Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা কার্তিক ১৪১৬ •  9th  year  7th  issue  Oct-Nov  2009 পুরনো সংখ্যা
আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর কর্মকর্তাদের কিছু কথা Download PDF version
  প্রবাসে বাংলাদেশী সংগঠন

 

আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর কর্মকর্তাদের কিছু কথা

জিয়াউল করিম লোটাস এবং সুবর্ণা খান

যুগ যুগ ধরে মানুষ ভাগ্যের অন্বেষণে পাড়ি জমিয়েছে বিদেশ বিভূইয়ে। অচেনা, অজানা প্রতিকল পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হয়েছে অনেক। তারপরও স্বপ্নলোকের চাবির খোঁজে আজও ছুটে চলেছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।

বাঙালী সমাজে পরভমিতে আপন বলতে বুঝায় সমাজের কাছের আর দশ জনকে। সুখে দুঃখে এক অপরের সাহায্যে আসবেন সবার এটাই কাম্য। সকলে মিলে পালন করা হবে বছরের বিশেষ বিশেষ দিন, তাতেই কত আনন্দ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। তারা তাদের নিজ নিজ ভূমিকায় বিভিন্ন ভাবে বাংলাদেশী সমাজে কাজ করে চলেছেন এই সুদূর প্রবাসে।

উত্তর আমেরিকার সংগঠনগুলো সম্পর্কে লিখতে হলে অবশ্যি লিখতে হবে ওদের কর্ণধারদের কিছু কথা। যোগাযোগ করা হয়েছিল ইন্টারনেটে থাকা সবগুলো আঞ্চলিক সংগঠনদের কর্মকর্তাদের সাথে। কারো কারো সাথে হয়েছে কথা। জিজ্ঞেস করে হয়েছিল বেশ কয়েকটি প্রশ্ন। কতদিন যাবৎ আছেন সংগঠনে, বছরে কি কি অনুষ্ঠান করে থাকেন, বাজেট কত ও উৎস কি, সংগঠন নিয়ে উনাদের চিন্তা ভাবনা কি, বড় কোন সংগঠনের অংশ কিনা এবং সংগঠন চালানো কালীন কোন অন্তর্দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হচ্ছেন কিনা। দেখা যাক তারা কি বলেন।

 

মোঃ আজিজ খান

সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্ক  ইনক্

৩৬ বছরের পুরোনো এই বাংলাদেশী সংগঠন। নানা বর্ণের নানা ভাষার, নানা সংস্কৃতির মানুষের মিলনস্থল NYC-তে যার জন্ম। প্রায় ১৫ হাজারের মতো বাংলাদেশীরা Member হিসেবে যুক্ত আছেন এই সংগঠনের সাথে। ২০০৯-২০১০ সালের নির্বাচিত সভাপতি মোঃ আজিজ খান পেশায় ব্যবসায়ী, নেশা সমাজসেবী। সভাপতির পদ লাভের পূর্বে দুইবার Board of Trusteeর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনাব আজিজ খানের মতে জাতীয় দিবস বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসব পালনের পাশাপাশি NY এর বাংলাদেশী সমাজের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের পরিকল্পনা আছে NY Society-এর। এরই মাঝে NY CityFund এর আওতায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্ক  ইনক নিজেদের অন্তর্ভূক্ত করেছে। যার সুবাদে City র দুইটি কলেজে (LaGuardia Community College, CUNY) বাংলাদেশীরা বিনা খরচে GED exam, nursing, job training-এর সুযোগ নিতে পারবেন। NYC-এর বহুল পরিচিত Yellow Cab এর license রা যায় বিনা খরচে। ভবিষৎতে Public School-Halal Food, Eid Holiday-এর আবেদন করবে এই সোসাইটি। বাংলা স্কুল শুরু হচ্ছে  Brooklyn-এ এবং Societyর অফিসে। বাংলাদেশী মুসলমান সমাজের জন্য Long Island Washington Memorial Cemetery তে ইতিমধ্যে ২ একর জমি নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশীদের কবরস্থানের জন্য।

জনাব আজিজ খান বলেন এখন থেকে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্ক  ইনক-এর অফিস সপ্তাহে ৬ দিন (সোমবার বন্ধ) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এবং বাংলাদেশী সমাজের জন্য তথ্য অনুসন্ধান কেন্দ্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। যেমন, US passport, বাংলাদেশী Passportএর জন্য বিভিন্ন form পাওয়া যাবে এখানে, থাকবে সে সব ফর্ম পণের জন্য সাহায্য, ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে।

এতগুলো কাজ সুন্দরভাবে করতে গেলে প্রয়োজন অর্থের যার কিছু আসে Membership থেকে, সিংহভাগই ব্যক্তিগত অনুদানে, যার একটি বড় অংশ বর্তমানে জনাব খান বহন করছেন। NY Society বর্তমানে দ্বিধাবিভক্ত FOBANAর কোন অংশের সাথেই যুক্ত নয় বলে দাবী করলেন জনাব আজিজ খান। তবে একত্রিত FOBANAর যে কোন অনুষ্ঠানে NY Society অংশগ্রহ করবে।

