Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা কার্তিক ১৪১৬ •  9th  year  7th  issue  Oct-Nov  2009 পুরনো সংখ্যা
ব্রিটেনে চরম সংকটে অভিবাসীরা - বেকার ২.৪ মিলিয়ন Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

 

লন্ডনের চিঠি

মিলটন রহমান

ব্রিটেনে চরম সংকটে অভিবাসীরা - বেকার ২.৪ মিলিয়ন

            কিছুদিন পর পর অভিবাসন আইন পরিবর্তন এবং লাগামহীন বেকারত্বের কারণে ব্রিটেনের জীবন যাপন কঠিন হয়ে উঠছেপাশাপাশি দেশ ইউরোপ এবং ফ্রান্স রিসেশনের ধাক্কা সামাল দিয়ে উঠতে শুরু করলেও ব্রিটেন পারছেনাফলে অভিবাসী কমিয়ে বেকারত্বের হার কমাতে চায় ব্রিটেনএতে করে বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ থেকে সোনার কাঠি-রূপোর কাঠির সন্ধানে আসা মানুষেরা হোচট খাচ্ছেন পদে পদেবিশেষ করে এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকেই বেশির ভাগ মানুষ ব্রিটেনে আসে কাজের খোঁজেকেউবা আসেন স্থায়ীভাবে বসবাস করতেকিন্তু বেকারত্বের প্রকোপ এবং নিয়ত পরিবর্তনমূখী অভিবাসন আইন ব্রিটেনের চিরাচরিত মানবাধিকার আইন লংঘন করবে কিনা সে রকম প্রশ্নও দেখা দিয়েছেবিরাজমান সংকটের কারণে ইউরোপ থেকে আসা অভিবাসীদের অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন নিজ দেশেব্রিটেনে বসবাসরত বাঙালিরা প্রথম দিকে রিসেশন সংকটের কোপানলে না পড়লেও এখন মোকাবেলা করছে পদে পদেরিসেশন এখন ব্রিটেনের তৃণমূলে আঘাত করেছেবিদেশী ছাত্র-ছাত্রীরাও মোকাবেলা করছে নানমূখী সংকটফলে ব্রিটেন  যে কোন ভাবে এ সংকট-উত্তরণ ঘটাতে চায়প্রয়োজনে নিতে চায় যে কোন ব্যবস্থা      

     বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন ব্রিটেনে ব্যাপক হারে অভিবাসী আসার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরণের সংকট দেখা দেবেতাঁরা মনে করছেন এটি বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলকেননা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশিসে সব দেশে কর্মসংস্থান সংকটের কারণে মানুষ কাজের খোঁজে পাড়ি জমায় ব্রিটেনেএজন্য বিশেষজ্ঞগণ সরকারকে কঠোরভাবে অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে এবং এর একটি নির্দিষ্ট হার নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেনবলা হচ্ছে বর্তমানে ব্রিটেনের জনসংখ্যা ৬০ মিলিয়ন হলেও ২০৫০ সালের মধ্যে ব্রিটেনের জনসংখ্যা ৭৭ মিলিয়নে ঠেকবেএটি ব্রিটেনের বিপুল সংখ্যক ইমিগ্রেন্ট প্রবেশের ফলজনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সংকট দেখা দেবে  বাসস্থান, স্বাস্থ্যও শিক্ষা খাতেতাছাড়া জীবন যাপনের ভারসাম্য রক্ষা করা ও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে

     সম্প্রতি জাতিসংঘের জনসংখ্যা প্রকল্পের মাইগ্রেশন ওয়াচ বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছেওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জনসংখ্যা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছেআর দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর দেশগুলোতে জনসংখ্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছেউদাহরণ স্বরূপ আফগানিস্তান, ইথিউপিয়া, কঙ্গো, সোমালিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ইন্দেনেশিয়ার  কথা বলা যেতে পারেপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচটি দেশ রয়েছে, যে সব দেশ থেকে ব্রিটেনে আসার জন্য যে আবেদন করা হয়েছে তা মোট আবেদনের অর্ধেকএসব দেশ হচ্ছে চায়না, ভারত, নাইজেরিয়া, এবং রাশিয়া ফেডারেশনফলে এ দেশগুলোর দিকে এখন ব্রিটেন তথা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সজাগ দৃষ্টিকিন্তু অধিক হারে যে সব দেশ থেকে আবেদন করা হয়েছে, সে সব দেশ নিজেদের শ্রম শক্তি বিদেশে পাঠাতে কৌশল অবলম্বন করছেএ রকম ১০ টি দেশ বলেছে, আমরা দেখতে চাই যে, ব্রিটেনে আরো ২৬ ভাগ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছেকিন্তু এর বিরোধীতা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতারা দেখতে চায় ২০৬০ সালের মধ্যে ব্রিটেনের জনসংখ্যা ৮ ভাগ কমানো হয়েছেবিশেষ করে পূর্ব ইউরোপের দশ সদস্য দেশ এ বিষয়ে জোরালো দাবী জানিয়েছে

