Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  স্বাস্থ্য  ||  ৯ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা কার্তিক ১৪১৬ •  9th  year  7th  issue  Oct-Nov  2009 পুরনো সংখ্যা
উচ্চ রক্ত চাপ ও কিডনী সমস্যা Download PDF version
 

স্বাস্থ্য

 

উচ্চ রক্ত চাপ ও কিডনী সমস্যা

ডা. তুরিন চৌধুরী

     উচ্চ রক্ত চাপ এবং কিডনীর সমস্যা বিশেষ করে কিডনীর ফেইলিওর অর্থাৎ বৈকল্য একে অপরের সাথে দ্বিপাক্ষিকভাবেই জড়িত। যদি বলা হয় যে উচ্চ রক্ত চাপের  কারণে কিডনী ফেইলিওর হয়ে থাকে, তাহলেও কথাটা যেমন ঠিক, আবার যদি বলা হয় যে কিডনী ফেইলিওর থেকে উচ্চ রক্ত চাপ হতে পারে, একথাটিও তেমন ঠিক। উচ্চ রক্ত চাপ সমস্যাটা নিজে কিডনী ফেইলিওর এর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ। প্রসঙ্গত বলে রাখি যে প্রথম বৃহত্তম কারণটা হলো ডায়াবেটিস। আবার সাধারণের দীর্ঘকালীন কিডনী রোগ প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোন না কোন পর্যায়ে উচ্চ রক্ত চাপের আবির্ভাব ঘটায়।

     কিডনীর সম্পর্কে একটা তথ্য হল যে এটা আমাদের দেহের অল্প কয়েকটি অঙ্গের একটা যার দেহের রক্তচাপ মাত্রা বাড়ানোর ক্ষমতা আছে। কিডনী এই কাজটি করে একটা বিশেষ ধরনের হরমোন –“রেনিন নিঃসরনের মাধ্যমে। এছাড়া কিডনী আমাদের দেহের ছাঁকনি হিসাবে কাজ করে। দেহের ভেতর সৃষ্ট বর্জ্য রক্তের মাধ্যমে কিডনীর মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাবার সময় কিডনী তা ছেঁকে তুলে নেয়। সাধারণভাবে বলা যায় যে কিডনী তথা বৃক্ক একটা ফিল্টার হিসাবে কাজ করে এবং রস এর মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হবার সময় পরিশোধিত হয়। যে অংশে এই তথাকথিত ছাঁকন ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তা হচ্ছে গ্লোমেরুলি। একটা অতি সূক্ষ্ম বহু নালিকার দ্বারা জালিকা-সম গঠনের হয়ে থাকে।

     দীর্ঘকালীন উচ্চ রক্ত চাপ কিডনী সমস্যার ও কিডনী ফেইলিওর এর অন্যতম প্রধান কারণ। ক্রমাগত উচ্চ রক্ত চাপ মাত্রা কিডনীর অভ্যন্তরীন রক্তনালীগুলো এবং ফিল্টার অংশ তথা গ্লোমেরুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে রক্ত থেকে বর্জ্য নিস্কাশন সম্ভব হয় না। ফলশ্রুতিতে দেহে সোডিয়াম এবং পানি দেহে আটকা পড়ে। অপর দিকে দীর্ঘকালীন কিডনী সমস্যার কারণে যখন কিডনীতে দেহের রক্ত পরিশোধন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ভাবে হয় না তখন তার প্রতিক্রিয়ায় কিডনী থেকে রেনিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এর প্ররিপ্রেক্ষিতে দেহের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া দেহে জমতে থাকা সোডিয়াম এবং পানিও রক্তচাপ মাত্রা বাড়াতে ভুমিকা রাখে।

উপসর্গঃ উচ্চ রক্ত চাপ জনিত কিডনী সমস্যা বা এমনি এমনিই এককভাবে কিডনী সমস্যা থাকলেও, সাধারণত কিডনী সমস্যা কিছুটা অগ্রগামী পর্যায়ের না হলে এর তেমন কোন উপসর্গ প্রকাশ পায় না। তাই কারো উচ্চ রক্ত চাপ থাকলে তবে নিয়মিত ভাবেই কিডনীর অবস্থা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে এবং করানো উচিত। কারো বেশী বয়সে বা খুব কম বয়সে উচ্চ রক্ত চাপ সমস্যা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই রোগ পরীক্ষার খুব প্রাথমিক অবস্থাতেই কিডনীর অবস্থার পুন্খানুপুন্খ পরীক্ষা করা উচিত। অপরপক্ষে কিডনীর সমস্যাগ্রস্তদের ক্ষেত্রে নিয়মিত উচ্চ রক্ত চাপ পরীক্ষা করা উচিত। উচ্চ রক্ত চাপ জনিত কিডনী সমস্যার যে সব উপসর্গ দেখা দেয় তা হল

