Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা কার্তিক ১৪১৬ •  9th  year  7th  issue  Oct-Nov  2009 পুরনো সংখ্যা
চিনি সঙ্কট, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সরকার Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

 

চিনি সঙ্কট, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সরকার

 

শুভ কিবরিয়া

 

            রমজান মাসে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বাজারে আচানক আক্রা হয়ে ওঠে চিনির বাজারসরকার ব্যস্ত হয়নানা রকম পদক্ষেপের কথা ঘোষিত হয়কিন্তু চিনির বাজার আর থামে নাসরকার ঘোষিত ৪০ টাকার চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি হতে থাকেবাণিজ্যমন্ত্রী বেচারা মিডিয়ায় জেরবার হতে থাকেনবাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান গোলটেবিলের লোকবলা হয়, গোলটেবিল আলোচনার আলোচক হিসেবেই তার উত্থানবিগত জামায়াত জোট সরকার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যত বিষয়ে দেশে গোলটেবিল আলোচনা হতো সেখানে উপস্থিত থাকতেন ফারুক খানপাট সঙ্কট, তেল-গ্যাস উত্তোলন এবং বহুজাতিক কোম্পানির আধিপত্য ও জনস্বার্থ, আদিবাসী অধিকার, পানি ও জীবন এ রকম হরেক গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত থাকতেন তিনিআলোচ্য বিষয়ের ওপর কথা বলতেন

     গত ২০০৭-০৮ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যখন আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা নেতারা পালিয়ে গেছেন, তখনও ফারুক খান মিডিয়ায় সরব সিভিল সোসাইটি রাজনীতিবিদ হিসেবেসাবেক আর্মি অফিসার ফারুক খান বলেন ভালোতাৎক্ষণিক কথা চালিয়ে যেতে পারেন যুৎসইটিভি ক্যামেরার সামনে তিনি বেশ সপ্রতিভওসেই পুরনো অভ্যেস তার যায়নিএখনো টিভি ক্যামেরা দেখলে তিনি অধিকতর স্মার্টকথা বলার জন্য উদগ্রীবও থাকেনবাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে মিডিয়াও তার কথা শোনাতে চায়ফলে বিস্তর সুযোগ পেয়ে যান মন্ত্রী বেচারাএ সুযোগের মোক্ষম ব্যবহারও করেন তিনিচিনি নিয়েও নানান কথা বলেনকিন্তু শেষতক চিনি মানুষের নাগালের বাইরে যেতে থাকে বাজারে দাম বাড়তে থাকেবাড়তে থাকে যাকে মানুষের ভোগান্তি

     বাণিজ্যমন্ত্রী এরপর আবিষ্কার করেন সিন্ডিকেট তত্ত্বখবর বের হয় সরকার গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগিয়েছেগোয়েন্দা সংস্থা ব্যবসায়ীদের পেছনে লেগেছেবের হয় আট জন বড় চিনি ব্যবসায়ী এ কাজের পেছনেসঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী মিডিয়ায় সরব হনগোয়েন্দা সংস্থার কাজের ফলাফল ঘোষণা করেনআট ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে সরকারের এ সিদ্ধান্ত আগাম মিডিয়াতে জানিয়ে দেনফলে, ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার এড়াতে সুযোগ পেয়ে যানচিনি ব্যবসায়ীরা শুধু পালিয়েই যান না, গ্রেপ্তার এড়াতে চিনির আড়তও বন্ধ রাখেনতাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলতে থাকেবাজারে এর নেগেটিভ প্রভাব পড়েচিনির দাম আর কমে না আবার সরকারের টনক নড়েসিন্ডিকেটে আশ্বস্ত করেন গ্রেপ্তার না করার জন্যগঠিত হয় নতুন তদন্ত কমিটি

     শেখ হাসিনার সরকারের এ শাসন, আপাতত চিনি সঙ্কট তৈরি করেছেব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত করেছেগ্রাহক পর্যায়ে, ভোক্তা পর্যায়ে চিনিকে দুর্মূল্য করেছেএখন প্রশ্ন মুক্তবাজার অর্থনীতির দিনে গোয়েন্দা সংস্থাকে লাগিয়ে ধরপাকড়ের খবর আগাম জানিয়ে দিয়ে কি বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

২.

