Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাহিত্য  ||  ৯ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা কার্তিক ১৪১৬ •  9th  year  7th  issue  Oct-Nov  2009 পুরনো সংখ্যা
শামীকাবাব’এর জন্ম কথা Download PDF version
 

সাহিত্য

 

রম্যালাপ

 

শামীকাবাবএর জন্ম কথা

 

রণজিৎ বিশ্বাস

 

     স্কুলে কলেজে সহশিক্ষার সুযোগ পেয়ে আমার আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত থাকার কারণ আছেক্লাসে আমাদের বাঁ দিকের বেঞ্চগুলোতে যারা বসতো (সহশিক্ষার স্কুলে পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমারকিশোরীদের বেড়ে ওঠা ও পূর্ণ হওয়া আমি প্রতিদিন দেখেছিওপরের ক্লাসে দেখেছি নিচের ক্লাসে দেখেছি এবং নিজের ক্লাসেনিঃশ্বাসের দূরত্বে পাশের বেঞ্চিতে বসে নজর করেছি) তারাও শব্দহীনতার মাঝে খামচে খামচে টানতোসবাই নয়, কেউ কেউ

- যারা মনে প্রশ্ন জাগিয়ে বড় অতৃপ্ত রাখতো

- গুণ যখন আছে ওর, তার বিপরীতটা অত উদার বণ্টনে ওর না থাকলেই পারতোকিন্তু, কী করা যাবে! যিনি পক্ষপাত করেন, কাজটি তিনি করবেন বলেইতো সব অমন করে ওলোটপালোট করে রাখেন

     যাদের জন্য এসব করা, তাদের কাউকেই নিজের দিকে টানা যায় নিপ্রথমত: টানবার এই আকাংক্ষার কথা ওদের অন্তরে পৌঁছেনিযে জন আপদমস্তক ভীতুর ডিম, তার দ্বারা এসব কখনও হয় নাসে জন্য ডাকাবুকো মানুষ লাগেদ্বিতীয়ত:, একই বয়সের একটা মেয়ে ছেলের তুলনায় অনেকটা পথ এগিয়ে থাকেবোধে বুদ্ধিতে ভবিষ্যত বিশ্লেষণে এবং মানসিক ও শারীরিক উপযোগে উপযোগিতায়তাদের বিশ্লেষণ ও বিচার করার ক্ষমতা বেশি থাকেসুখ ও শোক সইবার জোর ও দম বেশি থাকে

     সবার বেলায এই সত্য হয়তো সত্য নয়নিজের জীবনে কয়েকটা ক্ষেত্রে আমি দেখেছি- আবেগে তারা চলে; তবে জীবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আবেগের ফুঁসকুড়িকে তারা অনায়াসে দলে এবং নিজের ডান-বাম ওপর-নিচ ও গৃহকোণের সাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে কঠিন কোন সিদ্ধান্ত নিতে তারা টনে না

     এই টলবার দলবার ও বলবার সময়টা তাদের জীবনে আগে আসেপ্রকৃতির নিয়মকেমন দলা দলে তারা, তা নিয়ে এক কৌতুকী আছেঅনেকেরই শোনা; তবু একবার স্মরণ করি

বিয়ের নিমন্ত্রণে পাশাপাশি খেতে বসেছে বাবা আর তার কিশোরপুত্রপাতে একটি বিশিষ্ট বস্তু পড়ার পর পুত্র বললো-

: এটি কী বাবা?

: কাবাবশামী কাবাবখুব ভালো, খাও

তারপরই পিতার প্রকৃত পর্যবেক্ষণ শুরুতবে, এই বীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের বয়ান শোনার সময় শব্দের বানানের দিকে গেলে চলবে না, যেতে হবে উচ্চারণের দিকেযেমন-

: এর নাম স্বামী কাবাবকেন হয় বাবা! স্ত্রী কাবাবহয় না কেন?

: এটি বোঝার জন্য একটা বয়সের দরকার হয়তোমার বয়স যখন আমার বয়সের কাছাকাছি হবে, তখন ব্যাপারটা তুমি বুঝতে পারবেতুমি এর অর্থমাহাত্ম্যটা অত্যন্ত গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারবেযন্ত্রণায় তুমি হাঁসফাঁস করতে থাকবে, তোমার ব্রহ্মতালু ফুটো হবে; তারপরও তোমাকে সব সইতে হবেতোমাকে সইতে হবে, কারণ কোন প্রতিকার তুমি খুঁজে পাবে না

