Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা কার্তিক ১৪১৬ •  9th  year  7th  issue  Oct-Nov  2009 পুরনো সংখ্যা
বাংলাদেশঃ পারিবারিক সহিংসতা আইন প্রণয়নের এখনই সময় Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

 

বিশ্বজোড়া পাঠশালা

বাংলাদেশঃ

পারিবারিক সহিংসতা আইন প্রণয়নের এখনই সময়

জাকিয়া আফরিন

     বাংলাদেশে এখন নারীদেরই সময়। আশাবাদী যে কেউ বলতে পারেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমনকি বিরোধী দলের প্রধান, সকলেই নারী। বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়নের বাকি রয়েছে কি? একজন মানবাধিকার কর্মীকে জিজ্ঞেস করুন অথবা গেল এক মাসের নিহত তিনজন উচ্চশিক্ষিত নারীর পরিবারকে জিজ্ঞেস করুন তাদের মত হবে একেবারে ভিন্ন। বাংলাদেশে স্বামী এবং শশুরবাড়ীর সদস্যদের কাছে এখনো অসহায় অনেক নারী। শিক্ষা, অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য কোন কিছুই পারিবারিক সহিংসতা থেকে মুক্তি দিতে পারছেনা নারীকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাই রয়েছে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা এই নীরব মহামারীর বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে এখনো দুটি খসড়া আইন ও মিছিল মিটিং এ সীমাবদ্ধ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

     বাংলাদেশে পারিবারিক নির্যাতন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হতে থাকে নব্বই দশক থেকেই। সমাজে ও পরিবারে নারীর চিরাচরিত সেবাময়ীর ভূমিকা পাল্টে যাবার সময় থেকেই নারী নিজের অধিকারের প্রতি সচেতন হয়। বাংলাদেশে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাগুলির ভূমিকা এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। নব্বই দশকে নারী ও শিশু নির্যাতন বিরোধী বিশেষ আইন ও আদালতের সূচনা হলেও তাতে যৌতুক সংক্রান্ত নির্যাতন ব্যতীত অন্যান্য পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাখা হয়নি। যার ফলে সেই আইনটি নারীকে তার একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্কের হিংস্রতা থেকে মুক্ত করতে পারেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত Bangladesh National Institute of Research and Training (NIPORT) এর একটি জরিপে দেখা যাচ্ছে, ১৫ হতে ৪৯ বছরের নারীদের শতকরা ৫৩ ভাগ স্বামীর হাতে শারিরীক কিংবা যৌন নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছেন। আরো উদ্বেগের কারণ রয়েছে; জরিপে অংশগ্রহণকারী শতকরা ৩৬ জন নর-নারী মনে করেন যৌন সম্পর্কের কারণে, ঘরের কাজে অবহেলা করলে, সন্তানদের দেখভাল ঠিকমত না করলে, ধর্মীয় রীতিনীতিতে মনোযোগ না দিলে কিংবা স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাইরে গেলে স্বামীর অধিকার রয়েছে স্ত্রীকে শাসন করার। এই জরিপ কি চমকে দেবার মত নয়? যে দেশে ১৯৯১ সালের পর থেকে নারী সরকার প্রধান রয়েছেন, সেই দেশে একি মানসিকতা? নারীকে অধঃস্তন মনে করার গূঢ় কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে ইতিহাস, সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত এবং শতাব্দী পুরোনো ভাবধারায় এ নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ। তবে ফলাফল সুষ্পষ্ট। আইনের চোখে পারিবারিক নির্যাতন এখনো পারিবারিক বলেই স্বীকৃত নির্যাতন নয়। বর্তমান কাঠামোতে, পারিবারিক আদালত বিচার করে বিবাহ-বিচ্ছেদ, ভরণপোষন, সন্তানের অভিভাবকত্ব এই সব বিষয়ে। ফৌজদারী আদালত যৌতুক সংক্রান্ত অপরাধের বিচার করে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তৈরী বিশেষ আদালত ব্যবস্থা নেয় যৌতুকের কারণে মৃত্যু কিংবা গুরুতর আঘাতের ঘটনায়। স্বামীর মানসিক অত্যাচার, মুখ ঝামটা কিঙবা যৌন অনাচারের বিচার করবে এমন ফোরামের অস্তিত্বই নেই।

     আগেই বলেছি, নব্বই দশকের শুরুতে স্বৈরাচার সামরিক শাসকের পতনের পর বাংলাদেশে সামাজিক আন্দোলনের ঢেউ ওঠে দাবী ওঠে পারিবারিক নির্যাতন বিরোধী পদক্ষেপ নেবারও। তবে গবেষণা করতে গিয়ে দেখা গেল ২০০৪ সালে প্রথমবারের মতবাংলাদেশ আইন কমিশন এ বিষয়ে বছর ব্যাপী অনুসন্ধান চালায় এবং ২০০৫ সালে একটি রিপোর্ট সরকারের কাছে পরিবেশন করে। রিপোর্টে বলা হয়, With a view to assisting the Govt to frame out a pragmatic law on the subject, Law Commission has prepared a draft bill namely the Domestic Violence Act 200 … with due consideration of our economic conditions & resources.’