     শেখ হাসিনা যখন আমেরিকায় তার দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুদল জলিল তখন লন্ডনেসেখানেই মিডিয়াতে তিনি চাঞ্চল্যকর এবং সরকারের জন্য বিব্রতকর মন্তব্য করলেনতার মন্তব্যের মধ্যে কয়েকটি বক্তব্য আছেক. এই সরকার সমঝোতা করে ক্ষমতায় এসেছে, খ. আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে শেখ রেহানা, গ. অনভিজ্ঞ আনকোরা মন্ত্রীরা দেশ চালাতে পারবে না, ঘ. দলে অভিজ্ঞদের শেখ হাসিনা অবজ্ঞা করছেন, ঙ. ডিজিএফআই এর সঙ্গে ২০০৭-০৮ সালে যারা যারা সমঝোতা করে চলতেন তারাই এখন সরকারের মন্ত্রী

     শেখ হাসিনা আমেরিকাতে বসেই জলিলের মন্তব্যের বিপক্ষে পাল্টা মন্তব্য করেছেনসকল অভিযোগ এড়িয়ে সমঝোতার বিষয়েই শুধু কথা বলেছেনশেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, সমাঝোতার নির্বাচন করেই যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে থাকে তবে আবদুল জলিল নিজেও তো সেই প্রক্রিয়ায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেনসুতরাং সরকারকে এ অভিযোগে অভিযুক্ত করার আগে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেই কথা বলা উচিত ছিল তারশেখ হাসিনা যথার্থই এ নৈতিক প্রশ্নটি তুলেছেনতবে লক্ষ্যণীয় শেখ হাসিনা জলিলের বাকি প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গেছেনশেখ হাসিনা ও জলিলের এ মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য লক্ষ্য করলে দেখা যাবে একটা টেনশন এবং উত্তেজনা ভর করেছে সরকারের কাঁধে

৩.

     সরকারের বয়স এখনো এক বছর হয়নিঅথচ সরকারকে এ রকম ঝাঁকুনি খেতে হচ্ছেআবদুল জলিল যে ঝাঁকুনি দিলেন, তাতে সরকারকে বেশ জেরবার হতে হচ্ছেশেখ হাসিনা যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে, জলিল সাহেবের রাজনীতি শেষঅতীতে কথা বলে শেখ হাসিনার ফরগিভপেলেও এবার তার কপালে ফরগিভ ও ফরগেটজুটবে না জলিল সাহেবের কপালে যাই জুটুক না কেন, এই ঘটনার পর সরকার ভেতরে ভেতরে যে অস্থির তা বেশ সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে আর এ অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে আমলাতন্ত্র সামরিক এবং বেসামরিক আমলাতন্ত্র চড়াও হচ্ছে সরকারের ওপর

৪.