 

মুশফিকুর চৌধুরী খসরু

সাধার সম্পাদক, বাফলা (BUFLA)

লস এঞ্জেলেসের সাম্প্রতিক সংগঠন Bangladesh Unity Federation of Los Angeles (BUFLA) একটি সাফল্যের কথা। LA-র অনেকগুলো সংগঠনকে একটি মিলন ছাতার নীচে নিয়ে এসেছে BUFLA. মুশফিকুর চৌধুরীর মতে শতকরা আশি ভাগের বেশী সাফল্য BUFLA LA-র কম্যুনিটি ও অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের সংগঠনকে একত্র করতে। প্রতিবছর BUFLA আয়োজন করে বাসরিক LA প্যারাড যা LA-র ডাউনটাউনের প্রধান সড়ক ভারমন্ট/উইশায়ারের দিয়ে যায়। এতে BUFLA নিমন্ত্র করে গভর্নর, মেয়র, কগ্রেসম্যান, শেরিফ ও পুলিশ প্রধানকে। ২০০৯ সালের প্যারেডে কোরিয়ান, মেক্মিকান, গুয়েতেমালা ও সালভাদরের লোকরাও অংশগ্রহ করেছিলেন। এই প্যারিডের মাধ্যমে বাংলাদেশী কম্যুনিটির পরিচিতি বাড়ছে LA-তে। স্বাধীনতা দিবসের এই প্যারাড সম্মিলিত করছে বহু ধরনের বহু মতাবলম্বী সংগঠনদের।

মুশফিকুর চৌধুরীর মতে BUFLA ক্যাবিনেট ও কার্যকরী কমিটি সব সংগঠনের মতামত শুনে কম্যুনিটিকে সম্মিলিত করার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। এছাড়া BUFLAর সংবিধান, নির্বাচন পদ্ধতি, নির্বাচন কমিশন ও এডভাইসরী কাউন্সিল খুবই নিয়মতান্ত্রিক। তাই কোন বিভক্তি আসা উচিত না। BUFLAর সবাই এই লক্ষ্যে খুবই পরিশ্রম করছে। এছাড়া, BUFLA লস এঞ্জেলেসের বাঙালীদের চাকুরী, চিকিৎসা ও ইমিগ্রশন যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করছে।

মুশফিকুর চৌধুরীর মতে BUFLA অন্যান্য সংগঠন জন্য উদাহরন হিসেবে কাজ করা উচিত। তিনি ফোবানার স্টিয়ারিং কমিটিতে কাজ করেছিলেন। ফোবানা যে দুটি গ্রুপ তাতে কোন সন্দেহ নেই। BUFLA-র মত তৎপরতা নিলে ফোবানাকেও এক করা সম্ভব।

সম্পদকমণ্ডলীর কথাঃ LA-তে সাম্প্রতিক এই প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবী রাখে। স্বাধীনতা দিবসের এই প্যারাডে সাড়া জাগিয়েছে সর্বত্র। ওয়েব সাইটে গেলে সদস্য সংগঠনের নামগুলো দেখলে চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক নানা ধরনের সংগঠন BUFLA-র ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ। তবুও কথা থেকে যায়। ইমেইলে চোখে পড়ে বাংলাদেশ একাডেমী নামের একটি সংগঠনের ক্ষোভের কথা। LA-র হলিউড পত্রিকায় ছাপা হয়েছে BUFLA-র নানা ধরণের বদনাম একপেশে সংগঠন থেকে জামাতের ধ্বব্জাধারী পর্যন্ত। তবে এদের কাছে পাঠানো প্রশ্নগুলো কেউই উত্তর দেননি। টেলিফোনে মেসেজের জবাব আসেনি।  পড়শীও চায় ঐক্যবদ্ধ NRB কম্যুনিটি দেখতে BUFLA-র মত সংগঠন

 

কামাল খান

প্রেসিডেন্ট, বে-এরিয়া বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (BABA)

বাবা-র প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন এখন এক বছর তিন মাস। এ বছর বে এরিয়াতে প্রোগ্রাম করেছেন বেশ কয়েকটি- একুশে ফেব্রুয়ারী, পহেলা বৈশাখ, মেলা, চাঁদ রাত, বাবা স্পোর্টস, ডঃ ইউনুসের সম্বর্ধনা, হাবিব কনসার্ট ও গানের আসর।  প্রতিটি অনুষ্ঠানের বাজেট --- ২০০ থেকে ২০,০০০ ডলার। কামাল খানের মতে, এই বাজেট আসে BABA র মেম্বারশীপ, আর ডোনার ও স্পনসর দিয়ে। কামাল খানের নেতৃত্বে BABA বঙ্গসম্মেলনে সক্রিয় অংশগ্রহ করে। BABA কে এরপর ফোবানাতে সক্রিয় করার আশা করছেন কামাল খান। বে-এরিয়ার বাংলাদেশী কমিউনিটিতে নতুন ছাত্র, ভিসা ইস্যু ও পারিবারিক সমস্যাগুলো BABA উপযুক্ত ফোরামে পাঠিয়ে দেয়। কামাল খানের সময়ে BABA সুন্দরভাবে কাজ চালাচ্ছে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে গতবছর BABAতে কন্ট্রোভার্সি হয় ধর্মীয় একজন বক্তাকে এনে। সেই অন্তর্দ্বন্দ্ব থেকে কাটিয়ে আবারো কর্মমুখর একটি কম্যুনিটি সংগঠনে পরিণত করতেই বর্তমান সাংগঠনিক কমিটির বড় সাফল্য। ওয়েব সাইট www.BABA1.COM

