Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা কার্তিক ১৪১৬ •  9th  year  7th  issue  Oct-Nov  2009 পুরনো সংখ্যা
আমেরিকায় বাংলাদেশী পেশাজীবী সংগঠন Download PDF version
 

প্রবাসে বাংলাদেশী সংগঠন

 

আমেরিকায় বাংলাদেশী পেশাজীবী সংগঠন

সাবির মজুমদার

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশী বাঙালিদের উত্তর আমেরিকাতে আসার ঢল নামে। এখন ধারণা করা হয় যে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশী থাকেন। এর দশ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশী বিভিন্ন উচ্চ পেশায় নিয়োজিত আছেন।

এ সকল পেশাজীবীর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রসায়নবিদ, ফার্মাসিষ্ট, কৃষিবিদ, অর্থনীতিবিদ, পরিবেশবিদ, ব্যাংকার, বিনিয়োগকারী, ইত্যাদি। অর্থাৎ এমন কোন পেশা নেই যেখানে বাংলাদেশীরা নেই। তিরিশ হাজার বাংলাদেশী পেশাজীবী একটা বিশাল সংখ্যা। কাজেই এরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক।

১৯৮০-এর দশকে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সৃষ্টি। এখনো হচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ এনভায়রন্টমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ইনিসিয়েটিভ (বিডিআই), এমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জীনিয়ার্স এ্যান্ড আর্কিটেক্টস্ (এএবিইএ), বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (বিএমএএনএ), বাংলাদেশ ডেন্টাল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্টিস্টস্ (এএবিপিএস), বাংলাদেশ এগ্রিকালচারেল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা, ইত্যাদি। তবে হাতে গোণা দু তিনটি পেশাজীবী সংগঠনের কথা বাদ দিলে বাকি সবই নির্বাচন এবং বনভোজন সর্বস্ব। তবে সময়ের সাথে সাথে অবস্থার পরিবর্তন ও উন্নতি হচ্ছে।

পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সদস্য সংখ্যা খুব বেশী নয়। কারো পঞ্চাশ, কারো বা পাঁচশ ছুঁই ছুঁই করছে। কাজেই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে বেশীর ভাগ বাংলাদেশী পেশাজীবীই সংগঠনগুলোর সাথে জড়িত নয়। তদুপরি, সদস্যরা কিংবা পেশাজীবীরা উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কিংবা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। কাজেই সবাইকে জড়িত করা কিংবা সাংগঠনিক বিষয়ে আকর্ষিত করা চাট্টিখানি কথা নয়। কোন কোন সংগঠন আবার দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যাচ্ছে।

নব্বই-এর দশকে যে চারটি সংগঠন পেশাজীবীদের মাঝে আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টি আকর্ষ করতে সক্ষম হয় সেগুলো হলো বাংলাদেশ ডেভেলপম্যান্ট ইনিসিয়েটিভ (বিডিআই), বাংলাদেশ কেমিক্যাল এ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা (বিসিবিএসএনএ), টেক্ বাংলা এবং আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স এ্যান্ড আর্কিটেক্টস্ (এএবিইএ)।

বিডিআই ১৯৯৫ সালে পেনসিলভ্যানিয়ার পিটসবার্গ শহরে একদিনব্যাপী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি আয়োজনে যারা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাঁরা হলেন ডঃ আশরাফ আলী, ডঃ ফাইজুল ইসলাম ও ডঃ রুহুল কুদ্দুস। সম্মেলনে পঠিত গবেষণা প্রবন্ধগুলোর সমন্বয়ে বিডিআই পরবর্তিতে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের সহায়তায় Development Issues of Bangladesh” শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করে। পিটসবার্গ সম্মেলনে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ডেভেলপম্যান্ট ইনিসিয়েটিভ এখন প্রতি বছর হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে আসছে। বিডিআই নিয়মিতভাবে একটি ষান্মাসিক জার্নালও প্রকাশ করছে। জার্নালটির নাম Journal of Bangladesh Studies