     সরকারের এ অবস্থায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়টি সামনে আসছে২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যাকাণ্ডের পর সমাজ ও রাজনীতি জুড়ে যে নেতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠেছিল তাতে এ বিচার কাজ যত বিলম্বিত হচ্ছে তত ন্যায়বিচার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি ততই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ইতোমধ্যে সুপ্রীম কোর্টের রেফারেন্স সরকার পেয়েছেকোর্ট মার্শাল বা সামরিক আদালতে বিচারের উদ্যোগ তাতে বাধাগ্রস্ত হয়েছেএ রকম অবস্থায় বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের আগেই জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিমাসেই বিডিআর সদস্যদের মৃত্যুর খবর বেরিয়ে আসছেএ পর্যন্ত ৪৭ জন বিডিআরের মৃত্যু হয়েছেপ্রতি মাসে গড়ে ৭ জন বিডিআর জওয়ান মারা যাচ্ছেবিডিআরের বর্তমান কর্তৃপক্ষ এ মৃত্যুকে বারবার স্বাভাবিক বলার চেষ্টা করলেও তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছেকেননা হঠাৎ করে হৃদরোগ ও আত্মহত্যায় বিডিআর সদস্যরা এতো প্রাণঘাতি ও মৃত্যুপ্রবণ হয়ে উঠবেন কেন? বিডিআর সদস্যদের পরিবার অবশ্য এ মৃত্যুগুলোকে নির্যাতনের ফলে মৃত্যু বলে দাবি করছেন

     গত ৭ মাসে ৪৭ জন বিডিআর সদস্যের মৃত্যু এবং এ মৃত্যুধারা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া পর্যন্ত যদি অব্যাহত থাকে তবে তা নানা রকম প্রশ্নের জন্ম দিতে থাকবে

     বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় যে সামাজিক ও সাংগঠনিক বিদ্বেষ এবং ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তার একটা বড় সামাজিক অভিঘাত রয়েছেদীর্ঘমেয়াদি একটা সমাজগত বেদনার অভিঘাত পোহাতে হবে দেশকে৭-৮ হাজার বিডিআর এবং তাদের পরিবার আত্মীয়স্বজন এ বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে ন্যায় বিচারকতটা গ্রহণযোগ্য হবে সেটাও বিবেচ্যঅন্যদিকে নিহত সামরিক অফিসারদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং সহকর্মী সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কাছে এ বিচার কতটা ন্যায়ানুগ হয়, তারা কতটা আশ্বস্ত হন সেটাও একটা বড় বিবেচনার বিষয় অন্যদিকে জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সমাজের চোখে এ বিচার কতটা ফেয়ারএবং আইনসম্মত হয় সেটাও দেখার বিষয় সুতরাং বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার তদন্ত এবং এর সামাজিক অভিঘাত সামলে নেয়া যেকোনো সরকারের জন্যই একটা অসম্ভব রকমের বড় চ্যালেঞ্জ

     বাংলাদেশের মতো দেশে যার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রনৈতিক অতীতে অনেক সংহাত ও অসাংবিধানিক শক্তির উপস্থিতি গণতন্ত্রকে ব্যাহত করেছে, রাজনৈতিক দল ও সমাজ ব্যর্থ হয়েছেযেখানে রাজনৈতিক বিভেদও বিবাদ সুস্পষ্ট, সেখানে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার একটা বড় কাজবড় চ্যালেঞ্জ

     চিনি, আর জলিল সঙ্কট ঝাঁকুনি খাওয়া বর্তমান সরকার সেই চ্যালেঞ্জ কতটা সামলে নিতে পারবে ভাবনা এখন সেটাই

ঢাকা।

 

মন্তব্য:
Mominul Hoque   November 1, 2009
Awami League's Abdul Jalil and BNP's Mannan Bhuiyan have three things common: both are old politicians; loose talkers; and past-retirement!
Massive rallies planned for Jalil   October 23, 2009
Bangladesh, October 23, 2009- Massive rallies planned in Naogoan in support of Mr. Abdul Jalil! Thousands of people with flowers and banners will line up on the side of a road Mr. Jalil will travel today. Mr. Jalil, former general secretary of the Bangla ruling party stirred his party and its chief, Sheikh Hasina, recently through his scathing remarks on Awami League's election victory and on Sheikh Hasina. Hasina associates initially called Mr. Jalil mentally ill, but brought up tax evasion charges shortly there after. Threats on Mr. Jalil’s life were also reported after his comments. Mr. Jalil went to hiding after the issuance of a subsequent arrest warrant by a Dhaka court. He was granted bail two days later.
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.