ফারুক আযম

সভাপতি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অ নিউজার্সী (BANJ)

BANJ-এর বর্তমান সভাপতি ডাঃ ফারুক আযম একাধারে মনো-চিকিৎসক, আবৃত্তিকার ও অভিনেতা BANJ-এর জন্মলগ্ন ১৯৯৪ থেকে এই সংগঠনে সাথে নানাভাবে জড়িত আছে তিনি ও তার পরিবার। জাতীয় দিবস, সাংস্কৃতিক উৎসব পালনের জন্য বছরে ৩-৪টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে BANJসে সব অনুষ্ঠানে ৩০০-এর অধিক বাংলাদেশীদের উপস্থিতি প্রমান করে এই সংগঠনের জনপ্রিয়তা।

বাংলাদেশের যে কোন বিপর্যয়ে বারবার এগিয়ে এসেছে BANJ, যেমন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাহায্যের ব্যবস্থা করা। ভবিষৎ এ পরিকল্পনা আছে একটা বাংলা স্কু চালু করর, বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য একটি Community Center এর ব্যবস্থা করা। জানালেন ডাঃ ফারুক আযম। তবে এর জন্য যে ধরনের আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন তা শুধু Membership Fund দিয়ে সম্ভব নয়, এগিয়ে আসতে হবে সমাজের সকলকে। বিভিন্ন মতবাদের জন্য অনেক সময় কাজ করতে একটু অসুবিধা হলেও এটাই সমাজের নিয়ম বলে মানেন তিনি - তাই নিউজার্সীর বাংলাদেশী সমাজের জন্য BANJ কাজ করে যাবে আরও অনেকদিন এই লক্ষ্যে। FOBANA অন্যতম সদস্য সংগঠন হিসেবে নিয়মিত অংশগ্রহ করে আসছে BANJ সকল অনুষ্ঠানে।

 

তাহসিন মেহমান

সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটি অ নিউজার্সী  (BSNJ)

নিউ জার্সীর আদি সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি অ নিউজার্সী (BSNJ) যার প্রতিষ্ঠা ১৯৮৭ সালে। ৮০-এর দশকের শেষ থেকে এই সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন বর্তমান সভাপতি তাহসিন মেহমান ও তার পরিবার। প্রবাসে বৈশাখ, বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবস, বনভোজন পালনের মধ্য দিয়ে কেটে যায় সারা বছর। প্রতিটি অনুষ্ঠানে বিশাল দশর্ক সমাগম (৩০০ থেকে ৫০০ অনুষ্ঠান অনুযায়ী) প্রমা করে এই সংগঠনের সাংগঠনিক ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা। তাহসিন মেহমানের মতে, সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করবার আনন্দই আলাদা। এসব অনুষ্ঠানের আয়োজনের ব্যয় ভার বার্ষিক চাঁদা, অনুষ্ঠানের প্রবেশমূল্য, ব্যক্তিগত অনুদান, ম্যাগজিন বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এই সকল উৎস হতে আসে। FOBANAর সদস্য সংগঠন হিসেবে BSNJ প্রতিবছর FOBANAর আয়োজনে অংশ নিয়ে থাকে। বাংলাদেশী সমাজের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ থেকে BSNJ নিউজার্সির বাংলাদেশী সমাজের বিভিন্ন প্রয়োজনে সবসময় এগিয়ে এসেছে, তার সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রয়োজনে ও অবদান রেখেছে। তাহসিন মেহমান নিজে একজন সঙ্গীত শিল্পী এবং তার স্ত্রী উর্মি মেহমান একজন জনপ্রিয় নৃত্য শিল্পী- সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি BSNJ-এর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহ করে থাকে মেহমান পরিবার।

 

চাদ সুলতানা

ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ এসোশিয়েশন অব ফিনিক্স (BAP)

