনী বেশ ব্যতিগ্রস্থ হয়েছিল। তার ছাপ পড়তে শুরু করেছে মাঠের নৈপূণ্যেও। পুলিশের মত অখ্যাত দলের বিরুদ্ধে জিততে মাথার ঘাম পা ছাড়িয়ে মাঠে ফেলতে হয়েছে ধানমন্ডির ক্লাবটিকে। এমিলির মত স্ট্রাইকারের ঘাটতি বেশ টের পাচ্ছে আবাহনী। প্রথম দুই ম্যাচে আবাহনীর গোল যেখানে মাত্র ৩ সেখানে চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান প্রতিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে মোট ১১ গোল দিয়ে! ঈদের পর চট্টগ্রাম আবাহনীর সাথে জিতলেও ভয়ের ব্যাপার ছিলই। প্রথমার্ধে ছোট্ট আবাহনী কমপক্ষে তিন গোলে এগিয়ে যেতে পারত। ফাইনাল টাচ দেয়ার ব্যর্থতা আর ভাগ্যের একটু সমর্থন না থাকায় তা থেকে বঞ্চিত থাকে অতিথি আবাহনী। বড় আবাহনী যে শেষ পর্যন্ত জিতেছে তার পনের ভাগ কৃতিত্ব ঘানার স্ট্রাইকার ইব্রাহিমের। তিনি নিজে এক গোল করেছেন এবং অপর গোলটি করিয়েছেন। বোঝা যাচ্ছে আবাহনীর সামনে বেশ সমস্যা আছে।

ঢাকার ফুটবল এক সময় ছিল দেশের সেরা জনপ্রিয় খেলা। তার দল বদল ছিল ভীষণ উত্তেজনা আর সম্মানের বিষয়। গোপীবাগের ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়ন ২০০৫ সালে ঘোড়ার গাড়ী, ব্যান্ড পার্টির বাদ্যি আর মিছিল করে দল বদলকে বেশ একটা উৎসবের আবহে মুড়িয়ে দিয়েছিল। কবছর বন্ধ থাকলেও সেই ধারা আবার অবলোকন করল ঢাকাবাসী। এবার অবশ্য মোহামেডানের হাত ধরে। ফুটবলের দলবদলে তারা বেশ ঘটা করেছিল। এবার নিরুত্তাপ ক্রিকেটের দল বদলের শেষ দিকে হঠাৎই উৎসবের আবহ নিয়ে মোহামেডানের এই জমকালো দল বদল মিছিল। জাতীয় দলের সদ্য সাবেক অধিনায়ক মো: আশরাফুল, সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট, ডিগবাজি খেয়ে আবাহনী থেকে মোহামেডানে যোগ দেয়া ওপেনার তামিম ইকবাল বা আই সি এল ফেরত আফতাব আহমেদকে নিয়ে বেশ একটা আড়ম্বরপূর্ণ র‌্যালিই বের করে মোহামেডান। অনেক বছর ধরে প্রিমিয়ার লীগের শিরোপার দেখা পাচ্ছে মতিঝিলের দলটি। এবার আশরাফুলের ইচ্ছা দলকে সেই কাঙ্খিত ট্রফি এনে দেয়া। তবে এরকম স্বপ্ন অনেকেরই আছে। যেমন সর্বাধিক বিশ লাখ টাকায় আবাহনীতে যোগ দেয়া পৃথিবীর এক নম্বর অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বা বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তাজারা চাইবেন তাদের দলকে আবারো শিরোপার স্বাদ পাইয়ে দিতে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন সহ তাপস বৈশ্য, ধীমান ঘোষ বা মঞ্জুকে দলে নিয়ে মোটামুটি স্ব¯িÍতে আছে সূর্যতরুণ। তবে দুবারের চ্যম্পিয়ন ওল্ড ডিওএইচএস অর্থ সংকটে তাদের সব তারকা খেলোয়াড় হারিয়ে বেশ হতাশ হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা পারটেক্স দলের। দল বদলের শেষ দিনটি ছিল গাজী ট্যাঙ্কসের। তারা এদিন আই সি এল তারকা অলক কাপালি, শাহরিয়ার নাফিস, নাজিমউদ্দিন এবং ফরহাদ রেজাকে দলভূক্ত করে। জাতীয় দলের তারকা স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকেরও এই দলে যোগ দেয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি মায়ের চিকিৎসার জন্য বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। যে যে রকম দল গঠন করুক না কেন মাঠের নৈপূণ্যই শেষ পর্যন্ত গণনায় আসে। যারা ব্যাট-বল দিয়ে ভাল খেলে দিতে পারবেন তারাই বাজিমাত করবেন। এবারের লীগ আরেকটি কারণে বেশ জমজমাট হবে বলে মনে হয়। তা হল এক সময়ের দেশ সেরা ক্রিকেটার যারা আই সি এল খেলতে গিয়ে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন তাদের প্রত্যাবর্তন লীগ হিসেবে। তারা চাইবেন আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়িয়ে দেশ কাঁপাতে। কিন্তু আপাতত জাতীয় দলের দরজা তাদের জন্য বন্ধ। সেটা খুলতে পারে যদি পুরো লীগ জুড়ে ধারাবাহিক ভাল নৈপূণ্য দেখাতে পারেন। অলক, শাহরিয়ার নাফিস, আফতাব আহমেদ বা সুমনরা তা অবশ্যই করতে চাইবেন। সে কারণে বর্তমানে যারা জাতীয় দলের খেলোয়াড় তাদেরকেও সর্তক থাকতে হবে যেন নৈপ্যূণ্যে পিছিয়ে না পড়েন। ফলাফল এক জমজমাট ঘরোয়া ক্রিকেট লীগ অপেক্ষা করছে দর্শকদের জন্য। অপেক্ষায় থাকুন!!

ঢাকা

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.