বাংলাদেশ কেমিক্যাল এ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা (বিসিবিএসএনএ) নব্বই দশকে নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে পেশাজীবীদের মাঝে দৃষ্টি ও সম্মান অর্জন করে। ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বিসিবিএসএনএ বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক দূষ নিয়ে নিউইয়র্কের ষ্ট্যাটেন আয়ল্যাণ্ডে আয়োজন করে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এই সফল সম্মেলন আয়োজনে যারা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁরা হলেন ডঃ আলাউদ্দিন আহমেদ, ডঃ সাবির মজুমদার, ডঃ আবুল হুস্যাম ও ডঃ সুভাষ বাসু। এই সম্মেলনের পথ ধরেই পরবর্তিতে ডঃ হুস্যাম আবিস্কার করেন এখনকার বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত তিন কলসি আর্সেনিক ফিল্টার পদ্ধতি। এ কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের স্বীকৃতি স্বরূপ পান এক মিলিয়ন ডলারের গ্রেঞ্জার পুরস্কার - তাঁর গবেষণা কাজ আরো বেগবান করার জন্য। প্রায় অর্ধযুগ ধরে বিসিবিএসএনএ মৃত বা অর্ধমৃত থাকার পর ইদানিং চাঙ্গা হতে শুরু করেছে বলে শোনা যায়। বিসিবিএসএনএ আবার ত্রৈমাসিক নিউজলেটার প্রকাশ করতে শুরু করেছে এর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য।

এরপর ২০০০ সালে দুটো বড় ধরণের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে টেক্ বাংলা এবং আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স এ্যান্ড আর্কিটেক্টস্ (এএবিইএ)। টেক্ বাংলা ২০০০ সালের এপ্রিল মাসে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে আয়োজন করে তিন দিন ব্যাপী প্রযুক্তি হস্তান্তর ২০০০: উত্তর আমেরিকা সম্মেলন। সেখানে ডঃ মুহম্মদ ইউনুস প্রধান অতিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে এ সম্মেলনে পঞ্চাশটিরও বেশী প্রজেক্ট / প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এর দুএকটি প্রকল্প পরবর্তীকালে বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হয় বলে শোনা যায়। টেক্ বাংলা ২০০১ সালে ঢাকায় একই ধরনের একটি ফলো-আপ সম্মেলনের আয়োজন করে। এই দুটো সম্মেলনের মাধ্যমে টেকবাংলা প্রবাসী ও বাংলাদেশের প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একত্র করতে সীমিতভাবে সফল হয়েছিল। টেক্ বাংলার সম্মেলনগুলো আয়োজনে যারা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁরা হলেন ডঃ শেখ নজরুল ইসলাম, অনির চৌধুরী, ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ডঃ সাবির মজুমদার এবং আরো অনেকে। সংগঠনটির গঠনতন্ত্র জনিত সমস্যার কারণে টেক্ বাংলা পরবর্তী সময় থেকে মৃত্যুপথযাত্রীর মত বিছানায় শায়িত। কখনো জেগে উঠবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই

২০০০ সালে নভেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালীতে এএবিইএ আয়োজন করে এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ প্রযুক্তিজনিত ব্যবসা সম্মেলন সিলিকন বাংলা আইটি ২০০০। প্রায় এক লক্ষ মার্কিন ডলার খরচ করে তথ্য প্রযুক্তির রাজধানীতে এ সম্মেলনে প্রায় পাঁচশত প্রযুক্তিবিদ উপস্থিত ছিলেন। আরো উপস্থিতি ছিলেন বাংলাদেশের প্রায় ২০টি তথ্যপ্রযুক্তির স্টার্ট-আপ কোম্পানি। উপস্থিত  ছিলেন বাংলাদেশের ডাকসাইটে ব্যবসায়ী সালমান রহমান, কুটনীতিবিদ ফারুক সোবহান, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশের তৎকালীন প্রযুক্তি মন্ত্রী জেনারেল (অবঃ) শফিউল্লাহ, এবং তৎকালীন বাণিজ্য মন্ত্রী আব্দুল জলিল। এ সম্মেলন আয়োজনে যারা কঠিন পরিশ্রম করেছিলেন তাঁরা হলেন এনায়েতুর রহমান, এহসান আবেদিন, জাহাঙ্গির দেওয়ান, ইকবাল হুসেন, মাশুক রহমান, ডঃ রেজা ইসলাম, ডঃ সাবির মজুমদার, শওকত শামীম, ডঃ জাফর উল্লাহ এবং ডঃ নাজমুস সাকিব। এই সম্মেলনের ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার সিলিকন ভ্যালীতে একটি বাণিজ্য অফিস খোলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সহায়তায়। কিন্তু ২০০১ সালের ডট্-কম বাস্টের পর এই উদ্দ্যোগ সাফল্যের মুখ দেখেনি বলেই পর্যালোচকদের মত। তবে এএবিএই-এর চ্যাপ্টারগুলো নিয়মিতভাবে তাদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন সাফল্যের সাথে করে যাচ্ছে।

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে উদ্যোগী প্রবাসী পেশাজীবি সংগঠন হলো বাংলাদেশ এনভায়রন্টমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন)। বেন-এর প্রধান সংগঠক ডঃ নজরুল ইসলামের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে সংগঠনটি অনেক পথ এগিয়েছে। বেন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রবাসী সংগঠন হলেও এর শতকরা একশত ভাগ কর্মকাণ্ডই বাংলাদেশের পরিবেশ সংক্রান্ত। বেন বাংলাদেশে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাথে বেশ কিছু সুসংগঠিত কাজ করছে। ইরোপ, আমেরিকা, আস্ট্রেলিয়া এবং জাপানে রয়েছে বেন-এর বেশ কয়েকটি শাখা। বেন-এর বিশেষজ্ঞ প্যানেলগুলো হচ্ছে-জলবায় পরিবর্তন, নদী ও পানি, জ্বালানী, আদিবাসী, আর্সেনিক ও পানি দূষ, বায় দূষ ও নগরায়ন, জনসংখ্যা, পাট, অর্থনীতি ও প্রশাসন, এবং বর্জ্য দ্রব্যাদি। বেন বাপা-র সহযোগীতায় প্রতি বছর ঢাকায় পরিবেশ সংক্রান্ত একটি সম্মেলন আয়োজন করে থাকে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (বিএমএএনএ) প্রতিবছর নিয়মিতভাবে তাদের বার্ষিক সম্মেলন করে যাচ্ছে এবং বার্ষিক নিউজলেটার প্রকাশ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তাদের কয়েকটি শাখা রয়েছে। বিএমএএনএ-এর সদস্যরা বাংলাদেশে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্টিস্টস্ (এএবিপিএস) একই ধরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পেশাজীবী সংগঠনগুলো আরো সংগঠিত হবে তাঁদের পেশার কারণে, কমিউনিটির কারণে এবং বাংলাদেশের কারণে এটাই সকলের প্রত্যাশা। এ সকল উদ্যোগে পেশাজীবীরা আরো বেশী করে যাতে অংশগ্রহ করতে পারেন উদ্যোক্তরা সে ব্যাপারে আরো উদ্যোগী হবেন এটাই কামনা। সংগঠনগুলো পড়শী পত্রিকার মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে পারে। নিজের পেশার উন্নয়ন এবং দেশের উন্নয়নের যদি একটা সামঞ্জস্য আনা যায় তবেই বেশীর ভাগ পেশাজীবী এ সকল উদ্যোগে আরো আগ্রহ নেবেন, সময় দেবেন এবং শ্রম দেবেন বলে এই লেখকের ধারণা

 

সিলিকন ভ্যালী, ক্যালিফোর্নিয়া

অক্টোবর ৬, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.