এবছরের জানুয়ারী থেকে আছেন দায়িত্বে। এ বছর তিনটি প্রোগ্রাম করেছে BAP, বাংলাদেশ থিয়েটর অব অ্যারিজোনা, বাংলাদেশ ষ্টুডেন্ট এসোসিয়েশন ও শিকড় বাংলা স্কুলের যৌথ উদ্যোগে একুশে ফেব্রুয়ারী, অপু-ডিনা-বাপ্পীর অংশগ্রহণে ক্লোজ আপ-ওয়ান ২০০৮ এবং ঈদ রিইউনিয়ন। মোট গড় উপস্থিতি ৩০০ ৪০০ জন। পিকনিক হবে বছরের শেষে। যদিও অ্যারিজোনা কম্যুনিটি বাড়ছে দিন দিন, তবুও স্পনসর পাওয়া বেশ কঠিন। বাজেটের বড় অংশ আসে বাৎসরিক ফি, গেট মানি ও কিছু সংখ্যক ডোনারের কাছ থেকে। যদিও তারা বড় কোন সংগঠনের অংশ না, ফোবানার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহবুব রহিম BAP এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। চাদ সুলতানার মতে BAP বেশ কয়েকটি প্রোগ্রাম করছে যা কম্যুনিটি কে সাহায্য করছে বাড়তে। বাংলাদেশী দূর্যোগে বা পারিবারিক দূর্যোগে BAP দোয়া ও সাহায্যের আয়োজন করে থাকে। BAP ফিনিক্সে প্রতি বছর মুরাদ-রানা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকে। এই টুর্নামেন্টটি দুজন বাংলাদেশীর স্মর করা হয় এবং ফিনিক্সে খুবই জনপ্রিয়। তাছাড়া BAP অ্যারিজোনা টাইগার্স ক্রিকেট কমিটির ফাইনাল স্পন্সর করে। BAP ফিনিক্সের বাংলা স্কুল শিকড়কে সবসময় সাপোর্ট দিয়ে আসছে। তাছাড়া প্রতি বছর বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে NRB দের জন্য ভিসা দেয়ার ব্যবস্থাপনা করে।

চাদ সুলতানা মনে করে কম্যুনিটির সহায়তায় ও নিরপেক্ষ দৃষ্টি ভঙ্গির জন্য BAP-এর মাধ্যমে ফিনিক্সে ভাল পরিবেশ বজায় রয়েছে। ওয়েব সাইট www.baphx.com

 

মিথু রহমান

বোর্ড মেম্বার, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব গ্রেটার অষ্টিন (BAGA)

BAGA-র সাথে জড়িত আছেন প্রথম থেকে এবং গত বছর ছিলেন বোর্ড অব ডাইরেক্টার চেয়ার। প্রতিবছর বেশ কয়েকটি প্রোগ্রাম করেন এরা। প্রধান অনুষ্ঠান এপ্রিলের তৃতীয় শনিবার ডাউনটাউন অষ্টিনের ওয়াটার ল্যু পার্কে নববর্ষ উদযাপন। তাছাড়া বিজয় দিবস, অষ্টিন বাংলা স্কুলের সাথে একুশে, পিকনিক, ফুটবল টুর্নামেন্ট, ঈদ পার্টি ও ইফতার পার্টি। তাছাড়া BAGA অষ্টিনের ক্যাপিটাল ব্যাঙ্ক ফুড ড্রাইভে অংশ নেয়। বছরে দুইবার বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে নিয়ে আসে অষ্টিনে।

BAGA ফোবানার অংশ এবং ২০০৯ সালে ফোবানার আয়োজন করেছিল অষ্টিনে। NRB কম্যুনিটির জন্য BAGA ভিসা আয়োজন ছাড়াও নতুন ছাত্রছাত্রীদের সর্বপ্রকার সাহায্য করতে চেষ্টা করে। অসুস্থ বাংলাদেশীদের সাহায্য করতেও BAGA নিয়োজিত। মিথু রহমান জানালেন যে তারা কোন বাৎসরিক মেম্বারশীপ ফি নেন না। এটা প্রধানত চলে ডোনেশান ও স্পন্সরশীপের উপরে। ওয়েব সাইট www.bagatx.org

 

আল মাসুম

প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ এসোসিশন অব ন্যাসভিল (BAN)

২০০৯ সালে নির্বাচিত হয়েছেন আল মাসুম। এ বছর এরি মধ্যে হয়েছে ঈদের পূনর্মিলনী, স্বাধীনতা/বিজয় দিবস, পিঠা পার্টি, পহেলা বৈশাখ, পিকনিক। রীতিমত থাকে ১৫০-২০০ লোকজন। এ সব অনুষ্ঠানে খরচ আসে বাৎসরিক মেম্বারশীপ, ডোনার ও কিছুটা এখানকার ম্যাগাজিন বর্তিকা থেকে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দূর্যোগে BAN দ্রুত অংশ নেয়। আল-মাসুমের মতে বেশীর ভাগ লোক প্রফেশনাল হওয়ায় কম্যুনিটিতে আছে খুব ভাল হৃদ্যতা। ওয়েব সাইট www.banglanashville.com

 

 