     চেয়ারম্যান অব মাইগ্রেশন ওয়াচ, স্যার এন্ড্রো গ্রীন বলেছেন, সম্প্রতি এ বিষয়ে সব  রকমের তদারকি করা হয়েছেজরীপে দেখা যায় মূল ইমিগ্রেশন সমস্যা আসে এবং আসবে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকেতিনি বলেছেন, এটা তো সবার জানা যে এমন অনেক দেশ রয়েছে যেগুলোর  জনসংখ্যা জন্মের হার অনেক বেশি, কিন্তু মাথাপিছু আয় কমফলে ব্রিটেন-সহ  একই অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পন্ন  দেশ বেঁচে নিতে উন্নয়নশীল দেশের মানুষ উদ্বোদ্ধ হবেই

     বাইরে থেকে বৈধ-অবৈধ পথে আসা ইমিগ্রেন্ট শুধু নয়, যারা আগে এসে প্রবেশ করেছে, তাদের নিয়েও বেকায়দায় আছে ব্রিটেনকারণ যারা বাইরে থেকে এসেছে তাদের বেশির ভাগই অদক্ষফলে উল্লেখযোগ্য কোন কাজে ওইসব অভিবাসীরা কোন রকম ভূমিকা রাখতে পারছেনাতাদের জন্য সরকারকে বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে  এ সমস্যা সমাধানে এবং ইমিগ্রেন্টদের আত্মনির্ভরশীল করতে ব্রিটিশ সরকার নন-ইউরেপীয়ান ইমিগ্রেন্টদের জন্য পয়েন্ট বেইজড সিস্টেম চালু করবেযাতে করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে তোলা যায়এ প্রক্রিয়া চালু করার অর্থ হচ্ছে তাদের দক্ষতা এবং শিক্ষা নিশ্চিত করা যাতে তারা বেনিফিট গ্রহণ না করে নিজে কাজ করে চলতে পারেকেননা অদক্ষতা বেকারত্বের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানে  ব্রিটেনে এখন বেকারত্বের পরিমাণ উদ্বেগজনকবর্তমানে ব্রিটেনে ২.৪ মিলিয়ন মানুষ বেকারন্যাশনাল স্টাটেস্টিকস (ওএনএস) এক হিসেবে এ কথা উল্লেখ করেছেধারণা করা হচ্ছে বেকারত্বের হার এ বছরের শেষ নাগাদ ৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে  তবে গত ৩ মাসে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নতুন করে কাজে যোগ দিয়েছেএতে করে মোট বেকারত্বের হার থেকে  ৭.৮ ভাগ বেকার কমেছেকিন্তু অন্যদিকে বেকারত্বের হার বেড়েই চলছেবেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছে এমন বেকারের সংখ্যা ১.৬ মিলিয়ন যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চনতুন করে আরো মানুষ কাজ হারাতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছেএ বিষয়ে ইউনিট এসিস্টেন্ট জেনারেল সেক্রেটারী টনি বার্ক মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ খুব শীঘ্রই কাজ হারাতে পারেযার ফলে মোট বেকারত্বে হার এ বছর শেষ হবার আগে ৩ মিলিয়নে ঠেকতে পারেতিনি বলেন, আমি দেখতে পারছি খুব শীঘ্রই প্রিন্ট, পেপার, এবং প্যাকেজিং ফ্যাক্টরী থেকে কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষ কাজ হারাবে

     ব্রিটেনে এ মূহূর্তে দক্ষ শ্রমিকেরও ঘাটতি রয়েছেএ সংকট কাটাতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুলনামূলকভাবে তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়ানো দরকার এবং স্কুল-কলেজ থেকে যারা পাশ করে বেরুচ্ছে তাদের  কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিতএতে করে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ শ্রমের সংকট কাটবেবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলতি বছরের বাকি সময়ে বেকারত্বের হার সমহারেই বাড়বেমে মাসের এক পরিসংখ্যান মতে যে হার ছিলো ২.৩৮ মিলিয়নবাকি সময়ে বেকার বাড়তে থাকলে এ হার  ৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবেবিশেষজ্ঞগণ আরো বলছেন,আমরা সন্দেহ করছি  ২০১০ সালের মধ্যে বেকারত্ব আরো বৃদ্ধি পেয়ে চরম সংকট তৈরী করবে