·         অপেক্ষাকৃত আগের চেয়ে কম পরিমাণে এবং কম বার প্রস্রাব হবার ঘটনা ঘটতে থাকা। এবং প্রসাব করতে সমস্যা হওয়া।

·         দেহে বিশেষ করে পায়ে পানি জমে ফুলে যাবার ঘটনা ঘটা।

·         ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া। বিশেষ করে রাতের দিকে এ ঘটনা বেশী ঘটা। তবে প্রস্রাব এসব ক্ষেত্রে তেমন একটা হয় না।

পরীক্ষনঃ যেহেতু দেহে কিডনী সমস্যার উপসর্গ খুব দেরীতে দেখা দেয়, তাই কিডনীর সমস্যা নিরূপনের সবচেয়ে সুবিধাজনক পদ্ধতি হল রক্ত পরীক্ষা এবং প্রসাব পরীক্ষা। রক্তে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন নাম পদার্থ বা প্রস্রাবে প্রোটিনের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশী মাত্রায় উপস্থিতি সামগ্রিক কিডনী সমস্যার পরিচায়ক।

ঝুঁকি জটিলতাঃ আমরা আগেই জেনেছি যে দীর্ঘকালীন উচ্চ রক্ত চাপ যাদের থাকে তাদের কিডনীর সমস্যা দেখা দেবার ঝুঁকি বেশী। এছাড়া যাদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্ত চাপের সাথে সাথে ডায়বেটিস রোগও রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা অপেক্ষাকৃত আরো বেশী। এছাড়া ধারনা করা হয় যে এই ঝুঁকিতে বংশগতি তথা জেনেটিক প্রভাবও একটা ভূমিকা রাখে। যাদের পরিবারে রক্ত সম্পর্কের কারো উচ্চ রক্ত চাপ এবং কিডনী সমস্যার রোগ ইতিহাস থাকে তাদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশী।

রোগ নিয়ন্ত্রণঃ কিডনী তথা বৃক্ক সমস্যার প্রেক্ষাপটে রক্তচাপ মাত্রার নিয়ন্ত্রণটা কোন মাত্রায় হবে অর্থাৎ আদর্শ রক্তচাপ মাত্রা কি হবে তা নির্ধারণ একটু জটিল ব্যাপার। কারো যদি উচ্চরক্তচাপ সমস্যার পাশাপাশি কিডনী সমস্যা না থাকে তা হলে একরকম হিসাব। আবার কারো যদি উচ্চরক্তচাপ মাত্রার পাশাপাশি কিডনীর সমস্যা দেখা দিয়ে ফেলে তাহলে আরেক রকম হিসাব। আবার এই দুই রোগের জটিলতা ভেদে আবার আদর্শ মাত্রা নিরূপনে ভিন্নতা আসে।

যদিও রোগী থেকে রোগীতে রোগ ইতিহাস এবং শারিরীক অবস্থার উপর ভিত্তি করে আদর্শ রক্তচাপ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে, তবুও সাধারন একটা লক্ষ্য মাত্রার ধারনা নিম্নে দেওয়া হল।

 

চিকিৎসা নীতিঃ কিডনী সমস্যার কারণে যদি উচ্চরক্তচাপ হয়ে থাকার ঘটনা ঘটে থাকে সেক্ষেত্রে যদি কিডনী সমস্যাটাকে চিকিৎসার মাধ্যমে ভাল করে তোলা যায় তবে কিছু ক্ষেত্রে উচ্চরক্তচাপের সমস্যাটা দূরীভূত হয়। আবার অন্যদিকে যদি দীর্ঘকালীন উচ্চরক্তচাপের কারণে কিডনী সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আরো ভাল করে রক্তচাপ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করলে কিডনী সমস্যা আরো জটিল রূপ ধারন করা থেকে অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়ে থাকে।

     উচ্চরক্তচাপ ও কিডনীর সমস্যার চিকিৎসা সমন্বিতভাবে করতে হয়। এর মধ্যে যদি ডায়বেটিস যুক্ত হয় তবে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে ঔষুধ সেবন, জীপন যাপন নিয়ন্ত্রনপূর্বক রোগ নিয়ন্ত্রনই চিকিৎসার মূল উপপাদ্য বিষয় হয়ে থাকে।

জাপান

dr.turin@gmail.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.