নকিব আহমেদ নাদভী

প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এমন্টন

বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এমন্টন (BCAE) যাত্রা শুরু করে ১৯৭৯ সালে। তখন সদস্য সংখ্যা ছিল ১৫ থেকে ২০ জন। এডমন্টন ছোট্ট একটি শহর। কানাডার আলবার্ট প্রদেশের রাজধানী শহর। শহরের কেন্দ্রস্থলে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা। এ কারণেই এখানে পেশাজীবিদের সংখ্যা অনেক বেশী। সূত্র ধরে এখানে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।

এখানে BCAE বহুমখী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত। মূলত আমাদের দেশজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে পুরো বছরের কার্যক্রম সাজানো হয়। এক বছরের জন্য কার্য নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়। বর্তমান বছরে আমি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছি। ইতিমধ্যে আমরা একুশে ফেব্রুয়ারী, বাংলা নব বর্ষ, নজরুল ও রবীন্দ্র জয়ন্তী, মাদার্স ডে, বার্ষিক বনভোজন, ঈদ পুনর্মিলর্নী উদযাপন করেছি। পাশাপাশি রক্তদান কর্মসূচী অব্যাহত রয়েছে। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রতি রোববার চলছে বাংলা স্কুল। প্রতি বছর এই এডমন্টনে হেরিটেজ মেলা হয়ে থাকে। এ বছর ৬২টি দেশ অংশ নিয়েছে। বরাবরের মত এবারও বাংলাদেশ স্টল নিয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার বিক্রির পাশাপাশি প্রদর্শিত হয়েছে পোশাক পরিচ্ছদ এবং অলংকার। সে সাথে পরিবেশিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিজস্ব মঞ্চে।

এডমন্টনে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশী পরিবার বাস করে। এর মাঝে প্রায় দুই শতাধিক ছাত্র ইউনিভার্সিটির সাথে সম্পৃক্ত। স্টুডেন্টের জন্য রয়েছে আলাদা এসোসিয়েশন। মাঝে মধ্যে আমরা যৌথ উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচী কিংবা খেলাধুলা বিষয়ক অনুষ্ঠান করে থাকি।

এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যরা বছরের শুরুতে নিবন্ধিত হ। এছাড়া প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য আমরা ইভেন্ট ফি ধার্য করে থাকি। এখান থেকে আমরা ফান্ড তৈরী করি। এর পাশাপাশি আমাদের পত্রিকা এডমন্টন বিচিত্রার বিজ্ঞাপন, আমাদের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপন, ডোনেশন, সিটি গ্রান্ড এবং হেরিটেজ ফেসটিভেল খাবার বিক্রি করে আমরা এসোসিয়েশনের ফান্ড জেনারেট করি।

এসোসিয়েশনের কর্মকান্ড পরিচালিত হয় ছোট্ট পরিসরে- এডমন্টন শহরকে কেন্দ্র করে। মূলত নতুন প্রজন্মকে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ কারণে আমরা প্রতিটি অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। ওদেরকে উদ্ধুদ্ধ করা জন্য উদযাপিত হয় এদেশের কালচার উপযোগী মা-দিবস, বাবা-দিবস। এ শহরে যারা নতুন আসেন, তাদেরকে বাসস্থান এবং চাকরীর ব্যাপারে তথ্য সরবরাহ করা হয়।

বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য বি সি এই বরাবর সক্রিয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অর্থ সাহায্য, কাপড় সংগ্রহ এবং মিডিয়াগুলোতো প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়।

বিসিএই ছাড়াও এখানে আরো কতগুলো সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য সবাই কম বেশী তৎপর। মাঝে মাঝে এখানে বৃহত্তর পরিসরে বাংলা ভাষীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গ থেকে শিল্পীরা অংশ নিয়ে থাকে সেই সব অনুষ্ঠানে। বিসিএই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এই সব অনুষ্ঠানগুলো আয়োজনের ক্ষেত্রে।

যে কোন এসোসিয়েশনের সাথে সম্পৃক্ত থাকে বিভিন্ন ধরনের লোকজন। পেশা, বয়স, শিক্ষা, আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে মতদ্বৈতা থাকবেই। এই সব ইস্যুগুলোকে সমন্বয় সাধন করে এগিয়ে যেতে হয় সামনে। একই সূতোয় মালা গাথার এই দুরূহ কাজটি সঠিক ভাবে পালন করতে পারলে, সংগঠনকে সত্যিকার অর্থে সক্রিয় রাখা সম্ভব। এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি সামনে- একটি স্বপ্নময় এবং পরিচ্ছন্ন এসোসিয়েশন গঠনের লক্ষ্যে।