     অন্যদিকে স্কটল্যান্ডে গত ৪ মাসে বেকারত্বের পরিমাণ বেড়েছে ৩১ হাজারঅতএব নতুন হিসাবে স্কটল্যান্ডে বেকারত্ব বেড়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজারফলে স্কটল্যান্ডে বর্তমানে বেকারত্বে হার ৭ শতাংশ অথাৎ ব্রিটেনের তুলনায় ৭.৮ ভাগএ প্রসঙ্গে টিইউসি জেনারেল সেক্রেটারী ব্রান্ডেন বারবার বলেছেন, এখনো আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে সমস্যা সমাধানেরদেখা যাচ্ছে ৬ জনের মধ্যে একজন তরুণ বেকারকর্মহীনতা এখন চরম সংকটের মুখেসরকারের অবশ্যই এখনি উদ্যোগী হতে হবে তাদের কাজে ফিরিয়ে আনতেনতুবা আমরা একটি জেনারেশন হারাবো যা আমাদের চলমান সংকট আরো বাড়াবে 

বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্ব অত সহজ নয়

     মূলতঃ অর্থনৈতিক সংকট থেকেই ব্রিটিশ সরকার প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে নান নিয়মকানুনবিভিন্ন ক্যাটাগরির ইমিগ্রেন্টদের ক্ষেত্রে নান পরিবর্তনের মধ্যে এবার অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে বর-কনেঅর্থাৎ এতদিন বিয়ে করে সহজে  ব্রিটেনে আসার যে সহজ প্রক্রিয়া ছিলো তা আর সহজ থাকছে না  বিয়ে করে ব্রিটিশ নাগরিক হওয়া এবং যাবতীয় রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণে আরো কাড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছেইতোমধ্যে  বিয়ে করে নাগরিকত্ব পেয়েছেন এমন ৮০ হাজারেরও বেশি সুবিধা ভোগীর ক্ষেত্রেও এ পরিবর্তন কার্যকর হবেব্রিটিশ সরকার মনে করছে এ ক্ষেত্রে দ্রুত রাজনৈতিক সংস্কার দরকারযারা রাষ্ট্রের কোন ক্ষেত্রে অবদান না রেখে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা গ্রহণ করছেন তাদের জন্য এ সংস্কার জরুরী বলে মনে করছে সরকারহোম সেক্রেটারী এলান জনসন সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেনপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিয়ে করলেই কেবল হবে না, ব্রিটিশ জীবন-যাপন, সংস্কৃতি সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা না থাকলে কাউকে নাগরিকত্ব এবং রাষ্ট্রিয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে দেয়া হবে না

     অনেক অশিক্ষিত মহিলা রয়েছেন যারা দরিদ্র এলাকা থেকে কোন ব্রিটিশ নাগরিকের বউ হয়ে এসেছেন ব্রিটেনেবিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে এ ধরণের ইমিগ্রেন্টরা এসে থাকেন এবং এসেছেনএদের অধিকাংশই ইংরেজী শিখতে ব্যর্থ হন এবং ব্রিটিশ কালচার ধারণ করতে পারেন নাঅথচ এদের রাষ্ট্র ওয়েলফেয়ার বেনিফিট দিচ্ছেতাছাড়া সন্তান গ্রহণের পর সব রকম সুযোগ-সুবিধাও তারা ভোগ করছে যারা এক দশক ধরে ব্রিটেনে বসবাস করছেন তাদের মতইব্রিটিশ সরকার চলতি এ নিয়ম ভেঙ্গে ফেলতে চায়সরকার বলছে, যারা অন্য দেশ থেকে এসে বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্ব পেয়েছেন কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য কিছুই করতে পারছেন না, তাদের কোন রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে নাসরকারী একটি সূত্র বলেছেন, বাইরে থেকে মানুষ আসছেন বা এখানে বেড়ে উঠছেন আর সরকারী সুবিধা ভোগ করছেনআমরা এ প্রক্রিয়া এখন বন্ধ করতে চাইআমরা পরিষ্কার করতে চাই যে, ব্রিটেনে প্রবেশ করলেই কেবল সুবিধা ভোগ করা যাবে না কোন রকম কর্ম ছাড়াআমরা চাই যারা ব্রিটেনে আসবেন তাদের অবশ্যই সামাজিক ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা রাখতে হবেএ প্রসঙ্গে হোম অফিস বলেছে, উত্থাপিত বিষয় অবশ্যই ভবিষ্যতে কারা ব্রিটিশ মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনে ব্যর্থ তাদের খুঁজে বের করতে সহায়তা করবে

