Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সম্পাদকীয়  ||  ৯ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা কার্তিক ১৪১৬ •  9th  year  7th  issue  Oct-Nov  2009 পুরনো সংখ্যা
ওবামা আবারো জয় করলেন! Download PDF version
 

সম্পাদকীয়

 

ওবামা আবারো জয় করলেন!

আবারো তাবৎ পৃথিবীর মানুষকে চমকে দিলেন যুক্তরাস্ট্রের বর্তমান কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এবার তিনি পেয়েছেন ২০০৯ সালের নোবেল শান্তি পুরষ্কার। এটা যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! বারাক ওবামা নিজেও তা স্বীকার করলেন তাঁর পুরষ্কার গ্রহণের সদিচ্ছা প্রকাশের সময়। বললেন সব সময় নোবেল শান্তি পুরষ্কার কৃতকর্ম-এর জন্য দেয়া হয়নি। কখনো কখনো দেয়া হয়েছে প্রবাহমান গুরুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডকে বেগবান করার জন্য। এমন সত্য-কথন ওবামার কট্টর সমালোচকরাও আশা করেননি!

কেউ কেউ মনে করেন বিশ্বব্যাপী বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা উত্তরণের সঠিক পথ গ্রহণ করেছেন ওবামা। কেউ কেউ মনে করেন ওবামা কিছুটা হলেও পশ্চিমা বিশ্বের সাথে মুসলিম বিশ্বের সংঘাতময় অবস্থার লাগাম ধরতে পেরেছেন।  পেরেছেন রাজনৈতিক আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করতে। কিন্তু যারা তাঁদের নিজস্ব রাজনৈতিক মতবাদ কিংবা শান্তি মতবাদের কারণে মেনাহেম বেগিন, আনোয়ার সাদাত আর হেনরি কিসিঞ্জারের নোবেল শান্তি পুরষ্কারকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন, একই কারণে তাঁরা বারাক ওবামার নোবেল শান্তি পুরষ্কারটিকেও আরেকটি রাজনৈতিক গুটির চাল বলেই উড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন।  আবার কারো কারো মতে যেহেতু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনেক সময়ই যুদ্ধে নিয়োজিত থাকতে হয় এবং তাঁকে সৈন্যদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে হয়, তাই তাঁরা যতক্ষণ প্রেসিডেন্ট হিসাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন ততক্ষণ তাঁদের শান্তি পুরষ্কার দেয়া উচিৎ নয়, এমনকি যদি সেই যুদ্ধ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যেও হয়।  

যে কোন রাজনৈতিক চুক্তি কিংবা শান্তি চুক্তি বিবাদমান পক্ষগুলোকে একশত ভাগ সন্তুষ্ট করতে অক্ষম। কাজেই নোবেল শান্তি পুরষ্কারও সব পক্ষকে কিংবা সব মতবাদকে খুশী করতে অক্ষম। আমরা নেলসন মেণ্ডেলাকে কিংবা ডঃ মুহম্মদ ইউনুসকে মেনে নিতে পারি নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য, কিন্তু বেগিন-সাদাত-কিসিঞ্জারকে মেনে নিতে নারাজ। আবার উল্টোটাও সত্য যারা বাজনৈতিক মতবিশ্বাসে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছেন তাঁদের জন্য। অর্থাৎ তাঁরা বেগিন-সাদাত-কিসিঞ্জারকে মেনে নিতে পারেন নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য কিন্তু মেণ্ডেলা-ইউনুসকে নয়। শান্তির সংজ্ঞাটাই একেক ব্যক্তি কিংবা একেক গোষ্ঠীর কাছে একেক রকম। নোবেল বেঁচে থাকলে হয়তো মুচকি হাসতেন!

যাঁরা ভাবছেন বারাক ওবামার এ বছরের নোবেল শান্তি পুরষ্কারটা আরো চার বছর কিংবা আরো আট বছর কিংবা আরো বারো বছর পরে পাওয়া উচিৎ ছিল তাঁদের যুক্তিটাও ফেলনা নয়। আশা করি ওবামা তাঁদের যুক্তিটা এবং নিজের সত্য-কথন যুক্তিটাও মনে রাখবেন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শান্তিভিত্তিক কর্মকাণ্ডগুলোকে আরো বেগবান করবেন, পৃথিবীটাকে করে তুলবেন আরো বাসযোগ্য। তিনি ভুলে যাবেন না যে এটাই শেষ নয়, এটা সবে শুরু। আরো আশা করি তিনি ভবিষ্যতে প্রতি চার বছরে একবার করে তাঁর কৃতকর্মের জন্য নোবেল শান্তি পুরষ্কার ছিনিয়ে নেবেন। ওবামা যদি আরো অন্ততঃ একবার তাঁর কৃতকর্মের জন্য নোবেল শান্তি পুরষ্কার না পান তাহলে বর্তমান বছরের নোবেল শান্তি পুরষ্কারটা মানবজাতির জন্য কিছুটা হলেও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে! অসম্পূর্ণ থেকে যাবে আমাদের এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আর এই ঐতিহাসিক পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা। 

তবে মনে রাখা দরকার যে বিশ্বশান্তি ওবামার একার দায়িত্ব নয়। সব দেশের সব রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছেই এটার গুরুদায়িত্ব গড়ায়। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই আসল কথা। অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে যুদ্ধে নয়, মানবকল্যাণে। সেটা মধ্যপ্রাচ্যেই হোক কিংবা আফগানিস্তানেই হোক কিংবা পাক-ভারতেই হোক কিংবা বাংলাদেশেই হোক। ওবামার একটা নোবেল শান্তি পুরষ্কারে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। শান্তি তখনই আসবে যখন পরমতসহিষ্ণুতা আসবে জনে-জনে, গোত্রে-গোত্রে, রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে, আর নেতায়-নেতায়।

 

- সাবির মজুমদার  

ই-মেইল : sabir.majumder@comcast.net

 

ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া

অক্টোবর ১৬, ২০০৯

 

মন্তব্য:
জনারণ্য   October 23, 2009
এটা কি ছেলেখেলা যে ওবামা প্রতি চার পছর একটা করে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবেন! আহাম্মকের স্বর্গ নাকি?
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.