প্রবাসে এসোসিয়েশনের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকাটা অত্যন্ত চ্যালেন্জের ব্যাপার। ব্যক্তিগত এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করে কমিউনিটির জন্য সময় দেয়াটা খুব সহজ ব্যাপার নয়। অনেকের পক্ষে এ ধরনের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হবার সুযোগই নেই। এই ব্যস্তময় জীবনের পাশে যারা এসোসিয়েশনের কাজে এগিয়ে আসছেন, তাঁরা অবশ্যই বাড়তি ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। সময়ের টানাপোড়েন ছাড়াও রয়েছে আর্থিক সীমাবদ্ধতা যা এসোসিয়েশনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে বিরাট প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। তবুও আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে অপার ইচ্ছে শক্তি এবং আন্তরিকতার সমন্বয় হলে সাময়িক বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে উঠা সম্ভব। গুটি কতক উদ্যমী সংগঠকের টিম-ওর্য়াক এসোসিয়েশনের বহুমাত্রিক কর্মধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট। সৃজনশীল কর্মীরা এটাকে দায়বদ্ধতা হিসেবে বিবেচনা করেন বলেই এই প্রবাসে বাংলাদেশী এসোসিয়েশনগুলো আজো প্রত্যাশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে।

 

তানভীর কবির দীপ

সভাপতি, বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ও এলামনি এসোশিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BDSAAC)

তানভীর কবির দীপ BDSAAC র প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ২০০৮ ২০১০ মেয়াদে। লস এঞ্জেলেসের এই সংগঠনটি সাফল্যের সাথে এ বছর চাঁদরাত, ক্যারিয়ার ফেয়ার ও ঈদ পুণর্মিলনী করেছে। চাঁদ রাতে ২৫০০ জন ও ঈদ পুর্মিলনীতে ৬০০-র উপরে লোকজন ছিল। বাজেট ১৫০০ থেকে ৩,০০০ ডলার। বাজেট এসেছে স্পনসর ও বিভিন্ন প্রফেশনের ইনষ্টিটিউট ও কলেজের মাধ্যমে। তানভীর কবির দীপের মতে  তার সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ক্যালিফোর্নিয়া বাংলাদেশী ছাত্র ও এলামনিদের সাহায্য করা BDSAAC নবাগত ছাত্রছাত্রীদের অফ-ক্যাম্পাস বাসা ঠিক করে দেয়া, হোম ওয়ার্কে সাহায্য করা, এবং LA-র প্রফেশনালদের সাথে যোগাযোগ করে দিতে নিয়মিত সাহায্য করছে। BDSAAC হাই স্কুল ও কলেজ ছাত্রছাত্রীদের সেন্টার হিসেবে কাজ করে। জব ফেয়ার BDSAAC নিয়মিত করে থাকে ছাত্রছাত্রীদের জন্য। তানভীর কবিরের মতে ভিন্নমত ডেমোক্র্যাটিক উপায়ে সমাধান করলে সংগঠনে কোন মতভেদ হয় না। ওয়েব সাইট www.bdsaac.org

 

সোহেল ইমতিয়াজ

প্রেসিডেন্ট, একো (ECHO)

ডঃ সোহেল ইমতিয়াজ বে-এরিয়ার চ্যারিটি সংগঠন ECHO-র সাথে জড়িত মার্চ ২০০৩ সাল থেকে এবং ২০০৭ থেকে আছেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে। দেশের দুস্থ মানুষকে স্বাবলম্বী করার প্রত্যাশায় ECHO ফান্ড রেইজিং করে থাকে বছরে দুবার। রোজার সময় ইফতার/ডিনার আয়োজন করে ও গ্রীষ্মে BBQ-র মাধ্যমে। ইফতার পার্টিতে প্রতিবছর ৫০০-৬০০ লোক উপস্থিত থাকে।

বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে ECHO দেশের ২০,০০০ এর বেশী লোকদের সাহায্য করে থাকে। প্রজেক্টগুলো হলো দক্ষ জনশক্তি গড়া, বৃত্তিপ্রদান, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য; প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং আর্সেনিক মুক্ত জল সরবরাহ। প্রতিবছর ECHO তুলে ১০০,০০০ থেকে ১৫০,০০০ ডলার। সোহেল ইমতিয়াজের মতে, দেশের প্রজেক্ট সারাও এখানকার কম্যুনিটিতে পারিবারিক দূর্যোগে ECHO সাহায্য দান করে। সোহেল ইমতিয়াজ বললেন, বে-এরিয়াতে ECHO অন্যান্য সংগঠন বাবা, স্পন্দনবি ও আগামীর সাথে বন্ধুত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে দেশের মানুষকে সাহায্য করার আশায়। তিনি ডোনার ও স্পন্সরসহ সকল স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানালেন। ওয়েব সাইট www.echo-us.org এবং www.echoglobal.worldpress.com

 

বাবু রহমান

প্রেসিডেন্ট, আগামী

বাংলাদেশের দুস্থ শিশুদের শিক্ষাদানের কাজে নিয়োজিত চ্যারিটি অর্গানাইজেশনে বাবু রহমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন গত পাঁচ বছর। বছরে একবার ফান্ড রেইজিং করে থাকেন এবং এবার মোট উপস্থিতি ছিল ২৫০ জন। ২০০৯ সালের বাজেট ৫৫,০০০ ডলার। বাবু রহমান বললেন আগামী প্রধানত বাংলাদেশী দুস্থ শিশুদের শিক্ষায় নিয়োজিত; এখানকার NRB-দের জন্য আপাতত আগামীর কোন পরিকল্পনা নেই।