     নতুন এ নিয়মে বিশেষ করে মহিলাদের পয়েন্ট সংগ্রহ করতে হবে ইংরেজী জানা, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা এবং তাদের সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করার মাধ্যমেএতে করে তারা প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের নাগরিকত্ব পাবেন কিন্তু কোন রকম সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন নাএর পরে তারা পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য একটি পরীক্ষা দিতে হবেযদি ওই পরীক্ষায় তারা অকার্যকর হন তাহলে তারা কোন রকম সুযোগ সুবিধা পাবেন নাপূণঃরায় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে এমন কি তাদের ব্রিটেন থেকে চলেও যেতে হতে পারে

     এ প্রসঙ্গে টরি ইমিগ্রেশন মুখপাত্র ডামেইন গ্রীন বলেছেন, যারা বিয়ে করে ইমিগ্রেশন নিয়ম না মেনে এদেশে আসতে চায় তাদের আসার আগেই থামিয়ে দিতে পারলে ভালোআমাদের পরামর্শ হচ্ছে যারা এদেশ ইমিগ্রেন্ট হয়ে আসতে চায় আমাদের উচিত যাচাই বাছাই করা যে তারা ব্রিটেনে জীবন যাপন করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত

কঠিন সময়ে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা

     বিদেশী শিক্ষার্থীরা এখন ব্রিটেনে চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেহোম অফিসের বারবার নিয়ম কানুন পরিবর্তন এবং বেশ কিছু কলেজ বন্ধ করে দেয়ায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্নচলতি নিয়ম টায়ার-৪ এ পরিবর্তন আনা হচ্ছেযার ফলে শিক্ষার্থীদের সাথে কলেজগুলোও অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়েঅন্যদিকে পোস্ট স্টাডি ওয়ার্কের জন্য আবেদনকারী প্রায় দুহাজার শিক্ষার্থী ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করায় এখন প্রহর গুনছে দেশে ফেরারএ রকম নানামুখী সমস্যা যেনো বিদেশী স্টুডেন্টদের নিত্য সহচরকাজের ক্ষেত্রেও চলছে চরম আকালইচ্ছে করলেই কোন ছাত্র-ছাত্রী বিশ ঘন্টার বেশি কাজ করতে পারেন নাকোন প্রতিষ্ঠান বিশ ঘন্টার বেশি কাজও দেয় নাহোম অফিস থেকে কড়া নির্দেশ রয়েছে, যদি কাউকে বিশ ঘন্টার বেশি কাজ দেয়া হয় তাহলে মোটা অংকের জরিমানা গুনতে হবেযাও একমাত্র ভরসা বাঙালি মালিকদের ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট তাতেও লেগেছে আকালরিসেশনের কবলে পড়ে রেস্টুরেন্টগুলো লোকসান গুনছেফলে বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের একমাত্র আয়ের জায়গা রেস্টুরেন্ট চাহিদা পুরণ করতে পারছে না তাদেরসেখানেও হোম অফিসের নজরদারীমালিকরা সতর্ক হতে গিয়ে অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীদের কাজে নেয়া থেকেও বিরত থাকছেন 

     বিশেষ করে এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীরা এ সংকট মোকাবেলা করছেএসব শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই এসেছে মধ্যম কিংবা নিম্নমানের কলেজেফলে তাদের সব সময় তটস্থ থাকতে হয় কখন কি হচ্ছেকারণ ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রায় তের হাজার কলেজ বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেছে হোম অফিসএর পেছনে অভিযোগ হচ্ছে কলেজগুলোর নানা অনিয়ম ও দূর্ণীতিএ রকম অভিযোগে ইতোমধ্যে হোয়াইট চ্যাপেলে বেশ কটি কলেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছেফলে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিনাতিপাত করছে বিদেশী শিক্ষার্থীরাবিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয়ে নান মন্তব্য করছেবলা হচ্ছে কলেজগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কেবলমাত্র ইমিগ্রেন্টদের ব্রিটেনে প্রবেশে সুযোগ করে দেয়া জন্যএদেশে প্রবেশ করেই অনেক স্টুডেন্টে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেন নাএতে করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ও সুযোগ সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে নানা ভোগান্তির শিকার হয়একই ভাবে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পলাতক ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয়ে কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারে না হোম অফিস তদন্তেরযার ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের মত ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও মুখোমুখি হয় একই সমস্যারশুধুমাত্র এসব কারণ এবং বিভিন্ন দেশ থেকে স্টুডেন্ট আনতে অযোগ্যদের অফার লেটার দেয়ার অভিযোগে বেশ কিছু কলেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছেটায়ার-৪ এর অধীনে যে পয়েন্ট বেইজড সিস্টেম করা হয়েছে তাতে একজন স্টুডেন্টের যোগ্যতা যাচাই করার  সুযোগ রয়েছেকিন্তু টায়ার-৪ সিস্টেমে যদি পরিবর্তন আনা হয় তাহলে এ সুযোগ থাকবে কিনা বলা যাচ্ছে নাযদি এ সুযোগ না থাকে তাহলে কলেজগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নাও হতে পারে এতে করে শিক্ষার্থীরা নতুন সংকটের মুখোমুখি হবে