     মানবাধিকার কর্মীদের প্রবল আপত্তির  মুখে আইন কমিশনের এই বিলটির ভাগ্যে কি ঘটেছে, বলা যায়না। তবে এর একটি বিষয়বস্তু নিয়ে কিছুটা আলোচনা জরুরী। পারিবারিক নির্যাতন এর যে সংজ্ঞাটি প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা অসম্পুর্ণ। এতে যৌন নির্যাতন সংজ্ঞায় স্ত্রীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বামীর সঙ্গে সহবাসে বাধ্য করাকে নির্যাতন বলে গণ্য করা হয়নি। আন্তর্জাতিক আইনসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে বর্তমানে স্বামীর এই ব্যবহার নির্যাতন হিসেবে ধরা হয়।

     সর্বশেষ যে খসড়া বিল নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে, তা তৈরী হয়েছে ২০০৮ সালে। এতে ভাষার ব্যবহার ২০০৫ সালের খসড়ার চেয়ে উন্নত। বিলটিতে রয়েছে অভিযোগ যাচাই করা কালীন অর্ন্তবর্তী সুরক্ষা আদেশ ( Temporary Restraining Order) এবং সে সময় ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার। অভিযোগ করার পর থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে আবেদনের নিস্পত্তি করা হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতা সংজ্ঞা নির্ধারণের বেলায় শারিরীক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের বিশদ ব্যাখ্যা করা হলেও যৌন নির্যাতনের বিশদ ব্যাখ্যা করা হলেও যৌন নির্যাতনকে বলা হয়েছে যে কোন প্রকার যৌন নির্যাতন যদ্দরুন ভিকটিমের মান-সন্মান এবং মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্থ হয়

     এই সংজ্ঞায় অভিযোগ কেমন করে নিষ্পত্তি হবে? স্ত্রী কি স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ আনতে পারবেন? মর্যাদার বিষয়টি আপেক্ষিক; বিচারক কোন মানদন্ডে নির্ধারন করবেন মর্যাদাহানির বিষয়কে? ২০০৮ সালের খসড়া বিল অনুযায়ী নিরাপত্তা হেফাজতে ভিকটিম বা সন্তানকে রাখার ব্যবস্থা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ক বিশেষ আদালতের প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ জেলখানাকে নিরাপত্তা হেফাজত হিসেবে ব্যবহার করেছে। সম্ভাব্য জেলখানা থেকে সন্তান ও নিজকে রক্ষা করতে নারী মুখ বুজে নির্যাতন সহ্য করার সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অবাক হবার কিছু থাকবে না। খসড়াটিতে সেবা প্রদানকারী সংস্থা অর্থাৎ বেসরকারী নানা উন্নয়নমূলক সংস্থাকে ভিকটিমকে সার্বিক সহযোগিতা দেয়ার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে থানায় প্রতিপালন কর্মকর্তা বা এই বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ক আইনটি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

   বিভিন্ন সেবাপ্রদানকারী সংস্থা (বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ারস এসোসিয়েশন, অ্যাকশন এইড, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাষ্ট ইত্যাদি) এবং প্রগতিশীল উন্নয়নকর্মীদের সমন্নয়ে গড়ে উঠেছে Citizen’s Initiatives Against Domestic Violence এবং সরকারের প্রস্তাবিত খসড়া বিবেচনা করে তারা শিগগীরই পরিবেশন করতে যাচ্ছে অপর একটি খসড়া। সত্যি সত্যি মনে হচ্ছে, আইনটি প্রস্তুত হতে আর বেশী দেরী নেই। আশা করছি ভিকটিম শব্দটি ব্যবহার না করে আইনে থাকবে সারভাইভর শব্দটি, কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহ বিবেচনা করবেন বিভিন্ন সংস্থার মতামত।

অক্টোবর ১, ২০০৯

ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.