 

মহিউদ্দিন মজুমদার

প্রেসিডেন্ট, স্পন্দনবি

বাংলাদেশের দুঃস্থ ও বঞ্চিত মানুষের ত্রা তৎপরতায় নিয়োজিত বে-এরিয়া ভিত্তিক স্পন্দনবির সাথে জড়িত আছেন মহিউদ্দিন মজুমদার ১৯৯৮ সাল থেকে। প্রতিবছর এপ্রিলে করে থাকেন বাৎসরিক ফান্ড রেইজিং। ৩০০-৪০০ লোক উপস্থিত থাকে। প্রতিবছর ১৮০,০০০ ডলার বাজেট প্রধানত আসে ডোনেশন থেকে। শিক্ষা সম্পর্কিত প্রজেক্ট ডোনারদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। মহিউদ্দিন মজুমদার বে-এরিয়াতে অন্যান্য সংগঠন হৃদ্যতার সাথে কাজ করায় সন্তো প্রকাশ করলেন।

 

আতিকুর চৌধুরী

প্রতিষ্ঠাতা ভাইস প্রেসিডেন্ট, অংকুর ইন্টারন্যাশনাল, পোর্টল্যান্ড

২০০৭ সালের মার্চ থেকে যাত্রা শুরু অংকুর-এর। এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট সায়স্তাগির চৌধুরী। আঞ্চলিক এবং বিশ্বের শিশুদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে অংকুরের জন্ম। প্রতিবছর রোজার মাসে ফান্ড রেইজিং করে থাকে অংকুর ইফতার-ডিনারের ব্যবস্থা করে। এবছর মোট ২০০ জন উপস্থিত ছিল। এই ডিনারের খর বোর্ড অব ডাইরেক্টর বহন করে। প্রতিবছর বাংলাদেশী শিশুদের আনন্দের জন্য অংকুর পোর্টল্যান্ডে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে শিশুদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন থাকে- একক সঙ্গীত, দলগত সঙ্গীত, শিশুদের নাটক। এতে বড়রা অংশগ্রহ করে। অংকুর পোর্টল্যান্ড Community transitional school (www.transitionalschool.org)-তে সক্রিয় অংশ নিয়ে হোমলেস্ফোস্টার কেয়ারের শিশুদের সাহয্য করে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের ও পরিবারের সাহায্যের জন্য অংকুর সাহায্য পাঠিয়ে থাকে। ২০০৯ সালে অংকুর বাংলাদেশে ৮২০০০ ডলার পাঠিয়েছে।

অংকুরে কোন মতভেদে নেই। তবে পোর্টল্যান্ডে একটি পারিবারিক গোলযোগ কম্যুনিটিকে ইদানিং দ্বিধা বিভক্ত করেছে। একটি বিবাহ বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এই দ্বিমতের সৃষ্টি হয়। আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই এটার একটা সুরাহা হবে। ওয়েব সাইট www.ankur-international.org

এ্যানি ফোরদৌস

প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস ইনক

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস ইনক (BIPA)-এর কর্মকান্ডের সাথে পরিচিত নয় এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে NYC-এর বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। কথা হচ্ছিল BIPAর ফাউন্ডার মেম্বার এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট নৃত্যশিল্পী এ্যানি ফোরদৌসের সাথে। ১৯৯৩ সালে Queens-BIPAর আত্মপ্রকাশ। বাংলাদেশী সমাজের নতুন প্রজন্মকে তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত করবার মহান উদ্দেশ্য সামনে রেখে BIPAর যাত্রা শুরু। বর্তমানে BIPA-তে চার বছর থেকে শুরু করে আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের নৃত্য, সঙ্গীত, তবলা বাদন ও ছবি আঁকা শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে নিয়মিত। শঘ্রই কী-বোর্ড বাদন শিক্ষা শুরু করা হবে। এ সকল শিক্ষার জন্য অতি সামান্য Tuition গ্রহ করে থাকে BIPA। তবে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বাংলা পড়া ও লিখতে শেখা বাধ্যতামূলক এবং তা অবৈতনিক। মুলতঃ নৃত্যগুরু এ্যানি ফেরদৌস নৃত্যবিভাগ ও সঙ্গীতগুরু সেলিমা আশরাফ সঙ্গীত বিভাগের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রতি বছর December-এ অনুষ্ঠিত হয় BIPAর গ্রাজুয়েশন উৎসব ও বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান। তার সাথে প্রতিবছর এপ্রিলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন, গ্রীষ্মের খোলা আকাশের নীচে চারটি weekend-এ এক মাস ধরে Ethens Square Park-এ Bangladesh Night উদযাপন BIPAর অন্যতম প্রধান অনুষ্ঠানমালা। এ ছাড়াও ৬-বছরের কোর্স শেষে পাস করা ২-জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান উত্তরাধিকার জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এ অনুষ্ঠানে এই নতুন প্রজন্মের নবীন শিল্পীরা প্রত্যেকে ১ ঘন্টা করে তার পরিবেশনা করে থাকে তা নৃত্য, সঙ্গীত, তবলা বাদল যাই হোক।