     অন্যদিকে, ব্রিটেনের লাগাতার অর্থনৈতিক মন্দার ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম চড়াফলে স্টুডেন্টদের যে বিশ ঘন্টা কাজ করার অনুমতি রয়েছে তা দিয়ে খরচ নির্বাহ করা বেশ কষ্ট সাধ্যই হয়ে দাঁড়িয়েছেএসব স্টুডেন্টরা কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন নিজেই বহন করেতার উপরে থাকা খাওয়ার খরচ যেনো এক অসম্ভব পথের যাত্রী এসব ছাত্র-ছাত্রীরাকেননা আফ্রিকান এবং এশিয়ান স্টুডেন্টেদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেণীরতাছাড়া বাংলাদেশ এর মত আরো এশিয়ান দেশ রয়েছে যেসব দেশে থেকে নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে চাইলেই স্টুডেন্টের অভিবাবকরা টাকা পাঠাতে পারেন নাস্টুডেন্টেদের কাজের সময় আরো বাড়ানো হবে এ রকম বহুবার শুনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নিবিশেষজ্ঞরা বলছেন ছাত্রদের কাজের সময় বাড়ানো হলে ব্রিটেনে শ্রম সংকট যেমন লাগব হবে তেমনি  সরকার অর্থনৈতিক ভাবে হবে লাভবানযে কথা বলা হচ্ছে অবৈধ ইমিগ্রেন্টদের বিষয়েওঅবৈধদের বৈধতা দেয়া হলেও সরকার অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে

     যে সব স্টুডেন্ট জাল সার্টিফিকেট দিয়ে পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক (পিএসডাব্লিউ) এর জন্য আবেদন করেছিলেন এ রকম  প্রায় দুহাজার জনকে হোম অফিস ভিসা দেয়নিযাদের অনেকেই স্টুডেন্ট ভিসা চেয়ে পূনরায় আবেদন করেছেনএ সব আবেদনকারীদের অনেককেই হোম অফিস ভিসা না দিয়ে ইতোমধ্যে আপিল করার কথা বলে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেকিন্তু সলিসিটররা বলছেন, এ বিষয়ক  আপিল টিকার কোন সম্ভাবনা নেইফলে অনেককেই পাত্তাড়ি গোটাতে হচ্ছে দেশে ফেরারকোর্ট গত সপ্তায় পিএসডাব্লিউর জন্য আবেদনকারী ২ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে ২৮ দিনের মধ্যে ব্রিটেনে ছেড়ে চলে যেতে বলেছেবলেছে এ সময়ের মধ্যে চলে গেলে তারা এক বছর পর যে কোন ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে আসতে পারবেআর যদি না যায় অর্থাৎ তাদের যদি ডিপোর্ট করা হয় তাহলে ১০ বছরের মধ্যে সে আর ব্রিটেনে আসতে পারবেন না

     শতভাগ মানবাধিকার ভোগ করেন ব্রিটেনে বসবাসকারীরাএ কথা ধীরে ধীরে প্রশ্নবোধক হয়ে উঠছেকখনো কখনো চরম বর্ণবাদের চিহ্ন দেখা দেয় রাষ্ট্রীয় কিংবা রাজনৈতিক চরিত্রেব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টি প্রায়ই বিদেশীদের তীর্যক দৃষ্টিতে দেখেতাদের মতে, ব্রিটেনের আদি বাসিন্দারাই কেবল ব্রিটেনে থাকবেন, অন্যরা নয়যদিও সরকারে এ রকম দাবী হালে পানি পায় নাকিন্তু দৃষ্টির আড়ালে কম অবহেলিত নয় বিদেশীরাপ্রতিনিয়ত পরিবর্তিত আইন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সংকট এরকম নানান অজুহাতে অভিবাসীরা মূলতঃ চরম সংকটেই দিনাতিপাত করছে

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.