: তারপরও তুমি সংক্ষেপে বল- কেন স্বামী কাবাব হয়, ‘স্ত্রী কাবাবহয় না

: সংক্ষেপে এর কারণ হলো, স্বামীরাই কাবাব হয়, কারণ স্বামীদের কাবাব হতে হয়, কাবাব না হয়ে তাদের কোন উপায় থাকে নাঅন্যদিকে স্ত্রীরা শুধু কাবাব বানায়তারা কাবাব কখনও হয় না যেহেতু স্বামীদের ব্যবহার করে কাবাব বানানো হয়, তার নাম শামী কাবাব’ (আবারও অনুরোধ, বানান উপেক্ষা করবেন।) না হয়ে উপায় ছিল না

     আমার এক জোড়া সহপাঠী এমন কাবাব অবস্থায় দিন যাপন করছেএকজন কাবাব বানাচ্ছে আরেকজন কাবাব হচ্ছে

কাবাব দম্পতির দুজনই আমার ক্লাসফ্রেন্ডশ্রেণীকক্ষবান্ধবশ্রেণীকক্ষে যাদের মেলে, তারা সবই বান্ধব হয়ে ওঠে নাকেউ কেউ সারাজীবনের জন্য ক্লাসমেটই থেকে যায়ফ্রেন্ড পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েশান এদের আর হয় না

     তবে এ দুজনের হয়েছেহওয়ার আগে এদের একজন- একদিন যাকে জয়ী ভাবে হতাশ হয়েছিলাম এবং হতাশ হতে হতে দীর্ঘদিন পুড়ে মরেছিলাম ঈর্ষার ভাপেতাপে, তার সঙ্গে কিছুতেই আমি এঁটে আসতে পারছিলাম নানা লেখাপড়ায়, না কান্তিতে, না ক্রীড়াকুশলতায়, না শারীরিক শক্তিতে না অন্যরকম পারঙ্গমতায়

     ক্লাসরুম থেকে নিয়ে যাকে সে সংসারে তুলেছে, একদা তার সৌন্দর্য ছিল, তনুতে তার বসন্ত ছিল, প্রত্যঙ্গে তার সমৃদ্ধি ছিল এবং তার আমার চোখ ছিল কিন্তু, সেই চোখ কানা করে দিয়েও তার মনি গেলে নিয়ে আমার ঐ কৃতী সহপাঠী তাকে কেড়ে নেয়অনেকদিন পর তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয় বিদেশে বিভুঁইয়ে

     আমি গিয়েছিলাম সস্ত্রীক বেড়াতেওদের বন্ধুত্বের প্রকাশ আমাদের মুগ্ধতায় ডুবিয়ে রাখেএখন আমাদের যা বয়স অতীতের অনেক কথা, অকেন সঙ্কোচ আর লজ্জার কথাও আমরা খুলে মেলে প্রকাশ করতে পারি

     স্ত্রীর সামনে প্রকাশ করতেও এখন আমার তার তেমন ভয় হয় নাকাবাবতো তিনি সবসময় বানানই, না হয় একটু বেশি পোড়াপোড়া করবেনতাছাড়া, এই মহিলায় যে একসময় আমার যতিহীন মতি ছিল, তা তো তিনি জানেনই   তাকেতো বলাই হয়েছে যে তার সঙ্গেও আমার স্বপ্নসঙ্গের রচনবিরচন দীর্ঘদিন অতিবাহিত ছিলেনএখন তার দিকে বারবার তাকাতে ইচ্ছে করে না সে ভিন্নকথাতার দেহকান্তিতে এমন বিবর্তনতো স্বয়ং ঈশ্বরও সম্ভবতঃ কল্পনা করেননি

আমাদের বাড়িতে যিনি আমাকে মহানন্দে বারবিকিউকরেন, তিনি একদিন সন্ধ্যেয় আমার একদা কল্পপ্রণয়িনীয় সঙ্গে আড্ডা শেষে ঘরে ঢুকলেন এবং দরজায় খিল আটকালেন

পরিস্থিতি যখন এমন হয়, আমি সাধারণত: ভয় পেয়ে যাই

: ব্যাপার কী?!

(তিনি ঠোঁটের পরে আড়াআড়ি আঙ্গল রেখে বোঝালেন গোপন কিছু কথা আছে)

: সাংঘাতিক কিছু বলবে নাকি?

: বলবো

: কী!

: আমি তোমার সহপাঠিনীর সঙ্গে আর আড্ডা দেবো না

: কেন? কী হয়েছে!

: আমি তাহলে দূরে চলে যাবআমি তাহলে নিষ্ঠুর হয়ে যাবো

: কেন?

: সে আমি বলবো নাযা বলছি, বিশ্বাস কর

লেখক শ্রমজীবী কথাসাহিত্যিক

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.