সঞ্চারী নামে একটি ঘরোয়া আসরেরও আয়োজন করে আসছে BIPA যা মূলতঃ ছাত্র ছাত্রী তার বাবা মাদের একত্রিত করে আনন্দলাভের জন্য। এ ছাড়া NYC-এর বিভিন্ন লাইব্রেরী, মিউজিয়ামে, UN-এর অনুষ্ঠানে BIPAর ছাত্র ছাত্রী এবং শিক্ষক শিক্ষিকের পরিবেশন করে আসছে যা বাংলা সংস্কৃতিকে উত্তর আমেরিকার মূল স্রোতের মাঝে পরিচিত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

এ্যানি ফেরদৌস বলেন, class tuition, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশন করে পাওয়া সন্মানী ও নববর্ষ অনুষ্ঠানের জন্য ধার্য প্রবেশমূল্য এই BIPAর অর্থনৈতিক উৎস যা খুবই সামান্য। মাঝে মাঝে শুভানুধ্যায়ীরা ছোট-খাট অনুদান দিয়ে থাকেন। দুবার city fundও পেয়েছিল BIPA। নববর্ষের সময় সঙ্গীত নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশও করা হয়। এভাবেই চলে যাচ্ছে দিন।

বাংলাদেশী সমাজের নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির রূপরেখায় পড়ে তুলছে যে সংগঠনটি অবিরল কাজ করে চলেছে তার প্রতি আমাদের সকলের দায়িত্ববোধ আরও প্রখর হওয়া প্রয়োজন। তবে BIPAর পরিচালক হিসেবে এ্যনি ফেরদৌসের কোন অনুযোগ নেই। তাদের সকল ভাল লাগার উৎস এর ছাত্রছাত্রীরা তারা এগিয়ে যাক বাংলা মা কে সাথে নিয়ে এটুকুই তার প্রত্যাশা।

 

সুবর্ণা খান

পরিচালক ও ফাউন্ডার, সৃষ্টি একাডেমী অব পারফর্মিং আর্টস

২০০৬ সাল থেকে যার যাত্রা শুরু, আজ অব্দি গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলেছে যে নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে তা নিউ জার্সী অঙ্গরাজ্যে প্রথম বাংলাদেশী পরিচালিত নৃত্যশিক্ষার কেন্দ্র সৃষ্টি একাডেমী। নৃত্য দিয়ে শুরু হলেও অদর ভবিষ্যতে সঙ্গীত ছবি আকা ও বাংলা শিক্ষা শুরু করবার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সৃষ্টির পরিচালক ও ফাউন্ডার ডঃ সুবর্না খান। পেশায় বিজ্ঞানী, নেশায় একক নৃত্যশিল্পী সুর্বনা এই সুন্দর প্রবাসে বহু বছরের সাধনায় শেখা নৃত্যকলাকে ধরে রাখতে সবসময় সচেষ্ট ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়বদ্ধ তাদের শিকড়ের সন্ধান দেবার জন্য যার অন্যতম উপায় বাংলা সংস্কৃতি চর্চা। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ব্যালে স্কুলের স্টুডিও ঘন্টা হিসেবে ভাড়া নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন  উচ্চাঙ্গ ও লোক নৃত্য শিক্ষা ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে। এ কাজে তাকে সহযোগীতা করে আসছে বন্ধু শর্মিলা ইসলাম। নিউ জার্সীসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যর বাংলাদেশী সমাজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সৃষ্টি একাডেমীর ছাত্র-ছাত্রীরা পরিবেশন করছে নিয়মিত। কোর্স সম্মানী একমাত্র আয়ের উৎস যা বর্তমানে studioর ভাড়া দিতে আর নৃত্যের পোষাক পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করতে চলে যায়। সুবর্ণা আশা করেন, সমাজের সকলে তাদের এই প্রচেষ্টাকে সম্মান করবে, সহযোগীতা করবে। সৃষ্টি একাডেমী একটি বিশাল পরিবার হিসেবে নতন প্রজন্মকে উদ্ধুদ্ধ করবে তার ঐতিহ্যকে চিনে নিতে এই প্রত্যাশা।

 

 

 

অক্টোবর ৫, ২০০৯ 

 

 

 

মন্তব্য:
Naoshin Hoque   October 25, 2009
In both the article in North America Activities and in Cover Story on ECHO President's interview, the website address is wrong. It should be www.echoglobal.wordpress.com. Thanks for the article.
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.